শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কে গণছিনতাই!
Published : Monday, 27 January, 2020 at 6:24 PM



ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কে গণছিনতাই!
রাতের আঁধারে দলবেঁধে ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কে গণছিনতাই। লুট করা হয় নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন। ঘটনার পর মামলা হলেও রহস্য উদঘাটনে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। সন্দেহভাজন সাদ্দাম হোসেন রুবেল নামে একজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে জড়িতদের নাম। একেএকে ধরা পড়ে পরিকল্পনাকারী ইউনুছ সুমন সহ অন্তত ৭ জন। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ওই সূত্র জানায়, গেলো বছরের ২৭ জুন রাতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর থেকে ৮-১০জন অস্ত্রধারী ডাকাত/দুর্বৃত্ত ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কের ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রুহিতিয়া রাস্তার মাথা নামক নির্জন স্থানে অবস্থান করেন। তারা এসময় ওই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা যাত্রীদের থামতে সংকেত দেয়। যাত্রীরা মোটরসাইকেল বা অটোরিক্সা থামানের সাথে সাথেই যাত্রী ও চালকদের অস্ত্র ঠেকিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং পকেটে থাকা টাকা-পয়সা, মুঠোফোনসেটসহ অন্যান্য জিনিষপত্র লুট করে নিতে থাকে। ওইসব চালক ও যাত্রীদেরকে হাত বাধা অবস্থায় অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে সড়কের পাশে ফেলে রাখে। এভাবে রাত পৌঁনে ১২টা পর্যন্ত প্রায় পৌঁনে দুই ঘন্টা ছিনতাইকারী দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েকজন চালক ও অনেক যাত্রীর হাত-মুখ বেঁধে লুটপাট চালায়। এসময় ওই সড়কে চলাচলকারী অটোরিক্সা চালকরাও অস্ত্রধারী দৃর্বৃত্তদের গণছিনতাইয়ের বিষয়টি টের পেয়ে টহল পুলিশের সহযোগীতা কামনা করেন। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই ছিনতাইকারী দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রুহিতিয়া গ্রামের আনিছুল হক সোহাগ নামে এক যাত্রী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ছিনতাইকারী দুর্বৃত্তদের খুঁজে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আশরাফ হোসেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজন রুবেলকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যমতে বিরিঞ্ছি এলাকা থেকে মহিউদ্দিন প্রকাশ আইয়ুবকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১ জুলাই সিরাজুল ইসলামের ছেলে সালাহউদ্দিন হৃদয় ও আবদুল জলিলের ছেলে শাহআলম মানিক, ৫ জুলাই বাহার মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, সামছুল আলম রিপনের ছেলে ইউনুছ প্রকাশ সুমন, ২৮ সেপ্টেম্বর আবু আহমদের ছেলে ইউসুফ আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্র মামলা সহ নানা অপরাধে ৫-৭টি করে মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্থানে নানা অপরাধে জড়িত সুমন। ঘটনার দিন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাও ছিল তার। সড়কে অবস্থান নেয়ার পর বেশ কিছু গাড়ী একসাথে আসতে দেখে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা সড়কে ব্যরিকেড দিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা সহ মালামাল লুটে নেয় তারা। ঘটনার জন্য সাইফুলকে অগ্রিম ২ হাজার টাকাও দেয় সুমন। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত ১৭টি মোবাইল ফোনের মধ্যে ২টি উদ্ধার করা হয়। ইতিমধ্যে অপর মোবাইল ফোনের নাম্বারের কললিষ্টের সূত্র ধরে উদ্ধারের কাজ চলছে। লুটে নেয়া টাকা-পয়সা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাইফুল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্ধী দিয়েছে। স্বীকারোক্তিতে সাইফুল ঘটনায় জড়িত আরো ৭-৮ জনের নাম প্রকাশ করে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ  জানান, গণছিনতাই ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাপর জড়িতদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি