বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
ওরা কারেন্ট শক দেয়, মা আমি বাঁচতে চাই
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Sunday, 31 May, 2020 at 9:55 AM

‘যা আছে সব বিক্রি করে টাকা পাঠাও, আমি বাঁচতে চাই, আমারে বাঁচাও। ওরা প্রতিদিন মারধর করে। কারেন্ট শক দেয়। মা, আমি বাঁচতে চাই।’ লিবিয়া থেকে মোবাইল ফোনে এমনই আকুতি জানিয়েছিলেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের ২৩ বছরের যুবক সজিব বেপারী। কিন্তু সজিব বেপারী বাঁচতে পারেননি। সবকিছু বিক্রি করে দালালের কাছে টাকা দেওয়ার পরও মানবপাচারকারীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। শুধু সজিব নন, মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকার এমন ১১ জন লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন মাদারীপুরের আরো ৪জন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন মাদারীপুরের বেশকিছু যুবক। তাদেরকে লিবিয়া নেওয়ার পর দালালরা জিম্মি করে দফায় দফায় টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে দফায় দফায় চলে নির্যাতন। অনেকেই দাবিকৃত টাকা দিয়েও রক্ষা পাননি।

হতাহত বাংলাদেশিদের পরিবারের দাবি, মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। দুই দিন আগে মানবপাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার মনির আকন। তার কথা শুনে পরিবারও দালালদের দাবি করা ৭ লাখ টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। কিন্তু এখন আর খোঁজ মিলছে না মনির আকনের। মনির পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মনিরের স্ত্রী মেরিনা বেগমের দাবি, স্থানীয় দালাল নূর হোসেন পাঁচ মাস আগে মনিরকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়েছিল। এখন গা ঢাকা দিয়েছে নূর হোসেন। আমরা এর বিচার চাই।
সজিব বেপারী স্ত্রী নুরনাহার বেগম বলেন, ‘আমার সন্তানের বয়স ৫ মাস। ও বাবার মুখটাও দেখেনি। সুখের আশায় দালালের প্রলোভনে পারি জমিয়েছিল লিবিয়া। সেখানে দালালরা তাকে জিম্মি করে। প্রথম দফায় রেজাউল দালাল সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেয়। পরে জিম্মি করে আরো ৫ লাখ টাকা নেয়। এরপর মাফিয়ারা তাকে গুলি করে হত্যা করে। সব টাকা দিয়েছি ধার-দেনা করে। এখন কেমন করে এই দেনা পরিশোধ করব?’

বাংলাদেশিসহ অন্য অভিবাসীদের লিবিয়ার মিজদা শহরের একটি জায়গায় জিম্মি করে রাখে মানবপাচারকারী চক্র। ওই চক্রের সঙ্গে মারামারি হয় জিম্মি ব্যক্তিদের। এতে এক মানবপাচারকারী মারা যায়। তারই প্রতিশোধ হিসেবে ২৮ মে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন জিম্মিকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যের সহযোগী ও স্বজনরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার জাকির হোসেন, জুয়েল হোসেন, ফিরোজ ও শামীম, রাজৈর উপজেলার বিদ্যানন্দী গ্রামের জুয়েল হাওলাদার, একই গ্রামের মানিক হাওলাদার (২৮), টেকেরহাট এলাকার আসাদুল, মনির হোসেন ও আয়নাল মোল্লা, ইশিবপুর এলাকার সজীব ও শাহীন। আহতদের মধ্যে আছেন মাদারীপুর সদরের ফিরোজ বেপারী, ইশিবপুরের সম্রাট খালাসী ও কদমবাড়ীর মো. আলী। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি