বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
আনোয়ার খান মডার্নে বিনা পয়সার চিকিৎসায় বিলের ফাঁদ!
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Thursday, 4 June, 2020 at 9:40 AM

বিনা পয়সায় কোভিড-১৯ চিকিৎসা হয় জেনে রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রোগীদের বিরাট বিলের ফাঁদে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরকম দুজন রোগীর ভাষ্য, হাসপাতালে ১১-১৫ দিন অবস্থান আর কয়েকটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, দু-তিনটি এক্স-রে ও পরীক্ষা- এই চিকিৎসা বাবদ তাদের আড়াই লাখ ও পৌনে দুই লাখ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাতে এসে এত বড় বিল দেখে হতভম্ব রোগী ও তাদের স্বজনরা। পরে একজন ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং অন্যজন দেড় লাখ টাকা বিল দিয়ে ছাড়া পান হাসপাতাল থেকে।

১৬ মে হাসপাতালটির ২০০ বেডের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ভবনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরে এক অনুষ্ঠানে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান এমপি বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো চিকিৎসাসেবার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করব না। সেবা দেওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।’
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ মে এই হাসপাতালে ভর্তি হন রাজধানীর ফকিরাপুলের চা-দোকানি মো. হুমায়ন কবির। এখানে করোনার চিকিৎসার খরচ সরকার দিচ্ছে জেনেই ভর্তি হন তিনি। ১৪ দিনের চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বাসায় যাবার ছাড়পত্র দেন। সঙ্গে ধরিয়ে দেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭২ টাকার বিল।

এর মধ্যে চিকিৎসকের বিল বাবদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা, হাসপাতালের বিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৪০ টাকা, পরীক্ষার বিল ৪ হাজার ৫৩৫ টাকা, ওষুধের বিল ২৬ হাজার ৮৯২ টাকা এবং ১৯ হাজার ৫০৪ টাকা সার্ভিস চার্জ। বিল দেখে হতভম্ব হুমায়ন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মনে করিয়ে দেন করোনা চিকিৎসার ব্যয় সরকার দিচ্ছে, তাহলে এত টাকা কেন? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, করোনার চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গত ৩১ মে ডেডিকেটেড হাসপাতালের তালিকা থেকে বেরিয়ে গেছে তারা।

তাহলে তো ১ ও ২ জুন এই দুই দিনের বিল হওয়ার কথা তার। হুমায়নের ভাষ্য, ৩১ মে রাতে এ ব্যাপারে তাকে কিছুই জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি জানালে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। তারা বিলের বিষয়টি সুরাহার জন্য আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে বলে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে অনেক দেনদরবারের পর ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বিল দিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান করোনা রোগী হুমায়ন।

এই টাকার মধ্যে ৭৫ হাজার টাকা আগেই পরিশোধ করেন তিনি। গত দুই দিনে করোনার চিকিৎসার খরচ হিসেবে ২০ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং ১২ হাজার টাকার টেস্ট বিল দিয়ে বাসায় ফিরে যান। গত ১৭ মে হুমায়ুনের করোনা শনাক্ত হয়। দুই দিন একটা হাসপাতালে থেকে ১৯ তারিখ আনোয়ার খান মর্ডানে ভর্তি হন তিনি। হুমায়ন বলেন, ‘এখানে করোনার চিকিৎসা সরকার দিচ্ছে জেনেই আসি। ভর্তি হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তার রক্তের দুটি পরীক্ষা এবং তিনটি এক্স-রে হয়েছে। আর হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করেছে শুধু নাপা ট্যাবলেট। খাবার আমার বাসা থেকে এনে খাইছি। এরপর এত বিল হয় কেমনে?’

ফকিরাপুলের বাসিন্দা হুমায়ন পেশায় একজন ছোট চা দোকানি। শেষমেশ হাসপাতাল থেকে বাসায় যেতে তার আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ করে হাসপাতালের ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করেন। হুমায়ন এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দেড় লাখে ছাড়া পান সাইফুর

হুমায়নের মতোই আরেক ভুক্তভোগী সাইফুর রহমান। গত ২৩ মে ভর্তি হয়ে গতকাল মঙ্গলবার ছাড়া পান তিনি। তার ভাষ্য, এই ১১ দিনে কিছু নাপা ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট আর দুটি এক্স-রে করেছে হাসপাতাল। তার বিল ধরা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা। ছড়পত্র পেলেও বিল দিতে না পারায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।

সাইফুরের কোনো অপারেশন করা হয়নি। আইসিইউতে নিতে হয়নি তাকে। তিনি বলেন, ‘অক্সিজেন দেওয়াও লাগেনি। কেবল নাপা আর গ্যাসের ট্যাবলেট দিয়েছে তারা। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনে খেয়েছি।' গত ২১ মে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে সাইফুরের। ২৩ মে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হন। সাইফুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জানতাম এই হাসপাতালে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা করা হয়। এরা কেবল দুটি এক্স-রে আর দু'টি রক্তের টেস্ট করিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই হাজার টাকার টেস্ট করানো হয়।‘

সাইফুরকে দেওয়া চিকিৎসা বিলে দেখা যায়, ২ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে চিকিৎসকের বিল ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, হাসপাতাল বিল এক লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ টাকা, পরীক্ষা বিল ১৯ হাজার ৪৭৫ টাকা, ওষুধের বিল পাঁচ হাজার ২২৬ টাকা ৮৫ পয়সা, সার্ভিস চার্জ ১২ হাজার ৯০৩ টাকা। মোট এক লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ টাকা ৮৫ পয়সা।
করোনা প্রার্দুভাবের মধ্যে সরকার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। তালিকায় আনোয়ার খান মর্ডান হাস্পাতালও রয়েছে। এজন্য মে মাস থেকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।

বিষয়টি জানার জন্য আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এহতেশামুল হককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তবে অন্য একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এহতেশামুল হকের ভাষ্য থেকে জানা যায়, সরকারের সঙ্গে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে যে চুক্তি তাদের হয়েছিল সেটি গত ৩১ মে বাতিল করেছেন তারা। তাই রোগীর চিকিৎসা ব্যয় তাদের বহন করতে হবে। এভাবেই চলছে এখন।' এদিকে আজ রাত সাড়ে ১০টায় একটি সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সাইফুরের দুই দিনের বিল ৫৪ হাজার ৮৮০ টাকা রেখে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল। তবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি।
"সূত্র ঢাকা টাইসম"


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি