বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
‘রাষ্ট্রদূতরা ইভিএমে সন্তুষ্ট, বিএনপি না এলে কী করব’
Published : Wednesday, 29 January, 2020 at 11:24 PM

‘রাষ্ট্রদূতরা ইভিএমে সন্তুষ্ট, বিএনপি না এলে কী করব’নিজস্ব প্রতিবদেক : ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে কোনো ধরনের জালিয়াতির সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা ইভিএম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিএনপি নেতারা ইভিএম নিয়ে অভিযোগ তুললেও তারা তা দেখতে আসেন না। তারা না এলে কী করার আছে বলে প্রশ্ন তুলেন ইসি সচিব।
মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সচিব জানান, আজ নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও তফসিল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।  আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন নিয়ে আবারো বসবে কমিশন।
আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন উপলেক্ষে কেন্দ্রগুলোতে সিসি টিভির আওতায় আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলোকে সচল রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেইসব ক্যামেরার মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা যায়। তবে কেন্দ্রগুলো বুথে কোনোভাবেই যাতে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে তা নয়। উত্তর-দক্ষিণে দুটি ঘটনা ঘটেছে। এই দুটি ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। মূলত ২৪ ঘণ্টা আগে এই ধরনের কর্মসূচি সম্পর্কে জানানোর যে নিয়ম রয়েছে সেটি না মানার কারণেই এমনটি হয়েছে।’
ইভিএম নিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘ইভিএমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। যদি কারো আঙুল না থাকে তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের ঘটনায় মাত্র ১ শতাংশ ভোটারকে শনাক্ত করতে পারবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ১ শতাংশের বেশির প্রয়োজন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। আরও বেশি লাগলে কমিশনের অনুমতি লাগবে।’
সচিব বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে চাইলে ইভিএমের তথ্য জানা যাবে। ভোটের তথ্য আমাদের কাছে ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে। মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। কেউ ইচ্ছা করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন। কেউ মামলা করলে আমরা দেখাতে পারব।’
সচিব জানান, ইভিএম মেশিন আমেরিকা, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশের রাষ্টদূতেরা দেখে গেছেন। তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সবচেয়ে বড় অংশীজন বিএনপিই ইভিএম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়- এই প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘তারা তো আসে না। আমরা তো ওপেন রেখেছি। আপনারা এসে দেখেন। যদি তারা না আসেন আমরা কীভাবে আনতে পারি!’
বিদ্যমান আচরণবিধি সংশোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল। তখন কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় ছিল। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে কী করা হয়? তারা সাধারণ জনগণ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলে আচরণ বিধিমালা করেনি। তখন সংলাপ হলেও সেটা অনেকটা রেসট্রিকটেট (নিয়ন্ত্রণ) হয়। অনেকের ভেতর ভয়ভীতি থাকে। তারা আচরণ বিধিমালাসহ অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়। ২০০৯ এবং এখনকার পরিস্থিতি তো এক নয়। এখন ডেমোক্রেটিক গর্ভমেন্ট, ডেমোক্রেটিক সিশোয়েশন, স্বাধীনভাবে মানুষ কথা বলতে পারে। এখন টক শে করছেন এত টেলিভিশন, এত পত্রিকা, তখন কি এগুলো পারতেন করতে? এত কিছু বলতে পারতেন ‘ আলমগীর বলেন, ‘২০০৯ সালে সাংবাদিকেদের উপরও অনেক বিধি-নিষেধ ছিল। আপনারা কি সেই আচরণ বিধিমালা চান? মানুষের সচেতনতা বেড়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। সেই সাথে আচরণ বিধিমালা আধুনিকায়ন করতে হবে। তার মানে এই নয় কাউকে অন্যায় কোনো সুবিধা দেয়া হবে। এটি হালনাগাদ করতে হবে।’
সিটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারে বিএনপি যে অভিযোগ করেছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষকদের কোনো কার্ড দেয়ার ব্যাপারে কমিশন থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি বা দিইনি। যে নীতিমালা আছে সেই অনুযায়ী দিচ্ছি। যারা ইসিতে নিবন্ধিত তাদেরকেই কার্ড দেয়া হবে।’



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি