শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
খালেদার উপর হামলাটি কেন?
Published : Monday, 30 October, 2017 at 4:34 PM


খালেদার উপর হামলাটি কেন?জয়নাল হাজারী ॥
 যখন যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক তার একটা কারণ থাকে। অকারণে কোন কিছু স্বাভাবিকভাবে ঘটে না। শনিবারে খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে তার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে এতে বেশকিছু সাংবাদিক মারাত্মক আহত হয়েছে। এই হামলায় মূলত সাংবাদিকদের কেন টার্গেট করা হলো এটা পরিষ্কার নয়।  তিনি ফেনী সার্কেট হাউজে বিশ্রাম নিবেন এবং সেখানে দুপুরের খাবার খাবেন এমনটাই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। খালেদার জেলা নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যাপকভাবে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল কিন্তু অত্যান্ত ন্যাককারজনকভাবে সার্কিট হাউজে কাউকে আসতে দেয়া হয়নি এবং বাধা দিতে গিয়ে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়েছে। খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের অবস্থা সরেজমিনে দেখবেন এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য । এটি একটি মহৎ উদ্দেশ্য। জননেত্রী শেখ হাসিনাও তাদের দেখে এসেছেন তাহলে এই শুভ কাজে কেউ বাধা দিতে পারে কিনা এটি অবশ্যই একটি বড় প্রশ্ন? যতই ওবায়দুল কাদের বলুক, ওনারা ছবি তুলতে যাচ্ছিলেন এবং এটা আভ্যন্তরিন কোন্দল। এইসব কথা সচেতন জনগনকে খাওয়ানো যাবে না। সুষমা স্বরাজ এসে যখন পরিষ্কার বলে গেলেন আমরা সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই, ঠিক সেই মূহূর্তে এই ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা গণতন্ত্রের উপর হামলা এটা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং একটি নয় একাধিক জায়গায় হামলা হয়েছে। এই ঘটনা খালেদাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার জন্য একটি অজুহাত হিসেবে কাজ করবে। কেউ কেউ বলছেন, ঘটনা যেখানে যাই ঘটুক খালেদাকে ভোট করতেই হবে। বিষয়টি বোধ হয় পুরোপুরি ঠিক সেরকম নয়।

খালেদার উপর হামলাটি কেন?খালেদার উপর হামলাটি কেন?একদিকে খালেদাকে ভোটে আসতে বলবেন অন্যদিকে তাকে পিটাতে থাকবেন সেটি তো হতে পারে না। আসলে আসল কথা একটাই ভোট করে যারা কোন দিনই জিততে পারবে না ওই সমস্ত লোকগুলি খালেদা জিয়া ভোটে আসুক তারা মোটেই চায় না। সেই কারণে অবশ্যই বলা যায় ফেনীর ঘটনাটি খালেদা জিয়াকে ভোট থেকে দূরে রাখার একটি অপতৎপরতা। বর্তমান সরকারের তৎপরতা থেকে পরিস্কার বোঝা যায় সরকার সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোট করতে চায়। ফলে শেখ হাসিনা মোটেই ফেনীর ঘটনাকে সুদৃষ্টিতে দেখবেন না। ফেনীর বর্তমান এমপিরা কেহই ভোটে এমপি হয়নি এবং তারা জানে ভোট হলে তারা এমপি হবে না। সেই কারণেই কেন্দ্রের ইঙ্গিত ছাড়াই খালেদার উপর তারা হামলা করেছে। বারবার একই গোষ্ঠী বিনা ভোটে এমপি হবে এমনটি ফেনীবাসী কেবল চেয়ে চেয়ে দেখবে এমনটি হতে পারে না। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে জয়নাল হাজারীর আমলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ২০০০ সালে হামলা হয়েছিল। এটি একেবারেই সত্য নয়। তবে ওই সময় একটি ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু কোন ছোট খাট ঘটনাই ঘটে নাই। সে সময় জয়নাল হাজারী বলেছিল, ভাল-খারাপ যাই হোক এ ব্যাপারে নেত্রী সরাসরি নির্দেশ দেয়া ছাড়া আমি কিছুই করব না। তা ছাড়া ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত এলাকায় কেউ কিছু করবে না আমি কেন আগবাড়িয়ে দায়িত্ব নিব। তাই ইতিহাস বলে সেদিন খালেদার গাড়িবহরে কোন হামলা হয়নি। আর জয়নাল হাজারী প্রতিবারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভোট করেই নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে এবারের ফেনীর ঘটনা কোনদিকে গড়াবে তা এখনি বলার সময় না এলেও এতে দেশে বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি খুন্ন হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এদিকে বার্নিকাট বলেছেন বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার সম্ভবনা প্রবল। আসলে বলা যায় সহিংসতা শুরুই হয়ে গেছে। ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, কারা হামলা করেছে। ফলে বিএনপির অভ্যন্তরিন কোন্দল এই ধরনের হাস্যকর কথা না বলাই ভাল। যতই বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা হোক এবার তা কিছুতেই সফল হবে না এটা নিশ্চিত। কারণ গতবার বিনা ভোটে সরকার গঠন করে সরকারকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। এবার সরকার সেদিকে আর পা দিচ্ছে না। আ.লীগের ভোটে জেতার মত সকল কিছু দৃশ্যমান। সুতরাং বিনা ভোটের এমপি দিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজন নেই। খালেদার শত দোষ-ত্রুটি থাকতেই পারে কিন্তু রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া তো কোন দোষের ব্যাপার নয়। ফলে তার উপর হামলাটি কোন মহলই ভাল চোখে দেখছে না এবং এই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে সেই কারণে এই ঘৃন্য ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে সরকারে উচিত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাতে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবং বিরোধী দলে আস্থা ফিরে আসবে।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি