শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী যুদ্ধের প্রাকচিত্র
মুহা. রুহুল আমীন
Published : Saturday, 11 November, 2017 at 7:38 PM


মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী যুদ্ধের প্রাকচিত্রযুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও সিরিয়ার উপর্যুপরি আক্রমণে সিরিয়া ও ইরাকের আইএস ঘাঁটিগুলো যখন পর্যুদস্ত হচ্ছিল এবং তাদের দখল থেকে ইরাক ও সিরিয়ার ভূমি মুক্ত হচ্ছিল তখন বিশ্বমিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছিল— মধ্যপ্রাচ্য সন্ত্রাসীদের কবলমুক্ত হচ্ছে। আমরা শান্তিকামী মানুষ এ আশায় বুক বেঁধেছিলাম যে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কায়েমী স্বার্থচক্রের সৃজিত ও পালিত সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে হয়ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ও প্রগতির নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দৈনিক পত্রিকার কলাম এবং গবেষণা প্রবন্ধে আমরা অনেকে বলে আসছিলাম যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসানের পর সেখানে নিরন্তর যুদ্ধের সর্বশেষ ফ্রন্ট অথবা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আরেকটি স্থায়ী ও চিরন্তন (unending conflict) অধ্যায় তৈরি হতে যাচ্ছে। বোধ হয়, আমাদের সেই আশঙ্কাটি এখন বাস্তব হতে চলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণে আমাদের সেই ভাঙা রেকর্ডটি বার বার পাঠকদেরকে শোনাতে মন চাইছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে এ এলাকায় আইন, বিচার, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক একতার মডেল উপস্থাপন করে দুর্দান্ত প্রতাপে উসমানীয় খিলাফত (ottoman empire) যখন বিশ্ব ইতিহাসের স্বর্ণালি ইতিহাস রচনা করে, তখন তার অননুকরণীয় সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে সেই অটোম্যান প্রতাপ ধ্বংস করতে প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপের শক্তিজোট এক হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তাদেরকে মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। যুদ্ধের পর অটোম্যানদের খিলাফত বিলুপ্ত করে আফ্রো-এশিয়ায় গড়ে উঠা বিশাল সেই সাম্রাজ্যে পাশ্চাত্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং এ অঞ্চলে নব্য উপনিবেশবাদের করাল থাবা বিস্তৃত করা হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে যে নীলনকশা হাতে নেওয়া হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ এবং তাদের অপভ্রংশ আমেরিকা কর্তৃক গঠিত নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরির পর সেই নীলনকশা অনুযায়ী ফিলিস্তিন এলাকায় বিশ্বের সর্বত্র অনাদৃত ও ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদেরকে এনে জড়ো করা হয় এবং আস্তে আস্তে ফিলিস্তিনিদের উত্খাত করে ইহুদিদের রাষ্ট্র হিসেবে শক্তিশালী ইসরাইলের সূত্রপাত করা হয়। এখন ফিলিস্তিনিরা নিজভূমিতে পরবাসী।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব এবং পরের এ রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে ইউরোপীয় পাশ্চাত্যের করতলগত করা হয়। ইউরোপের ঔপনিবেশিক শাসন, সুয়েজ খাল খনন, উপসাগরীয় এলাকায় রাজনৈতিক ও সামরিক সুবিধা সৃষ্টি, এ অঞ্চলের স্ট্রাটেজিক ও ভূ-অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ, আঞ্চলিক বাণিজ্যের দখল, ইসরাইল রাষ্ট্র গঠন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ম্যান্ডেট-পদ্ধতি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর অছি-পদ্ধতি এবং সর্বোপরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাজাত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভূত্ব স্থাপন তথা নব্য উপনিবেশবাদের আগ্রাসনের মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত পাশ্চাত্যের একক ক্ষমতা বহুলাংশে খর্ব হয় ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে গড়ে উঠা নতুন কম্যুনিস্ট সাম্রাজ্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা। মুসলিম মধ্যপ্রাচ্য এভাবে ১৯৫০ সাল হতে দুটি পরাশক্তির প্রভাব বলয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় পিষ্ট হতে থাকে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ধ্বংসস্তূপে অবশিষ্ট সম্পদরাজি হস্তগত করতে এখন পাশ্চাত্যের ইউরোপ ও আমেরিকা এবং কম্যুনিস্ট সোভিয়েতের ভগ্নাংশ রাশিয়া এসব দেশে তাদের প্রতিষ্ঠিত একনায়ক শাসকদের মাধ্যমে পুনরায় নানারূপ শোষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে এবং তা বাস্তবায়নের পথে এ এলাকায় বহুমুখী সংঘর্ষের অসংখ্য ফ্রন্ট গড়ে ওঠে।

বৈশ্বিক স্বার্থচক্রের করালগ্রাসে পতিত শোষিত জনগণের তরুণ অংশের হতাশা অনেক যুবক যুবতীকে প্রতিবাদী করে তোলে এবং স্বাধিকার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করে। বৈশ্বিক কায়েমী স্বার্থবাদীরা মুক্তিকামী তরুণ-তরুণীদের উদ্বেলিত আবেগকে বিপথগামী করার মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগায়। নব্য উপনিবেশবাদের সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে নতুনভাবে শোষণ প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আফগানিস্তানে কম্যুনিস্ট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নির্যাতিত আফগানদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্নায়ুযুদ্ধের ফাঁদ পেতে আমেরিকানরা মুজাহিদদের সহযোগিতা দেয়। সোভিয়েতরা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে আমেরিকা ও ইউরোপীয়রা সেই মুজাহিদদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তাদের ভূমি দখল করার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এভাবে আফগানিস্তান এবং ইরাকের জনগণের ওপর নতুন যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়। সহজ সরল মুসলমানদেরকেও প্রতিবাদী করে তোলা হয়। বহুমুখী যুদ্ধের জটিল সংস্করণের স্ট্রাকচারাল ইন্টারলকিং-এর নতুন ফাঁদ তৈরি করা হয়। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসে ঠেলে দেওয়া হয় মুক্তিপাগল শোষিত বঞ্চিত আরবদেরকে। পাশ্চাত্য ইউরোপ ও আমেরিকার তৈরি মুজাহিদ মুক্তিযোদ্ধারা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র নতুন নতুন যুদ্ধের জটিল সব ফ্রন্টে লক্ষ্যহীনভাবে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববিহীনভাবে, বিশৃঙ্খলভাবে আমরণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। নানা নামে নানা ফ্রন্টে সেই যোদ্ধাদের পরিচিতি বিশ্বমিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আমি এখনো জানি না যে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার দুর্বার লক্ষ্য নিয়ে তরুণরা যে যুদ্ধের মাঠে নেমে পড়ে, একটি অনাবিল আদর্শের উত্স থেকে যাদের যুদ্ধের অনুপ্রেরণা জেগে ওঠে, সেই তরুণ যোদ্ধাদের দ্বারা সম্পন্ন করা এমন সব কার্যাবলি বিশ্বমিডিয়ায় প্রচার করা হয়— যার সঙ্গে ঐ যোদ্ধাদের আদর্শিক ভিত্তি ও শিক্ষার আদৌ কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি এখনো মিলাতে পারি না ঐ মুজাহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের থিসিস ও এন্টিথিসিসের সেই সিনথেসিসের প্রকৃতি কী এবং এর পরিধি কতদূর বিস্তৃত?

উপর্যুক্ত জটিল সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য যখন জটিল যুদ্ধে রক্তাক্ত এবং সেই যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের অবসানের পর যখন শান্তিকামী মানুষের শান্তির আশা নতুন উদীয়মান যুদ্ধ-হুমকি দ্বারা নিঃশেষিত, তখন আমরা এক বুক বেদনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী যুদ্ধের প্রাকচিত্র অঙ্কন করছি।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূল কারণ ইসরাইল, ইরান এবং সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রভুত্ব স্থাপনের প্রবল প্রতিযোগিতা থেকে উত্সারিত। এর পেছনেও পাশ্চাত্যের ভবিষ্যত্ শোষণ কৌশলের স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে আরবদেরকে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে তাদের ধ্বংস অনিবার্য করে তোলা হলো স্বল্পমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে পাশ্চাত্যের প্রভুত্ব স্থাপনের বর্তমান মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য। আর দীর্ঘ মেয়াদে ইসরাইলকে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ও স্ট্রাটেজিকভাবে শক্তিশালী করে মধ্যপ্রাচ্যে পাশ্চাত্যের বাধামুক্ত করায়ত্তকরণ ত্বরান্বিত করা।

আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, তখন ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুকে মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। কালক্রমে সেই সমস্যা এখন স্থলাভিষিক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে উদিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা। এখন মধ্যপ্রাচ্যে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপিত করা হয়েছে এক সময়কার পাশ্চাত্য কর্তৃক সৃজিত মুজাহিদদের জিহাদি কর্মকাণ্ডকে যা স্নায়ুযুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে পাশ্চাত্য লালন পালন করেছিল। আজ তাদের সৃষ্ট সেই শ্রেণিতে নবতর বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীতে পরিণত করে তা ধ্বংস করার যুদ্ধ সর্বব্যাপী বিস্তৃত করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন সেই সন্ত্রাসীদের পরাজয়ের পর এখন কেন মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার পরিবর্তে নতুন দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির কৌশল নেওয়া হচ্ছে? আমার প্রশ্নের প্রেক্ষাপট পাঠকদের জানাচ্ছি পরবর্তী যুদ্ধের বৃহত্তর ক্যানভাস অনুধাবনের সুবিধার্থে।

গত ৩ নভেম্বর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি হঠাত্ রিয়াদে উড়ে গিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার বক্তব্যে বলেন, তিনি ইরান সমর্থিত হিযবুল্লাহ ও ইরানের হুমকির মুখে পদত্যাগ করছেন। মজার ব্যাপার হলো হারিরীর পদত্যাগের এক সপ্তাহ আগে তিনি রিয়াদে এসে সৌদি সরকারকে আশ্বস্ত করেন যে ইরান এবং ইরান-সমর্থিত হিযবুল্লাহকে নিয়ে সৌদি সরকারের যে ভীতি রয়েছে তা এখন অপসৃত।

সিএনএনের সাক্ষাত্কারে আমি ইয়াসির জাবের নামক এক লেবাননী সাংসদকে বলতে শুনেছি যে, সৌদি আরবে প্রথম সফর শেষে হারিরীকে বেশ প্রফুল্ল ও আশ্বস্ত দেখাচ্ছিল। তাহলে হঠাত্ কেন তিনি পদত্যাগের নাট্যমঞ্চে হাজির হলেন? মধ্যপ্রাচ্যের গবেষকগণ হারিরীর পদত্যাগকে সৌদি আরব ও পাশ্চাত্যের নতুন পরিকল্পনার সুচিন্তিত ছক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট এন্ড গালফ মিলিটারি’ এর পরিচালক রিয়াদ খাওয়াজী বলেন, হারিরীর পদত্যাগের ফলে লেবাননের ৩০ সদস্যের জাতীয় ঐক্যের সরকার মুখ থুবড়ে পড়বে, নতুন অস্থিরতা তৈরি হবে এবং ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তির পারমাণবিক শান্তি চুক্তি বিঘ্নিত হয়ে নতুন যুদ্ধ হুমকি তৈরি হবে।

অনেকে মনে করছেন, হারিরীর পদত্যাগের মাধ্যমে লেবাননকে অস্থিতিশীল করে যুদ্ধোত্তর সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নস্যাত্ করতেই নীলনকশা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত রাষ্ট্রদ্বয়— সিরিয়া এবং লেবানন যাতে স্থিতিশীলতা অর্জন করতে না পারে সে লক্ষ্যে এ নীলনকশা হয়ত সৌদি আরব ও তার বৈশ্বিক মিত্ররা সুচিন্তিতভাবে এঁকেছেন। এ স্ট্রাটেজির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো ইসরাইলকে শক্তিশালী করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য প্রতিষ্ঠিত করা।

এ নীলনকশার প্রথম ধাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বাধানো হবে এবং সৌদি আরবকে অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল করা হবে। হারিরীর পদত্যাগের পরপর সৌদি আরবের সরকারি খবরে বলা হয়, সৌদি সেনাবাহিনী রিয়াদের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। এরপর খবর বেরোয় যে দুর্নীতির অভিযোগে প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল ও ১১ জন যুবরাজসহ অনেক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সৌদি নৌপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর ইয়েমেনের সৌদি সীমান্তে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মানসুর বিন মুকরিন নামক এক যুবরাজ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তা ছাড়া সৌদির সর্ববৃহত্ পর্যটন কোম্পানি আলতায়ার ট্রাভেলস এর প্রতিষ্ঠাতা নাসির বিন আকিল আল তায়ারকে আটক করা হয়েছে। যুবরাজ সালমান তেলনির্ভর সৌদি অর্থনীতিকে পরিবর্তন করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। ধর্মীয় উদারবাদ ও নারী স্বাধীনতা প্রভৃতি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তার গৃহীত পদক্ষেপও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, বাদশাহ এবং যুবরাজ সালমান প্রাসাদ রাজনীতি নিয়ে খুবই বিচলিত ও নিঃসঙ্গ হয়ে বহিঃশক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছেন। এমন অবস্থায় ইসরাইলকে শক্তিশালী করতে তার সঙ্গে একজোট হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাশ্চাত্য পরিকল্পনা সাজানো হতে পারে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু টুইটার বার্তায় লিখেছেন ‘হারিরীর পদত্যাগ ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান।’ স্পষ্টত ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের ও ইসরাইলের সম্ভাব্য সংঘাত এ অঞ্চলকে অশান্ত রাখবে এবং নিরন্তর যুদ্ধে ঠেলে দিবে।

n লেখক: অধ্যাপক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়





সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি