মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
করোনায় কাঁকড়া-কুঁচিয়া রফতানি বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরা
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Friday, 14 February, 2020 at 4:39 PM

 করোনায় কাঁকড়া-কুঁচিয়া রফতানি বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরাখুলনার পাইকগাছার কাঁকড়া-কুঁচিয়া ব্যবসায় চীনের করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে প্রায় সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। গত ২০ দিন রফতানি বন্ধ থাকায় মারা যাচ্ছে মজুতকৃত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া। কাঁকড়া ও কুঁচিয়ার ব্যবসায় ধস নামায় এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ব্যবসায়। ফলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে মৎস্য দফতর। সংশিষ্টরা বলছেন, এখন যে অবস্থা তাতে কাঁকড়া-কুঁচিয়া রফতানির বিকল্প বাজার খোঁজার বিকল্প নেই। তবে চীন অতি সম্প্রতি আশ্বস্ত করায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্য দফতরের কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় অত্র এলাকা চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানকার উৎপাদিত কাঁকড়া সুস্বাদু হওয়ায় বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস জানান, অত্র উপজেলায় ২০০ হেক্টরে শুধুমাত্র কাঁকড়া এবং ১৭ হাজার হেক্টর মিশ্র ঘের থেকে কাঁকড়া উৎপাদন হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে এসব উৎস থেকে কুচিয়াও উৎপাদন হয়।
উপজেলা মৎস্য দফতরের সূত্রমতে, অত্র এলাকা থেকে গত বছর ৪ হাজার ১০০ টন কাঁকড়া ও ৩০০ টন কুঁচিয়া উৎপাদন হয়। উৎপাদিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও হংকংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়ে থাকে। যার মধ্যে ৯০ ভাগ কাঁকড়া শুধুমাত্র চীনেই রফতানি হয়। মাস খানেক আগে চীনে করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ায় গত ২৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়েন এই এলাকার সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা ও উৎপাদনকারী চাষিরা।

২০ দিন রফতানি বন্ধ থাকায় ধস নেমেছে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া ব্যবসায়। অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান চালু রাখলেও সরবরাহ ও কেনাবেচা নেই বললেই চলে। দামও নেমে এসেছে কয়েকগুণ। মূলত চারটি গ্রেডে স্ত্রী কাঁকড়া এবং পাঁচটি গ্রেডে পুরুষ কাঁকড়া বিক্রি হয়ে থাকে। গ্রেড অনুযায়ী দামও কমবেশি হয়ে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালীন সময়ে ২১০ গ্রামের ডবল এফ-১ স্ত্রী কাঁকড়ার কেজিপ্রতি মূল্য ছিল ১৬শ থেকে ২ হাজার। যা নেমে এসেছে ৫০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ডবল এক্স এল পুরুষ কাঁকড়ার কেজিপ্রতি মূল্য ছিল ১১-১২শ টাকা। যা বর্তমানে চলছে ৫০০ টাকা। অপরদিকে যেসব ব্যবসায়ী ও হ্যাচারি মালিকরা কাঁকড়া ও কুঁচিয়া মজুত করে রেখেছিলেন দীর্ঘদিন মজুত করে রাখায় মরতে শুরু করেছে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া।

মূলত কাঁকড়া ছোট ছোট পুকুর জলাশয়ে মজুত করা হয়। এদের যখন খোলস পরিবর্তন হয় তখন একটি অপরটিকে খেয়ে ফেলে, আবার মারামারি করেও দুর্বল হয়ে মারা যায় অনেক। পাশাপাশি কুঁচিয়া লাইভফিড খাবার খাওয়ায় হাউস ও ড্রামে যেসব কুঁচিয়া মজুত করে রাখা হয়েছে তা মরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া মারা যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করায় আর্থিক এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে। অনেকেই আবার ফঁড়িয়াদের কাছে দিয়েছেন মোটা অংকের টাকা দাদন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ খাতে কোটি কোটি টাকার লোকসান ও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী ব্যক্তিরা।

কাকা-ভাইপো ডিপোর স্বদেব বাছাড় জানান, আগে প্রতিদিন ১০০ কেজি কাঁকড়া কেনা হতো। যেখানে এখন ৫ কেজি কেনা হচ্ছে। নানা-নাতি এন্টারপ্রাইজের বেলাল হোসেন সরদার জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছিলাম। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এনজিও কর্মীরা প্রতিনিয়ত ঋণের কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রিয়াংকা ডিপোর মালিক বকুল কুমার মণ্ডল। তিনি জানালেন, প্রতিদিন ন্যূনতম এক টন কুঁচিয়া রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হতো। গত ২০ দিন ড্রামে যেসব কুঁচিয়া মজুত করে রেখেছিলাম ধীরে ধীরে তা মারা যাচ্ছে। কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেবব্রত দাশ জানান, সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৫০০ ডিপো রয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের কারণে চীনে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ ডিপো বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কর্মচারীকে ছুটি দেয়া হয়েছে। চীনের ব্যাংকগুলোতে বর্ষবরণের ছুটি থাকায় কোটি কোটি টাকা চীনে আটকা পড়েছে। যার ফলে আমরা যারা সরবরাহকারী ব্যবসায়ী রয়েছি আমাদের লাখ লাখ টাকা আটকা পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস জানান, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কাছ থেকে আমরা এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। এটা মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। তবে আমরা বসে নেই। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি