মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, 2০২1
২৫ কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযোগ নাঙ্গলকোট পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে
Published : Friday, 26 February, 2021 at 6:50 PM

কুমিল্লা প্রতিনিধি ॥
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে গত প্রায় পাঁচ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে কোটি-কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একটি মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে শিক্ষক নিয়োগে টাকা আত্মসাত করার ঘটনায় আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শতকরা ৩০ টাকা হারে কমিশন, নাঙ্গলকোট পৌর বাজার (তোয়া বাজার), সিএনজি চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড ডাকের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত, খাদ্য গুদামের সিন্ডিকেট, শালিশ মিমাংসার টাকা, কাজী নিয়োগ, পৌর কর্মচারী নিয়োগ এবং ৩টি এমপিওভুক্ত মাদরাসার সভাপতি হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
পৌর মেয়র আবদুল মালেক কর্তৃক আত্মসাতকৃত জানা যায়, পৌর মেয়র পৌরসভার ৭০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শতকরা ৩০ টাকা হারে প্রায় ২১ কোটি টাকা কমিশন, ঠিকাদারদের জামানতের প্রায় ৫০ লাখ টাকা, সালিশ মিমাংসার টাকা না দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজী নিয়োগ দেবে বলে প্রতিজন থেকে ৭ লাখ টাকা করে তিনজন থেকে ২১ লাখ টাকা, নাঙ্গলকোট পৌর বাজার (তোয়া বাজার) ডাকের ১৬ লাখ টাকার মধ্যে নামমাত্র পৌরসভার তহবিলে জমা দিয়ে প্রায় ৫ বছরে ৮০ লাখ টাকা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের প্রতি বছর ইজারার ২৭ লাখ টাকার মধ্যে সামান্য কিছু টাকা পৌরসভার ফান্ডে জমা দিয়ে অবশিষ্ট টাকা হাতিয়ে নেয়। এতে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ টাকা করে প্রায় ৫ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নাঙ্গলকোট গরু বাজার ইজারা থেকে প্রতিবছর ৮ লাখ টাকা করে প্রায় ৫ বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয়ের মধ্যে সামান্য কিছু টাকা পৌরসভার ফান্ডে জমা দিয়ে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাত করেছে। উপজেলা খাদ্য গুদামে সিন্ডিকেট করে গত প্রায় ৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকা এককভাবে হাতিয়ে নেয়। পৌরসভার পাঁচজন কর্মচারী নিয়োগে প্রতিজন থেকে ৫ লাখ টাকা করে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়। এছাড়াও নাঙ্গলকোট গরু বাজার সিএনজি ষ্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনীটি একাংশের ২টি দোকান মুশফিকুর রহমান সৈকত ও পৌরসভা যুবলীগের সেক্রেটারী এয়াছিনের শ^শুড়কে অবৈধভাবে বরাদ্দ দিয়ে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।  
আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা, শ্রীকামতা দাখিল মাদ্রাসা ও পানকরা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে ৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, লাইব্রেরীয়ান, পিয়ন, সুপার ও সহ-সুপার নিয়োগে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। পানকরা মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পৌর মেয়র আব্দুল মালেক সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির মাধ্যমে বিগত প্রায় ৫ বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। দুর্নীতি দমন বিভাগ তদন্ত করলে সকল সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী জানান।
এদিকে পৌরসভার কর্মচারীদের ২ বছরের বেতন বকেয়া থাকলেও নতুন ৫ কর্মচারী নিয়োগে বড় অংকের বাণিজ্য ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০২০ সালের শুক্রবার (১৩ মার্চ) রুদ্বদ্বার নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। অতি গোপনে নিয়োগ নীতি লঙ্ঘন করে নামে মাত্র নিয়োগ বোর্ডের ভুরিভোজের কার্যক্রম চলে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে একজন সহকারী কমিশনার বোর্ডের শোভা বর্ধন করেন। নিয়োগ বোর্ডে নির্বাচিতদের ২ জনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা (সড়ক বাতি ও পরিচ্চন্নতা কর্মী) উৎকোচ গ্রহণ করা হয়। বাকী ৩ জন জিপ চালক, ট্রাক চালক ও এমএলএসএসের কাছ থেকে ৩ লাখ হারে টাকা নিয়ে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেও ৯ জন অযোগ্য আত্মীয় কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে মাথা ভারি প্রশাসন তৈরি করা হয়। এ ব্যাপারে পৌর কর্মচারী কর্মকর্তারা ভয়ে কেহই মুখ খুলতে নারাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মালেক তার নির্বাচনী কার্যক্রমে ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে মোটর সাইকেল শোডাউনে আসতে বাধ্য করে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি