সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
যে-কলঙ্ক মুছে ফেলার মতো নয়
মৃধা মোহাম্মাদ বেলাল
Published : Friday, 11 August, 2017 at 7:10 PM

যে-কলঙ্ক মুছে ফেলার মতো নয়দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এদেশের মানুষের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বাঙালি জাতির এই গৌরবময় কীর্তিগাথা ও পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের রচয়িতা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান— যিনি পাকিস্তানি হানাদারদের রক্তচক্ষুকে পরোয়া না করে, ব্যক্তিগত স্বার্থকে দূরে ঠেলে এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে ছিলেন আপসহীন-অটল-অবিচল। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস সেই মহান মানুষকে হত্যা করেই রচিত হলো এক কলঙ্কের ইতিহাস! এই কলঙ্কের দাগ এদেশের মানুষের অন্তরাত্মা থেকে কোনোদিন মুছে ফেলার মতো নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে কী নিষ্ঠুর নৃশংসভাবে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে এদেশের স্বার্থান্বেষী একটি মহল সে ইতিহাস সবারই জানা। বঙ্গবন্ধু হত্যা নিঃসন্দেহে এদেশের মুক্তিকামী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণকারী প্রতিটি মানুষের হূদয়ে রক্তাক্ত ক্ষত তৈরি করছে!

সাম্প্রদায়িকতার বলয় থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ একটি বাঙালি জাতি। কারণ বঙ্গবন্ধু তাঁর দূরদর্শিতায় বুঝতে পেরেছিলেন ধর্ম-মত নির্বিশেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত এদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু জাতির পিতার এই চেতনা-বিশ্বাসের ভিতকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা না করতেই এদেশের স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী কিছু দালাল সৃষ্টি করে ১৫ আগস্টের নির্মম কালরাতের। সদ্য জন্মলাভ করা বাংলাদেশকে একটি নেতৃত্ববিহীন রাষ্ট্র এবং জনগণকে লক্ষ্যহীন পথভ্রষ্ট করতে ঘাতকরা এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও অবৈধ ক্ষমতার লোভ তাদের অন্ধ করে ফেলেছিল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যে প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও প্রগতিশীল নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন তা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ছিল অপরিহার্য।

বঙ্গবন্ধুর ঋণ আমরা যদিও কোনোদিন শোধ করতে পারব না, তবে তাঁর লালিত স্বপ্নগুলো পূরণ করতে অবশ্যই পারব। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ যেন দুবেলা খেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, শিক্ষার অধিকার থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয়, বিনা চিকিত্সায় যেন কেউ মারা না যায়, কৃষক যেন তার সোনালি ফসলের ন্যায্য মজুরি পায়। সর্বোপরি, এদেশর সকল মানুষ যেন গণতান্ত্রিক সকল অধিকার ভোগ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করতে পারে। বঙ্গবন্ধুর সেইসব স্বপ্ন পূরণ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেছিলেন, “বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন তারা সকলেই এই দেশের নাগরিক। সকল ক্ষেত্রে তারা সমঅধিকার ভোগ করবে।” ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর এই চেতনাকে ধারণ করতে অক্ষম হয়েই নৃশংসভাবে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। বাঙালি জাতির সকল কালের সকল মানুষের হূদয়ে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব থাকবে সূর্যের ন্যায় দীপ্তিমান।

হ লেখক: শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি