সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
হাজারীর ফেসবুক ভাষণ (১৬ই জুলাই)
Published : Thursday, 18 July, 2019 at 6:59 PM, Update: 18.07.2019 7:35:12 PM

হাজারীর ফেসবুক ভাষণ (১৬ই জুলাই)স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভাষনের শুরুতেই হাজারী বলেন- এ মাসের ভাষণটি দিতে পারবো মনে করি নাই। অসুস্থ্য ছিলাম তবে এখন খানিকটা সুস্থ তাই অতি সংক্ষেপে কয়েকটি জরুরি কথা বলব। প্রথমেই তিনি ক্রিকেট খেলোয়ার ফেনীর সাইফুদ্দিনকে তার বিশ্বকাপে গৌরবময় অবদানের জন্য তাকে অভিনন্দিত করেন। তিনি বলেন ফেনীর কোন ছেলে অতীতে জাতীয় দলে খেলার কোন সুযোগ পায়নি। সুযোগ পেয়েই সাইফুদ্দিন ফেনীবাসিকে গৌরববান্নিত করেছে। তিনি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।

এরপর ফেনী কলেজের অভিষেক অনুষ্ঠানে সেন্ডিকেট নেতার দেয়া ভাষণের কঠোর সমালোচনা ও নিন্দাজ্ঞাপন করেছেন। সেদিন সেন্ডিকেট নেতা সেখানে বলেছিল ফেনীতে বর্তমানে অতীতের মত সন্ত্রাস নাই। ঠিক এই কথাটি প্রিন্সিপাল সাহেবও বলেছিলেন। হাজারী বলেন চক্ষুলজ্জা থাকলে এই কথাটি কেউ বলতে পারে না। কারণ একরামের গাড়িতে আগুন দিয়ে ও গুলি করে তাকে এই আমলেই হত্যা করা হয়েছে। এখন নুসরাতকেও আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নুসরাত হত্যা প্রসঙ্গ টেনে হাজারী বলেন এর চাইতে বড় সন্ত্রাস আর কি আছে। তিনি বলেন নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তল হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রী এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মামলাটির গুরত্ব অনুধাবন করে এটিকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। পিবিআই নিরপেক্ষ থাকার কারণে আ.লীগ সভাপতি গ্রেফতার হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পিবিআই অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। মোট কথা এর চাইতে বড় সন্ত্রাস সারা পৃথিবীতে খুব কমই আছে। নুসরাতের ঘটনাটি সারা পৃথিবীর মিডিয়াতেও গুরুত্বসহকারে প্রচারিত হয়েছিল। নুসরাত হত্যার ঘটনার পর ফেনীকে সন্ত্রাসমুক্ত বলার কোন মুখ কারো আছে চিন্তাই করা যায় না। সেন্ডিকেট নেতার সুরে সুর মিলিয়ে প্রিন্সিপাল সাহেব বলেছেন একই কথা। তিনি তারও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন ছাত্রদেরকে লেখাপড়ার কথা না বলে বিকৃত ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করেন।

তিনি বলেন আমার ধারণা যখন মানুষের লজ্জা সরম চলে যায় এবং মানুষের মধ্যে থেকে হায়া মায়া উঠে যায় তখনই কেয়ামত নিকটে চলে আসে। তিনি বলেন আমি ভাবছিলাম কিয়ামত খুব কাছে চলে এসেছে কিনা। ফকিরের টাকা ছিনতাই, ট্রেন ডাকাতি এবং নিজ দলের লোকদের খুন করার কোন প্রবনতা ইতিপূর্বে কখনোই ছিল না। এখন এইসব সন্ত্রাসে বর্তমান ফেনী জর্জড়িত। তবুও সেই ভাঙ্গা রেকর্ড ওরা বাজিয়েই চলেছে। এটাকে খুবই নিন্দনীয় বলে হাজারী আখ্যায়িত করেন।

এরপরে নুসরাতের বিপক্ষে এবং আসামিদের পক্ষে বিপুল সংখ্যক উকিল অংশগ্রহণ করায় হাজারী দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন ফেসবুকে একজন লিখেছে উকিল সাহেবরা কি নুসরাতের মত তার বোন-কন্যা কিংবা স্ত্রীর এমন অবস্থা হতো তখন আসামি পক্ষে অবস্থান নিতে পারতেন। হাজারী বলেন আইনের চোখে সবাই সমান এটা সত্য। কিন্তু কিছু চাঞ্চল্যকর মামলা আছে যা আইনের উর্ধে। দুভাগ্যের বিষয় নুসরাতের জন্য বা বাদির জন্য উকিল নাই কিন্তু আসামিদের জন্য কোর্টে উকিলেরা ঠেলাঠেলি করে যোগ দিয়েছে। তিনি বলেন এটা টাকা পয়সার জন্যে কিংবা আসামিদের বাঁচাবার জন্য নয় কোন অশুভশক্তির উঙ্গিতেই এটা করা হচ্ছে। তবে তিনি নিশ্চিত করে বলেন যে সমস্ত এই মামলায় উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে কোন আসামির খালাস পাওয়ার সম্ভাবনা মোটেই নাই।

তিনি বলেন কারো ইঙ্গিত নয় নিজের বিবেকের তাড়নাতেই উকিলদের দায়িত্ব পালন করা উচিত।এরপর তিনি বলেন হঠাৎ সেন্ডিকেট নেতা ও নাসিমের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। যেই নাসিমকে ফেনীর উন্নয়নের রূপকার ও ফেনীর রাজনীতির পিতা বলা হত এবং প্রতিটি সভায় নাসিমের ব্যানার দিয়ে ভরে রাখা হতো এবং প্রতিটি বক্তা নাসিম বন্দনায় ব্যস্ত থাকত সেই নাসিম এখন সব জায়গা থেকে নির্বাসিত। কয়দিন আগে ধুমধাম করে আ.লীগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকি করা হয়েছে। সেখানে নাসিমের কোন ব্যানার দেখা যায়নি। এখন ওয়ার্ড কমিটির সভা চলছে সেখানেও নাসিমের নামটিও উচ্চারণ করে না। হঠাৎ এই পরিস্থিতিকে ঝড়ের আভাস মনে করা হচ্ছে। এক সময় নাসিমের বাড়িতে তালা লাগানো হয়েছিল এবং তার একটি মুরাল ছবিতে কে বা কারা কালিমা লেপন করেছিল। তখন ফেনীর ডুলামেয়র সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিল এইসব হাজারীর কাজ এবং হাজারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। অথচ এবং সকলের কাছেই এটা পরিষ্কার ওইসব কারা করেছে। অন্যপ্রসঙ্গে এসে হাজারী বলেন আমাদের একজন মহিলা সংসদ সদস্যসহ চারজন সংসদ সদস্য রয়েছে। তিনি দুঃখ করে বলেন এদের এবারের বাজেট অধিবেশনে বলতে গেলে কোন ভূমিকাই ছিল না। অপরদিকে একজন তো এক মূহুর্তের জন্যও সংসদে যায় নাই। তিনি বলেন একজন ছাত্রের যেমন প্রধান দায়িত্ব লেখাপড়া করা তেমনি একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব সংসদে গিয়ে ভূমিকা পালন করা। সংসদের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনটাই বাজেট অধিবেশন। সেখানে তেমন কোন ভূমিকা না রাখায় তিনি হতাশ।

এবার তিনি বলেন ফতেহপুর ফ্লাইওভারটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবাধনে নির্মিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর কাজে জনগণ খুবই খুশি কিন্তু ফতেহপুর ওভার ব্রিজটি এক বছরের মাথায় গর্ত হয়ে গেছে। উপরের অংশেই দেখা গেছে বড় বড় গর্ত। যা বড় ধরণের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই তিনি বলেন আগামী ঈদের আগেই এগুলো মেরামত করার দরকার নতুবা ঢাকা-চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

এবার ফেনীতে পুলিশের ব্যাপক রদবদল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাজারী বলেন এতে ফেনীর মানুষ আনন্দিত। আগে পুলিশ কর্মকর্তারা এক ব্যক্তির চাকরের মত কাজ করতো এখন এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার আশা করে। তবে ছয়জন এসআই বদলি হয়েছিল কিন্তু সে আবার বদলি বাতিল করে ফেনীতেই রয়েছে। এই এসআইটাই সাখাওয়াতের উপর কিছুদিন আগে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল এবং এটাই ছিল সব চাইতে খারাপ। এ ব্যাপারে তাই পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে হাজারী বলেন এই বিষয়টি আপনি ব্যক্তিগতভাবে আমলে নিয়ে ঐ এসআইটাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিন।
সবশেষে হাজারী বলেন- রদবদলের পর এখন পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকা ভাল। আর এই কারণেই বর্তমান পুলিশ সুপারকে তিনি অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানান।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি