মঙ্গলবার, ১৮ মে, 2০২1
অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দলগুলোর ঐক্য জরুরি
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
Published : Saturday, 24 April, 2021 at 7:37 PM

সরকার শেষ পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনের নীতি যে গ্রহণ করেছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় চলেছে। পালের গোদা বাবুনগরীকে এখন পর্যন্ত ধরা হয়নি বটে। কিন্তু তিনিও রেহাই পাবেন মনে হয় না। জামায়াত-পছন্দ গ্রুপের নেতা হেফাজতের মধ্যে এই বাবুনগরী। আহমদ শফী যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন দলের ভেতর ঘোট পাকালেও বাবুনগরী গ্রুপ তেমন কিছু করতে পারেনি। আহমদ শফীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর বাবুনগরী হেফাজতকে পুরোপুরি করায়ত্ত করেন। আহমদ শফীর বার্ধক্যের সুযোগ নিয়ে মৃত্যুর আগেই আহমদ শফীকে দলের প্রধান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। সরকারের ভ্রান্ত নীতি ছিল হেফাজতে যখন জামায়াতিদের অবাধ অনুপ্রবেশ চলছে, তখন এ সম্পর্কে সতর্ক না হওয়া। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এটা কি একটা ব্যর্থতা যে, তারা সময়মতো এ সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক করতে পারেনি? দেশে দেশে বিশেষ করে মিসরে ও ইরাকে উগ্র মৌলবাদীরা তলে তলে জোট পাকিয়ে কীভাবে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতকে হত্যা করেছিল তা থেকে কোনো শিক্ষাই কি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা গ্রহণ করেনি? সাদাতকে হত্যার পর মিসরের জাতীয় দৈনিক 'আল আহরামে' প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, আনোয়ার সাদাতকে যে হত্যা করা হবে এ কথা মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটি সংস্থার অনেকেই জানত। তারা তা লুকিয়ে রেখেছিল। কারণ, এই সিকিউরিটি সংস্থার মধ্যেও হত্যাকারী মুসলিম ব্রাদারহুডের (বাংলাদেশের জামায়েতের একই আদর্শের সংস্থা) বিরাট সংখ্যক সদস্য ঢুকে ছিল।
আল-আহরামের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছিল, মিসরের নাসের ও কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা-চক্রান্ত হয়েছিল শতাধিক। তা যে সফল হয়নি, তার মূল কারণ দুই দেশেরই শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক গোয়েন্দা সংস্থা। তারা যথাসময়ে সরকারকে এ চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছে। সরকারও এই চক্রান্ত ব্যর্থ করার যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর জীবননাশের একটার পর একটা তারিখ পরিবর্তিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় ১৫ আগস্ট তারিখে। এ কথা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানত কি এবং প্রেসিডেন্টকে এ সময়ে আগে থাকতে সতর্ক করেছিল কি? এখন তো জানা যায়, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বালুরঘাট নামক স্থানে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একটি দলের সমাবেশ ঘটত। তাতে কর্নেল ফারুকসহ আরও কয়েকজন কতর্ব্যরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার যোগ দিতেন। বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচারপত্র বিলি করা হতো ক্যান্টনমেন্টের সর্বত্র। এই খবর তখনকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি জানত না? জানলে প্রেসিডেন্টকে তা জানিয়ে ছিল কি?
এ সম্পর্কে পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, 'সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাও সরাসরি সব রিপোর্ট প্রেসিডেন্টকে পাঠাতেন। তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে এই রিপোর্ট চাওয়া সত্ত্বেও তাকে দেওয়া হয়নি। ফলে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র চলছে তা তিনি জানতে পারেননি।' জেনারেল সফিউল্লাহর এই দাবি সত্য হলে প্রশ্ন জাগে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তখন শুধু ক্যান্টেনমেন্টের ভেতরে নয়, বাইরেও পাকিস্তানের অনুসারীরা ও দলগুলো, এমনকি আওয়ামী লীগের ভেতরের মোশতাক গ্রুপ যে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিল (মোশতাকের আগামাসিহ লেনের বাসায় প্রতিদিন গভীর রাতে গোপন বৈঠক হতো) তা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জানা ছিল কিনা এবং তা প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তারা জানাত কিনা?
এত দীর্ঘকাল পর এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়ে যাওয়ার পর এই প্রশ্নটি তুলছি এ জন্য যে, হেফাজতের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পর (না গিয়ে উপায় ছিল না) একটা ব্যাপার স্পষ্ট, এই ক্র্যাকডাউনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে আন্দোলনে যাওয়ার ক্ষমতা হেফাজতের নেই। জামায়াতই হেফাজতের পেটের ভেতরে বসে এই সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরু করেছিল এবং বিএনপির সমর্থন তার পেছনে ছিল। প্রকাশ্যে আন্দোলনে ব্যর্থ হলে সন্ত্রাসের পথে যাওয়া, হত্যার রাজনীতি শুরু করা বিএনপি ও জামায়াতের চিরাচরিত স্বভাব। জামায়াত এখন খোলস পাল্টেছে। হেফাজতের সাইনবোর্ডের আড়ালে বিএনপিকে অপ্রকাশ্য সহযোগী করে ভাস্কর্য ভাঙা থেকে নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরু করে সরকারের পতন ঘটাতে চাচ্ছে। সামনে শিখ-ি করে খাড়া রেখেছে বাবুনগরী ও মামুনুল হকের মতো ব্যক্তিদের। মামুনুল হক খেলাফত মজলিসের একজন নেতা। আমি যতদূর জানি, খেলাফত মজলিস হেফাজতের বা জামায়াতের সমর্থক নয়, অথবা ছিল না। তাহলে খেলাফতের একজন নেতা মামুনুল হক কী করে হেফাজতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হয়ে গেলেন? ইতোমধ্যে হেফাজতকে ঠেকাবার জন্য আওয়ামী লীগের কোনো কোনো মহলকে চরমোনাইয়ের পীর সাহেবকে তোল্লা দিতে দেখা গেছে। চরমোনাইয়ের পীর সাহেক কি বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী? মোটেও বিশ্বাসী নন। এখন এই ধর্মভিত্তিক দল ও পীর মওলানাদের মধ্যে যতই ব্যক্তিগত স্বার্থের টানাপোড়েন থাকুক, ধর্ম নিয়ে ব্যবসায়ের ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোনো অমিল নেই। আওয়ামী লীগকে বিপদের বন্ধু খুঁজতে হবে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে। তারা যত ছোট হোক, দুর্বল হোক, সবগুলো ছোট দল মিলিত হলে এই ঐক্য যে কত বড় শক্তি তা প্রমাণিত হবে। আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন করেছিল। কিন্তু জোটের দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ছিল না। ঐক্যের বদলে এদের মন্ত্রিত্বের বখরা দিয়ে সন্তুষ্ট রাখা হয়েছিল। তার পরও আওয়ামী লীগ মহাজোটকে শুধু প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে। প্রয়োজন ফুরাতেই ফেলে দিয়েছে। তাদের পরিপূরক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলগুলোকে গড়ে উঠতে দেয়নি। এটা ছিল সরকারের একটা বড় ভ্রান্ত নীতি। এর মাশুল এখন তাদের গুনতে হচ্ছে। আমি জানি না, সরকার কেন তাদের বিপরীত আদর্শের ও একেবারে বিরোধী নীতির কোনো ধর্মভিত্তিক দলকে অর্থ ও উপঢৌকন দিয়ে কিনে সেই মিত্রতাকে স্থায়ী মিত্রতা মনে করে! এটা কৌশলের মিত্রতা হলে এই মিত্রতা যে স্থায়ী হবে না, এটা মনে রেখে পরবর্তী নীতিনির্ধারণ করে রাখা উচিত। শুধু পুলিশ দিয়ে নয়, নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই প্রতিবিপ্লবী এ চক্রান্তকে মোকাবিলা করাই সুসিদ্ধান্ত। সরকার এখন হেফাজতের নেতা মামুনুল হককে ধরেছে। বাবুনগরীকে হয়তো ধরবে। তাতে তারা কিছুদিন জেল ভোগ করবেন (ছাড়াও পেয়ে যেতে পারেন)। কিন্তু হেফাজতের শক্তি কমবে না। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও সরকারের সঙ্গে আপস করে তারা শক্তিশালী হয়েছে। তাদের শক্তির ভিত্তি মসজিদ ও মাদ্রাসা। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি পাল্টে গেছে। জাতির পিতার ভাস্কর্য তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। মাদ্রাসার সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। আধুনিক শিক্ষার স্কুল চালিয়ে যাচ্ছে। হেফাজত আর কী চায়? বাবুনগরী তার এক বক্তৃতায় বলেছেন, 'আওয়ামী লীগকে আমরা ক্ষমতা থেকে হটাতে চাই না। আমরা চাই আওয়ামী লীগ সরকারকে দিয়েই দেশে ধর্মীয় শাসন চালু করাতে।' কী সোজাসাপ্টা কথা। হেফাজত এই উদ্দেশ্য সাধনের পথেই হাঁটছে। তাদের কিছু নেতাকে গ্রেপ্তার করে কী হবে?
নিজেদের শক্তির প্রতি কতটা আস্থাবান হলে বাবুনগরী সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে পারেন, 'আমাদের বিচ্ছিন্নভাবে গ্রেপ্তার করছেন কেন? যাদের গ্রেপ্তার করতে চান, তালিকা তাদের পাঠান। আমি তাদের সবাইকে নিয়ে থানায় হাজির হবো।' সরকারের প্রতি এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জ একা হেফাজতের নয়, এই চ্যালেঞ্জ জামায়াত এবং বিএনপিরও। আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে নয়, এই তথাকথিত ইসলামী দলগুলোর এবং ধর্মান্ধ সহিংস এবং অহিংস দলগুলোর সম্মিলিত চ্যালেঞ্জই সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ধর্মনিরক্ষেপ রাজনীতির ঐক্যের কোনো শক্তিশালী দুর্গ গড়ে তুলতে পারবে, না গড়ে তুলতে চাচ্ছে? আমার ভয় হয়, ভারতে যেমন বিগ বিজনেস ও তাদের বিদেশি প্রভুরা হঠাৎ মোদি-ঝড় সৃষ্টি করে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট সব অসাম্প্রদায়িক দলকে রাজনীতি থেকে হটিয়ে দিল্লির সিংহাসনে হিন্দুত্ববাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, ঢাকায় ভারতের অনুরূপ কোনো কিছু না ঘটে। আমাদের একমাত্র ভরসা শেখ হাসিনা। তার ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত। সব সাম্প্রদায়িক দলগুলো সম্মিলিত হয়েও এই নেতৃত্বের খুঁটি নড়াতে পারবে না, এটা ঠিক। কিন্তু রাজনীতির নীতি মেনে এই বটগাছ তারা উপড়ে ফেলতে না পারলে ১৯৭৫ সালের মতো এরা ডেসপারেট হয়ে এমন পথ ধরতে পারে, যা হবে দেশের জন্য সামগ্রিকভাবে এবং শেখ হাসিনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বিপজ্জনক এবং আমি এখন সেই ভয়টাই করছি।
অতীতেও দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত গণআন্দোলনের রাজনীতির বদলে সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতিতে আগ্রহী ও পারদর্শী। অতীতে বঙ্গবন্ধুসহ বহু জাতীয় নেতা ও বুদ্ধিজীবীকে এমাসিনেশন তারা ঘটিয়েছেন। ডেসপারেট হলে ভবিষ্যতেও তারা পারবে না বা করতে চাইবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। শোনা যায়, লন্ডনে বসে তারেক রহমানও ওহি পাঠানোর রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে এখন ছুরি শানাচ্ছেন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলারও তিনি অন্যতম রূপকার ছিলেন। হাসিনা তার জীবনের ওপর অতীতে ছোট-বড় ১৯টি হামলা পার হয়েছেন। ভবিষ্যতেও যে পার হবেন না, তা আমি বলি না। কিন্তু এই হামলা যদি হয়, তা হবে সব চাইতে ভয়ংকর। এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে এবং সরকারকে সতর্ক করতে আমাদের সিভিল ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেন অতীতের মতো ব্যর্থ না হয় অথবা ভুল না করে, এটাই আমার প্রার্থনা।
বর্তমান সময়টা দেশের এবং শেখ হাসিনার জন্যও আমি বিপজ্জনক মনে করি। করোনার মহাআক্রমণে দেশ ভয়ানকভাবে বিপর্যস্ত এবং সর্বস্তরের সরকারি প্রশাসন এই মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত। এই সময়টা চক্রান্তকারীদের জন্য বড়ই সুবিধাজনক। কারণ, সরকারের এই সময় অন্যদিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় এবং সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, একজন রাজনৈতিক নেতাকে সুরক্ষা দিতে পারে তার রাজনৈতিক সংগঠন এবং তার প্রতি গভীর জনসমর্থন। এই সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের জোরে তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থান ঠেকিয়েছেন। একটি নিরাপদ স্থানে বসে শুধু তার মোবাইলের মারফত এরদোয়ান জনগণকে নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণ সেই নির্দেশ মেনে সামরিক অভ্যুত্থান ঠেকিয়েছে। শেখ হাসিনাও গণভবনে বসে তার মোবাইল ফোনের মারফত জনগণকে নির্দেশ দিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে পারবেন, যদি তার পেছনে তার রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তিশালী সমর্থন থাকে এবং জনসমর্থন অটুট থাকে। এই জনসমর্থন ও জন-পাহারাতেই তিনি চট্টগ্রামে এরশাদের পুলিশের হামলা এবং ঢাকায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভবিষ্যতে তার ওপর কোনো হামলা হলে তিনি এভাবেই বেঁচে যাবেন। কারণ, জনগণের কল্যাণ কামনা তার পেছনে রয়েছে। হেফাজতের প্রতি সরকার কঠোর হয়েছে। দেশকে এবং গণতন্ত্রকে রক্ষায় এর কোনো বিকল্প ছিল না। এই হেফাজত-জামায়াত কম্বাইন্ড চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরকারের আরও কঠোর হওয়া দরকার। তাতে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ণ হবে না, বরং গণতন্ত্র নিরাপত্তা পাবে। কেবল গ্রেপ্তার দ্বারা এই হেফাজতি-জামায়াতি চক্রান্ত রোধ করা যাবে না। আজ হয়তো কয়েকজন মামুনুল হক জেলে আছেন, কাল বেরিয়ে যাবেন। এটা যেন লোক দেখানো গ্রেপ্তার না হয়। তা যদি হয় তাহলে সাপের লেজে আরও বিষ জমবে। হেফাজত ও জামায়াতকে বাংলার মাটি থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হলে একদিকে সরকারকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করা এবং অন্যদিকে সেক্যুলার রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে মাঠে নামাতে হবে। এই সংগঠনগুলোতে এমনভাবে কাজ চালাতে হবে, যাতে ছদ্মবেশী ধর্মান্ধরা, দুর্নীতিপরায়ণ নব্যধনীরা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী নন, এমন ব্যক্তিরা সংগঠনগুলো থেকে বিতাড়িত হন। একাত্তরের আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ঘটানো দরকার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পুরোপুরি ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। নইলে দেশ বাঁচবে না।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি