শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০
দেশে করোনার পিক-টাইম পার হয়ে গেছে!
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Sunday, 25 October, 2020 at 10:23 AM

দেশ করোনা সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ের চূড়া বা ‘পিক’ গত আগস্টে পার হয়ে গেছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। তারা বলছেন, সেই পিক-টাইম ছিল ৩১ মে থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। সেসময় করোনা শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে কমতে গত ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশে। তবে, চূড়া পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো সংক্রমণের প্রথম ঢেউ চলছে। সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি- বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। একই সঙ্গে শীতকালকে সামনে রেখে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার ‘করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে জনস্বাস্থ্যবিদেরা এসব কথা বলেন। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এই ভার্চ্যুয়াল সেমিনারের আয়োজন করে। করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রথম রোগী পাওয়া যায় ৮ মার্চ। এপ্রিলে সংক্রমণ হার ১২ শতাংশে উঠে। ৩১ মেতে সংক্রমণ হার ২০ শতাংশে ঠেকল। এরপর ২০ আগস্ট পর্যন্ত এই হার ২০-এর বেশি ছিল। ২১ আগস্ট সংক্রমণ হার কমে ১৮-এর ঘরে নামে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করে দেশে সংক্রমণের পিক বা চূড়া কবে হলো? ৩১ মে থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত চূড়া ছিল। সাধারণত সুচালো ও মালভূমি আকৃতি এই দু’ধরনের চূড়া দেখা যায়। আমাদের দেশে মালভূমির মতো চূড়া ছিল। তবে এখন প্রথম ঢেউ শেষ হয়নি। সংক্রমণ ১০ শতাংশের ঘরে আছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক পরামর্শক মুজাহেরুল হক বলেন, ‘দেশে প্রথম ঢেউ এখনো মিলিয়ে যায়নি। তবে নিয়ন্ত্রণে আনার দিকে যাচ্ছে। জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।’

ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা সারা বিশ্বের কাছেই নতুন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোও এটি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তে ভুল ছিল না, এমন না। কিন্তু সফলতা যে নেই, এটা বলা যাবে না। করোনার পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তা মোকাবেলায় কাজ করছে সরকার।’

করোনা সংকটে ত্রাণ বিতরণে ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ও চেয়ারম্যানসহ অনেকের অনিয়মে জড়িয়ে পড়া নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় কিছু জনপ্রতিনিধি জড়িত ছিলেন। ৬২ হাজার জনপ্রতিনিধির মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম অনিয়মে জড়িত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় অনিয়ম কমে গেছে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘শীতকালে এমনিতেই ঠান্ডার সমস্যা থাকে। সেকেন্ড ওয়েভের তীব্রতা কমাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। করোনা শহর এলাকাতে তাণ্ডব বেশি চালাচ্ছে। শহর এলাকাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এই কাজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’

হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য জেহাদুল করিম, সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদ, আবদুল লতিফ মণ্ডল প্রমুখ।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি