বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭
অভিন্ন নীতিমালাটির গোড়ায় গলদ
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার
Published : Monday, 17 July, 2017 at 8:19 PM

অভিন্ন নীতিমালাটির গোড়ায় গলদসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন থেকে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় একেক প্রক্রিয়ায় ও বিভিন্ন রকম যোগ্যতা-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষকদের নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রটিতে মান এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সে জন্য শিক্ষক সমাজ ও সুধী মহলের পক্ষ থেকে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য অভিন্ন নীতিমালা তৈরির দাবি উচ্চারিত হয়ে আসছিল। সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবির যৌক্তিকতা মানলেও এমন নীতিমালা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ প্রণয়নের পর শিক্ষকদের বেতন কাঠামোবিষয়ক জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে সচিবদের আলোচনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের জন্য অভিন্ন নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি কার্যকর ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লাকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটি বেশ কয়েকটি সভায় মিলিত হয়ে অভিন্ন নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে। পরে ওই খসড়া নিয়ে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এবং বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ-পদোন্নতির জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করে। এ নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ১৪৬তম সভায় ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি-পদোন্নয়ন : অভিন্ন নীতিমালা’ হিসেবে গৃহীত হয়। জানা যায়, ইউজিসি এ নীতিমালাটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মান এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে কিনা।
অনেক দেরিতে হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করতে পারায় ইউজিসিকে ধন্যবাদ দেয়া যায়। কমিটি আলোচ্য নীতিমালায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য একরকম যোগ্যতা এবং আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম যোগ্যতার উল্লেখ করেছে। একাডেমিক ডিসিপ্লিনগুলোকে চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করে একেক ক্যাটাগরির শিক্ষক হওয়ার জন্য একেক রকম যোগ্যতার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিজ্ঞান, সামাজিকবিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, বিজনেস স্টাডিজ, চারুকলা ও আইন অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোকে। ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিষয়ক অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোকে দ্বিতীয়, মেডিসিন বিষয়গুলোকে তৃতীয় এবং কৃষি বিষয়গুলোকে চতুর্থ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এসব অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোয় শিক্ষক হওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন রকম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। দেখার বিষয়, দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ অভিন্ন নীতিমালা অভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের কতটা মানোন্নয়ন ঘটাতে পারে। বিভিন্ন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক হতে চাইলে আগে যে রকম যোগ্যতা লাগত, তার চেয়ে অভিন্ন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব সুনিশ্চিত করার জন্য এদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ব্যাপারে কিছুটা কড়াকড়ি থাকা ভালো। নতুন অভিন্ন নীতিমালায় দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে যোগ্যতা চাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা চাওয়া হচ্ছে বেশি। যেমন- বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বিজ্ঞান, সামাজিকবিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ এবং আইন অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫-এর মধ্যে ন্যূনতম ৪.৫০, ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে ন্যূনতম ৩.৫০; প্রভাষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৩ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং স্বীকৃত গবেষণা জার্নালে ন্যূনতম ৩টি প্রকাশনা, যার অন্তত একটিতে আবেদনকারীকে প্রথম লেখক হতে হবে। তবে কলা ও চারুকলা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ কিছুটা কমিয়ে একটিতে ৩.৫০ এবং অন্যটিতে ন্যূনতম ৩.২৫ করা হয়েছে। আবার এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ৩ বছর থেকে কমিয়ে যথাক্রমে ২ ও ১ বছর করা হয়েছে।

কিন্তু আপগ্রেডেশনে সহকারী অধ্যাপক হতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকতার ৪ বছরের অভিজ্ঞতা, স্বীকৃত জার্নালে ন্যূনতম ৪টি প্রকাশনা, যার মধ্যে প্রভাষক হিসেবে অন্তত একটি এবং প্রথম লেখক হিসেবে কমপক্ষে একটি প্রকাশনা থাকতে হবে। আলোচ্য নীতিমালায় প্রথমবারের মতো প্রকাশনায় ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর থাকার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এ নীতিমালায় কিছু অসঙ্গতিও রয়েছে। যেমন- সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক হতে, সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক হতে, এবং গ্রেড-২ অধ্যাপক থেকে গ্রেড-১ অধ্যাপক হতে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে প্রকাশনার শর্ত আরোপিত হলেও গ্রেড-৩ অধ্যাপক থেকে গ্রেড-২ অধ্যাপক হতে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে প্রকাশনার শর্ত না থাকার কারণ বোধগম্য নয়। এভাবে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত প্রতিটি পদের জন্য সরাসরি বিজ্ঞাপন এবং আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে নিয়োগের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এ অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতি অভিন্নভাবে প্রদান করা সম্ভব হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে। তবে আলোচ্য অভিন্ন নীতিমালার প্রাথমিক বিশ্লেষণে এর গোড়ায় গলদ ধরা পড়ে। সে গলদটি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার প্রথম ধাপ প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জায়গাটিতে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কী যোগ্যতা হবে তা অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নকারীরা বিভিন্ন অনুষদের বাস্তবতা চিন্তাভাবনা করে নির্ধারণ করেছেন। সে বিষয়ে তেমন কিছু বলার নেই। তবে মেধাভিত্তিক নিয়োগ সুনিশ্চিত করতে যে প্রক্রিয়ায় প্রভাষক নিয়োগ করা হচ্ছে তা নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে। এ বিষয়টি নিয়ে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নকারীরা বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও সৃষ্টিশীল সুপারিশ দিতে পারেননি।
বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক নিয়োগ করা হয়, তাতে প্রকৃত মেধাবীদের নিয়োগলাভের সুযোগ কম। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩ থেকে ২০ লাখ টাকা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। এ বিষয়গুলো অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নকারীদের নিশ্চয়ই অজানা নয়। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একেকটি বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে ৩০-৪০ জনের মৌখিক পরীক্ষা এক দেড় ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যাকে বা যাদের নেয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত পর্দার অন্তরালে অনেক ক্ষেত্রে আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। মৌখিক পরীক্ষার প্রদর্শনীটা হয় লোক দেখানো। অনেকটা নিতে হয়, তাই নেয়া। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এন্ট্রি পয়েন্টে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নকারীদের অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ সুনিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল।
যেখানে স্কুল বা কলেজের শিক্ষক হতে হলে একাধিক পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক কেবল নামকাওয়াস্তের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নকারীরা প্রভাষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণকে বাধ্যতামূলক করতে পারতেন। পারতেন প্রেজেনটেশনের পরীক্ষা গ্রহণ এবং সবশেষে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে। তাহলে লিখিত পরীক্ষার খাতা এবং প্রেজেনটেশনের সিডিকে রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেত। কোনো সুযোগ্য প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে চাকরি না দিলে তিনি চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন। তখন তার লিখিত পরীক্ষার খাতা এবং প্রেজেনটেশনের সিডি পুনঃপরীক্ষণের ব্যবস্থা করা যেত। কেবল মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিলে এবং সে নিয়োগে অন্যায় হলে আর চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকে না। কারণ, মৌখিক পরীক্ষার কোনো রেকর্ড রাখা হয় না। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিগুলো বর্ণদলীয় পরিচয় বিবেচনায় নিয়েই গঠন করা হয়। এ কারণে প্রভাষক নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধার চেয়ে দলীয় বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পায়। তাছাড়া সিলেকশন বোর্ডের সদস্যরা চাইলে সহজেই কোনো পরীক্ষার্থীকে দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় ভালো বা খারাপ পারফরম্যান্স করতে পারেন। আবার মনে রাখা ভালো, কেবল লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই কোনো আবেদনকারী ভালো শিক্ষক হতে পারবেন এমন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। সে জন্য লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রেজেনটেশনের পরীক্ষা এবং তার রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে একটি সেফগার্ডের ভূমিকা রাখতে পারে। অভিন্ন নীতিমালায় এসব বিষয় বাধ্যতামূলক না করে প্রভাষক নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিশেষ দ্রষ্টব্যে হালকাভাবে ‘কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ প্রভাষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একটি শর্টলিস্ট তৈরি করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে’ লিখে দিয়ে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নকারীরা দায়িত্ব শেষ করেছেন। এর মাধ্যমে চলমান লোক দেখানো নামকাওয়াস্তের মৌখিক পরীক্ষার ছদ্মাবরণে দলীয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাষক নিয়োগের রাস্তা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, যে ৭ সদস্যের কমিটি আলোচ্য অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, সেই কমিটির চারজনই ইউজিসির সদস্য।
আর ইউজিসি সদস্যদের নিয়োগ হয় দলীয় বিবেচনায়। যে দল ক্ষমতায় থাকে, সে দলের গুডবুকে থাকা এবং একই আদর্শে বিশ্বাসীদেরই ইউজিসির সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়। কাজেই এরকমভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ইউজিসির সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবর্তে প্রভাষক নিয়োগে দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার পথ খোলা রেখেছেন কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখার মতো।
মূল কেটে দিয়ে গাছের ডালপালা ও শরীর সুসজ্জিত করলে ওই গাছ বাঁচানো যায় না। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের এন্ট্রি পয়েন্ট, প্রভাষক নিয়োগের পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতিতে প্রকৃত মেধা যাচাই ও পেশাদারিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে লিখিত পরীক্ষা এবং প্রেজেনটেশনের ব্যবস্থা না করে দলীয় পরিচয় বা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য আবেদনকারীদের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে সুযোগ দিয়ে পরবর্তী পর্যায়গুলোতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শত শর্ত আরোপ করলেও সুযোগ্য এবং পেশাদার শিক্ষক তৈরি করা যাবে না। তবে সমালোচনা থাকলেও ইউজিসির আলোচ্য অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করাকে ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি শিক্ষক নিয়োগে এ নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাহলে এ ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। গোড়ায় গলদ থাকলেও একটি নীতিমালা তো তৈরি হয়েছে। আলোচ্য নীতিমালায় পরবর্তী সময়ে আবারও ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের এ অভিন্ন নীতিমালাকে অধিকতর কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। সৈয়দ রেফাত সিদ্দিকী (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মোঃ যোবায়ের (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৯২২৭৮৭২৭৮।
বার্তা বিভাগ: ৮১১৯২৮০, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০২-৮১৫৭৯৩৯ ই-মেইল : news.hazarika@gmail.com, বিন : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি