বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭
ফেসবুক লাইভে হাজারীর ভাষণ (০৭-জুলাই-২০১৭)
Published : Saturday, 8 July, 2017 at 9:40 PM, Update: 08.07.2017 9:46:52 PM

ফেসবুক লাইভে হাজারীর ভাষণ (০৭-জুলাই-২০১৭)সালামু আলাইকুম। একটু যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য বিঘ্নিত হল।  সেজন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত। বন্ধুগণ এই কিছু দিন আগে আমার আপন ফুফাতো ভাই আব্দুল রফ মারা গেছেন। উনি বিগত যুদ্ধের সময় যুদ্ধ শুরুর আগখানে যখন পাক বাহিনী ফেনীতে এয়ারসেলিং করেছিল। তখন সেই সেলে আহত হয়েছিলেন। তার একটি হাত খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই আব্দুল রফ প্রায় ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছে। আমাদের পাঠক ফোরামের সাবেক সভাপতি টিপুর বাবা উনিও গত পরশু দিন ইন্তেকাল করেছেন। একেবারে নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগের ছিল। এবারের মুক্তিযোদ্ধা মানিক মুন্সির হাটের সেও দীর্ঘদিন রোগ-ভোগের পর ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন। আমি এদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ যেন এদের সকল গুনা মাফ করে দিয়ে বেহেশত নছিব করেন। আমরা অত্যন্ত দুঃখিত, ফেনীবাসী অত্যন্ত দুর্ভাগা যে আমাদের দলের লোকজনকে একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে।  আমার আমলে তার আগেও আমাদের নিজের দলের লোকেরা নিজের দলের লোককে নিশংসভাবে হত্যা করে নাই। আমি জানি না এটা কবে বন্ধ হবে ,বন্ধ হতেই হবে। এভাবে চলতে পারে না। একরামকে হত্যা করা হল, হত্যা করা হলে বালিগাঁওয়ের জয়নালকে । এখন আবার কয়দিন আগে ধর্মপুরে করিম নামে একটা ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

এই যে লাগাতার নিশংস হত্যাকাণ্ড চলছে এটা কিভাবে বন্ধ করতে হবে। এটা সকলকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে।  তা না হলে কখন কার মৃত্যু আসে বিনা কারণে, দল করার কারণে তা বোঝা যায় না। আমি এবার করিম হত্যার কঠোর নিন্দা করি। আমি প্রশাসনকে বলি এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেন।  যদি দু-একটা নাম মামলায় বারতি দিয়েও থাকে হয়তো তারা জড়িত ছিল না তাদের কথা আমরা বলি না।  আমি বুঝি নিরপেক্ষভাবে সুন্দরভাবে, সঠিকভাবে তদন্ত করে যারা ঘটনা করেছে ,ঘটনা যে করেছে সেটা দ্বীনের মত সত্য তার আঘাত সেটা প্রমান করে। আরও অন্যান্য অনেক আলামতই তা প্রমাণ করে।  কেউ না কেউ যখন হত্যা করেছে আমি হত্যাকারীদেরই  শুধু আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করার আহ্বান জানাই। এই নিন্দনীয় ঘটনাগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।  আমি সকল দলের ফেনীবাসীর সকল মানুষকে এই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করতে বলি এই সমস্যার সমাধান জানতে হবে ।

এদিকে আরজু আবার রমজান মাসে একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি করে সেটাকে বাঞ্চাল করে দেয়া হয়েছে। এরপরে আরজু বোধহয় ঈদপূর্ণমিলনী করতে চেয়েছিল সেটাও বিঘিœত হয়েছে। আমি বলি ঈদ পূর্ণমিলনীর বিষয়টা আমি গুরুত্ব দিতে চাই না। কিন্তু ইফতার পার্টি মানুষকে ইফতার করার জন্য যাওয়াত দেয়া হয়েছে অথচ মানুষ ইফতার করতে না পেরে ফেরত গেছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই ঘটনার জন্য যারা দায়ি নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তারা দায়ি হবে এবং এটা একটা ধর্মীয় আমাদের মুসলমানদের আচার এটা রোজা রমজানের সময় তারাবি, সেহরী ও ইফতার হল রোজার রহমত। এগুলো করতে কেন বাধা দেয়া হল আমি জানি না। ইতিপূর্বে আমি কখনো কোথাও পৃথিবীর ইফতার পার্টির আয়োজন করতে গেলে সেখানে ১৪৪  ধারা জারি করে সেটা করতে দেয়া হয়নি এমন আমি শুনি নাই।
এই দূর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি যারা করিয়াছে তাদের বিচার আল্লাহই করবে। আমি শুধু জনগণকে একটু অবিহিত করে গেলাম। এই ঘটনাটিতে মর্মাহত আমরা সকলে । এই ছেলেটি শুনেছি ধর্মপুরে মেম্বারের জন্য প্রার্থী হয়েছিল। কিন্তু মেম্বারের জন্য ভোট করতে সেখানে কাউকে দেয়া হয় নাই। ফেনীর স্টাইলের যে ভোটের কথা বলা হয়েছে সেভাবেই সব ভোট হয়েছে।  ফলে করিম জনপ্রিয় কি জনপ্রিয় নয় তা তো বোঝার কোন শক্তি নাই। এবার আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তিধায়ক। সেটা হচ্ছে বন্দুক যুদ্ধে রুটি সোহেল নামে একরাম হত্যার খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসামি র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এটা স্বস্তিধায়ক খবর ফেনীবাসীর জন্য। কেননা ফেনীবাসী যখন বুঝতে ছিল একরাম হত্যার বিচার, কারও কিছু হবে না।  আমি বলি এত দিন আমাদের মনে এটা নিয়ে কিছুটা দুঃসচিন্তা বা মন খারাপও ছিল এত বড় ঘটনা অথচ কোথাও কিছু হবে মনে হচ্ছে না। এখন যারা নিজেরা স্বীকার করেছে যে আমি প্রথম গুলি করেছি।  যারা সব কিছু পরিষ্কার করে গ্রেফতার হয়েছিল বিশেষ করে যারা একরাম হত্যার পরের দিনই র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। তারা পরিষ্কারভাবে ১ জন ছাড়া যার বাসায় গেছিল ওরা । তিনি ছাড়া আর সবাই তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমরা দেখলাম তাদেরও প্রায় সবাই বিশেষ করে হাই কোর্ট থেকে একে একে বেরিয়ে যাচ্ছে। জাহিদও বেরিয়ে গেছিল আরও যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত যেমন জাহাঙ্গীর আদেল বেরিয়ে গেছে এখনো বাইরেই আছে। তাও দু-একজন আমি বলি কমপক্ষে ৩ বছর তো জেল খেটেছে । এখন যেই রুটি সোহেল সব চাইতে বেশি ভূমিকা নিয়েছিল একরাম মারা যাওয়ার পরও সে একরামের পেট ছুরি দিয়ে কেটে দিয়েছিল। তার ঘাড়ের পেছনের রগটা সে কেটে দিয়েছিল। সে জামিন পেয়ে আরও অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। এমন কি সে একাডেমি অঞ্চলের মানুষদের অতিষ্ট করে ফেলছিল। যার জন্যে বন্দুক যুদ্ধে এই রুটি সোহেল নিহত হওয়ার পর সেই একাডেমি এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সব সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতারণ করেছে , সন্তুষের মিছিল হয়েছে। আমি এই জন্য র‌্যাবকে ধন্যবাদ দিব। আমি বলি তারা অবশ্যই মানুষের দোয়া সারা ফেনীবাসীর দোয়া তাদের সঙ্গে থাকবে। যারা এই ঘটনাটি করেছে।

আরেকটি রহস্যজনক ঘটনা হচ্ছে এর মৃত্যুর একদিন পরেই আমাদের সেন্ডিকেট নেতা বলতে লাগল, আমিই করাইছি এবং তার ক্যাডারেরা এই অঞ্চল থেকে ওই অঞ্চলে টেলিফোনের মাধ্যমে একে অপরকে বলতে লাগল এটা আমাদের নেতাই করেছে । কেননা নেতার বিরুদ্ধে সব ফাঁস করে দিবে নাকি সে বলেছে।  আমি বলি যদি তুমিও করাও তাহলে তো ক্যাডারদের মনে আরও ক্ষোভ জাগবে । যে আমাদের দিয়ে করাবে আবার আমাদেরকে মারাবে তাহলেতো এই নেতার সঙ্গে থাকা যায় না। এই প্রশ্নতো উঠবে। কিন্তু আসলে ওই যে বলছে আমি করাইছি। এটা বলতেছিল এই জন্য সমস্ত ক্যাডারেরা অন্যঞ্চল থেকে ঢাকা চিটাগাং চলে যাচ্ছে, গেছে। বিদেশেও পাড়ি দেয়ার জন্য তৎপর হয়ে গেছে।
পুরো ফেনী শহরে তাদের ক্যাডারদের আর দু-একদিন দেখা গেল না। এটাকে রোখার জন্য বোঝা গেল তোমাদের অসুবিধা কি আমি তো তোমাদেরকে মারার জন্য বলছি না। আমি বলেছি আসলে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা তবে এমনভাবে প্রচার করেছে যে প্রত্যক ঘরে ঘরে এ নিয়ে কথা উঠতেই যে কোন লোক গেছেল, শুনছেন সেন্ডিকেট নেতা নাকি নিজে বলেছেন আমি তো বুঝলাম এই কথাটাকে কেন ছড়ানে হয়েছে। কেন এই গুঞ্জব রটানো হয়েছে।
যাইহোক আমি বলি আমি সন্তুুষ্ট , আমি আশ্বস্ত ,অন্তত একটা ভয়ঙ্কর আসামি বেশি না হোক ১টার হলেও শাস্তি হয়েছে আল্লাহর রহমাতে।
মানুষের ধারণা হচ্ছিল যে একরাম হত্যার কিছুই হবে না। আমি বলি আল্লাহর তরফে হয়েছে। শুনছি তালিকায় আরও ৩ জনের নাম আছে । তাদেরকে ধরতে গেলে বন্দুক যুদ্ধ হতে পারে। আর তাদের অবস্থাও এই রুটি সোহেলের মতই হবে। এ রকম কিছু নাম আছে।
এখন আমি বলি কিছু কিছু অবাঞ্চিত ঘটনা আমাদের এলাকায় ঘটছে।  যেমন সেন্ডিকেট নেতা ঈদের নামাজ দেশে থাকলে মিজান ময়দানে খুব একটা পড়েন না।  এবার পড়েছে। পড়তে গিয়ে বলেছে আমি বলি ঢাকায়তো হাইকোর্টের মাজারের সামনের মাঠে বিশাল ঢাকার সবচাইতে বড় জামাত হয় । বাইতুল মোকারম এ হয়, সোলাকিয়াতে হয়, এসব জামাতে রাষ্ট্রপতি থেকে অন্যান্য মন্ত্রীরাও থাকেন। এ সব জামাতে কেউ কোনদিন কি বক্তৃতায় বলেছেন ধর্মীয় নেতারা , মাওলানা ও ইমাম সাহেবেরা বয়ান করেন ধর্মের বিষয়ে।  এর বাইরে কেউ বক্তৃতাও করেন না। তাই তেমন কোন আলোচনা হয় না।  কিন্তু আমাদের ফেনী সব উল্টে কাজ মিজান ময়দানে মানুষকে কষ্ট দিয়ে ফেনী উন্নয়নের কি কি কাজ করেছেন, তিনি কোথায় ভবিষ্যতে কি কি করবেন, তিনি এ সব বর্ণনা দিচ্ছিলেন। এ সম্পর্কে আমি বলি একে তো এটাই না জায়েজ বক্তৃতা করা । এরা আবার জানাজায় কেউ মারা গেলে ঘন্টারও অধিককাল ধরে বক্তৃতা করে। এবার আমাদের মাতকুইয়ার চেয়ারম্যান মারা গেল । সেখানেও বক্তৃতার পর বক্তৃতা । তাকে যদি প্রশংসায়ই করবেন , তার জন্য আরেকটা স্মরণ সভা কর। তার লাশটা সামনে রেখে অনাহত মিথ্যা বলি এটা কেউ করে না। আরও একটা হচ্ছে ইফতার পার্টি দিয়েও বক্তৃতা। এখানে যে প্রধানমন্ত্রী ইফতার পার্টি দেন প্রায় ৭-৮টা ইফতার পার্টি দেন কোন দিন তাকে বা তার মন্ত্রীদের কাউকে একটু কথা বলতে দেখি না।  তিনি ১৫ মিনিট আগে এসে বসে থাকেন মঞ্চে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আযান দিলে সকলের সঙ্গে ইফতার করে চলে যান ,একটু কথাও হয় না।

কিন্তু আমাদের এখানে ইফতার পার্টিতেও বক্তৃতা, কেউ মারা গেলে তার জানাজাতেও বক্তৃতা, ঈদের জামাতেও বক্তৃতা এই সমস্ত ধারা। এখন ঈদের জামাতে সত্য কথা হলেও  গ্রহণ করা যায় কিন্তু মিথ্যা কথা যখন বলে তখন তাকে কিভাবে আমরা মেনে নেব যেমন- বলা হয়েছে আমি ফেনী উন্নয়নের জন্য সোনাগাজী অঞ্চলে যে চর জেগেছে সেখানে আমি এটাকে ইকোনিমিক্স  অর্থাৎ অর্থনৈতিক জোন করার জন্য বিভিন্ন বিদেশী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে পুরো টাকা বরদ্দ করাচ্ছি। আরও অনেক কিছু। সে যদি বলতো চরটা আমিই উঠিয়েছি তাহলেও আর কি করা যেত শুনতেই হত। সে একটা লাইন ইংরেজিতে কথা বলে নাই কোন দিন, বলতে পারে না। সে এখন জাপানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কি করে কথা বলেছেন । দোভাষী কে ছিল। সেতো তাদের  সঙ্গে কথা বলার যোগ্যতাই তার নাই।  তাকে বলুন যে কোন একটা মিটিংয়ে ২টা মিনিট ও না ১টা মিনিট ইংরেজিতে কথা বলুক। বড়াই করা ঠিক নয়। আল্লাহর রহমাতে আমি ইংরেজির কাস নিয়েছি দীর্ঘদিন হাজারী কলেজে। আমি ইউরোপিয় ইউনিয়নের সামনে ১ঘন্টার উপরে বক্তৃতা করেছি তাদেরকে সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দিতে। আল্লাহ আমাদেরকে কিছু ক্ষমতা বা দক্ষতা দিয়েছেন এটা আমরা পারি। কিন্তু যে পারে না সে নামাজে দাড়িয়ে বলছে আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। যদি দোভাষী কাউকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । তাহলে দোভাষীটা কে? তার নামটা আমি জানতে চাই।
অন্যদিকে বলেছে এদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই সব প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে আলাপ করেছে এটার একটা ছবি ফেসবুকে সে পায়খানাতে যাওয়ার সময়ও দরজার খুলতেছে সে ছবি দেয় । ফেসবুকে দিনের পর দিন আর ফেনীর লোকাল পত্রিকাগুলো সেই একইভাবে তার ছবি দিতে দিতে মানুষকে অতিষ্ট করে ফেলায়। এখন আমার প্রশ্ন হল- ফেসবুকে একটা ছবি দেখলাম না। আমি কোন একটা পত্রিকায় একটা লাইন লিখেছে ওমক দিন ওমক জায়গায় জাপানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কিংবা মালায়শিয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের সেন্ডিকেট নেতা কথা বলেছে। তাহলে কিছুটা না হলে বিশ্বাস করতাম। প্রশ্ন হল এত শুভ কাজ এত সুন্দর কাজ এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেগুলোর কোন ছবিও নাই, খবরও নাই এটা হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে।  যাইহোক এখানে  এরা দেখেন সংসদ সদস্যরা সংসদে গিয়ে ভূমিকা রাখবে । তাদের মূল কাজ হচ্ছে সংসদে গিয়ে দাবি দিয়ে তা আদায় করা। যেটা আমি করেছি প্রথম ফেনী কলেজের অনার্সের ব্যবস্থা আমি করেছি। আধাঘন্টা বক্তৃতা দিয়েছি সেখানে পুরনো কলেজ বিশিষ্ট লোকেরা কারা কারা লেখাপড়া করেছে তার অবস্থান ইত্যাদি বড় করে আমি যখন আধাঘন্টা বক্তৃতা শেষ করেছি তখন ইস্পীকার আমার আজও এসব রেকর্ড আছে আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল । কিন্তু আমার নেত্রী শেখ হাসিনা তিনি বলেছিলেন তাকে আরও সময় দিতে হবে। আমাকে আরও সময় দিয়েছিল এবং বলেছি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে ওয়াদা করেছিল আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেনী কলেজে অনার্সকোর্স চালু করব। সেই থেকেই এটা চালু হয়েছে।
এখন আমি এই কলেজের ও ইয়ের ব্যাপারে আমার মনে হয় শ্রোতারা মনে হয় বুঝতে পেরেছেন। তিনি কি আলোচনা করেছেন কার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আবার আমি কয়দিন আগে বক্তৃতায় বলেছিলাম তালেব আলী ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি এটা সত্য কিন্তু এক বিবেচনায় সত্য নয়। হয়তো আমার ভুল হয়েছিল তিনি নয় খাজা আহম্মদ সাহেব প্রথম সভাপতি এই ব্যাপারে যেদিন তালেব আলী খাজা আহম্মদ সাহেবের ভোটা-ভুটি হল সেদিনও কিন্তু ওই সভাটার সভাপতি করেছেন খাজা আহম্মদ সাহেব। কিন্তু উনি আরও অনেক আগেই নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তান আমলে এবং সভাপতি ছিল কয়েক মাস স্বাধীন বাংলাদেশেও। কিন্তু যদি বলি এটা তিনি এটা করেছেন নির্বাচিত নন।  স্বাধীন বাংলাদেশে নির্বাচিত বলতে হবে এই তালেব আলীকে প্রথম সভাপতি। সৌভাগ্য আমার ধন্যবাদ দিব। তালেব আলীকে আমাদের সেন্ডিকেট নেতা এ কথার পরে দেখতে গেছেন প্রায় ১০ বছর পরে।  আবার বলেছেন তার সব চিকিৎসা খরচ তিনিই দিবেন আরও কি কি যাই হোক। তবুও আমি বলার কারণে বা যে কারণেই হোক অন্তত গেছে তালেব আলী অর্থনৈতিকভাবে কারও সাহায্য করার দরকার আছে কিনা  জানি না।
এবার আমি আলাউদ্দিন নাসিমের ব্যাপারে খুব একটা কড়াকড়িভাবে বিরুদ্ধেও বলি না । মাঝে মধ্যে দু-একটা করেও খুব কঠোর ক্ষতির সম্মুণি হয়েছেন। আজকে আমি তাকে একটি ধন্যবাদ দিব।  কেননা আজকেই সে মহা সারম্বরে বিশাল বহর নিয়ে বড় বড় সচিব গুরুত্বপূর্ণ লোকজন এনে উনি নাসিম কলেজের উদ্বোধণ করেছেন।  কলেজে যে উদ্বোধন নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য, নিশ্চয়ই প্রশংসা যোগ্য, আমিও প্রশংসা করি। আমিও ধন্যবাদ জানাই। তবে এটা এখনোই এতো ওয়ার্ড তোমার রাখা উচিত ছিল না। আমরা সৎ উদ্দেশ্যই কলেজটা হচ্ছে ভাবতাম আমি তাকে আগে-বাগে বলি এই কলেজটা চালানোর সময় শুধু নুরুননাস সেলিম ছাগলনাইয়ায় তার কলেজটা যেই স্টাইলে চালায়, যেই পরিকল্পনায় চালায় এটাকেও সেই রকম কর। রেজাল্ট ভাল হবে । প্রথমতো ওদিকে অনেক কলেজ ছাত্র পাওয়া যাবে না কিন্তু প্রথম ১ বছরে যদি রেজাল্টা ভাল হয় এভারে লাইন ধরে যাবে। ভর্তি করে সাড়া যাবে না। কারণ আমি কলেজ চালিয়েছি আমি জানি। আমি আমার কলেজকে প্রথম বছর পুরো নোয়াখালি জেলার মধ্যে সবচাইতে ভাল রেজাল্টা করেছিলাম। আজও পর্যন্ত সেই ভাবমূর্তি কলেজটির আছে। যদিও আমি চলে যাওয়ার পর অনেক বিঘিœত হয়েছে। এখানে প্রশ্ন হল যে ওখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধি এমপি তাকে এই উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে রাখা হয় নাই। এটা একটি সংকির্ণ তা। এরপরে আমাদের ওয়াবদুল কাদের উনিও কিন্তু আমাদের ফেনী জেলার তাকেও আমার মনে হয় যেকোন কারণেই হোক রাখলে ভাল হত। এটা রাখা হয় নাই। এটা আমার কাছে ভাল লাগে নাই।  সুতরাং উদ্বোধণ করতেই যেখানে একটা সংকির্ণতারভাব। সেই কলেজের অন্যান্য পরিস্থিতি কেমন হবে সেটা আমি ঠিক বুঝতে পারি না তবুও আজকে বহুদিন পর অনেক গেইট-মেইড এগুলোর দরকার ছিল না। যত কিছু ভাল Ñখারাপ বলব না। শুধু বলি কলেজটা আমাদের জেলায় ভাল কলেজ হয়তো হবে আমি সেজন্য আলাউদ্দিন নাসিমকে ধন্যবাদ জানাই।
এখন পার্টিওতো বোধহয় শেষ পার্টির মধ্যে তাল গোল পাকিয়ে ফেলেছে সমস্ত। কয়দিন আগে সেই পরশুরামের কামাল রাদেলের সঙ্গে বিরোধ করে রিজাইন দিয়েছে। সোহেলের সঙ্গে ছাগলনাইয়ার পৌর চেয়ারম্যান ফয়েজের ভাইর গন্ডগোল। এদিকে জিন্নামেম্বারের সঙ্গে ছনুয়াতে চেয়ারম্যানের গন্ডগোল । এদিকে ফাজিলপুরে আপনের সঙ্গে চেয়ারম্যানের গন্ডগোল। এভাবে প্রত্যেক জায়গাতেই একটা গন্ডগোল । তাল গোল পাকিয়ে সমস্ত দলটাকে একটা জগাখিচুরি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। সেজন্য আমার মনে হয় দলটার মধ্যে শৃঙ্খলা আনার জন্য একটা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার।

এদিকে বলা হচ্ছে নিজামদেরকে নাকি কে বা কারা সিগনাল দিয়েছে। আবার এমপি নমিনেশন দিবে।  সিগনাল দেয়ার কারও কোন ক্ষমতা নাই। কারওরই নাই একেবারেই নাই। একটা বোর্ড বসে তারা সিদ্ধান্ত করে করে নমিনেশন কে পাবে কে পাবে না।  বোর্ডের কোন কোন সদস্য প্রস্তাব করতে পারে তবে প্রস্তাব করে যে তারটাই থাকবে এটা বলা যায় না। সুতরাং এই ধরনের আপত্তিকর বক্তৃব্য দেয়া সংবিধান বিরোধী, দল বিরোধী বলে আমি মনে করি। তবে যাকে গ্রিন সিগ্নাল দেয়া হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আমি আমার শ্রোতাদের আশ্বস্ত করতে চাই। এটা কোন দিন সত্য নয়। এসব মিথ্যা প্রচার করে করেই তারা আছেন। আমি বোধহয় মধ্যখানে একটা কথা বলে ভুলে গেলাম সংসদে ভূমিকা রাখা অথচ দূর্ভাগ্য আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন হচ্ছে বাজেট অধিবেশন । এই বাজেট অধিবেশনে আমাদের ৪জন এমপির একজনও কোন বক্তৃব্য রাখে নাই কোন কথাও  বলে নাই। এটা আমাদের ফেনীবাসীর জন্য দূর্ভাগ্য। মানুষ এমপিদের কাছ থেকে যে সব আশা করে তার মধ্যে সংসদে গিয়ে ভাল মন্দ আমাদের কথা বলার জন্য করে সেটা তারা করে নাই। আমার বোধ হয় আধাঘন্টার বেশি হয়ে গেছে ।
এখন শুধু শেষ বক্তব্যটা দিয়ে শেষ করতে চাই। সেটা হচ্ছে আমি বোধ হয় আমার কয়েক মাস আগের ভাষণে বলেছিলাম যে ৬ মাস পর্যন্ত এই নিজামের মামলা যেটা সাখাওয়াত রিট করেছিল। সেটার ব্যাপারে কোন কথা তুলবেন না।  যারা এই ছয় মাস অপেক্ষা করতে পারবেন না তারা এটা নিয়ে ভাববেন না। ঠিক ছয় মাস পরে আল্লাহর রহমাতে আমার কথাই সত্যি হয়েছে। আমি এর আগে এই মামলার ব্যাপারে বলেছিলাম, এটা বোধ হয় বিভক্তি রায়ও হতে পারে হয়তো সেটাই হয়েছে। এবার বলেছিলাম ছয় মাস লাগবে আবার সে ছয় মাস পেরিয়েছে এবং কর্মকাণ্ড আল্লাহর রহমাতে শুরু হয়েছে। সে কর্মকাণ্ডের প্রথম ধাপ হচ্ছে দীর্ঘদিন পর জর্জ সাহেবেরা অর্থাৎ ছয় মাস পর দুই জাস্টিজ তাদের বক্তব্য বা রায় যেটা দিয়েছিলেন এটা চিপ জাস্টিজের কাছে জমা দিয়েছেন। চিপ জাস্টিজ এটা বিচার করার জন্য একজন হিন্দু বিচারপতি নিয়োগ করেছেন এবং বলা হচ্ছে সেটা আমি সিউর না। আগামী সপ্তাহ থেকে ওই কোর্টে এই মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। সেখানে মামলার খুব বড় ধরনের হিয়ারিংয়ের কিছু নাই। দুই জর্জ সাহেব যেটা লিখেছেন সেটার আঙ্গিকে যুক্তি অযুক্তি তারা বিশ্লেষণ করে সেখান থেকে নিয়ে তিনি রায় দিবেন। এই রায়ের পরও অবশ্য চেম্বার জর্জয়ের কাছে যাওয়া যায় । চেম্বার জর্জ আবার এটা রেগুলার বেঞ্চে পাঠাবেন চিপ জাস্টিজে যেটা রায় দিবেন সেটাই শেষ। এই প্রক্রিয়া আগামী ৩ মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা। সুতরাং যারা আবার একরাম হত্যার মত হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন কারও কিছু হবে না বলে তারাই আবার হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন নিজামের মামলার কিছু হবে না। আমি এখন হবে কি হবে না বলতে চাই না। তবে ছয় মাস পরে মামলাটি আবার শুরু হয়েছে তারা বলেছিল খারিজ হয়ে গেছে। ওরা অন্য একজনের একটি মামলা একেবারে হালকা সাধারণ মামলা খারিজ হয়েছে কয়দিন  আগে বোধহয় মাস খানেক হবে।  সেটাকে নিয়ে তারা বলতে লাগল যে খারিজ খারিজ । সাধারণ মানুষ ভাবল সাখাওয়াতের মামলা খারিজ। বরং সুখবর সকলের জন্য যে সাখাওয়াতের মামলা আগামী সপ্তাহ থেকে আবার পুরো দমে চালু হবে। আমি মন্তব্য করতে চাই না। কার কি হবে কি হবে না। নইলে আপনারা দেখবেন বেশি দিন বর্তমান প্রক্রিয়ায় এটা বেশি দিন সময় নিবে না।  বড় জোর ৩ মাস বলেই আমার ধারণা । যাই হোক আধা ঘন্টার উপর কথাবার্তা আলোচনা হয়ে গেল । সেজন্য আমি শুধু শেষবারের  মত বলছি-

হে মোর দুর্ভাগা দেশ, পদে পদে যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!

“জয় বাংলা”
জয় বঙ্গবন্ধু






সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। সৈয়দ রেফাত সিদ্দিকী (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মোঃ যোবায়ের (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৯২২৭৮৭২৭৮।
বার্তা বিভাগ: ৮১১৯২৮০, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০২-৮১৫৭৯৩৯ ই-মেইল : news.hazarika@gmail.com, বিন : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি