বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯
মানবপাচারের চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ইউএসএআইডি
Published : Friday, 8 November, 2019 at 8:00 PM


মানবপাচারের চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ইউএসএআইডিস্টাফ রিপোর্টার ॥
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় বাসিন্দারের জন্য পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। এ সময় ইউএসএআইডির উপ-প্রশাসক বনি গ্লিক বলেছেন, মানবপাচারের বিষয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। একদিকে সীমান্ত অপরদিকে রোহিঙ্গা আধিক্যের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে এ ঝুঁকি আরও প্রখর। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) কক্সবাজারে মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি। উপ-প্রধান বনি গ্লিক বলেন, মানবপাচারের বিশ্ব রেঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চলমান অবস্থান দ্বিতীয় সারিতে। এটি ক্রমাবনতি ঘটলে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর হয়ে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবপাচার প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এনজিও-আইএনজিওর সমন্বয়ে নানা প্রকল্প চলমান রেখেছে। এসব প্রকল্পে তৃণমূল ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ চলছে। ইমাম, শিক্ষক, সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ প্রকল্পের আওতায় এনে মানবপাচার প্রতিরোধে শক্ত ভীত গড়ার প্রচেষ্টা চলছে। ইউএসএআইডি’র উপ-প্রশাসক বনি গ্লিক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি আন্তজার্তিক সমস্যা। সারাবিশ্ব এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটি মূলত মিয়ানমারের কারণেই হয়েছে। বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার সরকার। এ সংকট সমাধানে মার্কিন সরকার মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ট্রাম্প সরকার ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকারের ওপর অর্থনৈতিক নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, চার সামরিক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরের দিকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস টেকনাফের শাপলাপুর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শনে যান। দুপুরের পর ইউএসএআইডি টিম কক্সবাজার সদরের পাওয়ার হাউস এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ইপসা পরিচালিত মানবপাচারের শিকার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও রামুর ফতেখারকুলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে চলমান স্যানিটেশনবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেন। এ সময় মানব পাচারের শিকার হয়ে উদ্ধার ভিকটিমদের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা শুনেন এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাটিকা উপভোগ করেন পরিদর্শক টিম। ২০১৭ সালের আগস্টের পর বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ক্যাম্প ও প্রকল্পস্থল পরিদর্শন শেষে তারা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদারের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ইউএনসিআর’র বাংলাদেশ প্রধান স্টিভ তাদের সাথে ছিলেন।
আরআরআরসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এখানকার ক্যাম্প এলাকা এবং মিয়ানমারের রাখাইন এস্টেটের পরিস্থিতি দেখে এসেছি। মিয়ানমার এখনো নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া অনিরাপদ। মার্কিন সরকারের প্রত্যাশা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন। এ ব্যাপারে আন্তজার্তিক সম্প্রদায়কে নিয়ে মার্কিন সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, থাইল্যোন্ডে অনুষ্ঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক সম্মেলনে এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোগ করা হয়েছে। যুক্তরাস্ট্র সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে সকল আন্তজার্তিক সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে ইউএসএইড’র উপ-প্রধান বনি গ্লিক বলেছেন, ভাসানচর নিরাপদ বসবাসের উপযোগী কিনা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো সঠিক পর্যবেক্ষণ পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে রোহিঙ্গাদের পাঠাতে আমরা সম্মতি দিতে পারি না। নিরাপত্তার সবদিকের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে একীভূত সিদ্ধান্তে আসতে পারলে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস, ইউএসএইড’র উপ-প্রধান বনি গ্লিক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলাররা বিমানবন্দরে পৌঁছালে কক্সবাজারের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা তাদের স্বাগত জানান। পরিদর্শক টিম কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও)গুলোর সাথে বৈঠকে মিলিত হন।





সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি