শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
Published : Friday, 13 October, 2017 at 7:18 PM


ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যাপঞ্চগড় প্রতিনিধি ॥
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অব্যাহত ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে রহিমা আক্তার সোনিয়া নামে নবম শ্রেণির ছাত্রী রহিমা আক্তার সোনিয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি এটেন্ডেন্ট ও ওষুধ ব্যবসায়ী মনসুর আলী রাজন ও বাংলালিংকের কাষ্টমার কেয়ারের কর্মকর্তা বিকাশ এজেন্ট আতিকুর রহমান আতিক নামের দুই যুবক ইন্টারনেটে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারসহ প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানোয় গত মঙ্গলবার কোচিংয়ে যাওয়ার সময় অর্ধেক রাস্তা থেকে বাসায় ফিরে এসে ঘরের সড়ের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সোনিয়া। ওই রাতেই ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশও মামলা রেকর্ড করেননি।

তবে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলার পর বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে সোনিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। ঘটনার পর পরই ওই দুই ধর্ষক গা ঢাকা দিয়েছে। এদিকে মেধাবি স্কুল ছাত্রী সোনিয়ার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী ও উপজেলার কালারাম জোত গ্রামের পাথর শ্রমিক জাহেরুল ইসলামের কন্যা রহিমা আক্তার সোনিয়া।

প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ্য মায়ের ঔষুধ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তেতুঁলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি এটেন্ডেন্ট ও তেঁতুলিয়া বাজারের রাজন ফার্মেসির মালিক মনসুর আলী রাজন স্কুল ছাত্রী সনিয়াকে তার দোকানে ডেকে আনে। পরে ওষুধ বাসায় আছে বলে সোনিয়াকে মোটরসাইকেলে তুলে বাংলালিংকের কাষ্টমার কেয়ারের কর্মকর্তা বিকাশ এজেন্ট আতিকের তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরে বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় আতিকের স্ত্রী না থাকার সুযোগ নিয়ে ঘরের ভিতরে রাজন ও সোনিয়াকে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় াাতিক।

এভাবেই প্রথমে রাজন পরে আতিক তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই ভিডিও ফুটেজ প্রচার ও কাউকে জানালে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে গত তিন মাস থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা সোনিয়াকে ধর্ষণ করে আসছে। ঘটনাটি সহ্য করতে না পেরে গত ৯ অক্টোবর সোনিয়া ঘটনাটি তার মা ও মামাকে ফারুক হোসেনকে জানায়। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম ও মামা ফারুক ধর্ষকদের সাথে কথা বলে।

বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ায় রাজন ও আতিক মোবাইল ফোনে সোনিয়াকে ইন্টারনেটে বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারের ভয় দেখায় এবং নানা রকম হুমকি দিতে থাকে। আর অপমান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় সোনিয়া। সদা হাস্বোজ্জ্যল সোনিয়ার আত্মহত্যায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সোনিয়ার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা। দেশের সর্বোত্তরের শান্তিপুর্ন উপজেলা শহর তেঁতুলিয়ায় এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সোনিয়ার মামা ফারুক হোসেন বলেন, সোনিয়া আত্মহত্যা করার আগের দিন (৯ অক্টোবর) আমার বাসায় এসে ঘটনাটি বলতে বলতে আমার ভাগনি কান্নায় ভেঙে পড়ে। আমি তাকে সান্তনা দেই তারপরও সে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমি এই খুনি-ধর্ষক রাজন এবং আতিকের বিচার চাই।

সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম জানান, রাজন ও আতিক আমার মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। আমি মেয়ের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।

সোনিয়া বাবা জাহেরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে রাজন ও আতিকের নামে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। আসামিও ধরেনি।

তেতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, রাজন ও আতিক ব্ল্যাক মেইল করে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছে। সোনিয়া সে পথ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বার বার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে। পুলিশ এ ঘটনায় ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় প্রতিবেশি রওশনারা বেগম ১৪ বছরের শিশুকে তারা ফুসলিয়ে বিপদে ফেলেছে। আমারও মেয়ে আছে। তারা আরও কোন শিশুকে এমন করতে পারে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

তেতুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে এমন নজির বিহীন ঘটনা ঘটেনি। যারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই। মেয়েটা চলে গেছে, কিন্তু উপযুক্ত বিচার পেলে দেশে আইন আছে বিচার আছে এ শান্তনাটুকু নিয়ে বাঁচতে পারবো।

তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেস চন্দ্র জানান, সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে সংবাদ শুনে আমরা একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রেকর্ড করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে যদি কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে যথাযথভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি