শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা ফিরেই লকডাউনের বিড়ম্বনায়
হাজারিকা অণলাইন ডেস্ক
Published : Friday, 23 July, 2021 at 3:02 PM

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মোক্তার হোসেন। বিকালে মাদারীপুরের বাংলা বাজার ফেরিঘাটে এসে দীর্ঘ যানজটে পড়েন। তাদের বহনকারী বাস ফেরিতে উঠতে উঠতে মধ্য রাত হয়ে যায়।
ভোর রাতে ফেরি পার হয়ে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে এসে আবার যানজটে পড়েন। এরপর ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ফিরতে ফিরতে সকাল ৬টা। বাস থেকে নামেন পোস্তগোলা ব্রিজ সংলগ্ন হাসনাবাদ। পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে জুরাইন এসে পড়েন বিপাকে। কেননা, আজ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ। রিকশার সংখ্যাও হাতেগোনা। অগত্যা স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই রওয়ানা করেন তার গন্তব্য মাতুয়াইলের দিকে।

মোক্তার হোসেনের মতো অনেকেই ভোর রাতে ঢাকায় এসে বিপাকে পড়েছেন। এদেরই একজন ইলিয়াস মিয়া। তিনি মাদারীপুরের রাজৈর থেকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। বাসে করে ফেরি পার হয়ে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া এসে সিএনজি অটোরিকশায় করে ঢাকার যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত এসেছেন। পথে তাদের বেশ কয়েক জায়গায় পুলিশ চেকপোস্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি জানান, আজ থেকে ১৪ দিনের লকডাউন। কিন্তু ঢাকায় তাকে ফিরতেই হবে। তিনি কাজ করেন একটা পেট্রোল পাম্পে। পাম্প লকডাউনেও খোলা। তাই ঈদের পর দিনই তাকে তরিঘড়ি করে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় আসতে পোহাতে হয়েছে নানান ঝক্কি-ঝামেলা। দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা গতকালে রওয়ানা হয়েছিলেন তাদের ঢাকায় ফিরতে কারো কারো রাত হয়। কারো বা সকাল হয়ে যায়। ফলে ঢাকায় প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন তারা। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবির কাছে কৈফিয়ত দিয়েই শহরে ঢুকতে হয়েছে।

অকারণে, অবাধে ঢাকায় প্রবেশ ঠেকাতে ঢাকা জেলার হাসানাবাদ, পোস্তগোলা, জুরাইন, দোলাইরপার, যাত্রাবাড়ি, গুলিস্তান, রমনা, শাহবাগসহ পুরো রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে শুক্রবার ভোর রাত থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। রিকশার সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা। ফলে ঢাকার বাইরে থেকে যারা ঈদের ছুটি শেষে ফিরছেন তাদের বেশিরভাগই পায়ে হেঁটে কিংবা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন।

ঈদের ছুটির কারণে শুক্রবার রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কই ছিল ফাঁকা। ঢাকামুখী মানুষ ছাড়া রাস্তায় লোকচলাচল ছিল না বললেই চলে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর টহল চোখে পড়ে। রাস্তায় যারা বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তাদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। সদুত্তর মিললেই যেতে পেরেছেন।

যদিও গত কয়েক বছরের চেয়ে এবারের ঈদের পরের দৃশ্যটা কিছুটা ভিন্ন। সাধারণত ঈদের পর পরই ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। কিন্তু এবার ১৪ দিনের লকডাউনের কারণে গ্রাম থেকে শহরে ফেরার মিছিল কিছুটা ছোট। যারা পরিবার পরিজনদের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিলেন তাদের বেশির ভাগই সেখানেই রয়েছে গেছেন। কেবল জরুরি পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই ঈদের পর দিন গতকাল ঢাকা ফিরেছেন।
তবে বাংলা বাজার শিমুলিয়া ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ঢাকায় ফেরার যাত্রীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ফলে লঞ্চ ও ফেরিতে দীর্ঘ জটে পড়তে হয়েছে।

উল্লেখ্য, আট দিন শিথিল থাকার পর ২৩ জুলাই শুক্রবার থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। ১৪দিনের এই লকডাউন চলবে ৪ আগস্ট পর্যন্ত। এর আগে ঈদুল আজহার সময় মানুষের চলাচল ও পশুরহাটে কেনাবেচার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করেছিল সরকার।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী: মোবা: ০১৩১২৩৩৩০৮০।  প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  চীফ রিপোর্টার: ডিবি বৈদ্য: ০১৭৩৬-১৪৯২১০।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি