শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
বেলফোর ঘোষণার শতবর্ষ পূর্তি স্বাধীন রাষ্ট্র পায়নি ফিলিস্তিনিরা
গাজীউল হাসান খান
Published : Sunday, 12 November, 2017 at 9:05 PM

বেলফোর ঘোষণার শতবর্ষ পূর্তি স্বাধীন রাষ্ট্র পায়নি ফিলিস্তিনিরালন্ডনে গত ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বেলফোর ঘোষণার শতবর্ষ পূর্তি উদ্যাপন করা হয়েছে। আর এই বেলফোর ঘোষণাই ছিল আরব অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।
১৯১৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সেক্রেটারি আর্থার বেলফোর বিশিষ্ট ইহুদি ধনকুবের লর্ড রথচাইল্ডের কাছে লিখিত এক পত্রে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি আবাসভূমি  স্থাপনের ব্যাপারে তাঁর সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। তাতেই পাশ্চাত্যের বিভিন্ন ইহুদিবাদী সংগঠন ও ইহুদি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছিলেন তাঁদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে। ইউরোপ ও আমেরিকায় অত্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে বসবাসকারী প্রভাবশালী ইহুদিরা সে পরিকল্পনা অতি দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি পর্যায়ে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। এবং ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন একতরফাভাবে ইসরায়েল নামক একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। সে ঘোষণায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের আরব নেতারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর  স্বাধীনতা লাভকারী অনেক নতুন আরব রাষ্ট্রই তখনো অত্যন্ত অসংগঠিত। তবু তারা তাদের সাধ্যমতো মধ্যপ্রাচ্যে আরব অধ্যুষিত ভূখণ্ডে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। ইসরায়েল নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পর থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত আরবদের সঙ্গে ফিলিস্তিন ও তার বাইরে চারটি ব্যাপক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। তাতে পাশ্চাত্য সমর্থনে বলীয়ান ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ফিলিস্তিন নামক ভূখণ্ডের আরবরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ইসরায়েল সরকারের বিভিন্ন আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভূমি দখলের কারণে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ আরব উত্খাত ও সব শেষে নির্বাসিত হয়ে বিভিন্ন প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রের আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে তখন থেকে। বেলফোর ঘোষণায় ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইসরায়েল নামক ইহুদি রাষ্ট্রটি। সে রাষ্ট্রের বয়স এখন প্রায় ৭০ বছর। ১৯৬৭ সালে আরব ও বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে নির্ধারিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সরকারের ক্রমাগত বসতি নির্মাণ এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা। সে কারণেই বেলফোর ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, একটি জনগোষ্ঠীর জন্য আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অপর একটি স্থায়ী জনগোষ্ঠীকে উত্খাত করা হয়েছে। তা ছাড়া তারা (ফিলিস্তিনিরা) ক্রমাগত ইসরায়েল সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। সে কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ফিলিস্তিনি জনগণের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এবং অবিলম্বে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদানেরও আহ্বান জানিয়েছেন। বেলফোর ঘোষণার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার আরব বাসিন্দা সমবেতভাবে তার (ঘোষণার) নিন্দা জানিয়েছে।   তারা ব্রিটিশ সরকারের সে ঘোষণার জন্য ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সে ঘোষণার ফলে ফিলিস্তিনের একটি স্থায়ী জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একটি ব্রিটিশ দৈনিকের মতে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ইসরায়েলের ইহুদিবাদী সরকার ফিলিস্তিনিদের সমূলে উত্খাত কিংবা নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে প্রতিনিয়ত লিপ্ত রয়েছে। গাজা উপত্যকার সংগ্রামী সংগঠন হামাসের বিভিন্ন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি আগ্রাসনকারীরা বারবার গাজা আক্রমণ করে সে নগরীটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন বসবাসের জন্য প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে এককালের সমৃদ্ধ নগরী গাজা। উত্তর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গাজার হামাস ও ইসলামী  জেহাদসহ কিছু সংগঠনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগে ২০০৫ থেকে ইহুদি সেনারা গাজা অবরোধ করে রেখেছে। তখন থেকে ১৫ লক্ষাধিক গাজাবাসী তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্য ও ওষুধপত্রের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। সে অবস্থা চরমে পৌঁছলে গাজার ফিলিস্তিনি বাহিনীগুলো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সে অজুহাতে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইহুদি সেনারা তিন সপ্তাহের যে অসমযুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল গাজাবাসীর ওপর, তাতে নিরীহ-নিরস্ত্র নারী-পুরুষ, শিশুসহ এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়। দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সরকারের বসতি নির্মাণ জেনেভা কনভেনশনের বরখেলাপ ও একটি যুদ্ধাপরাধ—এ কথা জেনেও ইহুদিবাদী ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ক্রমাগতভাবে বসতি স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু ওবামা প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের চাপে বসতি নির্মাণের কাজ ১০ মাস স্থগিত রাখা হয়েছিল। এরপর আবার পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণের কাজ পূর্ণোদ্যমে চালু করা হয়েছে। তিন লাখ ইসরায়েলি ইহুদি এখন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বসবাস করছে। তা ছাড়া আরো আড়াই লাখ বসবাস করছে পূর্ব জেরুজালেমে। তারা সবাই এসেছে ইসরায়েল থেকে। ২০১৫ সালে গৃহীত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আট লাখেরও বেশি ইসরায়েলি ইহুদি নাগরিক ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘ চিহ্নিত যুদ্ধবিরতি লাইনের ওপরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ। অথচ ১৯৪৮ সালে সংঘটিত যুদ্ধের পর জর্দানের অর্ধেক জনসংখ্যাই এখন ফিলিস্তিন থেকে আগত বাস্তুচ্যুত শরণার্থী। তাদের, অর্থাৎ বিতাড়িত সেই ফিলিস্তিনিদের ভিটায় এখন বাস করে বহিরাগত ইহুদিরা, যাদের সঙ্গে অতীতে এ ভূখণ্ডের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল সরকার প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য জাতিসংঘ নির্ধারিত ৬০ লাখ ডানাম ভূখণ্ডের (১০ ডানামে এক হেক্টর) মধ্যে সাত লাখ ৩০ হাজার ২১৪ ডানাম ভূখণ্ড আত্মসাৎ করেছে বিভিন্ন অজুহাতে। ১৯৪৭ সালে সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে (বর্তমানের ইসরায়েল রাষ্ট্রসহ) আরব জনসংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ১০ হাজার আর ইহুদি জনসংখ্যা ছিল মাত্র ছয় লাখ ৩০ হাজার। গত ৭০ বছরে ইহুদিদের সে জনসংখ্যার পরিমাণ ও সার্বিক আর্থ-সামাজিক দৃশ্যপট অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সমগ্র ইহুদি জাতির একতাবোধ ও গভীর স্বার্থান্বেষী পরিকল্পনা, যা আরবদের মধ্যে দেখা যায় না। ইহুদিরা অত্যন্ত প্রতিভাবান ও কর্তৃত্ববাদী জাতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই তারা পূর্ব ইউরোপ এবং বিশেষ করে রাশিয়া থেকে আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে আসতে শুরু করে। রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে সংঘটিত ইহুদি নিধনের (হলোকস্ট) পর তারা দলে দলে যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমায়। তারা বুঝতে পেরেছিল, ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই থেকে গত ৭০-৮০ বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। সে সময়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন থেকে শুরু করে সংগীতজ্ঞ ইয়াহুদি মইনিহান পর্যন্ত কেউ বাদ থাকেননি। তারা পরিকল্পিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান ও প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনে তাদের এত প্রভাব। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে তারা মনে করে একটি বড় ইসরায়েল এবং ইসরায়েলকে মনে করে একটি ছোট যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকা। সে কারণেই ইউরোপ এবং বিশেষ করে আমেরিকার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা সমগ্র ফিলিস্তিনকে ক্রমে ক্রমে গ্রাস করতে উদ্ধত হয়েছিল। বারবার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার স্পৃহাকে অবদমিত করে রেখেছে। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়ে আমাদের কয়েকটি পদ্মা সেতু নির্মিত হতে পারে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা মুহূর্তের মধ্যে এক হয়ে যান। ইহুদিদের নেতৃত্ব এতই শক্তিশালী। ইউরোপ এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা ছিলেন ব্যতিক্রমী। তাঁরা উভয়েই ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে চেয়েছিলেন। সে কারণে ক্লিনটন ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি (১৯৭৮) থেকে নব্বইয়ের দশকের প্রারম্ভে নরওয়েতে প্রণীত ‘অসলো শান্তি প্রক্রিয়া’র পথ ধরে তৎকালীন ইসরায়েলি (লেবার দলীয়) প্রধানমন্ত্রী ইয়াত্জ্যাক রবিন ও ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে অনেক দূর এগোতে পেরেছিলেন। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউসের ভেতরের বারান্দায় বিশ্বের নেতৃস্থানীয় কূটনীতিকদের সামনে দুই বিবদমান নেতাকে দিয়ে একটি অর্থবহ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করিয়েছিলেন। আমি সে সময় ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে একজন মিনিস্টারের দায়িত্বে কাজ করছিলাম বলে সে ঐতিহাসিক ঘটনাটি খুব কাছে থেকে পর্যালোচনা করার সুযোগ পেয়েছিলাম।
 এরপর ২০০০ সালে ক্লিনটনের বিদায়ের প্রাক্কালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্প ডেভিড শীর্ষ সম্মেলন। তখন ইসরায়েলের নিহত নেতা প্রধানমন্ত্রী রবিনের জায়গায় ক্ষমতায় এসেছেন ইয়াহুদ বারাক। তিনি রবিনের শান্তি প্রক্রিয়ার অনুসারী ছিলেন বলে সমগ্র গাজা ভূখণ্ড, পূর্ব জেরুজালেমের কোনো একটি স্থানে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী স্থাপন, পশ্চিম তীরের ৭৩ শতাংশ ভূমি, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ক্ষতিপূরণসহ অনেক কিছু দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাতকে। শুধু একটি বিষয় ছাড়া। আর সেটি হচ্ছে সমগ্র পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনকে হস্তান্তর। ইসরায়েল রাষ্ট্র থেকে বাস্তুচ্যুত আরব শরণার্থীদের সেখানে ফিরে আসার অধিকার নিশ্চিত করতে না পারাতেই ইয়াহুদ বারাক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথভাবে প্রণীত সে প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত। কারো কারো মতে, ইরানের অস্ত্রশস্ত্র পাওয়ার আশ্বাসে আরাফাত ক্যাম্প ডেভিডে কোনো পাল্টা প্রস্তাব না রেখেই রামাল্লায় ফিরে গিয়েছিলেন। উচ্চ স্থানীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে দর-কষাকষি না করে আরাফাতের ফিরে যাওয়া মোটেও উচিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনো বিস্ময় কাটেনি অনেকের।
এর পর থেকে আরো ১৭ বছর ঝুলে আছে ফিলিস্তিন সমস্যা। এর মধ্যেই ইসরায়েলে ক্ষমতায় এসেছে একটি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক জোট, যার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ইহুদিবাদী কৌশলী রাজনীতিক বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘের প্রকাশ্য বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করে নেতানিয়াহু ক্রমাগতভাবে এখন ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শও গ্রাহ্য করছেন না বসতি বিস্তারের ব্যাপারে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান চান বলে প্রচার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুনভাবে সখ্য গড়ে উঠেছে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে। সে অবস্থায় গাজার জঙ্গিবাদী শক্তি হামাস তার অনেক কর্মকাণ্ডই এখন ছেড়ে দিয়েছে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন মূল পশ্চিম তীরভিত্তিক প্রশাসনের হাতে। আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও ইহুদিবাদী ইসরায়েল ক্রমাগতভাবে তা করেই যাচ্ছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের যতটুকুই দেখতে পেরেছি, ইসরায়েলের সুউচ্চ প্রাচীর নির্মাণের পর সে স্থানগুলো এখন আর চেনাই যায় না।
লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ‘প্যালেস্টাইন এক সংগ্রামের ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রণেতা



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি