শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০
রোহিঙ্গা সঙ্কট: কমছে অনুদানদাতা, আসছে ‘ঋণের’ প্রস্তাব
Published : Sunday, 1 November, 2020 at 8:39 PM

স্টাফ রিপোর্টার:
‘জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় মাল্টি-সেক্টর’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন গত ৬ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সংশোধনীতে প্রকল্পের খরচ এক হাজার ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ৯৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। ওইদিন একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেছিলেন, ‘(একনেক টেবিলে প্রকল্পটি ওঠার আগে) বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা টেবিলে আমি কথা বলেছি। তারা আমাদের অনুদান দিতে চায়নি। তারা বলেছে, বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই অনুদান পাবে না। যেহেতু আমাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারা ঋণ দেবে আমাদের। আমরা বলেছি, তাহলে আপনাদের সঙ্গে আমাদের এটা শেষ সভা, আর কোনো সভা করব না। যদি অনুদান নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আমরা এটা গ্রহণ করব। কারণ     
১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রেখেছি। এর বাইরে আমাদের ছয়টিসহ আটটি উপজেলার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সামাজিক ভ্যালু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আবাসন নষ্ট হচ্ছে, পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, গাছও কাটা হচ্ছে। এ কারণে আমরা বলেছি, প্রকল্পটা রোহিঙ্গাদের কারণে নিয়েছি, বাংলাদেশের কারণে নয়। সুতরাং রোহিঙ্গাদের জন্য এ প্রকল্পের সবটা সরাসরি ব্যয় না হলেও রোহিঙ্গাদের কারণে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধানের জন্য এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সুতরাং অনুদান দিতে হবে।’
রোহিঙ্গাদের ব্যয় নির্বাহ করতে বাংলাদেশকে অনুদানের পরিবর্তে ঋণ গ্রহণের প্রস্তাবের বিষয়টি সত্য কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহরিন আহমেদ মাহবুব বলেন, ‘সত্য-মিথ্যার প্রসঙ্গে আমি যেতে পারব না। যেটুকু কনফার্ম, সেটুকুই আমি বলছি। উনি (বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন) তো আমাদের বলেননি। যেহেতু ওই সভায় আমি ছিলাম না, সেটা আমি বলতেও পারব না।’
মেহরিন আহমেদ মাহবুব বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে একদম প্রথম থেকে। এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান ইতোমধ্যে সরকারকে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অনুদান এটা। সেগুলো দেয়া হচ্ছে পর্যায়ক্রমে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও আমরা অনুদান দিয়েছি। সুতরাং আমরা যদি না দিতাম, তাহলে তো এটা হতো না।’
বিশ্বব্যাংকের এ জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাধারণত একেকটা প্রকল্প তিন-চার বছর ধরে চলে। আবার অতিরিক্ত অর্থায়ন মাত্র অনুমোদন হলো। সেটা তো আরও তিন-চার বছর ধরে চলবে। এই টাকা খরচ করতে তো আরও তিন-চার বছর লাগবে। এই সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গারা চলে যাবে নাকি থাকবে- সেটাও তো একটা ব্যাপার। সরকার যেভাবে চাইবে, আমরা সেভাবেই সাহায্য করব। আমাদের মূল লক্ষ্য সরকারকে সহায়তা করা।’
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে ‘সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা’ (এসকেইউএস) নামের এনজিও। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা
 বলেন, ‘করোনার মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ফান্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ডোনার চলে গেছে। অনেক ডোনার চলে যাচ্ছে। অনেকে বন্ধ করে দিচ্ছে।’



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি