বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
ফেনীতে সরিষার বাম্পার ফলন লাভের আশায় কৃষকরা
Published : Monday, 27 January, 2020 at 8:15 PM

ফেনীতে সরিষার বাম্পার ফলন লাভের আশায় কৃষকরাফেনী প্রতিনিধ ॥
ফেনীতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুর, ফাজিলপুর, লেমুয়া, সোনাগাজীর আমিরাবাদ, ছাগলনাইয়ার শুভপুর, পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ হলদে ফুলে ছেয়ে গেছে। ভাল ফলন হওয়ায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা। ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ইরি-বোরো ধান হয় না ও আমন-আউশের মধ্যবর্তী সময়ে খালি পড়ে থাকা জমিতে সরিষা চাষ করে বাড়তি আয় করছেন ফেনীর কৃষকরা। বীজ বপনের ৭০ থেকে ৮০ দিনে সরিষায় ফলন আসে। ক্ষুদ্র এ তেলজাতীয় শস্য সরিষা চাষ সহজ এবং বাজারমূল্য থাকায় ফেনী জেলায় এ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।  ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, চলতি মৌসমে জেলায় চার হাজার দুইশ একর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। সরকারিভাবে জেলায় ১৫০ জন কৃষককে প্রদর্শনীর জন্য বিনামূল্যে নগদ অর্থ এবং দু’হাজার কৃষককে বিঘা প্রতি প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান, সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। এখানে  দুই হাজার তিনশ একর জমিতে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাজিলপুরে দুইশ ৩৪ একর জমিতে আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য রারি সরিষা-১৪, ১৫ ও ১৭ জাতের ৪০টি প্রদর্শনী ও ৬শ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন ভৌমিক জানান, বারি সরিষা-১৪ চাষ করতে প্রতি একরে চাষ, বীজ, সার-ওষুধ ও সেচে কৃষকের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৬০০ কেজি, যার বাজারমূল্য ৪৮-৫০ হাজার টাকা। আমন ও আউশের মধ্যবর্তী সময়ে কম খরচে বাড়তি আয়ের জন্য কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ফেনী সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা সংবাদকর্মী সৌরভ পাটয়োরী জানান, তিনি শখের বসে তার নিজের পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য এক একর আট শতাংশ জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। গেলো বছরও ৬৬ শতাংশ জমিতে সরিষার লাগিয়েছিলেন। তাতে ফলনও হয়েছে তার বেশ। তাই লাভের আশায় এবারও তিনি আবাদ বাড়িয়েছেন। ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর গ্রামের চাষি কবির আহম্মদ জানান, এবছর ৯০ শতাংশ জমিতে তিনি সরিষা চাষ করেছেন। এবার ৩৬০ থেকে ৩৭০ কেজি সরিষা পাবেন বলে তিনি শাবাদী।  সোনাগাজীর আমিরাবাদ এলাকার কৃষক আবুল হাশেম বলেন, সরকারি সহযোগিতায় বীজ ও চাষের পরামর্শ পাওয়ায় বেড়েছে সরিষার আবাদ। বছরের যে সময়টায় মাঠ খালি পড়ে থাকে, সে সময়টা সরিষা আবাদ করে লাভবানও হচ্ছেন তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আরো জানায়, গত মৌসুমে জেলার ছয় উপজেলায় তিন হাজার পাঁচশ ২০ একর জমিতে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, ৯ ও ১৭ চাষ করে এক হাজার ৮শ ৬৪ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন হয়েছিলো।
 এবছর চার হাজার দুইশ একর জমিতে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫ ও বারি সরিষা-১৭ চাষ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রতি একরে সরিষা উৎপন্ন হবে জাতভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি। বাজারে প্রতিকেজি বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সরিষা ভাঙলে প্রতি একরে তেল আসে ৪০ থেকে ৪৫ কেজি। প্রতিকেজি সরিষার তেল বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি