শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯
চার চিকিৎসক দিয়ে চলছে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
Published : Friday, 17 May, 2019 at 5:09 PM

চার চিকিৎসক দিয়ে চলছে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সফেনীর উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন নিজেই রোগাক্রান্ত। ফলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে- কিন্তু মিলছে না এর প্রতিকার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিস জানায়, সোনাগাজী উপজেলায় চিকিৎসকের মোট একুশটি পদ থাকলেও বর্তমানে উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পাঁচটি পদের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। সুইপারদের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য রয়েছে। টেকনিশিয়ান থাকলেও দীর্ঘদিন এক্সরে মেশিনটি বিকল। গত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় জেনারেটরটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া আসবাবপত্র ও বিভিন্ন বিভাগে যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে যে চারজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাকেও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি রোগী দেখতে হয়। তিনজন নারী মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) দিয়ে চরম সংকটে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে কলমে ৫০ শয্যার বলা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০/৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে গড়ে দূর দূরান্ত থেকে চারশ থেকে সাড়ে চারশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ও বিভাগীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। অথবা জেলা শহরে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়।

উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জামাল উদ্দিন নামে এক রোগী জানান, তিনি দাঁতের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দাঁতের চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

সূজাপুর গ্রামের হাড় ভাঙ্গা রোগী পেয়ারা বেগম চিকিৎসা সেবার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি নষ্ট। সোনাগাজী উপজেলা সদরে ভাল কোনো এক্সরে মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম হাসপাতালে চিকিৎসক- কর্মচারী ও যন্ত্রপাতি সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক সংকট ও এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চরম সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি