শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২০
ডা.জাফরুল্লাহ এবার পুরাই ধরা
Published : Saturday, 25 April, 2020 at 12:45 PM, Update: 25.04.2020 12:55:03 PM

জয়নাল হাজারী ॥
করোনায় যখন দেশ হিমশিম খাচ্ছিল ঠিক তখনই ডা.জাফরুল্লাহ একটি ঘোষণার মাধ্যমে চমক সৃষ্টি করলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন আমরা দেশেই কিট তৈরি করতে পারবো এবং তা সহজেই করোনা সনাক্ত করতে পারবে এবং অল্পদামে সরবরাহ করতে পারবে। বিষয়টি বিস্ময়কর কিন্তু এটি সাধারণের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্ধিহান ছিলেন। ডা.জাফরুল্লাহ সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে এর ব্যবহার শুরু করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৫ দিন তো দূরে থাক মাস গড়িয়ে গেলেও সব মহল চুপচাপ। হঠাৎ আমার মনে হলো এ নিয়ে কোন আলোচনা নেই কেন? তাই আমি আমার এই কলমটিতেই লিখলাম জাফরুল্লাহর কিট কোথায় গেল? দুই দিনের মাথায় জাফরুল্লাহ বললেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে লন্ডন থেকে কাচামাল আসতে দেরি হচ্ছে। আরো কিছু সমস্যার কথাও বলেছিলেন। এরপর আবারও দুইদিন পরেই বললেন কিট প্রস্তত হয়ে গেছে আমরা শনিবারে অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করবো। আগে অনেক জটিলতার কথা বলে এখন হঠাৎ আবার তা হস্তান্তরের ঘোষণা সকলকে অবাক করার মত।

তিনি আগে যে পদ্ধতিতে এই কিট তৈরি করবেন বলেছিলেন এখন তা থেকে সরে এসেছেন। তিনি বারবার স্পষ্টভাবে ঘোষনা করেছেন তার কিট শতভাগ নির্ভুল। পৃথিবীর কোন দেশই এভাবে ঘোষনা দেননাই। এক পর্যায়ে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন বাংলাদেশ সরকার এটি না নিতে চাইলে আমি বিদেশে বিক্রি করবো। আমার সঙ্গে ইতিমধ্যেই ইউরোপ, আমেরিকার অনেক কোম্পানি যোগাযোগ করেছে। তারা আমার কিট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডা. জাফরুল্লাহর কিট সম্পর্কে কিছু না জেনেই তারা তা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এটি কোন পাগলও বিশ্বাস করবে না। তিনি কোন কোম্পানির নাম উল্লেখ করেন নাই। ইতিমধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ সরকার এবং দেশের মানুষকে যথেষ্ট বোকা বানিয়েছেন, বিভ্রান্ত করেছেন। আমি শুধু বলবো আর নয় আর কাউকে দয়া করে প্রতারণার চেষ্টা করবেন না। আমি এই মূহুর্তে বিস্তারিত আলোচনায় যাব না। কারণ আমি তো ডাক্তার নই।

 কিন্তু ডাক্তারদের আলোচনা থেকে যেটা বুঝেছি সেটি একেবারেই সুখকর নয়। এই কিটের জন্য যেই অনুমোদনের প্রয়োজন সেটি দেশেরটাই পেতে কমপক্ষে ছয়মাস লাগবে। আন্তর্জাতিক অনুমোদন তো এক বছরের কমে চিন্তাই করা যায় না। এদিকে ডা. জাফরুল্লাহ সরকারের কাছে ৯০ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছেন। সরকারের টাকা জনগনের টাকা, এই টাকা অপচয় করার কোন ক্ষমতা সরকারের নাই। এই টাকার ব্যাপারের সরকারকে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদেরর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। ইতিমধ্যে কিছু বড় ব্যবসায়ী অতিউৎসাহিত হয়ে কিছু টাকা দিয়েছেন। যা গেছে তা যাক, আর যেন না যায়। আমি শুধু বলবো গতকাল একাত্তর টেলিভিশনে একটি টকশোতে চারজন বিশিষ্ট ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ যোগ দিয়েছিলেন।

 সেখানে ডাক্তারেরা তাকে নাস্তানাবুদ করেছে। এই টকশোতে ডা. জাফরুল্লাহ উত্তর দিতে না পেরে বার বার উত্তেজিত হয়েছেন। বলা যায় গালাগালও করেছেন। ডাক্তারেরা বয়স্ক লোক হিসেবে তার সঙ্গে খুবই ভাল ব্যবহার করেছেন। তিনি ডাক্তারদের ঘুষখোরসহ অনেক কটুকথা বলেছেন। আসল কথায় না গিয়ে তিনি বার বার প্রসঙ্গ বদল করেছেন। এখানেও তিনি একাধিকবার বলেছেন তার কিট অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে আমরা জানি চীন থেকে নেয়া কিটগুলো ইউরোপের দেশসমূহ ফেরত পাঠিয়েছে। এখন আমি আমার পাঠকদের শুধু বলবো আপনারা শুধু গতরাতে অর্থাৎ ২৪ তারিখ রাতের টকশো যেটি একাত্তর টিভিতে প্রচারিত হয়েছে সেটি যেকোনভাবে বিশেষ করে ইউটিউব থেকে দেখে নিন। কেবল তখনই বিষয়টি একেবারেই সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। দেশবাসীকে ডা. জাফরুল্লাহ যত সহজে ধোকা দিতে পারবেন মনে করেছিলেন তা সম্ভব হবে না। জাফরুল্লাহর কিট ব্যবহার করে ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিলে ব্যাপারটি হবে আত্মঘাতি। সারা পৃথিবীর এই মহাসংকটকালে ডা. জাফরুল্লাহর এই হীন উদ্যোগকে মানবতার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত মনে করি। ডা. জাফরুল্লাহ যাই করার চেষ্টা করুক আমাদেরকে তা রুখে দিতেই হবে। নতুবা দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
 লেখক উপদেষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সাবেক সংসদ সদস্য।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি