মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ডা. ফেরদাউসকে নিয়ে হঠাৎ বিতর্ক কেন?
Published : Monday, 8 June, 2020 at 12:12 PM

জয়নাল হাজারী ॥
ডা. ফেরদাউসের বাড়ি কুমিল্লার দেবিতদ্বারে। ডাক্তার হিসেবে আমেরিকায় আছেন ১৫ বছরেরও অধিককাল। ডা. ফেরদাউস নামে একজন বাংলাদেশী ডাক্তার আমেরিকায় আছে এটা হয়তো কুমিল্লার উত্তর পূর্বঞ্চলের কিছু লোক জানতো। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অচেনা অজানা। করোনা আসার মাঝামাঝি সময় থেকে হঠাৎ তিনি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেন। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলতে লাগলেন করোনার ব্যাপারে।

ইউটিউব থেকেও প্রচার হতে লাগলো তার কথাবার্তা। ইনি পত্রপত্রিকা পড়ে বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার বুলেটিনগুলো দেখে দেখে কথা বলেন। যেহেতু তিনি গুছিয়ে সুন্দরভাবে কথা বলতে পারেন তাই মনে হতো তিনি নিজেই একজন বৈজ্ঞানিক। আসলে তা কিন্তু নয়। তিনি নিজেই বলেছেন যেহেতু করোনা ক্ষণে ক্ষণে তার ধরন পাল্টায় সুতরাং করোনা সম্পর্কে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল মানুষও তার লাইভগুলো শুনতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠলেন। কেউ কিছু বলছে না। খুব একটা আলোচনা সমালোচনাও নাই। কিন্তু গোলবাধলো তিনি যখন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশে এসে করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়াবেন। তখনই হঠাৎ বিশাল বিতর্কের অবকাশ সৃষ্টি হলো।

হঠাৎ করেই তিনি আসার আগেই বলা শুরু হলো তিনি খুনি মোস্তাকের ভাইয়ের ছেলে, খুনি রশিদের আপন ভাগ্নে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতোদিন এরা কোথায় ছিলেন?  এখন উনি দেশে আসার কথা বলতেই এসব বেরিয়ে এলো কেন? তিনি তো কয়েকমাস ধরেই ফেসবুক পেইজে করোনা নিয়ে কথা বলে গেছেন। তখন তো সবাই বাহবা দিয়েছেন। এখন খুনির সঙ্গে জড়িত করে তাকে হেয় করার বিষয়টি খুব একটি কার্যকর হবে বলে মনে হয় না। ধরে নিলাম সে খুনি মোস্তাকের আত্মীয় তাতে সমস্যা কি? সে ভাল ডাক্তার কিনা আমাকে জানতে হবে সেটি। করোনা রোগীদের সে সহায়তা করতে পারবে কিনা আমাকে জানাতে হবে সেটি। সে কার আত্মীয় এ খোজ বর্তমান সময় নেয়ার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। ধরুন আমি একটি ফুটবল টিম ঘটন করবো তখন আমি কারা ভাল খেলোয়ার তাদেরকেই খুজবো এবং দলে অন্তরভুক্ত করবো। সে কার সন্তান সেটি দেখার প্রয়োজন নাই। এভাবেই আমাদের নবী করিম তার বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন পিতার জন্য পুত্রকে এবং পুত্রের জন্য পিতাকে দায়ী করা যাবে না।

ডাক্তার ফেরদাউস এমন একটি সময়ে দেশে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যখন করোনার প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। যখন অনেক ডাক্তার মৃত্যুবরণ করেছে। সুতরাং ফেরদাউস জীবনের ঝুকি নিয়েই দেশে এসেছেন। দেশে এসে এখনো কোন কর্মকাণ্ডেই যুক্ত হতে পারেননি।  তাকে হজ ক্যাম্পে করেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তার ভূমিকা কি তাও না দেখে কেবল মাত্র খুনি মোস্তাকের আত্মীয় বলে তাকে কোনঠাসা করার ষড়যন্ত্রকে আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। তার ভূমিকা খারাপ হলে নিশ্চয়ই তাকে অপসারণ করার সুযোগ রয়েছে। আমি জানি না হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কারা এনেছে। তবে এমন হতে পারে কোন কোন বড় ডাক্তারের গুরুত্ব কমে যাবে তাই হয়তো তারাই এই ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। আমি কখনোই কে কার সন্তান, তা খোঁজ নিতে রাজি নই। আমি চাই সে সিও ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ কিংবা অভিজ্ঞ লোক কিনা। যেই মানুষ যে কাজটি সঠিকভাবে করতে পারবে তাকে অবশ্যই সে কাজটি করতে দিতে হবে। আমি এর বাইরে অন্য কিছু বুঝি না। আমি ডাক্তার ফেরদাউসকে করোনা বিশেষজ্ঞ কি না সেটাই কেবল জানতে চাই। সে কার আত্মীয় আমি মোটেই তা জানতে চাই না। যেদেশর মানুষ করোনায় মরতে চায় সে দেশে ফেরদাউসের আসা উচিত হয় নাই। আমার কথায় কোন ভুল থাকলে দয়া করে আপনারা আমাকে নিজগুনে ক্ষমা করে দিবেন।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী: মোবা: ০১৩১২৩৩৩০৮০।  প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  চীফ রিপোর্টার: ডিবি বৈদ্য: ০১৭৩৬-১৪৯২১০।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি