রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
ফেসবুক লাইভে হাজারীর ভাষণ (৭ই আগস্ট-২০১৭)
Published : Thursday, 10 August, 2017 at 9:53 PM, Update: 10.08.2017 8:40:48 AM

ফেসবুক লাইভে হাজারীর ভাষণ (৭ই আগস্ট-২০১৭)আমি কিছুটা দুঃখিত এই জন্য যে আমার আজকে হঠাৎ ৫টার পর থেকে প্রেসারটা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে ভাষণটা দিতে পারব কিনা এটা অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ওষুধ খাওয়াতে এখন কিছু ভাল লাগছে। আপনারা জানেন এ মাসেই জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করাছিল নৃশংসভাবে। একই সময় স্থানীয় ভাবে মণিভাইসহ তাদের বাড়িতে আরও অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তবে এই মূহুর্তে খানিকটা সান্তনা আছে  যে বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল তারা অনেকেই বিচারের আওতায় এসেছে এবং খুনি যারা তারা শাস্তি পেয়েছে। এটা আমার কাছেও একটা সান্তনা। আগে যখন এদের বিচার হয় নাই তখন দুঃখ বোধই ছিল। এটার চেয়ে বোধ হয় সকল খুনিদের, সকল ক্ষেত্রের সকল পরিমণ্ডলের পিছনে শিক্ষা নেয়া উচিত। একরামকে যারা হত্যা করেছে তারাও এখন থেকে শিক্ষা নিতে পারে এই জন্যে এখন ও আসল খুনিদের ব্যাপারে মামলা হয় নাই ৩-৪ বছর হয়েছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ২০ বছর পর মামলা হয়েছে। দোষি সাব্যস্ত হয়েছে, রায় হয়েছে ,ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।  সুতরাং সকল খুনির ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য এবং একটা উদাহরণ। সুতরাং আমি মনে করি একরাম হত্যাকারীদেরও মামলা ঠিকঠাকভাবে করা হবে, বিচার হবে ,রায় কার্যকর করা হবে এবং অবশ্য সেটা অনেক আগেই হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ফেনীকে সবাই জানে শান্তির স্বর্গরাজ্য। এই শান্তির স্বর্গের রাজ্যেইতো একরাম, ধর্মপুরের করিম আমাদের বাঁলিগাঁওয়ের জয়নাল এদেরকে শেষ করেছে।
নিজ দলের নেতৃত্বে নিজেরা শেষ করেছে। এই বর্ষার মধ্যে কয়েকদিন আগে একজন হিন্দু লেবারকে হত্যা করা হয়েছে। চারিপুরে তার এক বোনসহ থাকত। এখন তার বোনটার কি হয়েছে জানি না।  তার আয়ের উপরেই তার বোনের দিন চলত।
এরপর গতকাল লালপুলে আমাদের বাঁলিগাঁওয়ের একজন হিন্দু সরকারী অফিসার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা তাকে হত্যা করা হয়েছে।  
যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এখানে বলা হয়েছে যে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। আমার কাছে এটার সেই রকম কোন আলামত মনে হয় না।  অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়বে একজন সরকারী অফিসার তারা কি দিবে আর সেগুলো খাবে । যাইহোক এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
অধ্যাপক সৌশার্দির আমাদের হাবিবুর রহমান কয়েকদিন আগে তার বাবা মারা গেছেন। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমার কাছে একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হাবিবের বাবার জানাযার সময় মুশলধারে বৃষ্টি হয়েছে। তবুও হাজার হাজার লোক, একটা লোকও সড়ে নায় এ রকম দৃশ্য কম দেখা যায়। তার জানাযায় এসেছে। সুতরাং এটা একটা ভাল লক্ষণ তিনি বুজুরগো লোক ছিলেন এবং  এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন বলেই তার জানাযায় লোক বেশি হয়েছে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষ ঠিকঠাকভাবে জানাযা নামাজ আদায় করেছে।
এখন আমাদের ছোটভাই বন্ধুর মতই ছিল এয়ার আহম্মেদ বাচ্ছু খুবই অসুস্থ। ফেনী থেকে মনে হয় ঢাকায় ইউনাইটেডে এনেছিল। বোধ হয় ইউনাইটেডওয়ালাদের খরচপাতি দেয় নাই বলে আবার ফেনীতে নিয়ে গেছে। এমনটাই আমি শুনেছিলাম । আমি তার সুস্থতা কামনা করছি।
 এখন আমি আমার ফেনী  হাজারী কলেজটা এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় ফেনী জেলায় ১ম হয়েছে। বিষণভাবে আনন্দের ও গৌরভের বিষয়। সেজন্য আমি আমার কলেজের সকল শিক্ষক ও অন্যান্য যারা আছে সহযোগী তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। কেননা আমার অনুপস্থিতিতে আমার কলেজ আমার মুখ উজ্জ্বল করবে এটা খুব একটা আশা ছিল না। মধ্যখানে আমার তো ভয়ই ছিল আমার কলেজের ছেলেদেরকে নিয়ে কেউ কোন আবার ইয়াবা টানাইতাছে কিনা। আমাদের সেন্ডিকেট নেতাই আইনগত কারণে ঢাকাতে একটা সফর করে গেল আমি খুব ভয় করেছিলাম। আমি অবশ্য তাকে ধন্যবাদ জানাবো সে আমার কলেজটাকে নিয়ে সে এমনটা করতে যায় নাই। সেই রকম ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে আমার তো ছুফিয়ান একটা আছে শয়তান। সে কোন দিকে কোনটা নিয়ে কি করে । এই জন্য সে যদি করতো ভাল হত না। সত্য কথা কখনো অস্বীকার করা উচিত নয়। এখন সাহস করে অবশ্যই সত্য সব সময় সত্য কথা বলা উচিত। এখন যেটা হচ্ছে সুফিয়ানের মা মারা গেছে কয়দিন আগে। আমি অবশ্য তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করব এবং সে যে জাতীয় অপকর্মে সঙ্গে জড়িত সেগুলো বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করব।
এখন এই হাজারী কলেজে আমি প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ টাকা কলেজ ফান্ডে রেখে এসেছিলাম। এই ফান্ডের টাকা দিয়ে কোন বিল্ডিং করতে চাইলে নাই কারণ এটা জরুরী ভিক্তিতে যে কোন কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আমি চেয়েছিলাম সরকারী অর্থেই কোন না কোন উন্নয়ন বা বেল্ডিং করা। কিন্তু নিজাম গিয়েই ওই কলেজ ফান্ডের আমার টাকাটা দিয়েই একটা  বিল্ডিং করেছে আমাদের শহীদ মিয়াকে দিয়ে। বিল্ডিংয়ে দেখাইছে বোধ হয় ৯০ লাখ টাকা খরচ। তাতো বোঝেনই বিল্ডিংয়ের অর্ধেক টাকা শেষ, মাইর। ওইটা যাইহোক এখন তো হরিলুট। এখানেও সেটা হরিলুট। এখন সে খারাপ করেছে এর মধ্যে ওই নতুন বিল্ডিংয়ে সেন্ডিকেট নেতা তার বাপের নামে করেছে। কি কারণে তার বাপ এমন  কৃতি সন্তান হল? কোন কৃতিসন্তান তো আর ছিল না। সুতরাং একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাস্তাঘাটে হলেও একটা কথা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার বাপের নাম দেয়া ১০ বছর পরে যখন কোন একটা ছাত্র কোন না কোন কারণে জিজ্ঞেস করেবে এটা কে? ইনি কে ছিলেন?  আমার মনে হয় তখন বলার আর কিছু থাকবে না। যদিও এটা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে আমাদের জহির রায়হান সাহেব, আমাদের কায়সার সাহেব, আমাদের সেলিনা পারভিন এদের নামে করলে এটা সুন্দর হত। আমাদেরও গৌরব  ওদেরও স্মৃতি হয়ে থাকত। আমার মনে হয় এদের বিষয়টা আমাদের বিবেচনায় আনা উচিত। যেকোন জায়গায় নাম ঢুকাইয়া দিলেই মনে হয় বিশাল কিছু করে ফেলেছি , আসলে না। সুতরাং এভাবে চিন্তা করা উচিত নয়। যে বিশাল তার নামে কোন স্থাপথ্য না থাকলেও সে বিশালাত্ত তার থেকে যায়। যাইহোক এখন আমার কলেজ প্রথম হইয়ে মধ্যখানে বলা হয়েছে সিন্ধুরপুরের দরগাছিয়া কলেজ ১ম হয়েছে। আসলে দরগাছিয়া কলেজ এখনও অনুদানি পায় নাই। ওদের শিক্ষকদের বেতনের বিষয়টা এখনো তারা পায় নাই। সুতরাং এখন  অন্যসব কলেজের সঙ্গে পূর্ণতার সঙ্গে একাকী করে দেখা ঠিক নয়। আর সেটাকে বাদ দিলেই আর ক্যাডেট কলেজ বাদ দিলেই হাজারী কলেজ ফাস্ট হয়েছে ফেনীবাসীর জন্য আমার জন্য এবং এই যে আমাদের ছাগলনাইয়ার কলেজ আগে ভাল রেজাল্ট করত। ওরা টাকা দিয়ে ভাল ভাল যারা তাদেরকে দিয়ে রেজাল্ট কিনত। তাদেরকে দিয়ে এতো ভাল ভাল গোল্ড পাওয়া কেন পেল না জানি না। যাই হোক এটা খুশির খবর।  আমি খুশি শত দুঃখ সত্যেও। শত রাজনৈতিক টানা পোড়ন দুঃখ বেদনার মধ্যেও আমার বিষণ আনন্দের বিষয় ।
আমি এই প্রসঙ্গে একটা প্রস্তাব করব সরকারের কাছে। এবার অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীদের ফেল দেখানো হয়েছে। এটা স্মরণকালের ইতিহাসে আছে কিনা জানি না। একেবারেই অর্ধেকেরও নিচে। বিপুল পরিমান শিক্ষার্থীদের ফেল দেখালে কি হবে। এখন অনেক কলেজে ছাত্র সংকট দেখা দিতে পারে তারা ছাত্র পাবে না। তারা ভর্তি করার জন্য মনে হয়। সেজন্য এই যে ফেল দেখানো হল এর মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চরম দুঃখবোধ থেকেই এই আত্মহত্যা পায়। এই যে আত্মহত্যার করার মত বোধ এবং অনেক ছেলে-মেয়েরই সামান্য কারণে ১টা বছর নষ্ট হচ্ছে এই জন্য আমি প্রস্তাব করছি যেই সমস্ত ছেলে-মেয়েরা এক বিষয় ফেল করেছে এবং ২০ নম্বর এর বেশি পেয়েছে তাদেরকে পাস করিয়ে দেন এবং সেটাও যদি না করতে চান তাহলে আমাদের আমলে যে রেফার ছিল সেই এক বিষয়ে রেফার পরীক্ষাটা দেয়ার সুযোগ করে দেন। আমি আল্লাহর অস্তে আমি যদিও নগন্য ব্যক্তি কিছু না তবুও আমি আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে এই দাবিটা সরকারের কাছে করছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছেও করছি, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে করছি, সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে করছি। সেজন্য আমি মনে করি আমাদের সবদিক থেকেই ভাল হবে যদি এটা করা হয়।
এবার একটু রাজনীতির দিকেই যেতে হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে কারণ সেসব দিকে না গেলে আমার শ্রোতা ভিউআরেরা গল্পগুলো শুনতে চায় না। এমনকি কোনটা শুনতে এখন খুব দম বন্ধ করে নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনবে আমি সেটাও জানি। হঠাৎ সপ্তাহখানিক থেকে সেন্ডিকেটের লোকেরা বলা বলি শুরু করেছে আমাদের সাজানো বাগানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। তাদের কি সাজানো বাগান ? তাদের কিভাবে সাজানো বাগান? সাজানো বাগানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। খালি বাগানে নিজে নিজে ঢুকার জন্য কি বাগান। যেটাকে বুঝাইতে চাইছেন, যে নমিনেশন এবার আর তারা পাইতাছেন না। নমিনেশন যদি পাইত আগে বলত নমিনেশন যাকে দিবে আমরা তাকে সমর্থন করব।  হঠাৎ করে বলা শুরু করেছে আমরা আমাদের সাজানো বাগানে নমিনেশন বুঝিনা কাউকে ঢুকতে দিব না।  এটা মুখে বলা যাবে কাজে করা যাবে না। যাবে না বলে দিলাম এটার কাজে করা যাবে না। সেই স্বপ্ন থেকে দূরে থাকার জন্য বলি, আমি বলি সেই স্বপ্ন ,স্বপ্নই থেকে যাবে বাস্তবায়িত হবে না। নমিনেশন কে পাবে আমি তা জানি না কিন্তু যে নমিনেশন পাবে আমি বলি যদি এই সেন্ডিকেটও যদি পায় সেই এমপি হবে কারণ আওয়ামী লীগ এখন সেই রকমই একটি পার্টি । বঙ্গন্ধুর সময় ভাষাণী সাহেবের সময় যেভাবে বলা হত আমি নমিনেশন দিচ্ছি তার কথায় কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না, এটা কলা গাছ, মানুষ ওই কলা গাছেই ভোট দিত। এখনও আ.লীগ মানে নৌকা  কলাগাছ। সেজন্য আমরা কিন্তু নমিনেশন দল করলে দলের শৃঙ্গলা বিশ্বাস করলে দলের নমিনেশনকে মানতে হবে। আমার মেনেছি। সেই জন্য এখন তাদের কথাই প্রামাণ করে দিচ্ছে তারা নমিনেশন পাবে না। আর নমিনেশন না পেয়ে সাজানো বাগানে কাউকে ঢুকতে দিবেন না আল্লাহর রহমাতে সেটা একদিক থেকে ভাল হবে সেই সময়ে এখন যে আমাকে ২৬ তারিখে ঢুকতে দিলেন না। সেই সময় ঢুকতে না দিয়ে পারেন কিনা জীবনের শেষ খেলা খেলবো বুঝতাছেন তো কিছু ছোট ছোট খেলার জন্য টুপি-টাপি বদলাইয়া ফালাইলাম। এখন বেশি দেড়ি নাই তো এই জন্য। লড়াই করে মরতে পারলেই তো আল্লাহর রহমাতে এটা একটা গৌরবের। সব মানুষই তো মরে আমিও মরব । কিছু মানুষ গৌরবের সাথে মরে, কিছু লোক সাধারণভাবে মরে। আমি গৌরবের মরা মরতে চাই। আমার এমনেতেই অনেক গৌরবের ইতিহাস আছে। আল্লাহর রহমাতে মরেও আরেকটা গৌরব অর্জন করতে চাই।
সুতরাং সেদিন আপনারা বলেছেন আমি যাব বলে যাইনি। এবার যদি কারও সাজানো বাগানে ঢুকতে না দেন সেদিন আমিও যাব। আমাদের লোকেরাও যাবে। সেদিন বোধ হয় আপনার খেলার জন্য আপনারা থাকবে না। ইতিমধ্যেই র‌্যাবের ঘটনার পরে র‌্যাব যখন ২-৩টাকে বিরিঞ্চিতে ১টাকে লেমুয়াতে ২টাকে ফালাইয়া দিল তার পর থেকে কিন্তু অনেকে বিদেশে চলে গেছে অনেকে ঢাকা-চিটাগাংয়ে চলে গেছে ছোট-বড় চাকরী-বাকরী নিয়ে বিচরণ করছে। সুতরাং র‌্যাবে একটাকে ক্রোশ দিতে না দিতেই ট্রাংক রোড খালি। একটা লোক দেখাই যায় না। বাডি চালান দিলেও কাউকে পাওয়া যায় না।
এখন আপনারা বোধ হয় সবাই জানেন, আমার বাপের সম্পত্তি ছাড়া আমার কোন সম্পত্তি নাই এবং আমি আমার বাপের কোটি কোটি টাকার সম্পতি বিক্রি করছি স্বাধীনেরও পরে। যেমন মক্কা শরীফ আমার বাপের সম্পত্তি আমার নামে দিছিল। আমি ২ কোটি টাকা বিক্রি করে দিয়েছি। আমি পেট্রোল বাংলায় আমার বাপের দেড় কাটা সম্পত্তি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। আমি জামাল প্লেড আছে ওদের কাছে জমি বিক্রি করেছি এখন প্রায় ২-৩ কোটি টাকা হবে। এভাবে কমলাপল্লিতে বিক্রি করেছি কি যেন নাম তার কাছে ৪০ লক্ষ টাকায়। আমি বাংলাদেশের ৩ বারের এমপি তা সত্ত্বেও আমি কোন সম্পদ করি নাই।  বরং বাপের সম্পত্তির কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছি। এই দাবি কোন ১ বারের এমপিও করতে পারবে না । সবাই কিছু না কিছু করেছে আমি করি নাই। এখন নিজাম যেখানে সেখানে ঘোষণা দেন যেয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সিসিক্যামেরা লাগাবো সারা জেলায় । সিসিক্যামেরা লাগাইতে লাগে ৩-৫ কোটি টাকা। এখন সিসিক্যামেরা লাগাবে ওই আনসারদের নাকি এইটা দিবে ২-৩ কোটি টাকা লাগবে। এইভাবে কোটি কোটি টাকার ঘোষণা প্রকল্পের দেন। তার সম্পত্তি কি কি আছে। ইদানিং সে তার বাড়ি থেকে তাদের বটগাছ থেকে ওই গাংয়ের পাড় পর্যন্ত হিন্দু মুসলমানের আমাদের ফারুক হাজারীরসহ আরও অনেকের সমস্ত সম্পতি নিয়ে নিয়েছে। কিনেছে আমি বলব। সবাই বলছে সে কিনছে তাহলে এটা তার সম্পতি। সেখানে কোটি কোটি টাকার সম্পতি। আমাদের স্মৃতিসৌধ সেখানে ২-৩ একর জমি। সে নিজে এখন গুলশানে থাকে ৫-৬ হাজার স্কোয়ার ফিট প্রায় এভাবে বোধ হয় খালি বাংলাদেশের ঢাকার শহরে তার সম্পত্তি হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার। সে যখন এমপি ছিল না তখন তার বাপের একটা জমি ছিল তাও গফুর হাজারীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। সে এসে আবার জোর করে লইয়া ফালাই ছিল। আমার গুলোও নিতে চাইছিল আমি সেভাবে নিতে দেই নাই। এর বাইরে আর কিছু না। হঠাৎ এমপি হবার আগে কিছু নাই। এখন শত শত কোটি টাকা। এখন ফ্ল্যাট,এখন এইসব। আমি বলি দুদককে। এখন তাদের দেখতে হবে তার বৈধ আয়ের উৎস কি।  নতুবা এখন এতো কিছু তার হইলো কি করে। তার যদি অন্যকিছু আয়ের উৎস থাকে ঠিক আছে সে আরও করুক। কিন্তু বাইর করার প্রশ্ন আছে। যদি বৈধ আয় না থাকে, অবৈধ আয় দিয়ে কেনার সকল সম্পত্তি অবৈধ এবং এটা মামলার আওতায় আসে।
আমি আজকে একটা বিষয় আগেই বলে রাখি, আমাদের নাসিমের একটা স্ট্যাটাসের উপরে কিছু কথা বলব। কিছুটা হাসির ব্যাপার আছে । আমাদের বাকা নদী সোজা করেছিল একরামসহ সেন্ডিকেট নেতা। এটা করতে গিয়েই আগে থেকে শুরু হয়েছিল। এটায় সে বড় ধরনের কারণ বাজেটটাও ছিল বড়। বড় ধরনের গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। এরা ঝর্না মেডিকেলে কি যেন নাম এদের দিয়ে আমাদের আছে একরাম তাকে দিয়ে বিভিন্ন লোক যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারাই বাকা নদী সোজা করেছিল। বাকা নদী সোজা করার যে খরচ ছিল এই খরচের টাকাটা বাকি বকেয়া পড়েছিল। যারা করেছে তারা ও ঝর্ণা মেডিকেলের সেও পাবে আরও আছে অনেকে। তাদেরই একজন কয়েকদিন আগে সেন্ডিকেটের কাছে গেল। সেন্ডিকেটের কাছে গিয়ে বলে। সেন্ডিকেট বলে এটা মাফ করে দেয়া যায় না। সে বলে আপনাকে মাফকরে দিলে আমি মানুষের টাকা দিমু ক্যামনে। মানুষে তো আমারে মাইরাই ফালাইবে। সেন্ডিকেট বলে যদি একান্তর মাফ করতে না পারেন তাহলে একরামের কাছে পাঠাইয়া দিমু। জ্যান্ত থাকলে লইস, এখনো দমকায়। তারা বলে তুই যদি মাফ করতেই না পারস তাহলে তোকে একরামের কাছেই পাঠাইয়া দিমু। তাহলেই বোঝেন তারা এখনো মানুষকে ধমকায়। একরামের মৃত্যু তো দেখসনো ঘটনা একরামের মতই হবে।
গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা আমার ফেনীবাসীকে আবার স্মরণ করাইয়া দিই। প্রত্যেক এমপি মানেইতো রাজনীতিবীদ। যদিও আজকালতো বড় লোকেরা শিল্পপতিরা, ইঞ্জিনিয়ারেরা ও ডাক্তাররা  এমপি হচ্ছে। যখন সে এমপি হয়ে যায় তখন সে একজন রাজনীতিবীদের খাতায় নাম লেখাইল। আমাদের এমপিও রাজনীতিবীদ। আমার ফেনীবাসীকে একটা প্রশ্ন করি, আজ যদি ৬ দফার উপরে স্বাধীনতা এসেছে। এই ৬ দফায় আমিও জেল খেটেছি। যে ৬ দফার আন্দোলনের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন শুর হয়। যেটা বঙ্গবন্ধ ঘোষণা দিয়েছিল। আপনারা চিন্ত করবে কিনা অবশ্য তাকে একবার জিজ্ঞেস করছিল জগদীশ বসু আমার প্রতি সে এত খুশি হয়ে গেল। আমি যখন এটার পক্ষানু-পক্ষুভাবে তাকে বুঝিয়ে উত্তর দিলাম। এখন বলেন তো আমাদের যে এমপি সে ৬ দফা কি বলতে পারবে, পারবে না। ১১ দফা পারবে না, লাহোর প্রস্তাব পারবে না আর এতদিনে মধ্যে তার মুখে কেউ রাজনৈতিক একটা শব্দ শুনেছেন শুধু শান্তির নহর, উন্নয়নের নহর এইসব কিন্তু কোন দিন গণতন্ত্র,সায়ত্তশাসন,স্বৈরশাসন এগুলো যেসব রাজনীতিক শব্দ আছে কেউ কোন দিন একটিও শোনে নাই। তাহলে এই রাজনীতিবীদের কি অবস্থা এখন বোঝেন। এখন মানুষ বোঝতেছে সে ৬ দফার একটি লাইনও বলতে পারবে না, লাহোর প্রস্তাবে কি ছিল, কিভাবে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ হল কিভাবে ছাত্রলীগের জন্মহল। কিভাবে মুসলিম লীগ থেকে আ.লীগ হল রাজনৈতিক কোন আলোচনা কোন দিনই করে নাই। যারা তার সঙ্গে মিটিং করছে তারা বলছেন এটা আমাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা। এটা আমাদের রাজনীতির বড় ধরনের ক্ষতিকর জিনিস।
এবার বলতেই হবে নিজামের মামলাও নমিনেশন। মামলা সম্পর্কে খবর রাখি। যদি বলি মামলার নকলও বেরিয়ে এসেছে চিপজাস্টিজের কাছে। উনি আবার আরেকটা বেঞ্চ গঠন করে সেখানে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে দুই দফায় সময় নেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওঠার কথা কোন দিন উঠবে জানি না। আমি এই মামলার ব্যাপারে একটা কথা বলি তারা মামলার রায় হোক তারা চাচ্ছে না। তারা শুধু সময় বিলম্ভিত করতে চাইছে। সময় উৎক্ষেপন করতে চাইছে বিশেষ করে এই জন্য রায়টা বেরিয়ে যাওয়ার পড়ে হাইকোর্টের সকল উকিলেরা জানেন সকল বেঞ্চর বিচারকেরা জানেন এখানে বড় জর্জ সাহেব যা লিখেছেন ছোট জর্জ সাহেব তা লিখেছেন। এখানে দেখা যায় বড় জর্জ সাহেবের সাথে ছোট জর্জ সাহেব কোন দ্বিমতই করেন নাই। আর বড় জর্জ সাহেব যা লিখেছেন অনেক অভিজ্ঞ লোক উকিলদের বলেছেন শুনেছি এই রায়ের দাড়ি,কমা ব্যসকম করার ক্ষমতা বর্তমান হাইকোর্টের কারও আছে বলে মনে হয় না।  সুতরাং এটার রায়ে কি হতে পারে তা তারা বুঝে গেছে।  সেজন্য তারা এটাকে পিছাইতে চায়। এই পর্যায়ে বড় একটা খুটি আছে। সেটা বোধহয় মাস দেড়েকের । সেটাকে তারা সহজভাবে পার করতে চাইছে আপাতত।  এরা বিভিন্ন কৌশলে বিভিন্নভাবে সীমা না থাকলেও আশা করা যায় এটা করতে পারবে না তারা। তবুও আমি যা বলি আমি কখনোই কোন কথাকে রঙ্গরঙিত করতে চাই না। মিথ্যা কথা বলে ছোটকে বড় করতে চাই না। আমি যেটা বুঝতেছি সেটা বলতেছি।
আমি দুটি কথা এ প্রসঙ্গে বলি। সে খালাস পাবে না। আজকে হোক দুই দিন পড়ে হোক খালাস পাবে না।
আরেকটা কথা হচ্ছে, এই মামলা মনে হয় ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাইয়ে নিতে পারবে না কিন্তু তার আগেই ফয়সালা হয়ে যাবে। আমরা আপনার ফেনীবাসী অনেকদিন ধরেই তো অপেক্ষা করে আছি। আর ৫-৬ টা মাস অপেক্ষা করেন। ফয়সালা এর মধ্যে হবে। এর আগে বলেছিলাম ৬ মাস লাগবে ৬ মাস লেগে গেছে। এখন বলছি ৪-৬ মাস। এটাও এরকম হবে। এর মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।  এর মধ্যেই নির্বাচন আসতেছে সেই নির্বাচনেও বিভিন্ন কারণে আমি বলছি, নিজাম নমিনেশন পাবে না। নিজাম পাচ্ছে না, আর কে পাচ্ছে সে কথা মাঝে মধ্যে মুখ থেকে বের করছে যে আমি না পাইলে আমার ভাইকে দিমু ,নইলে আমার বউকে দিমু। এখন সে যদি না পায় তার কলঙ্গ নিয়ে বাপ ভাইরাও পাবে না।  অর্থ্যাৎ টাকার পাহাড় বাইরে চলে গেল। ভাইরা কেউ বাইরে থাকে কেউ আমেরিকা থাকে । কেউ বোধহয় ফ্রান্সে থাকেন। সে যাই হোক দুটি কথা বলে দিলাম।  
তার মামলার অবস্থাও ভাল না। নমিনেশনের অবস্থাও ভাল না। রাজনীতির কোন কিছু বোঝেও না। শুধু বোঝে টাকা বানানোর কৌশল সে যেভাবে বোঝে আমি চিন্তা করে দেখলাম এই বুদ্ধিটা যদি সে রাজনৈতিকভাবে পিউরলি করত আসলেই সে আমাদের পরম নন্দিতর কাতারেই সে থাকত। মানুষ ভাল খারাপ আছে। মানুষের যোগ্যতা থাকে । সেই যোগ্যতা কেউ ভালর দিকে নেয় আবার কেউ খারাপের দিকে নেয়।  ভালর দিকে নিলে সৎভাবে ইতিহাসের পাতায় নাম থাকে। আর খারাপ দিকে নিলে ইতিহাসে কলঙ্কিত হবে। আমি চিন্তা করি আল্লাহ তাকে তো বেরেন দিছিল। এটাকে অস্বীকার করার কিছু নাই। এটা কিভাবে ডায়বেট হয়ে অন্যদিকে গেল আল্লাহই ভাল যানে। ইতিমধ্যে আবার আমার এক ছোটভাই সাংবাদিককে সে যে কথা বলছে সে সব কথা আমি বলব না আমি যদি মরে যাই তাহলে আপনারা জিজ্ঞেস করলে বোঝবেন এইসব কথা শোনার বাইরে অত্যন্ত উত্তাক্তকর। উত্তাক্তের একটা সীমা আছে সীমার বাহিরে কথা বলা । সে বলছে আমাকে হজ্বে যাবার জন্য ভাল খুবই সুন্দর কথা। আবার বলছে দরকার হলে হজ্বের টাকা আমি দেব, আল্লাহ সুবহানাল্লাহ। টাকা যদি আমার নিজেরও হয় সে  টাকা যদি বৈধ না হয় তাহলে হজ্ব হবে না তো। তার উপর অন্যের অবৈধ টাকা দিয়ে আমি যাব  হজ্বে আর যার নিজের যোগ্যতা আছে সে তো যাইতেই পারে না। হজ্ব অনেক কঠিন জিনিস। হজ্ব আপনার চতুর্দিকের লোকজন গরীব অভাব অনটনে থাকে খেতে না পায় আপনি হজ্বে গেলে আপনার হজ্ব হচ্ছে না। এমনকি আপনার কাছে যদি কারও কানাকড়ি পাওনা থাকে হজ্ব হবে না।  এই পাওনা টাকার উপরে এতই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আমাদের ধর্মে যে শহীদরা সবচাইতে সুন্দর আসন পাবে বেহেশতে। যারা ধর্ম যুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের জন্য নিহত হয় তারা শহীদ। এই শহীদরা পর্যন্ত মাফ পাবে না। যদি সে তার পাওনা পরিশোধ না করে। তাহলে বোঝেন আরেকটা কথা বলছে আমার ভাই-বোন আত্মীয় স্বজনরা নাকি আমি মারা গেলে নাকি কবর দেবে না। আমার জানাযা দিবে না। কেন করবে না  সে জানে। আমি তো এটার কারণ বুঝিনা জানি না। এটা সবাই তো জানে এটা না করলে না করলো।  বঙ্গবন্ধুরও তো জানাযাটা ঠিকমত হয় নাই। বঙ্গবন্ধুর ও তো হয় নাই ঠিকমত কবর। বঙ্গবন্ধুর যদি না হয় আমি ছোট মানুষ আমার যদি না হয় নাই। আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশের এখনো জনপ্রিয় সুবাস বসু। সুবাস ছিলেন আমাদের বঙ্গবন্ধুরও রাজনৈতিক গুরু। আমিও তাকে শ্রদ্ধা করি অর্থ্যাৎ তার অনুসারী বঙ্গবন্ধুও তার অনুসারী ছিলেন। সেই সুবাস বসুর লাশও এখনো পায় নাই কেহ। কিন্তু সমস্ত কলকাতার শহরে পশ্চিমবঙ্গে এমনকি ভারতের উড়িষ্যয় বিভিন্ন জায়গায় সুবাস বসুকে শ্রদ্ধার সাথে তার মূর্তিতে মালা লাগানো আছে কিন্তু তার লাশ আজও কেহ পায় নাই। কেউ বলে বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছে ইত্যাদি। এগুলো বলা আল্লাহই জানে আপনারা মনের ভেতরে রাখেন।
আমি দুঃখিত আজকে বোধহয় আমাকে একটু সময় দিতে হবে। কথা একটু ৫-১০ মিনিট বেড়ে যাবে। কোনটা খারাপ নয় একেবারে গুরুত্বহীন নয়। কেউ কেউ বলছিলেন ফেনীর আসনটা আবার পরিবর্তন হয়ে যাবে অর্থাৎ দাগনভূঞা ফেনী, সোনাগাজী ফেনী আগে যেমন ছিল আমার আমলে আমি বলি না আমি যোগাযোগ করেছি আমি প্রদীপের সঙ্গে কথা বলেছি সে বলেছে আমরা এটা জানি না। এখন আরেকটা কথা বলা হচ্ছিল ফেনীতে নিজাম ছাড়া আরতো কোন প্রার্থী নাই। প্রার্থী নাই কিয়া , ইকবাল সোবাহানের কি হইল আমার কি হইল আমার দলের কি হল, দরকার কি,দরকার আছে। এখন আবার একটা নতুন প্রার্থী বাহির হইছে লাভলু আমি প্রয়োজন হলে তাকে সমর্থন দেব । আমার আমলে তাকে ছাত্রলীগের ২ বার সভাপতি বানিয়েছিলাম। আমি তাকে টাকা পয়সার ব্যাপারে আলাপ করলাম সে বলেছে বাইছা আল্লাহর রহমাতে চালাইতে পারমু। আমি বলছি চালাইতে পারলে আইও। তোমার ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে তুমি তো দাবি দার, জেল খেটেছ, মামলা খাইছ, কত পলাইছ তোমার বাসায় গিয়ে আমারও পলাইছি  তোমার কোন বদনাম নাই। আজকে থেকে আমাদের ফেনী-২ জন্য নতুন একটা প্রার্থী দিলাম ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লাভলু। আমরা অনেক জায়গায় দেখি যারা একবার নমিনেশন পায় সাংগঠনিক এমপি। তাইলে তো আমার বোন খেদেজাও সাংগঠনিক এমপি। সেও একবার নমিনেশন পাইল না। খোদেজাও যদি সাংগঠনিক এমপি হয় সে তো এখনও আছে। সেও তো নমিনেশন চাইতে পারে এমন কি পাইতেও তো পারে। এই মূহুর্তে রোকেয়া প্রাচীরকে আমাদের অঞ্চলে কেউ ১০০ বছরে কেউ দেখেও নো সে এসে যদি সোনাগাজীতে মহিলা মানুষ হইয়া যাইতে পারে। সোনাগাজীতে তো ১২-১৩ টা নামছে আরও কয়টা নামে আল্লাহই ভাল জানে। আমি আগামী মিটিংয়ে আমারটা আমি কাকে সমর্থন করব হয়তো বলে দেব। কে গোরসা হবে আমি আবার বেহায়াপানা পছন্দ করি না। আমি আবার যাকে পছন্দ করি তার নাম বলেই দেব। সে নমিনেশন পাক না পাক জানি না।
এবার আমি শেষ অবশ্য নাসিমের স্ট্যাটাসের ব্যাপারে নিয়ে কিছু কথা বলব। কথা কিšুÍ অনেক বলা যায় আমি নাসিমের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না।  কারণ আমি এমনেই দুর্বল অবস্থায় আছি,খারাপ অবস্থায় আছি আবার  খারাপ করতে করতে আর বোধহয় খারাপের মন মানুসিকতা নাই। সে আবেগে বা যেমনে হোক খুব বেশি দেখি না স্ট্যাটাস তার ফেসবুকে পেইজে। মাঝে মধ্যে দেয় ২-১টা সেটা বিতর্কের সৃষ্টি করে। আমি তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসের কিছু প্রশংসাও করব। আবার কঠোর সমালোচনাও করব এই জন্য ওই ফেসবুকে কথা খুব বেশি না। কথা ক্লিয়ারকার্ড কয়েকটা । ১৯৭৭ সালে পাস করার পর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ছাত্র রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুরু করি। যদিও শিশুকাল থেকে অর্থাৎ ৬৮-৬৯ সাল থেকে মিশনে যোগ দেয়া শুরু করি। ৭০ নির্বাচন স্পষ্ঠ মনে আছে অনেক কিছু স্মৃতিতে উজ্জ্বল। জাসদ মিজান আ.লীগ রাজ্জাক, বাকশাল, গণফ্রম ইত্যাদির কার্যক্রম ও দেখেছি পাশে থেকে । জীবন বাজি রেখে তারা সহ এরশাদ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। এই যোদ্ধাকে প্রশ্ন করি, তুমি কি একটা দিনের জন্য জেলখানায় গেছ ? তুমি কি জীবনে একটা মামলা খেয়েছ? এমন রাজনৈতিক যোদ্ধা একটিও মামলা না খেয়ে , একদিনও জেলখানায় না গিয়ে এত বড় যুদ্ধ হয়ে গেল আমরা কোন দিন দেখিনি। ফেনীবাসী দেখে নাই। যাইহোক নিজে নিজে বললে তো হবে না। বঙ্গবন্ধু জেলখাটল শেখ হাসিনা জেলখাটল, আমরা জেল খাটলাম তুমি কি জাদু দিয়ে জেলও খাটলানা, মামলা ও খাইলানা। এটা তো চিন্তার বিষয়। একটা জিনিসের প্রশংসা করব আমি আগেই বলেছি। সে সাহস করে কিছু মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলছে যেটা আমরা পারি না এবং আমরা বললে বোধ হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতাম। সে মন্ত্রীদের কটাক্ক করে বলেছে এই মূহুর্তে আমার তো মনে হয় আমাদের নেত্রীর কানে ঢুকে পড়েছে। কেননা তাকে আমাদের জাতীয় বড় একটা পত্রিকায়ও ছাপাইছে এবং পূর্বপশ্চিম ওয়েবসাইডেও দেখছেলাম কালকে। এটা ছাড়াও নেত্রীর কাছে যাওয়ার কলাকৌশল জানে। সে কথাগুলো ১০০% সত্য বলেছেন। যদিও সে বলে নায় এটা যে সমস্ত লোকেরা ট্যাংকের উপরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ট্যাংক নিয়ে নাচানাচি করেছে। আর যারা বঙ্গবন্ধুর জীবনদশাতেই পল্টন ময়দানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিয়ে বলেছে বঙ্গবন্ধুর গায়ের চামড়া দিয়েই আমরা ডুকডুগি বানাব। আবার কেউ কেউ বলেছে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দিব তবে কোন ভাল রশি দিয়ে নয়, ছেড়া গামছা দিয়ে। ছেড়া গামছা দিয়ে না দিলে তো টাকা খরচ হইবে।  এভাবে বঙ্গবন্ধু বিরোধী, আ.লীগ বিরোধী , শেখ হাসিনা বিরোধী অসংখ্য ঘটনা আছে। সেগুলো সেভাবে উল্লেখ করে নাই কিন্তু যেগুলো করেছে আপাতত সেগুলো মধ্যে আমি কোন মিথ্যা দেখছি না।  সেগুলো ঠিক আছে। এখন যেটা হচ্ছে একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ যে যারা ১/১১ সময় আপার বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে আপাকে রাজনীতি থেকে বিধায় করার জন্য সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে ড. ইউনুস চৌধুরী আহ্বান করেছে ছিল। এখনো ১৬৪ ধারা তো বোঝেন আদালতে মেজিস্ট্রেটের সামনে বলা। আর মেজিস্ট্রেটের সামনে বলা মানে এটা কঠোরভাবে রেকর্ড হয়ে গেল। এটার এদিক ওদিক করা যায় না। সেক্ষেত্রে বলি আমরা এই রকম শেখ হাসিনার এই সব আছে এই টাও সত্য। এখন মেয়র হয়ে আমি ফেনীবাসীর জন্য শুধু কাজের সেজন্য আজ আ.লীগই করছে না বর্তমানে এমপি, মিনিষ্টার , মেয়র হয়ে এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ভোগবিলাস করছেন,এটা সত্য তো। এর ভিতর কোন মিথ্যা নাই। সুন্দর কথা, প্রশ্ন হচ্ছে এই যে মেয়র শব্দটি বলা হল। আমাদের যে মেয়র যেছিল টাইগার বাহিনী, যেছিল জাতীয় পার্টি, তাকে কে মেয়র বানালো। সে কি শুধু নিজামের ক্যাপাছিটিতে মেয়র হইছে।  অবশ্যই আলাউদ্দিনকে যেই হোক টাকা পয়সা নিয়ে মেয়র করা হইছে। তাহলে কি আ.লীগে কোন ত্যাগী লোকজন ছিল না। আমার কথা বাদ দিলাম তখন তো আমি ছিলামই না। তবুও আমি বলেছিলাম ওনাকে আমাদের শামিম ছিল, আকরামুজ্জামান ছিল আমাদের আরও অনেক ছিল। কেন তাদেরকে বঞ্চিত করা হল? কেন একজন আ.লীগ বিরোধী লোককে করা হল। এটার উত্তর দিতে হবে না নাসিমকে?
হঠাৎ আলাউদ্দিন নাসিম দুর্বল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে দিনকাল খারাপ যাচ্ছে নইলে এই স্বপন তার অফিসরুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি, শেখ হাসিনার ছবি , নিজামের ছবি ওবায়দুল কাদেরের ছবি এমনকি স্বপনের ছবি ওয়ালে বড় বড় করে সিরিয়াল করে রাখছে কিন্তু নাসিমের ছবিটা নাই।  এটার অর্থ নাসিমের গুরুত্ব কমে গেছে। এখন আর নাসিমকে এরা ভয় পাচ্ছে না অথবা আমাদের ওবায়দুল কাদের বলেছে যে এটা করবা না এটা করলে আমারটা থাকবে না। এরটা কিন্তু যেভাবে আছে ওয়ালে সাথে এটা ও একটা বেয়জ্জতির মত নিজামের ঘরে। এগুলোতে তারা মানে না। এই ঘটনা থেকেও বোঝা গেল যে মনে হয় যেন আলাউদ্দিন নাসিমের শক্তি-ক্ষমতা কমেছে হয়তো। অবশ্য আবার ক্ষমতা দেখাবার জন্য কোন দিকে চলে যায় জানি না। এখন একেবারে কঠোরভাবে যে ঘটনাটি ঘটল ছাত্রলীগের ৫জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা বোধ হয় তার ক্যাডার । আলাউদ্দিন নাসিমের ক্যাডার বহিষ্কার করে দিছে বোঝাই যায় তিন জন বেশি ছিল আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেবের। এই বহিষ্কারের কারণ বলা হচ্ছে আমি দেখি নাই একটা স্টাটাজকে শেয়ার করেছিল তারা । কোন শেয়ার দেয়ার জন্য কাউকে দল থেকে বহিস্কার করা যেতে পারে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না। সুতরাং আলাউদ্দিন নাসিম এই ব্যাপারে কোন কথা বলে থাকে এরকম আমার মত আমি এটার সমর্থন করি। শেয়ার দেয়া নিজের কথা নয় আরেক জনের কথা কিন্তু হয়তো বলা হচ্ছিল শেয়ার দেয়া  মানে আরেক জনের কথার সমর্থন করা। আরেক জনের কথা বলা কথার গালি দেয়া শেয়ার করাতে ভুলভ্রান্ত হয়েই যেতে পারে। শেয়ার করাকে গুরুত্ব দিল অথচ যেই এটার স্টাটাজটা দিল তাকে পাস কাটিয়ে যদি শেয়ারকারীকে শাস্তি দেয়া এটা টেডিশনাল পরিষ্কারভাবে। বিষয়টা সেটা নয়, বিষয়টা হচ্ছে  আলাউদ্দিন নাসিম কিন্ত বিশেষ করে বলছে যে আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে অনুরোধ করব বিষয়টির প্রতি স্বদয়দৃষ্টি দিতে । আলাউদ্দিন নাসিম এত নরম হয়ে ওবায়দুল কাদেরকে কথা বলবে এ রকম তো কথা ছিল না। বলা হচ্ছিল নাসিমের কাছে ওবায়দুল কাদের শিশু কিন্তু নাসিম যখন এই  ধরনের কথা বলে তখনতো মনে হয় যেন নাসিম ওবায়দুল কাদের কাছে শিশু হয়ে গেছে। শুনেছি ওবায়দুল কাদের নাসিমকে তার সেক্রেটারি হবার  পরে নিজে টেলিফোন করে দেখা করতে বলেছিল সে করে নাই। এমনকি ফেনীর মত জায়গায় আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে একজন গেলে আরেকজন যাবে না। কয়দিন আগে ওবায়দুল কাদের ঠিকই গেছে। বলেছিল যে আমি নাসিম গেলে যাব না কিন্তু নাসিমের ক্যাডারেরা এটা কিভাবে মেনে নিল হ্যা ঠিক আছে । আমাদের মতো হলে এতো দিন পর্যন্ত যে ব্যক্তি আমাদেরকে তুলল খাওয়াইল বড় করল সব কিছু করল তাকে বাদ দিয়ে আজকে যত বড় নেতাই হোক তাকে নিয়ে যাব এটা বেঈমানির শামিল। ইতিহাস বললে তো শেষ হবে না। নাসিম আমার বিরুদ্ধে কি কি ক্ষতি করেছে। তার পরও আমি বলি এরা নাসিমের সাথে বেঈমানি করেছে। একদিন আমি জেল থেকে বের হয়েছি সেদিন আমাদের তখনকার সেক্রেটারি সাহেবের বাসায় গেলাম যাই দেখি যে লিডার , নিজাম ,রহমান বিকমসহ আরও অনেক সেন্ডিকেটের যারা আছে এরা সবাই ইকবাল সোবাহানসহ বসে আছে। আমরা কয়েকজন হাসেমখানসহ ৩-৪ জন ছিলাম। আমি ঢুকলাম সেই রুমে কেউ দাঁড়িয়ে ছালাম দিল, কেউ দিল না। তখন কিন্ত আমি সবাইকে শুনিয়ে বলেছিলাম ইকবাল সোবাহানকে এই যে লোকগুলোকে আপনি আমাদের সেক্রেটারি সাহেবের কাছে নিয়ে এসেছেন। কোন একটা উদ্দেশ্যে কমিটি পাস করা বার জন্য মনে রাখবেন বলেদিলাম এই লোকেরাই আমি তাদেরকে বানাইছি, আমি তাদেরকে তুলছি , আমি তাদেরকে বড় করছি এরা আমার সাথে বেঈমানি করছে। মনে রাখুন আপনার সাথেও বেঈমানি করবে আমি বলে দিলাম। আল্লাহর কি ইসারা ইকবাল সোবাহান এই কথাটি বিভিন্ন জায়গায় এখনো বলে । আমি নিজে হাতে গড়ে রহমান বিকমকে আমি ডিসিকে ধমকাই , ডিসির রুমে গিয়ে বানাইলাম তারে সে এখন এসব করতেছে।
যাইহোক এটা মনে হয় আজকে সবিনয়-বিনয় অনুরোধ করল আমাদের ওবায়দুল কাদেরকে নাসিম কত পরিবর্তন কত আমূল। আবার কে বা কার রটাই দিছে যে নেত্রী নাকি নাসিমকে বলে দিয়েছে তুমি ফেনীর ব্যাপারে মাথা ঘামাইও না আমি জানি না তবে এটা সত্য।
যাক শেষ কথা বলি আপনারা অনেক কষ্ট করে কথা শুনছেন শেষ কথাটা  হচ্ছে আমার কোন লোভ নাই । আমার কোন চাহিদা নাই। এই জন্য আমি জীবনে যেটা পেয়েছি সেটা পৃথিবীর অনেক বড় বড় কোন নেতা পায় নাই। যেহেতু আমার জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা আন্দোলন করে আমি যখন জেলে ছিলাম ৭ দিন সংসদ বন্ধ করে দিয়েছে। সংসদ অবরোধ করে রেখেছিল । তার অবারোধের মুখে আমাদের ফেনীর নেতাদের অবারোধের মুখে এরশাদ সরকার আমাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয় আমাকে মুক্তি দেয়ার জন্য তখন ইউরোপিয় ইউনিয়ন বৃটিশ পার্লামেন্ট তাদের প্রস্তাব পাস করে আমার মুক্তি দেয়ার জন্য সেই কপি নেত্রীর কাছে পাঠিয়েছিল। নেত্রী তখন খানিকটা বীরের মত নথী আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আর কি চাই সব মানুষ মরে যাবে। এই ইতিহাস সারা পৃথিবীর বৃটিশ পার্লামেন্ট আমার মুক্তির দাবি করেছে। সংসদে পাস করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশের সংসদে আমাকে মুক্তি দেয়ার জন্য  সংসদকে অবরোধ করেছেন। সেটা হয়েছে। এই যে ইতিহাস বলার তো আমার অনেক কিছু আছে। আমি শুধু বলি এই ইতিহাসটাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইতিহাস। সেজন্য আমি শুধু বলি আমি আর কিছু চাই না। আমি যেটা চাই ফেনীতে শেষ চাওয়া আমার সেটা হচ্ছে ফেনীকে আমি জালিম মুক্ত করতে চাই।  আমার শেষ স্বপ্ন, আমার শেষ সাধনা জালিম মুক্ত করব আপনারা প্রস্তুত হন। সময় এসে গেছে অনেক কষ্ট করেছেন, অনেক ধৈর্য ধরেছেন, অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন, অনেক লুটপাটকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, আসুন আর মাত্র মাস ছয়েকের ব্যাপার আমরা লড়াই করব যুদ্ধ করব। জালিম মুক্ত করব ফেনীকে ।
তাই বলি-
বন্ধু আজকে তারুল্যমান ব্যক্তি
আমরা গঠন করব  নতুন বৃক্তি
তারই সূত্রপাত অনেকে করেছে সাধন
  সে আদি, আদিতে রক্তিম অভিবাধন
     “ জয় বাংলা”


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি