সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
তাহিরপুরে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার
Published : Monday, 15 July, 2019 at 10:15 PM

তাহিরপুরে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার জেলা প্রতিনিধি ॥
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ীর ঢলের পানিতে বন্দি হয়ে পরেছে হাজার হাজার মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে পানি বন্ধি পরিবার গুলোতে। পানি বন্দি হওয়ায় মানুষজন বাড়ি থেকে বের হতেও পারছে না। বন্যা কবলিত গ্রাম গুলোতে অবস্থানকারী মানুষজন ত্রানের জন্য অপেক্ষায় আছে। ত্রান না পাওয়ায় হাহাকার বিরাজ করছে। এদিকে কিছু কিছু গ্রামে সরকারীভাবে,ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ, শুকনো খাবার বিতরন করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবেই সামন্য। অন্যদিকে সরকারী ত্রান দিচ্ছে এমন খবর পেলেই ছুঠে আসছে দলে দলে ক্ষতিগ্রস্থরা।
কথা হয় তাহিরপুর উপজেলা সদরে সরকারী সহযোগীতা নিতে আসা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রতনশ্রী গ্রামের বাসীন্দা ফিরোজা বেগমের সাথে। তিনি জানান,অনেকের বসতভিটা ঢেউয়ের কবলে ভেঙ্গে পড়ায় তারা সবাই প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। ২সাপ্তাহ ধরে স্বামীর বাড়ি বন্যায় পানিতে ডুবে যাওয়ায় তিনিও এখন বাবার বাড়িতে উঠেছেন। কিন্তু কোন সরকারী সহযোগীতা পাচ্ছেন না। ছেলে মেয়ে নিয়ে বড় বেশী অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
গবিন্দশ্রী গ্রামের কালা মিয়া(৭৮)জানান, তার বাড়ি পানিতে কানায় কানায় পূর্ন। কিন্তু কোন সহযেআগীতা পাই নি। উপজেলার ভূমি অফিসে ত্রান দিতাছে শুনে আইয়া লাইণে দাঁড়াইছি পরে পেকেট দেওয়া বন্ধ করে দিছে। উপার্জন করার ক্ষমতা নাই সরকারী ভাবে কিছু সহযোগীতা পাইলে বড় বেশী উপকার হইত। একেই কথা জানালেন উপজেলার শুবলাগাও গ্রামের বিধবা নারী সমলা বেগম(৬৬)। তিনি আরো জানান,স্বামী ছেলে কেউ নাই। মেয়ে ছিল তাদের বিয়ে দিয়েছি তারা এখন স্বামীর বাড়িতে। বন্যায় বাড়ি পানির নিছে। কিন্তু কোন সহযোগীতা পাচ্ছি না। তিনি ক্ষোবের সাথে জানান,ভুমি অফিসে(১৫জুলাই)দুপুরে সরকারী ত্রান দিতাছে শুনে আইছি কিন্তু পাইলাম না। ৩-৪জনরে দিয়া বন্ধ কইরা দিছে।
একেই কথা জানান, ভাটি তাহিরপুর গ্রামের সাজিদা বেগম(৭০) ও গুলনাহার। তারা জানান,সব জায়গায় সরকারী সহযোগীতা দিতাছে। আমি পাইলাম না কবে পাইমু। সবাইত পায়। কাজ করার মত শক্তি নাই এখন সরকারী সহায়তা পাইলে একটু ভালা হইত। উপজেলা সরকারী ভাবে ত্রান দিতাছে শুইন্না আইয়া দেখি সবাই লাইনে দাড়ায়ে ত্রান দিতাছে। পরে বন্ধ করে দিছে। এসব কথা গুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কয়েটি গ্রামের বাসীন্দাগন।
উপজেলার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে দেখা যায়,হাওরের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে তাদের বসত বাড়ি ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন হবার পথে। পরিবার পরিজন নিয়ে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ত্রান পাচ্ছেন না।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি তালুকদার জানান,উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি,শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ৩টি,বালিজুড়ি ইউনিয়নে ১টি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পরিমান বেশী। ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে তা পরিমানে কম। এব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,তাহিরপুরের মানুষ বারবার ফসল হারিয়ে দিশেহারা এবং সাম্প্রতিক বন্যায় মানুষের বসতভিটা,রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সকলেই দিশেহারা। ত্রানের পরিমান বাড়ানো খুবেই প্রয়োজন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন জানান,তার ইউনিয়নে দু’শতাধিক পরিবার এখনও পানি বন্ধি রয়েছে। এসব পরিবারে যে পরিমান চাহিদা তার ২পার্সেন্ট সরকারী সহযোগীতা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিদিনেই আমার কাছে এসে সহায়তা চাচ্ছে আমি দিতে পারছি না। আমি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধবর্তন কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই যেন যত দ্রুত সম্ভব আমার ইউনিয়নের ক্ষতি গ্রস্থদের সহায়তার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস।তা গ্রহন করে বরাদ্ধ দেন। 


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি