সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শেখের বেটি মনের আশা পূরণ করেছে
Published : Wednesday, 14 July, 2021 at 8:14 PM, Update: 14.07.2021 8:15:09 PM

জেলা প্রতিনিধি ॥
‘আমার স্বামী, ছেলে নাই। এই বয়সে বড়ই চিন্তায় আছিলাম মাথা গুজার ঠাঁই নিয়া। সেই সময়ে স্থায়ী একটা পাকা ঘর, জমি দেওয়ায় আমার জীবন বদলে গেছে। ঘরগুলোও খুবেই ভাল মানের। মনের আশা পূরণ করছে, শেখের বেটির জন্য যতদিন বাছমু দোয়া করমু। দেশে কত সরকার আইলো গেল, কেউ আমারে টিনের ঘরও দেয়নি। এতদিন অন্যের বাড়িতে কোন রখমে ভাঙাচোরা ঘরে থেকে জীবন পার করছি।’
সরজমিনে জায়গাসহ পাকা বাড়ি পাওয়ায় অনুভতি জানতে চাইলে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ৭০ বছর বয়সী আয়েশা বেগম। তিনি সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন মানিগাঁও গ্রামের নির্মিত ৭০টি ঘরের মধ্যে একটি ঘর পেয়েছেন।
বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম দ্বিতীয় পর্যায়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাটটিয়া গ্রামে ৭৬টি ঘরের মধ্যে একটি ঘর পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের দেওয়া পাকা ঘরে রান্নার ঘর, বাথরুম, টিউবওয়েল সবই আছে। ঘরগুলোও ভাল মানের করেই তৈরি করা হয়েছে। এই পাওয়া আমার লাগি আসমান পাওয়ার সমান। ঘরেও কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। আশা পূরণ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
আয়েশা বেগম, রাবিয়া বেগমেই শুধু নয়, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দুই দফায় ঘর পাওয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ১৪৬টি হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জীবনের গল্প একেই রকম।
তারেক, মামুনসহ নির্মিত ঘরের পাশে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ইউএনও, পিআইওসহ দায়িত্বশীলরা সব সময় ঘর তৈরির শুরু থেকেই খোঁজ-খবর রেখেছেন। ঘরগুলোও কম টাকার মধ্যে ভাল মানের হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঘরগুলোতে বড় ধরনের কোন সমস্যা চোখে পড়েনি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ (‘ক’ শ্রেণি) পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুই শতাংশ খাস জমির বন্দোবস্তসহ ঘর তাহিরপুর উপজেলার প্রথম ধাপে দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব ঘরে সংযুক্ত একটি রান্নাঘর ও শৌচাগার রয়েছে। প্রথম ৭০টি এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় ৭৬টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে একেকটি সেমি-পাকা ঘর। এরমধ্যে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে প্রথম পর্যায়ের ৭০টি ঘর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এবং বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৭৬টি ঘর ২০ জুন উপকারভোগীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই ঘরগুলো তৈরি করে, যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘরগুলো দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি ও খোজঁ নিয়েছি গৃহগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে। কাজগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেছিলেন দায়িত্বশীলরা। বৈরী আবহাওয়া, অতি বৃষ্টি, করোনাকালীন প্রতিকূল অবস্থায় শ্রমিক সংকট থাকায় গৃহগুলো নির্মাণে একটু বেগ পেতে হয়েছে। কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হলে তড়িৎ গতিতে সেসব সমস্যা সমাধান করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করেই নির্মাণ করা হয়েছে এসব ঘর।
সম্প্রতি নির্মিত ঘর পরির্দশনে আসেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান। তিনি জানান, উপজেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা। কয়েকমাস আগেও যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন, তারা কল্পনাও করেননি যে মুজিববর্ষে পাবেন জমিসহ বাড়ি। সম্প্রতি সেই ঘর পরির্দশনে গিয়ে দেখেছি প্রাথমিকভাবে ঘর নির্মাণ ডিজাইন মেনেই হয়েছে, কোন অনিয়ম পরির্দশনে পাইনি।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী: মোবা: ০১৩১২৩৩৩০৮০।  প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  চীফ রিপোর্টার: ডিবি বৈদ্য: ০১৭৩৬-১৪৯২১০।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি