মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭
মেয়র নির্বাচনটি উন্মুক্ত থাক
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 10:58 PM

মেয়র নির্বাচনটি উন্মুক্ত থাকজয়নাল হাজারী॥ আনিসুল হকের মৃত্যুর পর তার মেয়র আসনটি দ্রুতগতিতে শূন্য ঘোষণা করেছে সরকার। এখন দ্রুতগতিতেই এখানে নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। আ.লীগের নমিনেশন কে পাবে বিএনপি থেকে কে থাকবে আনিসুল হকের পরিবার থেকে কে থাকতে পারে এসব নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকেই বিভিন্নজন বিভিন্ন মতামত দিচ্ছে।  আনিস যখন মেয়রের মনোনয়ন পেলো তার এক মাস আগেও কেউ জানতো না আনিসকে মনোনয়ন দেয়া হবে। বরং আনিসের প্রশ্নে ব্যাপকভাবে বলা হয়েছিল সে বিএনপি ঘরানার লোক। সে যাই হোক সে যে ঘরানারই হোক আনিস যা করে গেছে তা অন্য কারো পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। আনিসের পিছুটান ছিল না। কেননা সে পদটির জন্য লালায়িত ছিল না। অন্যদিকে তার ভাই সেনাপ্রধান হওয়াতে তার একটা আলাদা মনের জোর ছিল। মেয়র আনিস এখন সকল বিতর্কের উর্ধ্বে। তার কর্ম প্রেরণা সকলকেই অনুপ্রাণিত করবে। এখন আসল কথা হচ্ছে কে হচ্ছে ভবিষ্যতের মেয়র? প্রথমেই আলোচনায় এসেছে নেত্রী নাকি আনিসুল হকের মৃত্যুর পরপরই সাবের হোসেনকে ডেকেছিলেন। তাতেই সকলে ধারণা করেছেন সাবের হোসেনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে। সাবের হোসেন সকল বিবেচনাতেই অবশ্যই একজন যোগ্য প্রার্থী। সব সময় যোগ্য লোকেরা বিবেচনায় আসে না। এখন পারিবারিক প্রভাব খুবই কার্যকর হচ্ছে। কেউ মারা গেলে তার ভাই তার সন্তান কিংবা তার স্ত্রীকে টেনে আনা হয় এক্ষেত্রে যোগ্যতার বিষয়টি ম্লান হয়ে যায়। এখানে আবেগই প্রাধান্য পায়। কোন কোন ক্ষেত্রে এই আবেগের ব্যক্তিটি সঠিক দায়িত্ব পালন করে যোগ্যতার প্রমাণও দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রথম থেকে মেয়র আনিসের পুত্রের কথা এসেছিল। পরে নাকি তার স্ত্রী এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেজন্যে ছেলে পিছিয়ে গেছে। এদিকে সমকালের মালিক আবুল কালাম আজাদসহ আরো কিছু নাম বাজারে এসেছে। একেবারে ফেলনা-খেলনা নাম আসেনি। আ.লীগ যাকে নমিনেশন দেবে সেই নির্বাচিত হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাই বাস্তবতা। ফলে নির্বাচনটাই প্রায় গুরুত্বহীন হয়ে যায়। বিএনপির তাবিত আউয়াল কিংবা নাগরিক কমিটির মান্নারা আলোচনায় থাকবে কিন্তু নির্বাচিত হবে না। দুই-একটি নাম বোধহয় আলোচনায় আসার জন্যই বাজারে ছাড়া হয়েছে। সেটিও সময়মত আলোচনার বাইরে চলে যাবে। কেউ কেউ সোহেল তাজের নামও বলছে কিন্তু সোহেল তাজ নিজেই এ ব্যাপারে আগ্রহী কিনা এখনো জানা যায়নি। ঢাকা উত্তর অঞ্চলে নোয়াখালি অঞ্চলের মানুষদের বসবাস শতকরা ৮০ ভাগ ফলে এই অঞ্চল থেকে সাধারণত নোয়াখালি অঞ্চলের লোককেই সব সরকার প্রার্থী হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে থাকে ফলে মান্না কিংবা সোহেল তাজ কিছুটা পিছিয়ে থাকবে কিন্তু উপযুক্ততার বিবেচনায় এই দুইজনের কোন জুড়ি নেই। এতক্ষণ যাদের কথা আলোচনা করা হয়েছে তাদের বাইরেও যে কেউ হঠাৎ করে মাঠে এসে যেতে পারে। মাঝে মধ্যে নেত্রী চমক সৃষ্টির জন্য এসব করে থাকেন। আমি এবার ঢাকা উত্তরের মেয়রের নির্বাচনটিকে উম্মুক্ত করে দেয়ার প্রস্তাব করব। নির্বাচনটি হোক নির্দলীয়। এখানে যার ইচ্ছা সেই প্রার্থী হোক। কোন দলীয় প্রতীক থাকবে না। এইরূপ নির্বাচনের জিতে যে যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে অবশ্যই সে মেয়র হিসেবে কর্মকাণ্ডেও যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো এভাবেই নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারও যদি ভোটের বাজারটি গরম করতে হয় এবং নির্বাচনকে উৎসব মুখর করতে হয় তাহলে মুক্ত নির্বাচন করতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন আলাউদ্দিন নাসিমকে মন্ত্রী বানিয়েই ফেলেছিল কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এখন আবারো ছবি-টবি দিয়ে নাসিমকেই বানিয়ে ফেলতে চাইছে। আমি নঈম নিজামকে অনুরোধ করবো নাসিমের প্রচার করার আগে ওবায়দুল কাদের ও নাসিমকে সমঝোতায় নিয়ে আসুন। নইলে তো নাসিমের সম্ভবনা নাই।  নঈম নিজাম সাহেব নাসিমের নাম লিখতেই লিখে থাকেন আ.লীগ নেতা। নাসিম কি করে নেতা হলো? সেতো আ.লীগের কোন শাখার কোন পদেই নাই। অতীতেও সরকারী কর্মচারী ছিল। দলের কিছুতে থাকার প্রশ্নই নাই। গত কেন্দ্রীয় সম্মেলণে নাসিম দৌড়-ঝাপ দিয়েছিল। তাকে একটি সদস্যও করা হয় নাই। এভাবে লিখলে মানুষের মনে কিছু চিন্তুর খোরাক জোগায়। বড় পত্রিকার সম্পাদকও বড় সুতরাং সেটা মাথায় রেখেই সম্পাদক সাহেবকে কাজ করতে হবে । এবারের মেয়র নির্বাচনের বিষয়টি এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর একতিয়ারে কিন্তু যেহেতু কেবল মন্ত্রী নয় ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক। সুতরাং তার আপত্তির মুখে নঈম নিজাম সাহেবের প্রার্থী টিকতে পারবে কিনা এটাতো বিবেচনায় রাখতে হবে। নাসিমকে এসব ব্যাপারে আগাতে হলে আগে ওবায়দুল কাদেরকে ম্যানেজ করতে হবে। মুক্ত নির্বাচন হলে আমি খুশি না হলে সোহেল তাজ কিংবা সাবের হোসেনকেই চাই।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি