বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯
ফেনীতে হাসপাতালের কেবিনে থাকেন নার্সরা, ভোগান্তিতে রোগীরা
Published : Monday, 23 September, 2019 at 9:49 PM

ফেনীতে হাসপাতালের কেবিনে থাকেন নার্সরা, ভোগান্তিতে রোগীরা ফেনী প্রতিনিধি॥
ফেনী জেনারেল হাসাপাতালের ভিআইপি কেবিন দিনের পর দিন ওয়ার্ড ইনচার্জ মোমেনা আক্তার, দিপালী রানী ও তাসলিমা আক্তার দখল করে রেখেছেন বলে অবিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিদিন হাজার টাকা করে রাজস্ব হারাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন ভবন মিলে ২২টি কেবিন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টিতে রয়েছে এয়ার কন্ডিশন সুবিধা। এসব কেবিন ভিআইপি কেবিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি কেবিনের ভাড়া আদায় করা হয় এক হাজার টাকা। আর ১৬টি সাধারণ কেবিন রয়েছে। যার প্রতিদিন ভাড়া আদায় হয় ৩শ’৫০ টাকা হারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪র্থ তলার উত্তর পাশ্বে ৩০৪নং ভিআইপি কেবিনটি বেশ কয়েকমাস ধরে তালাবদ্ধ। ওয়ার্ড ইনচার্জ মোমেনা আক্তার, দিপালী রানী ও তাসলিমা আক্তার কেবিনটি ব্যবহার করেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান ফেনী শহরের আলী আহম্মদ টাওয়ারের ব্যবসায়ি সাইফুল ইসলাম। চারদিন থাকার পরও তিনি কেবিন ভাড়া নিতে চেয়েও পাননি। ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন সোনাগাজী উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের ইমরান ভুইয়া। ভিআইপি কেবিন চেয়েও পাননি তিনি। নার্সরা তাকে জানিয়েছে- কোন ভিআইপি রুম খালি নেই। তাই বাধ্য হয়ে তিনি সাধারণ কেবিনেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সম্প্রতি ধলিয়া ইউনিয়নের মাওলানা মো. আবদুল্লা তার অসুস্থ পিতা মাওলানা নুর নবীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এখানে বারবার রুম ভাড়া নিতে চাইলে দায়িত্বরত নার্সদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। কেবিনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দুইদিন মেঝেতে চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইনচার্জরা কেবিন ভাড়া দেয়া ও টাকা আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর জন্য রেজিষ্ট্রার খাতাও রয়েছে। সরকারি চালানের মাধ্যমে কেবিনের ভাড়া আদায় করা হয়। যা ওয়ার্ড ইনচার্জরা নার্সিং সুপারভাইজারের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হয়। মাস শেষে দায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে তা একাউন্টের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেয়া হয়।
ওই সূত্র আরও জানায়, গত জুলাই মাসে জেনারেল হাসপাতাল থেকে কেবিন ভাড়া বাবদ আয় হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪শ’ ৭৫ টাকা। আগস্ট মাসে আয় হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৮শ’টাকা। চিকিৎসাধীন একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, গত কয়েকদিন আমরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছি। ফেনী সহ সারাদেশে যখন ডেঙ্গু রোগীদের কারণে হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, তখনও রুমটি দখল করে তালাবদ্ধ রাখা হয়। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু তাহের পাটোয়ারি জানান, হাসপাতালের ৪টি কেবিন ব্যবহার অনুপযোগী। সমস্যা থাকায় এগুলো ভাড়া দেয়া যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে ভিআইপিদের জন্য রুম বরাদ্ধ রাখা হয়। আবার বিভিন্ন খেলার সময় দু’টি রুম বরাদ্ধ দেয়া থাকে। এতে করে ওইসময়ে ভাড়া থেকে হাসপাতালের আয় কম হয়।
 
 


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি