বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯
মহাসড়কে চাঁদাবাজির মহোৎসব!
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Sunday, 29 September, 2019 at 10:24 AM


মহাসড়কে চাঁদাবাজির মহোৎসব!দেশের মহাসড়কগুলোতে চলছে একরকম ‘চাঁদাবাজির মহোৎসব’। প্রতিদিন চাঁদা উঠছে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫ টাকা। যা বছরে দাঁড়ায় ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৫ টাকা। বিভিন্ন মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ৫৮ হাজার ৭১৯টি যানবাহন থেকে তোলা হচ্ছে মোটা অঙ্কের এ চাঁদা। এ টাকা আদায় করছে পরিবহনের মালিক-শ্রমিকের নামে ২১৫টি সংগঠন। এগুলোর নেতৃত্বে আছেন সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা। মূলত তাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে মহসড়কে চাঁদা আদায়কারী সংগঠনগুলো।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক ছাড়াও মহসড়কের কোনো কোনো স্থানে পৌর কর ও মসজিদ উন্নয়নের নামেও প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে মোট অঙ্কের অর্থ। হাইওয়ে পুলিশের এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনটি পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি (রাজনৈতিক) এবং পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজির (ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) কাছে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু মহাসড়কের। তবে জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে চাঁদা আদায়ের ব্যাপকতা আরও অনেক বেশি।

মহসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়েছে পুলিশ সদর দফতর। অনুমতি মিললেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশনে’ যাবে পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদা আদায়ের বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিষয়টি যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। কোনো কোনো সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা টার্মিনালের বাইরে বক্স বসিয়ে অর্থ আদায় করছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এ ধরনের চাঁদা আদায় না করতে ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠিও দেয়া হয়। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না চাঁদাবাজি। কারণ এর পেছনে রয়েছে অনেক প্রভাবশালী। আর এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি হায়দার আলী খান বলেন, সারা দেশের মহাসড়কগুলোতে যেভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে- তা কাম্য হতে পারে না। তাই চাঁদাবাজির সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে ধরনের দিকনির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, রাস্তাঘাটে যেভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে, তা আমরাও চাই না। চাঁদাবাজি বন্ধে মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন এবং পুলিশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। কেউ প্রস্তাব দিচ্ছে- সংগঠন চালানোর জন্য একটি নির্ধারিত চাঁদা শুধু টার্মিনালে আদায় করা হোক। আবার কেউ প্রস্তাব দিচ্ছে কোনো চাঁদাই থাকবে না। এ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কিসের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে, তা আমার জানা নেই। তারা তদন্তের সময় আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।

হাইওয়ে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহসড়কে প্রতিদিন বিভিন্ন সংগঠন যেসব অজুহাতে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫ টাকার চাঁদা ওঠাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়ন মৃত ও পঙ্গুদের নামে ৬০টি গাড়ি থেকে দিনে ৬ হাজার টাকা, যানজট নিরসন ও লাইন পরিচালনার নামে বাংলাদেশ অটোরিকশা শ্রমিক লীগ ৩০০ গাড়ি থেকে ৬ হাজার টাকা, শ্রমিক উন্নয়নের নামে নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়ন ১০০ গাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা, পার্কিং ফি ও লোড-আনলোডের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি গাজীপুর জেলা শাখা ১২০ গাড়ি থেকে ১৯ হাজার ২০০ টাকা (প্রতি গাড়ি ১৬০ টাকা), জয়দেবপুর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি শ্রমিকদের কল্যাণের নাম করে ১৫০টি যানবাহন থেকে ৩ হাজার টাকা, শ্রমিক কল্যাণের নামে গাজীপুর ইজিবাইক/টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন ৩০০ গাড়ি থেকে ৯ হাজার, গাজীপুর-ঢাকা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ৮০ গাড়ি থেকে ৩২ হাজার এবং গাজীপুর লেগুনা শ্রমিক ইউনিয়ন ৩০০ যানবাহন থেকে দিনে ৬ হাজার টাকা আদায় করছে।

এ ছাড়া মালিক ও শ্রমিকদের কল্যাণের নাম করে মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ৭০টি গাড়ি থেকে দিনে ২৮ হাজার টাকা, শ্রমিক কল্যাণের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি গাজীপুর জেলা শাখা ১৫টি গাড়ি থেকে দিনে ৩ হাজার টাকা, ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়ন গাবতলী শাখার পক্ষ থেকে ২৫০টি গাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা, মৃত ও পঙ্গু সদস্যদের কল্যাণের নামে বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়ন বাইপাইল শাখা ৫০টি গাড়ি থেকে এক হাজার টাকা, বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ মালিক সমিতি টার্মিনাল চার্জ হিসেবে ৫০টি গাড়ি থেকে এক হাজার টাকা, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন গোড়াই শাখা ২০০টি যানবাহন থেকে ২ হাজার টাকা, শ্রমিকদের কল্যাণ ও বেতনের কথা উল্লেখ করে গাজীপুর জেলা ম্যাক্সি ও লেগুনা সড়ক পরিবহন মালিক সমতির পক্ষ থেকে ৭৫টি গাড়ি থেকে ২ হাজার ২০ টাকা, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন মির্জাপুর শাখা ৮০টি গাড়ি থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন পাকুল্যা শাখা ২০০টি গাড়ি থেকে ২০০ হাজার টাকা, গাজীপুর জেলা ম্যাক্সি ও লেগুনা পরিবহন মালিক পরিবহন জামুর্কী শাখা ৬০টি গাড়ি থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন নাটিয়াপাড়া শাখা ও কারাতিপাড়া শাখা ৪০০টি গাড়ি থেকে ৪ হাজার টাকা এবং গাজীপুর জেলা বাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন কালিয়াকৈর শাখা ৮০টি গাড়ি থেকে দিনে এক হাজার ১০০ টাকা চাঁদা তুলছে।

মালিক শ্রমিকদের বিবিধ উন্নয়ন ও পঙ্গু শ্রমিকদের সহায়তার নামে মানিকগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, অটো টেম্পো ওনার্স গ্রুপ ৩০০টি যানবাহন থেকে দিনে ৭০ হাজার টাকা, পৌরসভার উন্নয়নের জন্য ভৈরব পৌরসভা ১৫০টি গাড়ি থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ৫০০টি গাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা, সংগঠনের কল্যাণের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ট্রাক ও ট্যাঙ্ক-লরি শ্রমিক ইউনিয়ন ১৫০টি গাড়ি থেকে ৩ হাজার টাকা এবং বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ৫০টি গাড়ি থেকে দিনে এক হাজার টাকা চাঁদা তুলছে।

হাইওয়ে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জ জেলা ট্রাক ও ট্যাঙ্ক-লরি শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় পরিচালনার ব্যয় হিসেবে দিনে ৭০০টি গাড়ি থেকে ১৪ হাজার টাকা, কার্যালয় ব্যয় পরিচালনার পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণের নামে মৌলভীবাজার জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্ক-লরি, কাভার্ভ ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০টি গাড়ি থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা, সংগঠন পরিচালনা ও কল্যাণ তহবিলের জন্য সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ৯০টি গাড়ি থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা, ইজারা চার্জের কথা বলে শ্রীপুর পৌরসভা ৭৫টি গাড়ি থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইজারা চার্জের কথা বলে অপর ৭৫টি গাড়ি থেকে এই পৌরসভার পক্ষ থেকে দিনে ৭৫০ টাকা তোলা হচ্ছে, অসহায় ড্রাইভার ও শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের নামে মাওনা চৌরাস্তা ট্রাকচালক কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড ১৫০ গাড়ি থেকে দিনে ৩ হাজার টাকা তুলছে।

নাইট গার্ড ও শ্রমিকদের কল্যাণের কথা বলে গাজীপুর জেলা ট্রাক, পিকআপ, ট্যাঙ্ক-লরি ড্রাইভার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ২০০টি গাড়ি থেকে দৈনিক আদায় করা হচ্ছে ৪ হাজার টাকা, গাজীপুর জেলা ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়ন মাওনা শাখার পক্ষ থেকে পঙ্গু ও মৃত শ্রমিকদের কল্যাণের নামে ২ হাজার টাকা, শ্রমিক কল্যাণের নামে শিমুলিয়া ঘাট শ্রমিক ইউনিয়ন ১৫০টি গাড়ি থেকে ৩ হাজার টাকা, ময়মনসিংহ জেলা অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন নান্দাইল চৌরাস্তা শাখা ১০৫টি গাড়ি থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা, পৌর করের অজুহাতে নান্দাইল পৌরসভা ৭০টি গাড়ি থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, শ্রমিক কল্যাণের অজুহাতে ময়মনসিংহ জেলা মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন নান্দাইল শাখা ৭০টি গাড়ি থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা, বেকার শ্রমিক ভাতা ও কার্যালয় পরিচালনার ব্যয় হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন ৯০টি গাড়ি থেকে ৯০০ টাকা, শ্রমিক কল্যাণের অজুহাতে একই জেলার মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন ইশ্বরগঞ্জ শাখা ৬৫টি গাড়ি থেকে দিনে এক হাজার ৯৫০ টাকা চাঁদা তুলছে।

চাঁদা আদায়কারীর তালিকায় আরও আছে- নরসিংদী জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্ক-লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ৩০০ গাড়ি থেকে দৈনিক ৬ হাজার টাকা, যানজট নিরসন ও বাসস্ট্যান্ড মসজিদের উন্নয়নের নামে নরসিংদীর পিরিজপুর সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সমবায় লিমিটেড ৩৫টি গাড়ি থেকে ৭০০ টাকা, যানজট নিরসন ও সংগঠন পরিচালনার নামে কিশোরগঞ্জ বাস-মিনিবাস শ্রমিক কমিটি কটিয়াদী শাখার পক্ষ থেকে ৪০টি গাড়ি থেকে ৮০০ টাকা, পৌর টোল ও যানজট নিরসনের নামে কটিয়াদী পৌরসভা ৫০টি গাড়ি থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, যানজট নিরসন ও সংগঠন পরিচালনার নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কটিয়াদী শাখা ৩০টি গাড়ি থেকে ৬০০ টাকা, একই নামে একই জেলার পুলেরহাট সিএনজি মালিক সমিতি ২৫টি গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা, মালিক-শ্রমিকের উন্নয়নের নামে ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতি টাঙ্গাইল শাখার নেতারা ২০০টি গাড়ি থেকে ২০০ টাকা হারে ৪০ হাজার টাকা, পাটুরিয়া লঞ্চঘাট মিনি পার্কিং ইয়ার্ডের পক্ষ থেকে ৪০০ গাড়ি থেকে ৫০ টাকা হারে ২০ হাজার টাকা, শ্রমিক কল্যাণের নামে গাজীপুর মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি ৩০০ গাড়ি থেকে ৩ হাজার টাকা, পৌর উন্নয়নের জন্য ভালুকা পৌরসভা ৩০০ গাড়ি থেকে ৯ হাজার টাকা, টাইমকিপার ও লাইনম্যানদের বেতনের কথা উল্লেখ করে হবিগঞ্জ মোটরস মালিক গ্রুপ ১০২ টি গাড়ি থেকে দিনে ৪ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদা তুলছে।

সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ১০০ গাড়ি থেকে দিনে ১০০ টাকা হারে ১০ হাজার টাকা, ১০০টি গাড়ি থেকে ২০ টাকা হারে ২ হাজার টাকা ও ৫০০ গাড়ি থেকে ৫০ টাকা হারে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা তুলছে। অফিস খরচ হিসেবে সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন তাজপুর বাজার শাখা ১৫০টি গাড়ি থেকে দিনে ৩ হাজার টাকা, সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান লামাকাজী বিশ্বনাথ শাখার পক্ষ থেকে ২০০টি গাড়ি থেকে দিনে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।

মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি তারেক মাহমুদ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, আমাদের এখান থেকে বিভিন্ন রুটে প্রায় সাড়ে ৩০০ গাড়ি চলাচল করে। আমরা কোন ৭০টি গাড়ি থেকে চাঁদা নিই, তা পুলিশের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই। তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি, সংগঠন চালাতে হলে টাকার প্রয়োজন হয়। কেউ নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সংগঠন চালাবে না। আপনাকে যে চা খাওয়ালাম তা-ও চাঁদার টাকা।

বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়ন সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্রেই চাঁদা আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। পঙ্গু ও মৃত ব্যক্তির পরিবারের কল্যাণের জন্য শতাধিক (পুলিশ প্রতিবেদনে ৫০টি) গাড়ি থেকে আমরা ২০ টাকা করে আদায় করি। তবে এ টাকা সংগঠনের ফান্ডে ঠিকমতো আসে না। কালেকশন কম হয়েছে অজুহাত দেখায় মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায়কারীরা।

জয়দেবপুর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এক সময় চাঁদা নিতাম। এ চাঁদার টাকা নিয়ে নানা ঝামেলা হয়। পুলিশকে দিতে হয়। নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়। একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদা আদায় বন্ধ রেখেছি। "সূত্র যুগান্তর"


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি