বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা!
Published : Friday, 6 December, 2019 at 7:40 PM

 জেলা প্রতিনিধি ॥
নওগাঁ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে গত চার বছর আগে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটি অপসারণের কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অথচ বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবন থেকে তোলা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা ইজারা। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের নিচে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ ভবনের ছাদ ধ্বসে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পৌরসভা বাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালটি ইজারা দেয়া হয়। চলতি ১৪২৬ বাংলা সালে টার্মিনালটি পুরাতন ভবনসহ ৭ লাখ ৫১ হাজার টাকায় ভ্যাট ছাড়া ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এহসান রেজা রেঞ্জা নামে এক ব্যক্তি ইজারা নিয়েছেন। গত বছর (১৪২৫) ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিলো।
নওগাঁ শহরের যানজট নিরসনে আশির দশকে বাস টার্মিনালটি শহরে প্রবেশ মুখে বালুডাঙ্গায় স্থানান্তর করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল জলিল। বাস টার্মিনালটিতে মোটর শ্রমিক ও চালক এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে একটি ভবন তৈরি করা হয়। দীর্ঘ বছর পর ভবনটি এখন পুরাতন হয়ে গেছে। ছাদের নিচ থেকে পলেস্তার খসে বিভিন্ন অংশে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে পলেস্তার খসে মাথায় পড়ে কয়েকজন মোটর শ্রমিক আহত হয়েছেন। গত ৪ বছর আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পৌরসভা থেকে সাইনবোর্ড সাটানো হয়। কিন্ত বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি অপসারণের কোন উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে টার্মিনালের পশ্চিম পাশে প্রায় ২০০ ফুট দূরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বিতল ভবন থাকলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। সেখানে তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও যাত্রী উঠানামা করানো হয় না।
সরকারি কর্মকর্তা রুসো সাব্বির তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘চাকরির কারণে প্রায় প্রতিদিনই এই টার্মিনালে এসে বাস ধরতে হয়। টার্মিনাল ভবনটি বহু আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা উচিৎ ছিলো। ছাদের তলদেশের প্রায় পুরোটাই পলেস্তার খসে পড়ে রডগুলো বেড়িয়ে পড়েছে। যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ ধসে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা (আল্লাহ্ মেহেরবান, এখনো যে ঘটেনি সেটাই আশ্চর্য)। ঘটতে পারে প্রাণহানি।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘২০০ গজ পাশেই অলস পড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক আন্ত:নগর বাস টার্মিনাল ভবন, যা রহস্যজনক কারণে একদিনের জন্যও ব্যবহৃত হয়নি। দ্রুত এই পুরাতন টার্মিনাল ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে, এর স্থাপনা ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। নতুন টার্মিনাল ভবনের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে পাশের সম্পূর্ণভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা আন্ত:নগর বাস টার্মিনাল ভবনটি অনায়াসে ব্যবহার করা যেতে পারে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
টার্মিনালটির পুরাতন ভবনের হোটেল মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত ২০ বছর ধরে ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে হোটেল করছি। পৌরসভার কাছ থেকে মোটর শ্রমিকরা নিয়েছেন, আর তাদের কাছ থেকে আমি ভাড়া নিয়েছি। প্রতিবছর নিজেকেই ঘষামাজা করতে হয়। গত ৩ বছর থেকে ভবনটা সরানো হবে শুনছি। কিন্তু সরানো হচ্ছে না। ভবনটি সংস্কারে কেউ এখন দেখভাল করছেন না।
ভবনের আরেক কনফেকশনারি দোকানি নুর হোসেন বলেন, ৪ বছর থেকে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দোকানটি দিয়েছি। দোকানের উপরেই ছাদের পলেস্তার খুলে রড বেরিয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে দলে দলে লোক এসে দেখে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতোপূর্বে পৌরসভা মেয়রকে একাধিকবার বাস টার্মিনালের পুরাতন ভবনের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। প্রতি বছর বাস টার্মিনালসহ ভবনটির ইজারা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন ধরনের উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ব্যবহার করছি। যে কোন সময় ভবনটির ছাদ ধ্বসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে টার্মিনালের পশ্চিম পাশে আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে টার্মিনালটি বেশ কয়েকবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি।
নওগাঁ পৌরসভা মেয়র আলহাজ্ব নজমুল হক সনি বলেন, ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন তৈরি করা হবে। এজন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবনা অনুমোদন হতে একটু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি