বুধবার, ৩০ নভেম্বর, 2০২2
সিলভার মাল্টিপারপাসের আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দিতে ১০ বছর সময় চায় সোনাগাজীর আলোচিত হায়দার!
Published : Sunday, 6 November, 2022 at 7:27 PM

ফেনী প্রতিনিধি ॥
আমাদের সমাজে যে কোন মানুষের দুইটি নাম দেওয়া হয় বা দুই নামেই ডাকা হয়,কিন্তুু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলাতে এমন একজন ব্যক্তির ভিন্ন নামের সন্ধান পাওয়া গেছে। যাকে মানুষ কাগজে কলমে বিভিন্ন নামেই চিনেন বা ডাকেন!
তিনি হলেন মোঃ হায়দার, আলী হায়দার? ইস্কান্দার হায়দার? রনি হায়দার ? মুলত কে এই হায়দার? কেন এতোগুলো নামেই বা তিনি পরিচিত? হে এই নামগুলোর পিছনে লুকিয়ে আছে অজানা এক রহস্য ?
এই হায়দার এক সময় সোনাগাজীর পুরো উপজেলায়  ঘুরিয়ে জীবনধারণ করতেন । তিনিই হঠাৎ শুরু করলেন কথিত সিলভার মাল্টিপারপাাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ নামে অসহায় নিরিহ মানুষ ধোকা দেওয়ার একমাত্র প্রতারণার পথ। এই পথ ধরেই হায়দারের প্রতারণার যাত্রা শুরু হয়।
এ পর্যন্ত গল্পটা যেন সিনেমার হিরোর মতোই। কিন্তু হায়দার খলনায়কের মতো সোনাগাজী উপজেলায় সহজসরল মানুষদের সিলভার মাল্টিপারপাসে বিনিয়োগ করলেই দিগুণ লাভের লোভ দেখিয়ে কৌশলে টাকা আত্মসাৎ এর পরিকল্পনা হাতে নেন হায়দারসহ কয়েকজন প্রতারক। এক সময়ের সিলভার মাল্টিপারপাসের সমন্নয়ক হায়দার এখন অনেক টাকার মালিক!
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,ফেনীতে একের পর এক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলো উধাও হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে উধাও হয়ে যায় সিলভার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও তার সমন্বয়ক লোকজন। তথ্য অনুসন্ধানে যানা যায়, ফেনী সদর একাডেমি সড়কের মনোয়ারা প্লাজার ৩৪১ দ্বিতীয় তলায় ভাড়া রুমে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর মাস থেকে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে সিলভার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির পরিচালনার কার্যক্রম শুরু করে।
বিনিয়োগকারী সমন্বয়ক এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বৃক্ষরোপণ যৌতুক বিরোধী কর্মসূচি দুস্থদের দান বৃত্তিমূলক শিক্ষা জাতীয় দিবস পালনসহ আরো অনেক আত্নসামাজিক উন্নয়নমূলক সংস্থাকে চলমান ভুয়া কার্যক্রম দেখিয়ে শুরু থেকে প্রায় ১০০ জন সদস্য নিয়ে পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করে উধাও হয়ে যাওয়া সিলভার মাল্টিপারপাস (co-operative) সোসাইটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নাসিরুদ্দিন আরজুর শশুর সাবেক সমবায় কর্মকর্তা সিরাজুল হকের যোগসাজশে হায়দারসহ গ্রাহকদের স্থায়ী আমানতের কোটি কোটি টাকা নিয়ে গা-ডাকা দেয় চেয়ারম্যান নাসিরুদ্দিন আরজু।
তারা সমবায় অধিদপ্তর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা অনুমোদন পেয়ে শুরু করে বিনিয়োগের নামে মহাজনী নিয়মে সুধী কারবারও। আর্থিক কারবারে গতিশীলতা আনতে বিনিয়োগকারীদেরকে লোভ দেখিয়ে প্রতিমাসে প্রতি লাখে ৩০০০ টাকার অধিক লভ্যাংশ প্রদান করত এই মাল্টিপারপাস। অন্য দিকে তাদের নির্ধারিত কমিশনে অনেক কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলো এবং দ্রুতগতিতে তাদের তৎপরতার কারণপ হঠাৎ গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়ে প্রায় ২৩০০ জন হয়ে যায়।
সোনাগাজী দাগনভূঞা ও ফেনী সদরে সহ মোট ৯ টি শাখা অফিস চালু করে এই সিলভার মাল্টিপারপাস। চালুকৃত নতুন শাখা অফিসে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৯ জন কে।
অফিস সহকারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাথী ও সাদিয়া নামে দুই মেয়েকে।
কিন্তু ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে প্রধান অফিস সহ সকল অফিস গুলোতে তালা লাগিয়ে গা ঢাকা দেয় সিলভার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আরজু সহ-সভাপতি শিরিন আক্তার, সম্পাদক একরামুল হক সোহাগ এবং সকল সমন্বয়ক সহ অফিস সহকারীরা।
তার মধ্যে সোনাগাজীর অন্যতম মোঃ হায়দারও একজন । গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পেতে ঊর্ধ্বতনদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে ১২ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পযন্ত কোন আশার আলোও দেখছেনা ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানি সুত্রে জানা যায়, একের পর এক গ্রাহকদের গচ্ছিত কোটি কোটি টাকা নিয়ে গা- ডাকা দেয় আরো কয়েকটি মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ।
এর আগে লিবারেল কো-অপারেটিভ,লতিফপুর আদর্শ সোসাইটি, আল ইহসান মাল্টিপারপাস,উদয়ন মাল্টিপারপাস,কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকায় থাকার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এবং দিনদিন মাল্টিপারপাসের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সিলভার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আরজু গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখনো তিনি পলাতক থাকলেও তার সমন্নয়করা এখনো বিভিন্ন ভাবে লেবাস ধারণ করে চলাফেরা করছে ।
বর্তমানে সিলভার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির অফিসে কোন অস্তিত্বও না থাকলেও গ্রাহকদের কাছে রয়েছে টাকা বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র । হায়দারসহ সবাই তৎকালীন সময়ে আত্মগোপনে চলে গেলেও অনেক গ্রাহকেরা বিনিয়োগের টাকা আদায় করতে তাদের বাসায় গিয়ে হানা দেয় এবং অনেকে সমবায় অধিদপ্তর বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে।
সিলভার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির টাকা হাতিয়ে নেওয়া কয়েকজনের মধ্যে হায়দার ইস্কান্দার রনিও একজন। তিনি বর্তমানে সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যানের সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও অনেক গ্রাহক কে তাদের টাকা পেরত না দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভয়ভীতিও দেখানোর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। হয়রানির ভয়ে অনেকে মুখ না খুললেও এরই মধ্যে অনেক ভুক্তভোগী হায়দার ইস্কান্দার রনি সহ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, শাখা অফিস গুলোর কথিত সমন্বয়ক বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের সহকারী সোনাগাজী কাজিরহাট শাখার সমন্বয়ক ইস্কান্দার হায়দার রনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়, তার মধ্যে সোনাগাজী কাজিরহাট সেনের খিল গ্রামের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন মামুন কাজীরহাটের সমন্বয়কের মাধ্যমে চার লক্ষ টাকা, বকুল নামে একজন ভুক্তভোগী ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের এক তারিখে মোঃ ইসকান্দার হায়দার এর মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা,২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে মোঃ নুরনবী নামে মোঃ ইসকান্দার হায়দার এর মাধ্যমে ৫০০০০ টাকা, নাজমুন নাহার নামে এক ভোক্তভোগী থেকে মোঃ ইসকান্দার ওয়েদার এক লক্ষ টাকা, নুরুল আলম সোহাগ নামে এক ভুক্তভোগী থেকে এক লক্ষ টাকা, মো মোবারক হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী থেকে এক লক্ষ টাকা, সাইফুল ইসলাম নামে বক্তারমুন্সী রাজাপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে থেকে ২০১৩ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০০০০ হাজার টাকা, সোনাগাজীর কাচারি পুকুর ও মতিগঞ্জ সমন্বয়ক তৌহিদের মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, সোনাগাজীর বক্তারমুন্সী বাজার শাখার সমন্বয়ক আব্দুল্লাহর মাধ্যমে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা, সোনাগাজী তাকিয়া বাজার শাখার সমন্বয়ক মোহাম্মদ বাবুলের মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, সোনাগাজী কুঠিরহাট বাজার শাখার সমন্বয়ক খুরশিদের প্রায় এক লক্ষ টাকা, দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া বাজার শাখার সমন্বয়ক বাবুলের মাধ্যমে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা, ফেনী সদর একাডেমি এলাকার সমন্বয়ক হাসান এর মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ টাকা, ফেনী সদর মহিপাল এলাকার সমন্বয়ক শেখ ফরিদ এর মাধ্যমে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা, অফিস সরকারি সাদিয়ার মাধ্যমে ৭ লক্ষ টাকা, অফিস সহকারি সাথী এর মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, মোহাম্মদ ইলিয়াস নামের ব্যক্তির মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা, সোহাগের তিন লক্ষ টাকা,কাওসারের ৮ লক্ষ টাকা, মাহবুবের ৮ লক্ষ টাকা এভাবে প্রতারণার জাল বসিয়ে টাকা আদায় করে নিয়ে কোটি টাকা পরিণত হলে গ্রাহকের স্থায়ী আমানতি টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আরজুসহ পালিয়ে পালিয়ে যায় হায়দার ওরফে ইস্কান্দার হায়দার রনিও।
সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের স্থায়ী আমানতের টাকা ফেরত পেতে সমন্বয়ক দের মাধ্যমে প্রায় চল্লিশটি স্টাম্প সহ লিখিত অভিযোগ করেছে, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফেনী সদর উপজেলা সহকারী পরিদর্শক কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুল হক কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করেন ফেনী সদর উপজেলার সহকারি পরিদর্শক কর্মকর্তা মজিবুল হক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে একটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলও করেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবরে,এতে উল্লেখ্য যে সিলভার মাল্টিপারপাস co-operative সোসাইটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আরজু সহ-সভাপতি শিরিন আক্তার ও সম্পাদক আকরামুল হক সোহাগ অফিসে তালা লাগিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়,
তবে সিলভার মাল্টিপারপাস co-operative সোসাইটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আরজু বিশ্বস্ত সিনিয়র সমন্নয়ক হায়দার ওরফে ইস্কান্দার হায়দার রনির কাছ থেকে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার  ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি হাজারিকা প্রতিদিন কে জানান, তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে তিনি আরো ১০ বছর সময় দাবী করেছেন।
তবে ভুক্তভোগীদের আরেকটি সুত্র জানায় তারা হায়দারের দেওয়া আর কোনো সময় বা প্রতারণার ফাঁদে পা নাদিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
পর্ব-১.....  ( দ্বিতীয় পর্বে চলবে সাইন জালিয়াতি)
আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারী।   ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গোলাম কিবরীয়া হাজারী বিটু্।   প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি