শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০
জোর করে বিয়ে, নিকাহ রেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Published : Tuesday, 27 October, 2020 at 8:08 PM

জেলা প্রতিনিধি ॥
অপ্রাপ্ত কিশোরীকে ১৮ বছর বয়স দেখিয়ে জোর পূর্বক বিয়ে দেয়ার অভিযোগে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, গেল ১৮ অক্টোবর ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে রাজবাড়ীর ২ নম্বর আমলী আদালতে ২০১৭ সালের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের ৭(১)/৮/৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমান ছাড়াও বর, সাক্ষী ও বিয়ের উকিলদেরকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পাংশা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামের আ. মান্নান মোল্লার ছেলে শামীম মোল্লা, যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমান, মেঘনা গ্রামের মৃত সজীব উদ্দিন মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম, আতিয়ার মোল্লা, সাকদাহ গ্রামের আ. খলিলের ছেলে নজরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত জহির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে জামাল প্রামানিক, বলরামপুর গ্রামের আ. কাদেরের ছেলে ফজলু প্রামানিক ও নিভা এনায়েতপুর গ্রামের মৃত আ. করিমের ছেলে জাহিদুর রহমান। মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসীর মেয়ে ওই কিশোরী সমসপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। পরীক্ষা শেষে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সে তার নানা বাড়ি পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামে বেড়ানোর উদ্দেশে রওনা হয়। পথে মাছপাড়া খামারপাড়ার মাঝামাঝি এলাকা পৌঁছালে শামীম মোল্লা ও তার সহযোগীরা ওই কিশোরীকে অপহরণ করে। এরপর ওই রাতেই তারা তাকে যশাই ইউনিয়ন কাজী অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে রেজিস্ট্রি কাবিননামামূলে শামীম মোল্লার সঙ্গে ওই কিশোরীকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়েতে কাবিননামা করেন মামলার ২ নম্বর আসামি যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমান ও বিয়ে পড়ান মামলার ৮ নম্বর আসামি জাহিদুর রহমান। বিয়ের কাবিননামায় ছেলে ও মেয়ের সাক্ষী এবং উকিল হোন মামলার অন্যান্য আসামিরা। তারা সবাই শামীম মোল্লার পরিবারের লোকজন। বিয়েতে ওই কিশোরীর কাবিননামায় বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। অথচ ওই কিশোরীর জন্ম সনদ অনুসারে সেসময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ১ মাস ১৭ দিন। এ ঘটনায় যশাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাহাবুবুর রহমানের কাছে কাবিন রেজিস্ট্রার দেখতে চাইলে তিনি জানান, রেজিস্ট্রারটি তার সহযোগীর কাছে রয়েছে এবং এই বিয়ের কাবিননামা তিনি করেননি। তবে ইতোপূর্বে জাহিদুর রহমান নামে এক লোক তার কাছে রেজিস্ট্রি ফরম নিতে এসেছিলেন। একটি সূত্র জানায়, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কাছে ২ থেকে ৩টা কাবিন রেজিস্ট্রার থাকে। বাল্য বিবাহগুলো তারা ওই ২ ও ৩ নম্বর রেজিস্ট্রারে করেন। ফলে মূল কাবিননামায় ওই বাল্য বিয়ের কোনও প্রমাণ থাকে না। পাংশা থানার ওসি শাহাদত হোসেন জানান, কোর্ট থেকে তদন্তের নির্দেশ এসেছে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি