শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২০
কোটি টাকার সড়কবাতি পুড়িয়ে রাসিকের কর্মী ধরা
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Thursday, 21 May, 2020 at 6:01 PM

প্রায় কোটি টাকার সড়কবাতি পুড়িয়ে অবশেষে পুলিশের জালে আটকা পড়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) এক কর্মী। মিজানুর রহমান ওরফে শাহীন (৪০) নামে ওই ব্যক্তি রাসিকের স্ট্রিট লাইট মিস্ত্রি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে। প্রায় কোটি টাকার সড়কবাতি ইচ্ছা করে নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এনিয়ে গত ১৯ মে রাতে রাসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত শাহীনকে আটক করে ২০ মে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। রাসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, দুটি কারণে শাহীন সড়কবাতি পোড়াতে পারেন। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে বার বার লাইটগুলো নষ্ট করা হতে পারে যেন ঠিকাদার আবারও লাইট সরবরাহ করতে পারেন। এছাড়া আগের যে ঠিকাদার লাইট সরবরাহ করেছেন তার লাইটের মান খারাপ প্রমাণ করতে লাইটগুলো নষ্ট করা হতে পারে। এটি পুলিশ তদন্ত করবে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, একই সড়কে বার বার লাইট নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মিস্ত্রিরা বলছিলেন অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে লাইট পুড়ে যাচ্ছিল। আর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছিল, অতিরিক্ত ভোল্টেজ ছিল না। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ উদঘাটন করেছে যে লাইটগুলো ইচ্ছে করেই নষ্ট করতেন রাসিকের কর্মী শাহীন। তার এমন কাণ্ডের সাক্ষীও পাওয়া যায়। এরপর তাকে আটক করা হয়। পরে সিটি কর্পোরেশন তার বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ মার্চ দুপুরে নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় পাঁচটি এলইডি লাইট পোড়ানো হয়েছে। এরপর বিভিন্ন সময় রাজশাহী কলেজ থেকে ফায়ার সার্ভিস মোড় পর্যন্ত ১৫টি লাইট পোড়ানো হয়েছে। নগরীর কাদিরগঞ্জ বড় মসজিদের সামনে থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত লাইটগুলো তিন-চারবার পোড়ানো হয়েছে। শালবাগান থেকে বিজিবি গেট হয়ে আলিফ-লাম-মিম ভাটা পর্যন্ত লাইটগুলোও তিন-চারবার পোড়ানো হয়েছে। দেবিশিংপাড়া আরএইচ ছাত্রাবাস থেকে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত লাইটগুলো পোড়ানো হয়েছে সাত-আটবার। পাঁচ-সাতবার পোড়ানো হয়েছে ডাবতলার মোড় থেকে তেরখাদিয়া পর্যন্ত রাস্তার লাইটগুলো। গোরহাঙ্গা কামারুজ্জামান চত্বর থেকে শিরোইল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তার লাইটগুলো পোড়ানো হয়েছে ১০-১২ বার।

এছাড়া গত বছরের ৩ অক্টোবর নগরীর দড়িখড়বোনা থেকে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত রাস্তার উত্তর পাশে ৮টি এবং দক্ষিণ পাশে ১৮টি লাইট পোড়ানো হয়েছে। একই দিন এ এলাকার আইল্যান্ডের মাঝের সৌন্দর্যবর্ধক ২০টি গার্ডেন লাইটও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গত বছরের ৪ এপ্রিল তালাইমারী শহীদ মিনার থেকে বাদুড়তলা পর্যন্ত ৩১টি লাইট পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন এলাকার লাইট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলেও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি