মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ, রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Thursday, 2 July, 2020 at 9:49 AM

 কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া উপজেলা সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পাশাপাশি সড়কের দু’পাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজ ফেলে রাখলেও দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হোসেনপুর পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল কাইয়ুম (খোকন) রাস্তার এ জনদুর্ভোগের বিষয়টি উল্লেখ করে গত ৩০ জুন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপিসহ রাস্তার প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া উপজেলা সড়কের ৩ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার অংশের কাজ পেয়েছে ঢাকার মতিঝিল এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর কাজটি শুরু করলেও নির্দিষ্ট সময়ে রাস্তার কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি। পরে সময় বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে রাস্তার কাজটি শেষ করার কথা ছিলো ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়ক্ষেপণ করছে। আর এতেই বর্ষায় ব্যস্ততম সড়কটিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তার পাশের লিয়ন স্টিল ওয়ার্কশপের ব্যবসায়ী মো. কফিল উদ্দিন জানান, এক বছর ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। রাস্তার পাশের ড্রেনের রডগুলো খোলা থাকায় অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও রাস্তার  মধ্যে বড় বড় গর্ত থাকায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টে আহত হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। আর রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। রাস্তাটি বেহাল দশা হওয়ায় পণ্যসামগ্রী বিক্রিও করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তারা।

ওই রাস্তার পাশের মোটর গ্যারেজের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, হোসেনপুর হাসপাতাল চৌরাস্তা থেকে শুরুর অংশের রাস্তার বেহাল দশা। ভালোভাবে ব্যবসা করতে না পেরে খুবই কষ্টে আছি। রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে তা কেউ জানে না। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে হোসেনপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের ‘বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পূনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া উপজেলা সড়কের ৩ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার অংশের কাজটি ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭০ টাকা ৪৬ পয়সার চুক্তিমূল্যে মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নেয়। এরপর রাস্তার কাজ শুরু করে পর্যায়ক্রমে এক কোটি ১৮ লাখ ১৩ হাজার টাকার বিলও তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে রাস্তার কাজটি শেষ করার কথা ছিলো। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজটি সম্পন্ন করেনি। রাস্তাটির ৩৫ শতাংশ কাজ হয়েছে বলেও জানা যায়।

রাস্তার কাজের বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি (সাইটের দায়িত্বে নিয়োজিত) সাকিল মিয়ার সঙ্গে।
তিনি বলেন, রাস্তার পাথর না পাওয়া ও বর্তমানে করোনার কারণে কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহে রাস্তার কাজটি আবার শুরু করা হবে। হোসেনপুর পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল কাইয়ুম খোকন জানান, উপজেলার জনগণের দুর্ভোগ লাগবে এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে অন্ততপক্ষে রাস্তাটির প্রথম অংশ চেইনেজ ০ (শূন্য) হতে ৪৯৫ মিটার পর্যন্ত আরসিসি ও চেইনেজ ৪৯৫ মিটার হতে ১৬০০ মিটার পর্যন্ত বিসি জরুরি ভিত্তিতে সম্পাদন করার নিমিত্তে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাস্তার বিষয়টি জানতে মোবাইল ফোনে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এ জেড এম রকিবুল আহসান জানান, ঠিকাদার ও রাস্তার কাজের অগ্রগতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি