শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচনে অযোগ্যতা ও অবিবেচনা কেন
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
Published : Saturday, 26 June, 2021 at 8:05 PM

প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতিদানের ব্যাপারে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে তাদের অবিবেচক এবং অযোগ্য ভূমিকার কথাই আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মন্ত্রিসভা অযোগ্য হলে সরকারকে যে পদে পদে হোঁচট খেতে হয়, তার প্রমাণ এখন বাংলাদেশে বর্তমান। আওয়ামী লীগের গত তিনটি মন্ত্রিসভার মধ্যে এই মন্ত্রিসভাকে সবচেয়ে অযোগ্য বলে বিদেশি পত্রিকায়ও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অসাধারণ প্রজ্ঞা ও বিবেচনা শক্তির ফলে সরকারকে খাড়া রেখেছেন এবং বিভিন্ন সমস্যার ত্বরিত সমাধান দিচ্ছেন। কিন্তু তার একশ্রেণির মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর অযোগ্যতার ফলে এই সরকার বহু ক্ষেত্রে নানা অঘটনের জন্য দায়ী হচ্ছে। তার একটি দৃষ্টান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তো আছেই, সম্প্রতি এক পত্রিকার রিপোর্টারকে অবৈধভাবে আটক রেখে হেনস্তা করার ব্যাপারে সারাদেশে তোলপাড় হয়েছে। এমনকি জাতিসংঘ তার প্রতিবাদ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মধ্যে খুনসুটি লেগেই আছে। হোম অফিসের সিদ্ধান্তে পাসপোর্টে ইসরায়েলে যাওয়ার বাধানিষেধ তুলে দিয়ে সরকার সুনাম অর্জন করেনি। নারী ধর্ষণ সমাজের উচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক মুনিয়া হত্যা, পরীমণিকে ধর্ষণের চেষ্টা ইত্যাদি ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের বিরাট প্রমাণ। এই নারী ধর্ষণ প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিদেশে অবৈধ টাকা পাচার ও ধন লুণ্ঠনের কাহিনি। বোঝাই যায়, আমাদের সমাজে প্রচণ্ড তলানি শুরু হয়েছে। তাকে রোখার ক্ষমতা অথবা যোগ্যতা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই। এ কথা লিখতে গিয়ে ভারতের উদাহরণ মনে পড়ে। নরসিমা রাওয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে এমনসব অযোগ্য মন্ত্রীকে তার মন্ত্রিসভায় গ্রহণ করা হয়েছিল, এর ফলে তার সরকার পদে পদে হোঁচট খাচ্ছিল। তখন থেকেই ভারতের কংগ্রেসের পতনের সূচনা হয়। নরসিমা রাও যোগ্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তার অযোগ্য মন্ত্রীদের জন্য তাকে পদে পদে সমালোচিত হতে হয়েছে। একবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমি একা কী করব? আমার ওপর অযোগ্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে অর্ধশিক্ষিত মন্ত্রী চাপিয়ে দিয়েছে দল। আমার কিছু করার নেই...।'

কিন্তু বাংলাদেশে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলায় এ কথা প্রযোজ্য নয়। মূলত তিনি নিজেই তার মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বাছাই করেছেন। বর্তমান মন্ত্রিসভা যখন গঠিত হয়, তখনই আমি লিখেছিলাম, মহাজোট মন্ত্রিসভা বাদ দিয়ে কেবল দলীয় মন্ত্রিসভা করা উচিত হয়নি। দল থেকে কিছু প্রবীণ মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া উচিত হয়নি। ১/১১-এর সময় কারা কী করেছিলেন, তা ভুলে গিয়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি মন্ত্রিসভায় পুনর্যোজনা করা উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীকে আমি উপদেশ দিচ্ছি না। কেবল ব্রিটেনের লর্ড হ্যালিফ্যাক্সের মন্ত্রিসভা এবং ভারতের চন্দ্রশেখর মন্ত্রিসভার পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দিই। তিনি আমার এই ধৃষ্টতার জন্য ক্ষমা করবেন। আসল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রকের বর্তমান মন্ত্রী যে একজন যোগ্য মন্ত্রী নন, তার প্রমাণ- বেশ কিছুকাল আগে আদালত অবমাননাকর উক্তি করার দায়ে তাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখায় লন্ডনের যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতেও তার মন্ত্রণালয় বিরাট ভ্রান্তির পরিচয় দিয়েছে। এই ব্যাপারে তার বক্তব্যও সঠিক নয়। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে যারা বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের সরকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য লন্ডন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। যেসব আবেদন আমাদের কাছে আছে, সেগুলোও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তবে নতুন করে আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। মন্ত্রী খামোখাই লন্ডন দূতাবাসকে বলির পাঁঠা করেছেন। দূতাবাস এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। কিন্তু প্রবাসীদের বিক্ষোভের ঠেলায় তারা পড়েছেন। অথচ তারা মুখ খুলতে পারছেন না। বাস্তবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ১২ জন  স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধার অসীম অবদান রয়েছে; তারা যে স্বীকৃতি পেয়েছেন, তা অন্যায় নয়। কিন্তু মন্ত্রিসভার ও জামুকার (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) অবিবেচক সিদ্ধান্তের ফলে স্বীকৃত ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাও বিপাকে পড়েছেন। প্রকৃত ব্যাপার হলো, প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের যে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, এ ব্যাপারে আইন হয়েছে। কিন্তু স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্র কোথায় পাওয়া যাবে, তা বিস্তারিতভাবে প্রচার করা হয়নি। বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল কিনা আমি জানি না। এসব কিছু না করে মন্ত্রিসভা কয়েকজনকে মাত্র এই স্বীকৃতি দিয়ে আর আবেদন নেওয়া হবে না বলায় যে বিরাট সংখ্যক অগ্রবর্তী মুক্তিযোদ্ধা সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে এই স্বীকৃতি পাওয়া থেকে বাদ  পড়েছেন, তারা প্রচণ্ডভাবে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের এই ক্ষোভ স্বাভাবিক।

যে ১২ জন এই স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। যে বিপুল সংখ্যক পাননি, তাদের ক্ষোভের সঙ্গে আমার ক্ষোভও যোগ করছি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে এই যুদ্ধের সমর্থনে যারা এগিয়ে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, লুলু বিলকিস বানু, গাউস খান, তৈয়বুর রহমান, ফজলে হাসান আবেদ (পরবর্তীকালে স্যার), মিনহাজ উদ্দিন, শেখ আবদুল মান্নান, ওয়ালী আশরাফ, ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান শাজাহান, তোসাদ্দক আহমেদ প্রমুখ। এদের মধ্যে মতিউর রহমান ও ডাক্তার নুর আলমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় এ জন্য যে, তারা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ব্রিটিশ এমপিদেরও সমর্থন জোগাড় করেছিলেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও স্যার ফজলে হাসান আবেদ পরবর্তী জীবনে উচ্চ পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন, রাষ্ট্রীয় পদে বসেছেন- এ জন্য তাদের নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাকিদের প্রয়োজন রয়েছে। নারী নেতাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ না করলে ইতিহাস অসমাপ্ত থাকবে তারা হলেন- জেবুন্নেছা বখ্‌ত, আনোয়ারা জাহান, মুন্নি রহমান এবং আরও অনেকে। একজন মন্ত্রী, যিনি নিজে মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, তিনি লন্ডনের ইতিহাস জানেন না- এটা আমাকে বিস্মিত করে। তার উচিত ছিল বর্তমানে জীবিত আছেন যারা, তাদের মধ্যে জাস্টিস শামসুদ্দিন, মোজাম্মেল আলী এ রকম চার বা পাঁচজন তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধার দ্বারা কমিটি গঠন করে এবং দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা এবং স্বীকৃতি দেওয়া। যারা মারা গেছেন, তাদের কাছ থেকে আবেদনের অপেক্ষা না করে একটি কমিটি দ্বারা সবার নাম সংগ্রহ করে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে আজকের বিতর্ক এতটা ব্যাপক হতো না।

শুধু দেশি মুক্তিযোদ্ধা নন, বিদেশের অনেক মহীয়সী নারী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। এমনকি আত্মদানও করেছেন। তাদের একজন মিস ম্যালোরি প্রকোপে। তিনি তিনবার অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। তৃতীয়বার তিনি ধরা পড়েন এবং তার ফাঁসির আদেশ হয়। ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান। এই ম্যালোরি প্রকপের ভাস্কর্য বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক ছিল। তার কাহিনি স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হওয়াও উচিত ছিল। এখনও সময় আছে- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জামুকা নতুনভাবে তালিকা প্রণয়ন করুক। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদনপত্রটি তারা সহজলভ্য করুক। এ আবেদন সম্পর্কে পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রচার চালাক। লন্ডনে যে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাদের ভেতর থেকে চার-পাঁচজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে যেসব মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন, তাদের তালিকা প্রণয়ন করুক। মৃতদের কোনো বংশধর যাতে আবেদন করতে পারে, তারও ব্যবস্থা রাখুক। শুধু প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের ওপর নির্ভর না করে লন্ডন হাইকমিশনকে দায়িত্ব দিন, তারা এ ব্যাপারে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে মৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করবে। এভাবে বিষয়টি বিতর্ক ও প্রতিবাদের ঝড় থেকে সরিয়ে এনে মন্ত্রিসভা এবং জামুকা তাদের যোগ্যতার পরিচয় দিক। সব মুক্তিযোদ্ধার নাম তারা সংগ্রহ করতে পারবে না। ভবিষ্যতে কেউ যদি প্রমাণ ও সাক্ষ্যসহ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি জানান, সেই পথও খোলা রাখতে হবে।

প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হয়েছে ১০২ বছর হয়। তারপর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ হয়েছে তাও ৭৬ বছর হয়ে গেছে। এ দুই যুদ্ধের 'ভ্যাটার্নদের' কীভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে, তার পদ্ধতিটা আমাদের মন্ত্রী একটু ভালোভাবে জেনে নিন। তাহলে তার মন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা বাড়বে। জামুকার কর্মকর্তারাও বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি প্রদানের ব্যাপারে তাদেরও বিশ্ব ইতিহাসের উদাহরণ জানা দরকার। প্রথম যুদ্ধের সময় বেলজিয়ামের এক ক্যাপ্টেনের সঙ্গে তার এক সহকর্মী যুদ্ধ করে প্রাণ দেন। সেই ক্যাপ্টেন এখন জেনারেল হয়ে রিটায়ার করেছেন। তিনি একদিন ঘটনাক্রমে তার নিহত বন্ধুর সন্তানদের সন্ধান পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাদের ডাকেন এবং প্রথম মহাযুদ্ধ নয়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অনেক পরে সেই নিহত সৈন্যকে সম্মান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া যাদের নাম সংগ্রহ করা যায়নি, সেই হাজার হাজার সৈন্যের স্মরণে বহু স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। তাতে লেখা আছে অজ্ঞাতনামা সৈন্যদের স্মরণে। প্রতিবছর ব্রিটেনের রানী নিজে এসে তাতে ফুলের মালা দেন। আমেরিকাতেও যুদ্ধে নিহতদের পরিবারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা সৈন্যদের স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। তাতে প্রেসিডেন্ট শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আমাদের একমাত্র সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছাড়া আর কোথাও অজ্ঞাতনামা শহীদদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে কি? সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করুক; দেশে এবং বিদেশেও। সেখানে যেন দলীয় পরিচয় বড় হয়ে না ওঠে। আর যেসব শহীদের নাম সংগ্রহ করা না যাবে, তাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হোক। তার গায়ে নাম লিখে দেওয়া হোক একাত্তরের অজ্ঞাতনামা শহীদদের স্মরণে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী মোজাম্মেল হক একজন ধার্মিক মানুষ। তাকে সবিনয়ে একটা গল্প বলি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যখন সহি হাদিস বাছাই করছিলেন, তখন একটি হাদিসের সত্যতা জানার জন্য তিনি আরেক হাদিস বক্তার কাছে তার দূত পাঠিয়েছিলেন। সেই দূত কাজ শেষ করে ফিরে এলো। আবু হুরায়রা (রা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আমার বন্ধুকে কী অবস্থায় পেয়েছ? দূত বলল, তার একটি উট পালিয়ে গেছে। তিনি তার কাপড়ের ভেতর খাদ্য রেখেছেন, এটা দেখিয়ে উটটাকে ডাকছিলেন। আবু হুরায়রা বললেন, তার জোব্বার ভেতরে সত্যি কি খাদ্য ছিল? দূত জবাব দিল- না, হুজুর। তিনি উটটাকে খাদ্যের লোভ দেখিয়ে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছিলেন। তার কথা শুনে আবু হুরায়রা বললেন, যে ব্যক্তি উটকে খাবার না দিয়ে ঠকাতে পারে, তার হাদিস আমি গ্রহণ করি না। ওই হাদিস ফেলে দাও। আমাদের দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তল্লাশির ব্যাপারেও মন্ত্রিসভা এবং জামুকাকেও অনুরূপ কঠোর মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। তবে যারা জ্ঞাত এবং বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা অশোভনীয়। বিলেতে যারা পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা এবং সকলেই যাদের নাম জানে, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য কোনো আবেদনপত্র পূরণের ব্যবস্থা না করে সরকার ও জামুকার উচিত স্বতঃপ্রবৃত হয়ে স্বীকৃতি জানানো। প্রথম মহাযুদ্ধের বীরসৈনিক সিপাহি খোদাদাদ খানকে ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া কীভাবে ডেকে এনে সম্মানিত করেছিলেন, সে কাহিনি কি আমরা ভুলে গেছি?


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী: মোবা: ০১৩১২৩৩৩০৮০।  প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  চীফ রিপোর্টার: ডিবি বৈদ্য: ০১৭৩৬-১৪৯২১০।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি