শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০
ফেনীতে অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা
Published : Wednesday, 28 October, 2020 at 8:59 PM

ফেনী প্রতিনিধি ॥
ফেনী পৌরসভা সংলগ্ন নির্মাণাধীন মার্কেট। এ মার্কেটের পেছনেই দিনরাত চলছে মাদকের কারবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এমনকি ভ্রাম্যমান আদালতের বারবার অভিযানে কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা। এভাবে প্রকাশ্যে মাদকসেবীদের বিচরণে প্রতিনিয়ত পথচারীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। এ চিত্র শুধু এখানেই নয়, শহরের অন্তত ২০টি স্পটে অনেকটা বেপরোয়াভাবে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি হয় মাদক। এসব বিক্রির সাথে পুরুষের সাথে অনেক নারীরাও জড়িয়ে পড়ছেন।
দায়িত্বশীল সংস্থার নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শহরের রেল ষ্টেশন, মহিপাল ফ্লাইওভার সংলগ্ন স্থান, মাষ্টারপাড়ায়, ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়াম সংলগ্ন বনানী পাড়ার পরিত্যক্ত বাড়ি, কানন সিনেমা হল সংলগ্ন স্থান, শান্তিধারা আবাসিক এলাকা, সার্কিট হাউজ এলাকার কলোনী, বিরিঞ্চি, সহদেবপুর, জিএ একাডেমী স্কুলের পেছন, লালপোল এলাকার শামীমের কলোনী, কদলগাজী রোডের বস্ত্র হর্কাস মার্কেট সংলগ্ন স্থানে প্রতিদিন অপ্রতিরোধ্যভাবে বিক্রি হচ্ছে বাংলা মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য। জেলা প্রশাসন মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান, গোয়েন্দা পুলিশ, মডেল থানা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান কোনভাবেই বিক্রেতাদের থামাতে পারছেনা। অভিযান টের পেয়ে উল্লেখিত স্পটে ২/৩ ঘন্টা মাদক বিক্রি বন্ধ থাকে। এরপর আবার পুরোদমেই শুরু হয় কেনাবেচা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে কখনো কখনো সাময়িক স্থান পরিবর্তন করা হয়। একটি সূত্র জানায়, লালপোল এলাকার একটি বস্তিতে প্রতিদিন দুই শতাধিক ব্যক্তি গাঁজা সংগ্রহ করতে আসে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত শহর সহ জেলায় ৯শ ৮৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২টি মামলার মধ্যে ১২২টিতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দন্ড দিয়ে মাদক কারবার ও সেবনে জড়িতদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় ৮০টি নিয়মিত মামলা হয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো আবদুল হামিদ জানান, জেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ১শ ৭০ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মাদক ব্যবসায়ী আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা একবার আটকের পর ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করে। এরপরও প্রতিমাসে গড়ে ১২ থেকে ১৫টি নিয়মিত মামলা দায়ের ও ১২ থেকে ১৫ জন মাদক কারবারীকে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড করা হচ্ছে।
প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের জানান, সমাজে মাদক রন্দ্রে রন্দ্রে ছেয়ে গেছে। সামাজিক সচেতনতা ও সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। এজন্য সকলকে মাদক নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি পারিবারিকভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সন্তানদের ব্যাপারে বেশি বেশি নজরদারী রাখতে হবে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি এএনএম নুরুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলায় মাদক নির্মূলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা সর্বাত্মক কাজ করছেন। মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি