মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
মারণাস্ত্রের স্বাধীনতা ও রক্তাক্ত লাস ভেগাস
মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ (অব)
Published : Friday, 13 October, 2017 at 7:31 PM


মারণাস্ত্রের স্বাধীনতা ও রক্তাক্ত লাস ভেগাসক্যাসিনো সমৃদ্ধ লাস ভেগাস যুক্তরাষ্ট্রের স্ফূর্তির শহর হিসেবে মানুষের কাছে সুপরিচিত হলেও অক্টোবরের শুরুর রাতটি ছিল ভয়াবহ এবং বীভত্স। রক্ত, লাশ আর আহতদের করুণ আর্তনাদে ভরে উঠেছিল লাস ভেগাসের বাতাস। স্টিফেন প্যাডক, ৬৪ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ অবসরে থাকা হিসাবরক্ষক মান্দালয় বে রিসোর্ট এবং ক্যাসিনোর ৩২ তলার একটি কক্ষ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালো নিচে উন্মুক্ত স্থানে থাকা সুরের মূর্ছনায় আবিষ্ট নিরীহ মানুষের উপর। জনপ্রিয় শিল্পীর সংগীতানুষ্ঠানে প্রায় ২২ হাজার সংগীতপ্রেমী মানুষ জমায়েত হয়েছিল খোলা মাঠে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলি ঝাঁকে ঝাঁকে বর্ষিত হলো সংগীত সন্ধ্যায় মোহিত মানুষগুলোর উপর। প্রাথমিকভাবে অনেকেই মনে করেছিল আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে কিন্তু লাশ পড়তে শুরু করলে মানুষের ঘোর মুহূর্তেই কেটে যায়। আত্মরক্ষার জন্য ছোটাছুটি শুরু হয়। কিন্তু খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলো উপর থেকে নেমে আসা গুলি থেকে আড়াল পাবার কোনো অবকাশ ছিল না। ৫৯ জন নিরীহ মানুষ লুটিয়ে পড়লো লাশ হয়ে এবং ৫২৭ জন গুলি খেয়ে রক্তাপ্লুত হয়ে পড়ে থাকলো। প্রিয়জনকে সুরক্ষা দিতে অনেকে নিজের দেহ দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা নতুন ইতিহাস তৈরি করলো। এগিয়ে এলো পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্সের গাড়িগুলো সচল হয়ে উঠলো, হাসপাতালগুলো ভরে উঠলো আহত মানুষে। খুঁজে পেলো পাশের সুউচ্চ মান্দালয় হোটেল ভবনের ৩২ তলার একটি কক্ষের জানালা দিয়ে গুলি ছুঁড়ছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে। পুলিশ সেই কক্ষে পৌঁছে গেল, দেখতে পেলো হামলাকারীর নিথর দেহ। আত্মহত্যা করেছে নিজেই। পাশে পাওয়া গেল ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। ১৩০ কিলোমিটার দূরে মেসকাট শহরে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো আরো ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র। গাড়িতেও পাওয়া গেল গোলাবারুদ। জুয়ার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল। এক বান্ধবীও ছিল। কেবল ছিল না তার নামে কোনো অপরাধের রেকর্ড। পরিচিত ছিল ভালো মানুষ হিসাবে। কেন সে খুনের নেশায় মেতে উঠলো তা এখনও অজানা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ঘটনাকে নিখাদ পাপকর্ম বলে চিহ্নিত করলেন। হামলাকারীকে অসুস্থ ও মতিভ্রষ্ট বলে চিত্রায়িত করলেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তেমন কোনো প্রমাণ এখনও খুঁজে পায়নি। এটা নিঃসন্দেহে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল এবং প্রস্তুতির মাত্রা দেখে মনে হয়েছে তিনি আরো বড় কিছু ঘটাতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্প অস্ত্র নিয়ে পাগলামি বন্ধে কোনো উপায় খোঁজার নির্দেশনা জাতিকে দিতে সক্ষম হননি। মান্দালয় বে হোটেল বেশ প্রসিদ্ধ এবং তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যুহকে ফাঁকি দিয়ে এত অস্ত্র ও গুলি নিয়ে কেমন করে ঢুকতে সমর্থ হলো সে প্রশ্নের জবাব এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘাতক হামলার চারদিন আগে থেকে হোটেলের অতিথি হিসাবে ৩২ তলার কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তিনি বৈধভাবে অস্ত্র কিনেছেন বলে অস্ত্র বিক্রেতা জানিয়েছেন। তার পিতা বেঞ্জামিন প্যাডক ছিল ভদ্রবেশি ব্যাংক ডাকাত। এফবিআই-এর ‘ধরিয়ে দিন’ তালিকায় তার নাম প্রথম দশ জনের মধ্যে ছিল।

 যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে অস্ত্র হামলা কিছুটা নৈমিত্তিক। এলোপাতাড়ি গুলি বা গান স্যুটিং-এর ঘটনা প্রায়শ ঘটে থাকলেও লাস ভেগাসের ঘটনা ছিল আমেরিকার ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহত্। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের মতে, এ বছরের ২৭৫ দিনে লাস ভেগাসের হূদয়বিদারক ঘটনাটি ছিল ২৭৩ নম্বর গান-স্যুটিং। আমেরিকায় প্রতিদিন ঘটে গুলির ঘটনা। হামলাকারী মুসলিম হলে সাধারণত ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী দাবি করে তাদের সৈনিক হিসেবে। এবার মুসলিম না হওয়া সত্ত্বেও আইএস দাবি করলো তাদের সৈনিক লাস ভেগাসের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু আমেরিকান গোয়েন্দারা মানতে নারাজ। ট্র্যাম্প হামলাকারীকে চিত্রায়িত করলো অসুস্থ ও মতিভ্রষ্ট বলে কৌশলে দায় এড়িয়ে গেছেন।  মানসিক রোগাক্রান্ত মানুষ ও উন্মাদেরা কিভাবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বৈধ মালিক হয় সে প্রশ্নের উত্তর নিহতদের স্বজনরা খুঁজলেও মার্কিন আইনপ্রণেতারা এলোপাতাড়ি গুলি বন্ধ করার কোনো বাস্তব উপায় বের করতে এখনও সক্ষম হননি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্প অস্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমেরিকার অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় গান-স্যুটিং-এর পর অনেক সোচ্চার প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, অনেক হইচই হয়। তারপর সময়ের সাথে সব কিছু ঠান্ডা হয়ে যায় এবং শিকেয় ওঠে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার দাবি। এবারও কোনো ব্যতিক্রম আশা করা বাতুলতা। কারণ বেশিরভাগ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বিশ্বাস করেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে ‘পাপ কর্ম’ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কোনো মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় কোনো অবদান রাখবে না।

ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিক হবার অধিকার খর্ব করতে মার্কিন জনগণ এখনো প্রস্তুত নয় বলে অনেকেই মনে করেন। ব্যক্তি নিরাপত্তা ও সৌখিন শিকারের জন্য সামরিক বাহিনীর মতো উচ্চগতি ও দূরপাল্লার লম্বা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ স্বীকার না করলেও আমেরিকানরা ইজ্জতের অংশ মনে করে। উদারপন্থি শিক্ষিতদের মধ্যে নিরীহ মানুষের উপর উন্মাদ, নেশাগ্রস্ত, মতিভ্রষ্টদের হাতে নিরীহ মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার সোচ্চার দাবি থাকলেও স্বল্প শিক্ষিত গ্রামীণ জনপদের আমেরিকানরা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নয় সেটা সুস্পষ্ট। কানেক্টিকাট রাজ্যের সিনেটর ব্লু মেন্থাল অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার দাবি জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন-এখন না হলে কখন? তিনি মনে করেন মার্কিন আইন প্রণেতারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকার রাজনীতির বিভাজিত অবস্থা এবং ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের শক্ত লবির কারণে আইন প্রণেতারা আগে বাড়তে প্রত্যয়ী নয়।

আমেরিকান রাজনীতিও দ্বিধাবিভক্ত সমানভাবে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাট দল অস্ত্রের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ধারণাগত বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। রিপাবলিকান পার্টির সদস্যের মধ্যে শতকরা ৪৪ ভাগ অস্ত্রের মালিক এবং কোনোরকম অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটিক দলের শতকরা ২০ ভাগ সদস্য বা সমর্থক ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিক এবং তাদের ৮০ ভাগ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। ২০১২ সালে কানেক্টিকাটের স্কুলে ২০ জন শিশুসহ ২৭ জন মানুষ গান-শ্যুটিং-এর শিকার হলে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবির পক্ষে জনমত তৈরি হয়। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেননি কংগ্রেস ও সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাধিক্যের কারণে। রিপাবলিকানদের শতকরা ৯১ ভাগ মনে করে অস্ত্রের মালিকানা তার স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ, তার বিপরীতে মাত্র ৪৩ ভাগ ডেমোক্র্যাটের অনুভূতি অনুরূপ।  

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা অস্ত্র সহিংসতাকে বড় সমস্যা মনে করে এবং অস্ত্র বিক্রয় তদারকির জন্য ফেডারেল ডাটাবেজ তৈরি, আক্রমণাত্মক অস্ত্র ও অনেক গুলিসমৃদ্ধ ম্যাগজিন বিক্রি বন্ধের পক্ষে; অপরদিকে রিপাবলিকানরা ঠিক ততটাই বিপক্ষে। আমেরিকার গান-লবি আইনপ্রণেতাদের চেয়েও শক্তিশালী বলে সবাই মনে করেন। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) গান-লবির জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকে। আইনপ্রণেতা থেকে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত নির্বাচনের অর্থ জোগানোর ক্ষেত্রে এনআরএ বড় ভূমিকা রাখে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বলে ট্রাম্প নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করেছেন। তিনি সাড়ে পাঁচ কোটি অস্ত্র মালিকের স্বার্থ রক্ষা করারও অঙ্গীকার করেছিলেন।

২০১৬ সালের জুনে ফ্লোরিডা রাজ্যের গান-শ্যুটিং-এর ঘটনাকে নিজের পক্ষে আনার জন্য মুসলিমদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আওয়াজ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। অপরদিকে স্টিফেন প্যাডকের লাস ভেগাসের হামলাকে সন্ত্রাসের পর্যায়ভুক্ত না করে পাগলের পাগলামি বানাতে চেয়েছেন। পাগলদের হাতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পড়লে নিরীহ মানুষকে মরতে হবে বারে বারে। কোনো একক ঘটনায় চার বা ততোধিক মানুষ মারা গেলে তাকে গান- শ্যুটিং বলা হয়। ২০১৬ সালে অরল্যান্ডোতে ৫০ জন নিহত হয়, ২০০৭ সালে ভার্জিনিয়াতে মারা যায় ৩২ জন। কানেক্টিকাট রাজ্যের স্যান্ডি হুক বিদ্যালয়ের ২০১২ সালের ঘটনা ছিল সবচেয়ে মর্ম বিদারক যেখানে ২২ জন শিশুসহ ২৭ জন নিহত হয়, সান বারনারডিনোতে ২০১৫ সালে মারা যায় ১৪ জন। ১৯৮৪ সালে সান সিরদোতে ২১ জন, ১৯৮৬ সালে এডমন্ডে ১৪ জন, ১৯৯৯ সালে কলাম্বাইনে ১৩ জন  এবং ২০০৯ সালে ফোরট হুডে ১৩ জন নিহত হয়। জিহাদি হামলা এবং পাগলামি হামলা উভয় ক্ষেত্রে বৈধ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্রয়োগের ফলে এত বেশি মানুষকে মরতে হয়েছে। ২০১৭ সালে আমেরিকায় অস্ত্র সহিংসতায় ১১ হাজার ৬শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে যা টুইন টাওয়ার হামলার প্রায় চারগুণ। ব্যক্তিগত অস্ত্র মালিকানায় আমেরিকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। প্রতি ১০০ জনে ৮৮.৮টি অস্ত্র রয়েছে এবং উন্নত বিশ্বের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে খুনের সংখ্যাও সর্বোচ্চ আমেরিকাতে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মত অনুসারে বেশির ভাগ আমেরিকান মানসিক অসুস্থদের অস্ত্র ক্রয়ের বিপক্ষে এবং যাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অথবা নজরদারি তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অস্ত্র ক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং অস্ত্র বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক নিরীক্ষা করার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও কোনো আইন হয়নি। আর কত মানুষ মারা গেলে নিরীহ মানুষের সুরক্ষার জন্য নতুন উপায়ের উন্মেষ ঘটবে?

হ লেখক :স্ট্রাটেজি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল’ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্লাডস) এর নির্বাহী পরিচালক












সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি