সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
অঙ্গীকার পূরণে পুলিশকে আরো জনবান্ধব হতে হবে
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
Published : Tuesday, 18 August, 2020 at 7:09 PM

শিশুকাল থেকে গোয়েন্দা গল্পে এবং সংবাদপত্রে পুলিশ সম্পর্কে অনবরত নেগেটিভ খবর পাঠ করে স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে এই বিশ্বাসই গেঁথে গিয়েছিল যে পুলিশ অকর্মণ্য, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষ খায়। আমি নিজেও সংবাদপত্রের কলামিস্ট হিসেবে কতবার যে পুলিশের অত্যাচার, বর্বরতা ও দুর্নীতি সম্পর্কে শিখেছি তার ইয়ত্তা নেই। পুলিশি অত্যাচার সম্পর্কে লিখতে গিয়েও কতবার যে ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ আমরা সাংবাদিকরা চাপিয়েছি তার সীমা-সংখ্যা নেই। ধরুন, ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় আমরা বলেছি, এটা পুলিশের বর্বরতা। কিন্তু এই গুলিবর্ষণের আসল হুকুমদাতা কে ছিলেন? আজিজ আহমদ, তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের পাঞ্জাবি সিভিল অফিসার। পুলিশ ওপরওয়ালাদের আদেশ পালন করেছে।

সম্প্রতি আমেরিকার একটি রাজ্যে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার এক অশ্বেতাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করেছে। সে জন্য সারা বিশ্ব মার্কিন পুলিশের নিন্দায় সরব হয়েছে। কিন্তু এই নিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাপ্য। তাঁর জঘন্য বর্ণবাদী নীতি একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশকে একজন অশ্বেতাঙ্গ হত্যায় প্রবুদ্ধ করেছে। এমন করে বিশ্বময় সরকারি অত্যাচারকে পুলিশি অত্যাচার বলে নিন্দা করা হয়। কোনো দেশের সরকার যদি অত্যাচারী ও গণবিরোধী না হয়, সে দেশের পুলিশও গণবিরোধী হতে পারে না। জনবান্ধব সরকারের পুলিশও জনবান্ধব হতে বাধ্য। আমরা কি শেখ হাসিনার সরকারের আমলে পুলিশের নতুন ভাবমূর্তি ও জনবান্ধব চেহারা দেখছি না!

শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা উপমহাদেশের পুলিশের এত খারাপ ভাবমূর্তির কারণ, ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি দেশ স্বাধীন হয়েছে বটে; কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে তাদের দ্বারা সৃষ্ট শাসনব্যবস্থা, পুলিশিব্যবস্থা কিছুই সংস্কার বা পুনর্গঠন করা হয়নি। ব্রিটিশরাজ পুলিশ বাহিনী তৈরি করেছিল তাদের উপনিবেশের মানুষের স্বার্থরক্ষা, নিরাপত্তা দান ও সেবা দেওয়ার জন্য নয়; এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থরক্ষা এবং সেই স্বার্থরক্ষার জন্য জনসাধারণের ওপর দমন, নির্যাতন, নিপীড়ন চালানোর জন্য। পুলিশ তাই করেছে। তারা নিজেদের জনগণের সেবক নয়, প্রভু ভেবেছে এবং সেই মতো জনসাধারণের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। পাকিস্তান আমলেও পুলিশ সার্ভিসে এই আচার-আচরণের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে।

এতদসত্ত্বেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) পুলিশ বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে অভূতপূর্ব সাহস ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। প্রথম প্রতিরোধ তারা গড়ে তোলে ঢাকার রাজারবাগে হেডকোয়ার্টারে। আধুনিক মারণাস্ত্র সজ্জিত পাকিস্তানের হানাদারদের সামান্য বন্দুক হাতে নিয়ে তারা সারা রাত প্রতিহত করে। হানাদারদের বর্বর হামলায় স্বাধীনতাকামী অসংখ্য পুলিশ নিহত ও আহত হয়। বাকি অংশকে বন্দি অবস্থায় অন্যত্র নিয়ে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু তাদের নতিস্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। পূর্ব পাকিস্তানের পুলিশ, আনসার এমনকি চৌকিদার-দফাদারদের বিরাট অংশ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পড়েছিল পুলিশের ওপর। সেনাবাহিনী তখনো পুনর্গঠিত হয়নি। মুক্তিযোদ্ধারাও তখন অস্ত্রসমর্পণ করেছেন। তিন মাস ভারতের মিত্র সেনাবাহিনী বাংলাদেশে অবস্থান করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জনগণের প্রতিদিনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, রাস্তাঘাটে পাহারাদানের কাজ তারা করবে—এটা আশা করা যায় না। বাংলাদেশের পুলিশ তখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কিন্তু তারা এই দায়িত্ব পালন করেছে। সদ্য মুক্ত ঢাকা শহরে অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে নাগরিকদের মুক্ত রেখেছে।

বঙ্গবন্ধু দেশের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর লিবারেশন আর্মির মতো লিবারেশন পুলিশ ফোর্স গঠন করতে চেয়েছিলেন। আমি যতটুকু জানি, বঙ্গবন্ধু দেশের পুলিশ বাহিনীকে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সেনাবাহিনীকে দেশের সীমান্ত, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পাহারা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিলেন সেনাবাহিনীর সমান্তরাল বাহিনী হিসেবে নয়, একটি সদ্যঃস্বাধীন দেশে যে অভ্যন্তরীণ অরাজকতা ও সন্ত্রাস দেখা দেয় তা দমনের জন্য। এ ধরনের বিশেষ বাহিনী সব দেশেই আছে। ব্রিটেনে এসএসএস আছে। আমাদের দেশেও যাঁরা রক্ষীবাহিনী গঠনের নিন্দা করেছেন, তাঁরাই পরে ক্ষমতায় এসে র‌্যাব গঠন করেন। এই র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (সম্ভবত মেজর অব. রফিক) সঙ্গে পুলিশের দুর্নীতি, ঘুমপ্রীতি, অকর্মণ্যতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে পুলিশ বাহিনী একটি উপেক্ষিত ও বঞ্চিত বাহিনী। এদের বেতনের স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দিকে তাকালে দেখবেন, এই বেতনে সততা বজায় রেখে কোনো মানুষের পক্ষে চলা সম্ভব নয়। কোনো দাগি আসামি ধরতে হলেও পুলিশকে আপখোরাকি ব্যবস্থায় (নিজের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা নিজে করা) গ্রাম-গ্রামান্তরে ছুটে বেড়াতে হয়। তার জীবনের নিরাপত্তা কে দেয়? কতকালের পুরনো ময়লা খাকি পোশাক পরে এবং ব্যবহারের অযোগ্য বুট পায়ে দিয়ে পুলিশকে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা কেউ লক্ষ করেছেন কি? ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় বসে পুলিশকে নির্দেশ দেবেন সাধারণ মানুষকে ঠেঙাতে, আর চিৎকার উঠবে পুলিশ অত্যাচার চালাচ্ছে। এটাই তো যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

আমি বললাম, এখন তো আপনারা ক্ষমতায়। পুলিশ বাহিনীর বর্তমান দুরবস্থা দূর করে, পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠন করে অবস্থা পাল্টাচ্ছেন না কেন? তিনি বললেন, কয়েক শতকের জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা সম্ভব কি? সরকার পুলিশ বাহিনী ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে। কিন্তু চারদিকে যা ষড়যন্ত্র চলছে, তাতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সময় পাবে কি না সন্দেহ।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাই সত্য হয়েছিল। নানা ষড়যন্ত্রের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনে পরাজয় ঘটে এবং তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তারপর আবার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ডদানের কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনী সংস্কারের কাজে হাত দেন। তাঁর অদম্য চেষ্টা এবং দেশপ্রেমিক ও আধুনিকমনা পুলিশ অফিসারদের সহযোগিতায় বর্তমানে বাংলাদেশের যে দেশপ্রেমিক, স্মার্ট, মডার্ন পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠেছে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার তা চক্ষুশূল হয়েছিল। সম্ভবত সে জন্যই তিনি পুলিশদের একদিন ‘গোপালি’ বলে ঠাট্টা করেছিলেন।

আমি দীর্ঘ ৪৫ বছর হয় দেশ ছেড়েছি। তখন পুলিশের মান্ধাতার আমলের পোশাক-পরিচ্ছদ, দুর্নীতিবাজ চেহারা দেখে এসেছি। আমার অলক্ষ্যে দেশের পুলিশ বাহিনীতে কী বিরাট পরিবর্তন এসেছে তা প্রথম লক্ষ করি সম্ভবত বছর তিনেক আগে। লন্ডন থেকে ঢাকায় গেছি। এয়ারপোর্টে পুলিশের ড্রেস পরা এক সুদর্শন, স্মার্ট যুবকের সঙ্গে দেখা ও পরিচয়। জানলাম, তাঁর নাম হাবিব এবং তিনি ঢাকার এসপি। তাঁর ড্রেস দেখে বুঝলাম, বাংলাদেশে পুলিশের ড্রেস বদলে গেছে। খাকি ড্রেসের বদলে এসেছে নীল ইউনিফর্ম। ঝকঝকে তকতকে পোশাক। সেদিন পুলিশের গাড়িতে ঢাকার বাসা পর্যন্ত একটা লিফট পেয়েছিলাম। প্রত্যেক পুলিশ পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্মধারী, স্মার্ট ও বিনয়ী। শুধু আমার সঙ্গে নয়, পরে দেখেছি সবার সঙ্গেই তারা বিনয়ী। তারা চমৎকার ট্রেনিংপ্রাপ্ত।

হাবিব এখন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি। তাঁর সুবাদে বর্তমান জেনারেশনের অনেক দক্ষ পুলিশ অফিসার, এমনকি মহিলা পুলিশ অফিসারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। বাংলাদেশে বহু জেলায় এখন মহিলা এসপি রয়েছেন। শেখ হাসিনার ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ পরিকল্পনায় সব পেশাতেই নারীদের বিরাট সংখ্যায় উত্তরণ ঘটেছে। কাজী লিমা নামের এক তরুণী পুলিশ অফিসারের সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি বিদেশেও দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। বিয়ে করেছেন এক সাংবাদিককে। সন্ত্রাস দমনে দক্ষ। আমাদের পরিচয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়েছে—পিতা ও কন্যার মতো।

দেশের অন্যান্য শ্রেণির মতো পুলিশ বিভাগেও ‘ব্ল্যাক হর্স’ আছে। কিন্তু একজনের অপরাধে গোটা পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করা যায় না। জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার জন্য একজন আমেরিকান পুলিশ দণ্ডিত হয়েছে। গোটা আমেরিকান পুলিশ বাহিনী সেই হত্যার দায়িত্ব ও কলঙ্ক গ্রহণ করেনি।

বাংলার বর্তমান স্মার্ট, আধুনিক পুলিশ বাহিনী নিয়ে আমি গর্বিত। সৌদি আরবে হজ করার জন্য গিয়েছিলাম। দেখি রাজপরিবারের রয়াল গার্ড বাহিনীতে বাঙালি বেশি। সম্ভবত তারা বাংলাদেশের আর্মি অথবা পুলিশ বাহিনী থেকে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, সৌদি রাজপরিবার আর পাকিস্তানি গার্ডদের খুব বিশ্বাস করে না। তারা হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদিতে জড়িত বলে অভিযোগ। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিদেশে শান্তি স্থাপনের জন্য যেসব বাংলাদেশি আর্মি ও পুলিশ বাহিনীর লোকেরা গেছেন, তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। পুরস্কৃত হয়েছেন।

বাংলাদেশের পুলিশের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ও সাফল্য দেখা গেছে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ মহামারি কবলিত দেশে। এবার দেখে গেল শুধু জনসেবায় নয়, মানবতার সেবায় বাংলাদেশ পুলিশের অচিন্তনীয় ভূমিকা। পুলিশ যে শুধু লাঠি চালায় না, বাঁশিও বাজায়—তার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবার করোনা মহামারির সময়। ঢাকার একটি মিডিয়ায় বলা হয়েছে, ‘করোনা মহামারিতে জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুনাম কুড়িয়েছে পুলিশ। এই বাহিনীকে আরো জনবান্ধব করতে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ। দেশের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া, মহল্লায় একজন এসআই নিযুক্ত করে এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ হয়েছে।’

বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক মানবিক মুখটি দেখা গেছে করোনা মহামারি প্রতিরোধের কাজে। তারা ডাক্তার ও নার্সদের মতো করোনার বিরুদ্ধে সম্মুখযোদ্ধার ভূমিকা গ্রহণ করেছে। করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের বাড়িতে খাবার, ওষুধ, পানীয় পৌঁছে দিয়েছে। যেসব রোগী স্ত্রী-পুত্র-কন্যা দ্বারা পরিত্যক্ত হয়েছে, তাদের আশ্রয়দানের ব্যবস্থা করেছে। এমনকি করোনায় মৃত অনেকের দেহ স্বজনরা পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখলে তাদের কবর দেওয়া অথবা সৎকার করার ব্যবস্থা করছে। করোনা মহামারির সময় লকডাউন ও সোশ্যাল ডিসট্যান্স ব্যবস্থা চালু রাখার ব্যাপারেও পুলিশের সহনশীল ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। আর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৬৭ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬২৭ জন।

পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা বেশি করে জনবান্ধব পুলিশিং করতে চাই। প্রাথমিকভাবে সেবাদানের কেন্দ্র হচ্ছে থানা। থানাগুলোকে জনবান্ধব করার পাশাপাশি থানা থেকে বেরিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিয়ে যেতে চাই। এ জন্য বিট পুলিশিং ব্যবস্থা কার্যকর করেছি। একজন মানুষ বিপদে পড়লে থানায় আসেন। কিন্তু এই মুহূর্তে একজন করে কনস্টেবল রাস্তায় টহল দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের দেখা হচ্ছে। এর মানে থানার বাইরে দুই লাখ পুলিশের সঙ্গে ১৮ কোটি মানুষের কোনো না কোনোভাবে দেখা হচ্ছে। আমরা এই যোগাযোগটাকে গণমুখী করতে চাই।’

ড. বেনজীর আহমেদ একজন বিচক্ষণ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাত। তিনি বর্তমান বিশ্বের পুলিশিং ব্যবস্থার উন্নতি দেখেছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ পুলিশের কৃতিত্ব দেখেছেন। এই কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ভিত্তিতে আরো গণমুখী করার জন্য মুজিববর্ষে তাদের স্লোগানও আমরা শুনেছি—‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার/পুলিশ হবে জনতার’। কথায় নয়, কাজেও পুলিশকে এই অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।

পুলিশ যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় এবং করোনা মহামারির মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সম্মুখযুদ্ধের সৈন্যের ভূমিকা গ্রহণ করে, তাহলে দেশে দুর্নীতির ঘাঁটিগুলো একে একে উচ্ছেদ হবে। ‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার পুলিশ চাই’—এই স্লোগানটিকে ড. বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যদি বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহাসিক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি