রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
জেল হত্যা দিবসে হাজারীর ফেসবুক লাইভ ভাষণ
Published : Monday, 6 November, 2017 at 4:34 PM

জেল হত্যা দিবসে হাজারীর ফেসবুক লাইভ ভাষণস্টাফ রিপাের্টার ॥
জেল হত্যা দিবসে হাজারীর ফেসবুক লাইভ ভাষণস্টাফ রিপোর্টার॥ সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী গত এক বছরেরও অধিক সময় ধরে ফেসবুকের লাইভ অবশন থেকে ভাষণ দিয়ে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের ভাষণটি তিনি ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবসে উপস্থাপন করেন। প্রথমেই তিনি ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর যে চারজন নেতা ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নিষ্ঠুরভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল তিনি তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারপরে নিজের কিছু স্মৃতিরোমন্থন করেন। তিনি বলেন ওই দিন জেল হত্যা দিবসে তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আটক ছিলেন তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ১লা সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে ক্যান্টনমেন্টের একটি শেলে আটক রাখা হয়। পরে ১০ই অক্টোবর অর্থাৎ ১ মাস ১০দিন পর তাকে গুলশান থানার মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তার পর এক টানা চার বছর কারাগারেই ছিলেন। সেনানিবাসে বন্দি থাকা অবস্থায় কোন দিন সূর্যের আলো দেখেননি। গোসল ছাড়াই এক কাপড়ে পুরো সময়টা সেখানে থাকতে হয়েছিল। তখন বিচি-পাচড়ায় সারা শরীর ভরে  গিয়েছিল। ৩রা নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের কথা এবং ৭ই নভেম্বরের তথা কথিত ৭ই নভেম্বরের কথাও সেখানে কর্তাব্যরত মোহরীগঞ্জের একটি ছেলের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এদিকে তার পিতা তিনি মারা গেছেন মনে করে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসমূহ পালন করেন। তবে মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরীর মাধ্যমে তার চাচা সোনামিয়া হাজারী প্রথম জানতে পেরেছিলেন তিনি বেঁচে আছেন। পরে তৎকালীন ঢাকা জেলা যুবলীগ নেতা মোস্তফা মুহসীন মন্টুর মাধ্যমে ওনার সহকর্মী শাহাবদ্দীন সাবু জানতে পেরেছিল উনি বেঁচে আছেন। ৭ তারিখ সকালে মন্টু ভাইকে নিয়ে সাবুর ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার কথা ছিল। এরপরেই তিনি ফেনীর তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানান। আলাউদ্দিন নাসিম সোনাগাজীর রাস্তার জন্য সকল মানঅভিমান ভুলে ওবায়দুল কাদেরকে টেলিফোন করেছিলেন। এরপর গতমাসে রহমান বিকম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভায় ওই ব্যাংকের উন্নয়ন কল্পে তিনি যা করেছেন তার বর্ননা দেন। নির্ভয়ে হাজারীর ব্যাপারে সত্যা কথা বলায় তাকেও ধন্যবাদ দেন। এদিকে গতসপ্তাহে জেলা পরিশোধ চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ চৌধুরী ফেনীর সাংবাদিকদের সঠিক সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ভবিষৎতে প্রয়োজনীয় সংবাদসমূহ প্রকাশ করার অনুরোধ জানান। এজন্য হাজারী তাকেও ধন্যবাদ জানান। এরপর একরাম হত্যা মামলার সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন এই মামলার আসামী মিনারকে হাইকোর্ট পাঁচবার জামিন দিয়েছে, আবার চেম্বার জর্জ পাঁচবারই তা বাতিল করেছে। হাইকোর্টের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। অপর দিকে আদেল নামে স্বীকারউক্তি দেয়া নিজামের আপন মামাতো ভাই আদেল জামিন পেয়েই বিদেশে পালিয়ে গেছে। শুধু আদেলই নয় স্বীকারোক্তি দেয়া প্রতিটি আসামীর জামিন হয়ে গেছে। জামিন নিয়ে প্রতিটি আসামী বিদেশে পালিয়ে গেছে। এখন ওরা আদালতে হাজির হচ্ছে না। এদিকে তিনি বলেন আলাউদ্দিন নাসিম একরাম হত্যার পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছিল একরাম হত্যাকারীদের কিছুতেই ছাড় দেয়া হবে না। তাই তিনি নাসিমকে প্রশ্ন করেন আসল আসামীরাতো পালিয়েই গেছে। এখন কিভাবে ওদের শাস্তির আওতায় আনবে। এরপর তিনি নিজামের মামলাটির ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন মাঝে মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। আসলে এই মামলা খালাস হওয়ার মত নয়। এতে বিলম্ভ হয়েছে এবং আরো হবে। এই মামলাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এই মামলায় যতবার নাটকীয় মোড় নিয়েছে সবই সুরেন্দ্র কুমার সিনহার জন্য তবে আগামী সপ্তাহে এর কার্যক্রম শুরু হবার লক্ষণ আছে। এবার খালেদার গাড়ীবহরে হামলার প্রসঙ্গ এনে প্রথমেই জয়নাল হাজারী একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন। সেই ফুটেজে দেখা গেছে নিজাম তার ক্যাডারদের হামলার জন্য বারবার ধন্যবাদ জানান এবং পরিস্কারভাবে বলেন এই কাজটি করার জন্য আমাকে কেন্দ্রের একাধিক শীর্ষ নেতা ধন্যবাদ জানিয়েছে। সে আরও বলে আগামী মঙ্গলবার খালেদা জিয়া ফিরে যাওয়ার সময় তোমাদের নেতারা যেভাবে নির্দেশ দিবে সেই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবে। এর পরেই জয়নাল হাজারী বলেন- এই স্বীকারোক্তি থেকেই প্রমাণ হয়েছে এটা নিজাম ও তার ক্যাডারেরা করেছে। এছাড়াও প্রথম আলোসহ দেশের অনেক প্রচার মাধ্যমে হামলাকারীদের ছবিসহ পরিচয় ছাপা হয়েছে। সেজন্যে জয়নাল হাজারী বলেন- এই হামলার ব্যাপারে অবশ্যই প্রথম আসামী হবে নিজাম। তাকে আসামী করতে আর কোন প্রমাণের প্রয়োজন  নেই। তিনি বলেন খালেদা জিয়ার ফিরতি পথে বিএনপি ক্যাডারেরা ৫০০শত মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েক হাজার কর্মী তাকে নিরাপত্তা দেয়। তাকে ফেনীর সীমানা পারকরে দিয়ে বিএনপি ক্যাডারেরা মহিপালে তাণ্ডব চালায় । এই সময় তারা দুটি বাসে অগ্নিসংযোগসহ অসংখ্যা গাড়ি ভাংচুর করে। হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়। মরা বিএনপি কিভাবে জেগে উঠল এটা সবাই চিন্তা করছিল। হাজারী বলেন- বিএনপি ক্যাডারদের তাণ্ডবের সময় নিজামের ক্যাডারেরা কোথায় ছিল?  তারা দুই ঘন্টারও উপরে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের উত্তেজনার মুখে বিপুল পুলিশও অ্যাকশনে যায়নি। সাধারণ মানুষের ওপর কথায় কথায় হামলা- মামলা তাদের বাড়ি ঘরে চুরি-ডাকাতি লুট-পাট চলছে অথচ মানুষকে অসহায় রেখে ক্যাডারেরা সব পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। বিএনপির বিরুদ্ধে মামলায় আসামীদের নাম দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অন্যদিকে নিজামের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তার ভিডিও ফুটেজ আছে পত্রিকায় ছবি ছাপা হয়েছে কিন্তু এ রকম প্রমাণ থাকা সত্যেও কারও নাম দিয়ে আসামী করা হয় নাই। কাউকে গ্রেফতারও করা হয় নাই। এরূপ বৈষম্যমূলক মামলা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।  কেউ কেউ বলেছিলেন হাজারী বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমি শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। কারণ শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পক্ষে নন। কেননা সুষমা স্বরাজের কথা মোতাবেক সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষেই শেখ হাসিনা আগাচ্ছেন। খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। তাকে কোন প্রকার বাধাগ্রস্ত করা হয় নাই। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা স্বত্বেও তাকে গ্রেফতারে কোন উদ্দোগ  ছিল না।  জয়নাল হাজারী চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন- খালেদা জিয়া আমাকে যে নির্যাতন করেছে বাংলাদেশে আর কাউকে সেরকম নির্যাতন করে নাই। তিনি বলেন ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জন্যই আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছিল। এই সময়ে আমার বিরুদ্ধে দশটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে ৬০ বছর কারাদন্ডে দন্ডিত করেছিল। পরে দেশে এসে আমি সব মামলাতেই হাইকোর্ট থেকেই বেকসুর খালাস পাই। ওই সময়ে খালেদা জিয়া প্রতিটি জনসভায় সংসদের অধিবেশনসমূহে আমার নাম ধরে বক্তব্য দিতেন। এমনকি যখন ক্লিন্টন বাংলাদেশে এসেছিল তখন খালেদা জিয়া সরাসরি ক্লিন্টনের কাছে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করেছিল। তিনি বলেন জামাতের সম্মেলনে আমাকে গডফাদার উল্লেখ করে নিজামকে গুডফাদার বলেছিল। এ থেকেই প্রমাণ করে  সে ওদের সঙ্গে আগা-গোড়াই লিয়াজু করে। এর পরে একটি গল্প বলে তার বক্তব্য শেষ করেন। গল্পটি ছিল কুয়েতের আকাশে একবার টাকার বৃষ্টি হয়েছিল। তখন মানুষ বুঝতে পারছিল না আকাশে কিভাবে টাকা এলো। কেহই প্রথম দিকে কোন কুল কিনারা করতে পারে না। পরে জানা গেল- এক ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি যার কোন সন্তানাধি ছিল না এবং ওই ব্যক্তি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন সে তার বিশাল সম্পত্তি সমস্ত বিক্রি করে দিয়ে নগত টাকা নিয়ে বিশাল বিমানে উঠে কয়েক পর্যায়ে বিমান থেকে মাটির দিকে টাকাগুলো ছেড়ে দেয়। এভাবেই কুয়েতের আকাশ থেকে টাকার বৃষ্টি হয়েছিল। তাই জয়নাল হাজারী আলাউদ্দিন নাসিমকে বলেন- তুমি ৩০ হাজার কোটি টাকার মালিক। অথচ তোমার একটি মাত্র মেয়ে তোমার এই টাকা দৈনিক দশ লক্ষ টাকা খরচ করলেও তোমার জীবদশায় এই টাকার অর্ধেকও শেষ হবে না। তাই হাজারী বলেন- তুমিও কুয়েতের ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিটির মত বিমানে টাকা নিয়ে পরশুরামের আকাশ থেকে টাকা ছেড়ে দাও । পরশুরামের সমস্ত মানুষ সচ্চল হয়ে যাবে তোমার জন্য দোয়া করবে। এ কুল-ওকুল দুই কুলই পেয়ে যাবে। এই ভাষণটির সময় নেটের কারণে ভাষণটি বার বার বিঘ্নিত হয়েছে। এজন্যে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি