রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
সিনহার খেলা শেষ, নিজামের কি হবে?
আজ হাইকোর্টে মামলার হিয়ারিং শুরু
রেজওয়ান মাহমুদ
Published : Thursday, 9 November, 2017 at 4:30 PM, Update: 09.11.2017 4:32:13 PM

সিনহার খেলা শেষ, নিজামের কি হবে? আজ থেকে নিজামের মামলাটি মুজিবুর রহমান মিঞার একক বেঞ্চে শুরু হবে। নির্দেশনা আছে এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই বেঞ্চে অন্য কোন মামলা উঠবে না বা চলবে না। আজ এই বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করবেন এবং হিয়ারিং শুরু করবেন। বিভিন্ন তালবাহানার কারণে যখন মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মেছিল যে এই মামলায় নিজামের কিছুই হবে না ঠিক তখনি মামলাটিতে একটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে।


এই মামলায় কয়েকজন বিচারপতি অপারগতা জানিয়েছেন। এটা হাইকোর্টের ইতিহাসে অনন্য ঘটনা সব চাইতে ন্যাককারজনক ঘটনা ছিল একজন বিচারপতি রায়ের দিন ধার্যকরে রায় প্রদান শুরু করেছিলেন মাঝ পথে রায় প্রদান বন্ধ রেখে পূর্ণরায় রক্তদান সম্পর্কে অধিকতর হিয়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত দেন। এতে আইনজীবিরাসহ সকল মহল হতবাক হয়ে পড়েন। তারপর এক সময় সেই বিচারপতি এপিলিট ডিভিশনে চলে যান। এভাবে দীর্ঘ সূত্রিতার অংশ হিসেবে আদালত পরিবর্তন হয়। বিভক্ত রায়ের পরে একক বেঞ্চ গঠনের পর সিনহাবাবু ছয় মাসেরও অধিক সময় ব্যয় করেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন রকমের নাটক করে বিচারপতিদের প্রভান্নিত করে অনিশ্চতার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। আরও তিন বছর আগে আসামী পক্ষ যখন আলাউদ্দিনসহ সিঙ্গাপুরে সিনহাবাবুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তখনি তারা বলাবলি করছিল মামলা শেষ। পরবর্তীকালে এনএসআই এর বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতের দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তির টেলিফোন পেয়েছিলেন সিনহাবাবু ।

এসময় আসামী পক্ষ বার বার কলকাতায় আশা-যাওয়া করছিলেন। এর পরই সিনহাবাবু মূল নাটকটি শুরু করেছিলেন। এই রিট মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকে যা কিছু ন্যাককারজনক কার্যক্রম সিনহাবাবু করেছিলেন তা ধারাবাহিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এদিকে আসল ঘটনাটি ধামা-চাপা দেয়া ও সিনাহাবাবুর উদ্দেশ্য ছিল। সিনহাবাবু রিটেয়ার্ড করা পর্যন্ত অর্থাৎ এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত যাতে সেটি নাড়াচাড়া না হয় তিনি সে চেষ্টা করেছিলেন। আসল বিষয়টি ছিল নিজামকে সিনহাবাবু বিচারপতি থাকাকালে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জামিন দিয়েছিলন। এখন এই বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে সিনহাবাবু বড় ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়বেন সেই কারণে তিনি বিষয়টাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কোন ফোজদারি মামলায় নিম্ন আদালত থেকে সাজা হওয়ার পর হাইকোর্ট যদি সেই দণ্ড বহাল রাখে এবং পরে এপিলিয়েট ডিভিশন যদি আবারও সেই আদেশ বহাল রাখেন এমনকি রিভিউতেও যদি একই সিদ্ধান্ত হয় তা হলে ওই ব্যক্তি আর এই সাজার বিরুদ্ধে আইনত অন্যকোন আদালতে বা কোর্টে যেতে পারে না। একমাত্র পথ থাকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা।

২০০০ সালে নিজামের দশ বছর সাজা হয় এবং সকল উর্ধতন আদালত এই সাজা বহাল রাখে। হঠাৎ বিবাদি পক্ষ দশ বছরের সাজা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আসামি ২০০৬ সালে সিনহাবাবুর  আদালতে জামিনের আবেদন করে। জামিনের আবেদন করাটাই বেআইনি বা অবৈধ কিন্তু সিনহাবাবু দুই ধারার এই মামলাটি জামিন মঞ্জুর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিজাম জেল থেকে বেরিয়ে এসে একের পর এক স্তর ডিঙ্গিয়ে জোর খাঁটিয়ে ফেনীতে রাজত্ব কায়েম করে। কোন কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারে না। টাকা আর পেশী শক্তির জোরে সব কিছুকে নিজের কুক্ষিগত করে।


সর্বশেষ খালেদার গাড়ি বহরে হামলা করে নিজেই দম্ভ করে তা স্বীকার করে। তার এই স্বীকারোক্তির ভিডিও সারাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারপরও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দ্যোগ দেখা যায় না। এই ঘটনায় একটি মামলা হলেও তাকে আসামী করা হয় নাই। অন্যদিকে একরাম হত্যা মামলায় নিজামের সকল প্রধান সহযোগীদের আসামী করে কারাগারে নেয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলাই হয় নাই। এদিকে তার সাজার মেয়াদ শেষ না করেই সে অবৈধভাবে নির্বাচন করেছে। এ ব্যাপারেই মূল মামলার রিটটি করা হয়েছে। এতে সাজা না খেটে জেল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং অবৈধভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলাটির সূত্রপাত। অনেকটা মরা মামলাটি পূর্ণরায় সচল হওয়ায় এখন নিজামের কি হবে সেটাই দেখার বিষয়।
 


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি