বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, 2০২1
এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার (মির্জা ফখরুলের) মুখে
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
Published : Sunday, 1 November, 2020 at 7:41 PM

প্রবল প্রতাপান্বিত করোনার বিশ্বত্রাস হামলায় যখন বিশ্বের সব মানুষ মুহ্যমান এবং তাদের নশ্বর জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে আরো বেশি শঙ্কিত, তখন বাংলাদেশে এক বিদূষকের আবির্ভাব হওয়ায় সবার সঙ্গে আমিও পরম কৌতুক অনুভব করছি। এই বিদূষকের নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি ‘ম্যাডামের’ দরবারের বিদূষক এবং তার দলের মহাসচিব। তিনি আমেরিকার রিপভ্যান উইংকলের মতো মনে হয় বহু দশকের নিদ্রা থেকে জেগে উঠেছেন এবং বাস্তবতা ও সত্য উপলব্ধি করছেন। এতকাল পর তার মধ্যে বাস্তুবুদ্ধি গজিয়ে উঠতে দেখে অনেকে চমকিত হচ্ছেন, বেশির ভাগ মানুষ এই দুঃসময়েও কৌতুক অনুভব করছেন। স্বীকার করব, করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত, তখন তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে তিনি হাসাতে পেরেছেন।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর শাসনামল শেখ হাসিনার শাসনামলের চাইতে ভালো ছিল। আমি দেখেছি, ’৭২ থেকে ’৭৫ সাল মোটেই এতটা খারাপ ছিল না। তখন সুযোগ ছিল সবার কাছে যাওয়ার। তখন আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছেও যাওয়া যেত বিচার চাওয়ার জন্য। তখন বিচার পাওয়াও যেত। এখন আর কারো কাছে যাওয়া যায় না। বিচারও পাওয়া যায় না।’

মির্জা সাহেবের বক্তব্যের ওপরের অংশটুকু জেনে এতকাল পর মন্থরার মুখে সত্যোপলব্ধির কথা শুনে মানুষ বিস্মিত হবে, তবে কৌতুক অনুভব করবে না। বিস্মিত হয়ে ভাববে, ‘এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে?’ বিএনপির নেতারা যেখানে শয়নে স্বপনে বঙ্গবন্ধুর বাকশালের ভূত দেখেন, তার নিন্দায় পঞ্চমুখ থাকেন, আজ হঠাত্ তাদের মুখে বঙ্গবন্ধুর এবং তার শাসনামলের প্রশংসা! পেছনে আবার কোনো রাজনৈতিক শঠতা নেই তো? বিএনপির নেতাদের পক্ষে সবই সম্ভব। তবে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের যে অংশ শুনে দেশের মানুষ পরম কৌতুক অনুভব করবে তা হলো, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছি সবাই একসঙ্গে। তখন আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ হয়নি। এই ঠাকুরগাঁওয়ে ’৭২ সালের পর ডিভিশন ক্রিয়েট করা শুরু করেছে। এটা আরো বেড়েছে। এখন এমন হয়েছে যে এক পরিবার আরেক পরিবারের ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে বিয়েও দেয় না। ছেলে আওয়ামী লীগ এবং মেয়ে বিএনপি হলে অথবা মেয়ে আওয়ামী লীগের এবং ছেলে বিএনপির পরিবারের হলে তদের বিয়ে হবে না। এ রকম অবস্থায় একটা জাতি, একটা দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থার কথা যারা জানেন, তাদের কাছে মির্জা সাহেবের বয়ান পরম কৌতুকজনক মনে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ’৭২ সাল থেকে ডিভিশন ক্রিয়েট করা শুরু হয়নি। বরং মানুষ স্বাধীনতা লাভে উজ্জীবিত হয়েছিল এবং দেশদ্রোহী ও স্বাধীনতার শুত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের ঐক্য মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাঙার চেষ্টা করেছিল জামায়াত এবং রাজাকার ও আলবদরের দল তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা দ্বারা। স্বয়ং মির্জা সাহেবের মরহুম পিতার এ সময় কী ভূমিকা ছিল এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি কীভাবে জনগণ দ্বারা ‘সংবর্ধিত’ হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে মির্জা সাহেব কিছু বললে তার সত্যোপলব্ধি পূর্ণ হতো। মানুষ মির্জা সাহেবের ‘আমরা ১৯৭১ সালে একসাথে যুদ্ধ করেছি’ কথাটা শুনে পরম কৌতুকে হাসত না।

রাজনৈতিক মতভেদের কারণে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে না, এটা মির্জা সাহেবের কষ্ট কল্পনা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারের ছেলেমেয়ের বিয়ে এখন দেদার হচ্ছে। এমনকি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গেও বিএনপি পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক হয়েছে। এটা অভিভাবকেরা না চাইলেও হচ্ছে। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রেম হলে অভিভাবকেরা তা ঠেকাবেন কী করে?

তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পর ৩০ লাখ মানুষ হত্যার রক্তে যাদের হাত রঞ্জিত, সেই জামায়াতিদের ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অনেক সাধারণ পরিবারই রাজি হয়নি। তার কারণ, দেশদ্রোহী ও ঘাতকদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা। কিন্তু এই ঘৃণাও বেশি দিন টেকেনি। প্রেমের জোয়ারে ভেসে গেছে। উত্তরবঙ্গে কত জামায়াতি পরিবারের সঙ্গে আওয়ামী পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক হয়েছে, মির্জা সাহেব তার হিসাব রাখেন কি? আমার নিজেরই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়া (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী) প্রেমে পড়ে নিজের পছন্দের এক ছাত্রকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর তারা উচ্চশিক্ষার জন্য দুই জনেই লন্ডনে এসেছে।

আজকাল নতুন প্রজন্মের জামায়াতিদের চেনা যায় না। সেই গোলাকার টুপি, পোশাক, ব্র্যান্ড দাড়ি এখন দেখা যায় না। বরং ট্রেন্ডি পোশাক-আসাক ও চেহারায় অন্য যুবকদের চাইতে তাদের আলাদা করা যায় না। তবে চেহারা পালটালেও তাদের চরিত্র পালটায়নি, এটা প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়। আমার আত্মীয়ার জামায়াতি বরটির ক্ষেত্রেও তার প্রমাণ দেখেছি। একাত্তরের ঘাতক ও দালালদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষিত হওয়ার পর তার সমর্থনে লন্ডনে বাংলাদেশি যুবা-যুবতীরা পূর্ব লন্ডনে যে সমাবেশ ও র্যালি করত, আমার আত্মীয়াটি তাতে নিয়মিত যোগ দেওয়ায় তার স্বামী ঘোরতর আপত্তি জানায় এবং তার জামায়াতি চরিত্র ধরা পড়ে। এ রকম বহু ঘটনার কথা জানি।

বঙ্গবন্ধুর শাসনামল যদি ভালোই ছিল, তাহলে মির্জা সাহেবের শাসনামলে জাতির পিতাকে কী করে অসম্মান জানানো হতো? তার নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের দিবসটিকে তাদের মাদামনেত্রী নিজের মিথ্যা জন্মদিন বানিয়ে তার বয়সের ওজনের কেক কেটে ও হিন্দি গান বাজিয়ে উত্সব করতেন? আর মির্জা সাহেবেরা সেই উত্সবে গিয়ে মাদামকে ভক্তির অঞ্জলি দিতেন? বঙ্গবন্ধু ও তার দলের লোকদের কাছে গেলে যদি সুবিচার পাওয়া যেত, তাহলে মির্জা সাহেবেরা কী করে তাকে নানা অপবাদ দিয়ে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিলেন? জিয়াউর রহমানের মতো এক খলকায়ককে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর চেষ্টা করেছিলেন?

মির্জা সাহেব বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে দেশে গণতন্ত্র নেই। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সাহেবের সামরিক শাসনে গণতন্ত্র ছিল কি? বিএনপির নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ শাসনে গত ১০ বছর ধরে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, তাদের ২১ বছরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শাসনামলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকেরা কি শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছেন? জেলে আটক করে জিয়াউর রহমান বিচার প্রহসনে কর্নেল তাহেরসহ ১৩০০ মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সিপাইকে হত্যা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে শহিদ কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী হত্যা করা হয়েছে আড়াই হাজারের ওপরে (দেখুন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট)।

পশ্চিমবঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের তত্কালীন রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির পুলিশ ও নেতাকর্মীদের হাতে চরম নির্যাতনের শিকার ১০ হাজার নর-নারী পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পূর্ণিমা শীলসহ পাঁচ শতাধিক কুমারী, সধবা ও বিধবা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার জীবনের ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাসহ নির্মম হামলা হয়েছে ১৯ বার।

শেখ রেহানার ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই। তাকে রমনা থানার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি শেখ হাসিনা সরকার বরাদ্দ করেছিল। খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতায় বসার প্রথম দিনেই সেই বাড়ির বরাদ্দ বাতিল করেন। শেখ হাসিনা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সরকারি বাড়ি ছাড়ার আগেই তার বাড়ির ইলেকট্রিসিটি ও গ্যাসের লাইন এবং পানির সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ঢাকার সামরিক হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীকে দেখতে গিয়েছিলেন। তার গাড়ি হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং প্রায় এক মাইল পথ হেঁটে তাকে হাসপাতালে ঢুকতে হয়।

আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড। তিনি হবিগঞ্জ সফরে গিয়ে বিএনপির গুণ্ডাদের বোমা হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন। তার দেহ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিত্সকেরা তার প্রাণ বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। বারবার অনুরোধ জানিয়েও এই হেলিকপ্টার দেওয়া হয়নি। যখন নানা টালবাহানার পর হেলিকপ্টার দেওয়া হলো, তখন আর তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। শেখ হাসিনা তখন বিরোধী দলের নেত্রী, লন্ডনে এসেছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য হিথরো এয়ারপোর্টে এসেছেন। প্রোটোকল অনুযায়ী বিরোধী নেন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলে দূতাবাস থেকে গাড়ি ও ড্রাইভার পান। প্রতিবার শেখ হাসিনাও পেয়েছেন। কিন্তু সেদিন দেখা গেল, বাংলাদেশের লন্ডন দূতাবাসের কোনো গাড়ি হিথরো বিমানবন্দরে আসেনি। শেখ হাসিনা বহুক্ষণ হিথরো বিমানবন্দরে অপেক্ষা করলেন। তারপর খোঁজ নিতেই দূতাবাস থেকে জানা গেল, অনেক মন্ত্রী একসঙ্গে লন্ডন সফরে আসায় দূতাবাসে গাড়ি নেই। শেষ গাড়িটি লন্ডন সফররত আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ওরফে ফালুর শ্বশুর সাহেব জুতা কেনার জন্য শহরে যাওয়ায় তাকে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের জোয়ারদারের গাড়িতে লন্ডনে আসেন।

মির্জা সাহেব, আপনাদের আমলের ‘সুশাসনের’ আরো ইতিহাস জানতে চান কি? আপনারা যত হাজার নিরীহ আওয়ামী লীগ কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেলে ঢুকিয়ে নির্যাতন করেছেন, হুমায়ুন আজাদসহ কত ডজন বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী-সাহিত্যককে আপনাদের ক্যাডারদের হাতে নির্মম মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, তার তালিকায় একবার কি চোখ বুলাবেন? সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল এবং তাদের নারী নির্যাতনে আপনারা চ্যাম্পিয়ন। পরে আওয়ামী লীগের একশ্রেণির নেতাকর্মী এ ব্যাপারে আপনাদের অনুসরণ করেছে।

পুরোনা কাসুন্দি আর ঘাঁটতে চাই না। মির্জা ফখরুল শুধু একজন পলিটিশিয়ান নন, একজন কমেডিয়ানও। দেশের মানুষ এতদিন পর বঙ্গবন্ধুর শাসনামল সম্পর্কে তার সত্যোপলব্দিতে অবশ্যই খুশি হয়েছে, সেই সঙ্গে প্রচুর হেসেছে মুক্তিযুদ্ধে তাদের যোগ দেওয়ার রূপকথা শুনে। আজ যখন বঙ্গবন্ধুর শাসনামল সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিবের সত্যোপলব্ধি ঘটেছে, তখন আজ হোক কাল হোক একমাত্র তারেক রহমান ছাড়া অন্য নেতাদেরও তা ঘটেব বলে আশা করা যায় কি।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি