বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
চামড়ার বকেয়া ৪০০ কোটি পরিশোধের ঘোষণা ট্যানারির
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Friday, 23 August, 2019 at 9:35 AM


চামড়ার বকেয়া ৪০০ কোটি পরিশোধের ঘোষণা ট্যানারিরআগে অস্বীকার করলেও পরে চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন ট্যানারি মালিকরা। এই বকেয়া ইস্যুতেই এবার চামড়ার নজিরবিহীন দরপতন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোরবানির ঈদে এবার পশুর চামড়ার দর পতনের পর কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা জানিয়ে আসছিলেন, তারা টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারছেন না। ট্যানারিগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাকা বকেয়া রেখেছে। প্রথমে বকেয়া তিনশ কোটি টাকা জানানো হলেও পরে হিসাব করে বের হয়, বকেয়া আসলে চারশ কোটি।

তবে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে, তারা সব বকেয়া পরিশোধ করে ফেলেছেন। কিন্তু চামড়া ফেলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তোলপারের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই পক্ষের বৈঠকে ট্যানারি মালিকরা বিষয়টি স্বীকার করে নেন। আর এরপর আড়তদাররা ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করতে রাজি হন। বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআইয়ের মধ্যস্ততায় ট্যানারি মালিক ও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বকেয়া পরিশোধের সময় সীমা ঠিক হয়।

ট্যানারি মালিকরা অঙ্গীকার করেন, তারা তিন কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধ করবেন। আর চামড়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে আরো বৈঠক করে এর বিস্তারিত ঠিক করে নেবেন। পরে ৩১ আগস্ট এফবিসিসিআই বৈঠকে এই পাওনা পরিশোধের অগ্রগতি জানানো হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী শনিবার চামড়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন। ওই এতে চূড়ান্ত করা হবে, কোন কোন কোম্পানির কাছে কী পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে। আর দ্বিতীয় বৈঠকটি হবে আগামী বৃহস্পতিবারে। এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে কীভাবে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের যে পাওনা রয়েছে, সেই পাওনা তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে ১৯৯০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থ একটি কিস্তিতে, ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া আরেকটি কিস্তিতে এবং ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া অন্য একটি কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।’ ‘বৈঠকে সব পক্ষ একমত হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে সারাদেশের আটটি জেলা থেকে পাওনা টাকা পরিশোধেরে তালিকা আমরা আজ পেয়েছি। বাকিদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।’

বৈঠকে চামড়ার একটি নীতিমালা ও রোডম্যাপ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এটি উঠতে পারে। হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরী সাভারে স্থানান্তরের পর জমি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে, তা নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়েছে। চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এবারের চামড়া পুঁতে ফেলা কিংবা নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা সারাদেশে ঘটেনি, কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ ‘কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়ার পেছনে কারা দায়ী, এটা বলা সম্ভব না। তবে ভবিষ্যতে যেন এটা না হয়, সেজন্য আমরা একমত হয়েছি।’

চামড়ার দরপতনের পর সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এফবিসিসিআই তাতে একমত নয় বলেও জানান শেখ ফাহিম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের ক্ষতি করে কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিরুদ্ধে আমরা। কারণ এটি করা হলে চমড়া শিল্পের ক্ষতি হবে।’ কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সমিতি বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বৈঠকে আমরা সন্তুষ্ট কি না, এখনো বলতে পারছি না। আগামী ৩১ আগস্টের বৈঠকে আমরা বলতে পারব আমরা সন্তুষ্ট কি না। তবে আমরা আড়তদারদের বকেয়ার মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের পাওনা টাকা আমরা সবার আগে দাবি করছি।’‘১৯৯০ সাল থেকে বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ট্যানারি মালিকই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন। এটা কীভাবে পাব, তাও আলোচনা করতে হবে।’চামড়ার দরপতন প্রসঙ্গে দেলোয়ার বলেন, ‘মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো চামড়া কিনতে না পারার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’

বৈঠক শেষে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘বৈঠকে আমরা সন্তুষ্ট। এবার আমরা আগামী দুটি বৈঠকে নিজেরা বসে ঠিক করে নেব, পাওনাগুলো কবে, কীভাবে পরিশোধ করা হবে।’ ‘এবার চামড়া কেনার জন্য অমরা মাত্র ৬০৫ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা হয়েছে। আমরা যত টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছি, তত টাকা ব্যাংক ঋণ দিয়েছে। আর নতুন ঋণ পেয়েছি মাত্র ১৫০ কোটি টাকা। চামড়া কেনার জন্য আমরা নতুন করে ঋণ দাবি করছি।’আড়তদারদের পাওনা আদায়ে গত ১৮ আগস্ট সরকারের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসেন হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি