মঙ্গলবার, ১৮ মে, 2০২1
করোনার ব্যাপক সংক্রমণ : ফেনীর ওয়াপদা মাঠে মেলা চলায় সমালোচনার ঝড়
Published : Tuesday, 23 March, 2021 at 8:14 PM

ফেনী প্রতিনিধি ॥
 ফের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়াবহতা দেখা দিলেও ফেনী শহরের ওয়াপদা মাঠে চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। এনিয়ে একদিকে ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ অপর দিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা বিতর্ক আর ব্যবসায়ীদের ঘোর আপত্তির মধ্যেই মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু কোন বিতর্কই মেলা আয়োজনের লাগাম টানতে পারেনি। শুরুতে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, বেশিরভাগ দর্শনার্থীর মুখেই মাস্ক নেই। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকলেও বাণিজ্য মেলা চলছে নির্বিঘ্নে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্বজনদের নিয়ে ঠাসাঠাসি করে মেলায় ঘুরতে হয়। ফলে শিশু-কিশোররা সহ সববয়সী মানুষই করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। এতে করে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক সময়ে নেয়া নানা প্রশংসনীয় পদক্ষেপও মেলার কারনে ফেনীতে সমালোচনার মুখে পড়ছে। যুবলীগ নেতা গোলাপ হোসেন তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেছেন, ‘ট্রাংক রোডে জরিমানা করা হচ্ছে মুখে মাক্স যাদের নেই তাদের- এখন প্রশ্ন হলো বানিজ্য মেলা হচ্ছে যে এইখানে যান না কেন-ওখানে গিয়ে জরিমানা করুন দেখি- জেলা প্রশাসক চুপ কেন এই মেলা নিয়ে – ফেনী শহর ব্যাবসায়ী সমিতি চুপ কেন- করোনা বেড়ে যাচ্ছে তারপরও সবাই চুপ।’ তার পোস্টটিতে অনেকেই মেলা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এখলাস উদ্দিন খোন্দকার বাবলু নামে জেলা ছাত্রলীগের একজন সদস্য লিখেছেন, ‘ডাল মে কুচ কালা হে ভাই!’ রাসেল সুজন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘টাকা পেলে সবাই চুপ থাকে।’

এর আগেও গোলাপ হোসেন মেলার সমালোচনা করে কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ‘ফেনীতে যদি করোনায় আক্রান্ত বাড়ে এটার দায় ভার কার ?, কে নিবে দায় ?, বানিজ্য মেলার অনুমতি কে দিলো কত টাকার বিনিময়ে অনুমতি দিলো ? যারা অনুমতি দেয় তাদের তো কিছু হবে না, হবে তো সাধারন জনগনের ফেনীর মানুষদের উনাদের সমস্যা কি ? ফেনীর এমন অবস্থা হয়েছে যে কেউ কথা বলে না সবাইর মুখ বন্দক, এত- এত সাংবাদিক শুধু ৩/৪ জন ছাড়া আর কেউ এটা নিয়ে লিখেনি, ভয় পেলে আর টাকার কাছে বন্দি হয়ে গেলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দালালি করেন ?’ সময় টেলিভিশনের ফেনী ব্যুরো অফিসের প্রতিবেদক আতিয়ার সজল তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আবারও মেলার আয়োজন! অথচ করোনার কারনে যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাসকে মাস বন্ধ, সেখানে মেলার মত অপ্রয়োজনীয় বিষয় অনুমোদন পাবে কি করে? এমন প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু এসবের সদুত্তর দিবে কে?

 ফেনীর কিছু লোককে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ফেনীর অপদা মাঠে প্রতিবছর এই বানিজ্য মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমরা কিছু আমজনতার পকেটের বারোটা বাজলেও ফেনীর একটি শ্রেনীর পোয়া কিন্তু বারো। আর এই মেলা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আর টাকার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ফেনীর ব্যাবসায়ীরা। মানহীন রংচটা পণ্যে সয়লাব এই মেলার কারণে একদিকে যেমন ঠকছে ক্রেতা অন্যদিকে মাসের পর মাস চলা এই মেলায় চরম আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয় ফেনীর শত শত ব্যবসায়ী। আর ফেনীর এই ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কথা চিন্তা না করে নিজেদের পকেট ভারী করছেন ফেনীর প্রশাসনিক, রাজনৈতিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের কয়েকজন। হিসেব মতে, তারা প্রায় ২ কোটি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে প্রতি বছর এই ধরনের মেলার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ কারণে ক্ষতির মুখে পড়লেও এসব মেলার বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচি দেন না ব্যবসায়ী নেতারা। তাই এবার সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবী করবো যে, করোনার এই প্রতিকূলতার মূহুর্তে ফেনীর ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে অন্তত এ বছরটিতে এই মেলাটির অনুমোদন যেন না দেয়া হয়।’ এ স্ট্যাটাসে দৈনিক কালের কন্ঠ প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান দারা ‘সহমত’ প্রকাশ করেছেন। দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিনিধি নুর উল্যাহ কায়সার লিখেছেন, ‘করোনার কথা বলে যে প্রশাসন স্কুল বন্ধ রাখে, তারাই আবার মেলার অনুমোদন দেয়। আহা টাকা।’ ফেনী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি আরিফুর রহমান লিখেছেন, ‘একেই বলে প্রতিবাদি পোস্ট।’ একই পোস্টে ইউএনবি প্রতিনিধি শফি উল্যাহ রিপন লিখেছেন, ‘টাকায় সব হয় ভাই।’ মানবজমিন প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম লিখেছেন, ‘যেখানে সৃজনশীল চর্চা বই মেলার অনুমতি নেই সেখানে বানিজ্য মেলা কার স্বার্থে ?’ অপর এক স্ট্যাটাসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জসিম মাহমুদ। তিনি লিখেছেন, ‘ফেনীতে ভ্রাম্যমান আদালত করোনা সচেতনতায় সচেষ্ট। অন্যদিকে বাণিজ্য মেলায় করোনার আধিপত্য!, ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।’ আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সাংসদ নিজাম ভাই স্বপরিবারে করোনাক্রান্ত, ঝুঁকির মধ্যে বাণিজ্য মেলা চলতে পারেনা। বন্ধ করা সময়ের দাবী।’ এখানে অনেকে মেলা বন্ধ করে দেয়ার দাবী জানিয়ে মন্তব্য করেন। বাংলানিউজের স্টাফ করসপন্ডেন্ট সোলায়মান হাজারী ডালিম লিখেছেন, ‘শহরের ওয়াপদা মাঠে করোনার চাষ, হাসাপাতালের বেডে মানুষের হাহাকার। কর্তাদের মুখেই নেই মাস্ক, জরিমানা শুধু আমজনতার। শহরের কেন্দ্রে ঠাসাঠাসি করে হচ্ছে সমাবেশ। অপরদিকে মুখে মাস্ক না থাকায় দিনমজুরের ২শ টাকা শেষ। কেউ মানেতো, কেউ মানেনা আচার, এ কেমন বিচার!’


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি