শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
২০০ বছরের প্রাচীন সরকারী রাস্তা প্রজেক্টের পেটে!
Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 9:22 PM

২০০ বছরের প্রাচীন সরকারী রাস্তা প্রজেক্টের পেটে!কুমিল্লা প্রতিনিধি ॥
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ছাতীয়ানী গ্রামে ২০০ বছরের প্রাচীন সরকারী রাস্তার বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙ্গে পড়েছে। ১২-১৫ ফিটের সরকারী এ রাস্তাটির লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কের পরিকোট ব্রীজ থেকে আনুমানিক ২০০ হাত পর্যন্ত ভেঙ্গে রাস্তার দুই পাশে থাকা স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা ওয়াদদু মেম্বারের মাছের প্রজেক্টের সাথে বিলীন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঐ অংশে রাস্তা ছিল তা বুঝাই দুষ্কর। পাশাপাশি প্রেেজক্টের সীমানা পর্যন্ত রাস্তার অংশে বেড়া নির্মাণ করেও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে চলাচলের জন্য অনেকে বেড়া ফাঁক করে কিংবা একটু নিচ দিয়ে যাতায়াত করছে বলে জানায় স্থানীয়রা। গ্রামের অনেকেই অভিযোগ করেন, বন্যায় হালকা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও প্রজেক্টের কিংবা জমিনের সীমানা বড় করতেই প্রভাবশালীরা রাস্তার বাকী অংশ কেটে ফেলেছে। তবে প্রজেক্টের অংশের মালিক আব্দুল ওয়াদুদ তার অংশের রাস্তা কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন। শতাধিক পরিবারের চলাচলের এ রাস্তা কেটে ফেলায় বর্তমানে তারা গ্রামের ভিতরের একটি রাস্তা ব্যবহার করে অনেক কষ্টে চলাফেরা করছে। ভুক্তভোগী এলাকার স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক কষ্টে পূর্বের তুলনায় বাড়তি সময় ব্যয় করে গ্রামের ভিতরের বিকল্প সড়ক ধরে চলাচল করছে। গাংয়ের পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষ হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে রাস্তাটি না থাকায় দুরবর্তী স্থান দিয়ে অঞ্চলটি থেকে একসময় অল্প সময়ে কিংবা পায়ে হেঁটেই পাশ্ববর্তী শরিফপুর (গাংয়ের পাড় বাজার) বাজারে এবং বাঙ্গড্ডা বাজারে যাতায়াত করত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির ২টি স্থানের কিছু অংশ বিলীন হওয়ায় বর্তমানে তারা বিকল্প সড়ক ধরে বাড়তি সময় ও ভাড়া গুনে প্রয়োজনীয় স্থানে যাতায়াত করে। স্মারকলীপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকল্প সড়ক হিসেবে বিগত আনুমানিক ২০০ বছর পূর্বে লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কের দক্ষিন পাশে পরিকোট ব্রীজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাশ ঘেঁষে একটি রাস্তা তৈরি হয়। যা লাকসাম চৌদ্দগ্রাম সড়কের পরিকোট ব্রীজের অংশ থেকে শুরু হয়ে চৌদ্দগ্রাম নাঙ্গলকোট সড়কের পাশ্ববর্তী শরিফপুর তথা গাংগের পাড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ রাস্তাকে কেন্দ্র করে বিগত আনুমানিক ৪০ বছর ধরে ছাতিয়ানী এবং নদীর অপর পাড়ের নাঙ্গলকোট অংশের যজ্ঞশাল গ্রাম থেকে লোকজন এসে বাড়ী ঘর তৈরি শুরু করে। বর্তমানে এ রাস্তাকে কেন্দ্র করে নদীর পাড় এলাকায় প্রায় ১০০ পরিবারের অধিক বসবাস করে। চারদিকে খোলামেলা পরিবেশ এবং একদিকে শরিফপুর বাজার আর অপরদিকে বাঙ্গড্ডা বাজার খুব কাছে হওয়ায় এখানে নতুন বসতির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়রা এলাকাটিকে বর্তমানে মানুষ নতুন একটি গ্রাম হিসেবেই বিবেচনা করে। প্রচুর ভোটার থাকায় জনপ্রতিনিধিরাও ভোটের পূর্বে গুরুত্বের সাথেই গাংয়ের পাড় এলাকার মানুষের কাছে যায়। আনুমানিক ১.৫০ কিলোমিটারের এ রাস্তাটি সর্বশেষ এরশাদ সরকারের সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার কাজ হয়। পরবর্তীতে সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম মোল্লার সময়ে রাস্তাটিতে মাটি ভরাট হয়ে। কিন্তু বিগত ৮-১০ বছরেও রাস্তাটিতে আর কোন সংস্কার কাজ করা হয় নাই। যার কারনে রাস্তাটির বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙ্গে কিংবা প্রভাবশালীরা কেটে নিজেদের জমিনের সাথে একাকার করে ফেলেছে। গ্রামের ভুক্তভোগী ইসমাইল নামের এক যুবক জানান, ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় এ রাস্তাটিতে বরাদ্দ প্রদানের খবর শুনেছি কিন্তু বাস্তবতা আর পাই নাই। একটি গ্রামের সমান মানুষ বসবাস করলেও সরকারী এ রাস্তাটি সংস্কার কিংবা ভাঙ্গা অংশ মেরামতের কোন উদ্যোগ এ পর্যন্ত নেওয়া হয় নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, গ্রামের মুল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনপ্রতিনিধিরাও এ রাস্তাটির সংস্কারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। শুধুমাত্র ভোট আসলেই সস্তা প্রতিশ্রুতিতে এ এলাকায় আসেন জনপ্রতিনিধিরা। রাস্তা কাটার অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বিগত বন্যার সময়ে আমার মালিকানার দুই পাশের প্রজেক্টের মাঝখানের অংশ ভেঙ্গে যায়। রাস্তা কাটার বিষয় অস্বীকার করে তিনি আরও জানান, রাস্তাটির সংস্কারে নিজ থেকেই ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার ভাঙ্গা অংশে মাটি ভরাট এবং ইট ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিগত কয়েক মাস পূর্বে রাস্তাটির ভাংগা অংশ নির্মাণ এবং সম্পূর্ণ অংশে মাটি ভরাটের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে একটি দরখাস্তও প্রদান করেছি। মুলত একটি মহল শত্রুতা বশতঃ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার ভাঙ্গা অংশের দায় আমার উপর ফেলার চেষ্টা করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজ আলম জানান, আমার জানামতে বিগত ৫-৬ বছর পূর্বে উপজেলা পরিষদ থেকে ছাতিয়ানি গ্রামের গাংয়ের পাড় সংলগ্ন উক্ত রাস্তাটির সংস্কারে একটি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। রাস্তাটির সংস্কার কিংবা ভাঙ্গা অংশ মেরামতের বিষয়ে আমার নিকট কেউ দরখাস্ত দেয় নাই কিংবা বলেও নাই। তবে যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তাই আমি চেষ্টা করব আসন্ন ইউপি বাজেটে রাস্তাটির সংস্কারে প্রদক্ষেপ নেওয়ার।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি