মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
ফেসবুক লাইভে হাজারীর ভাষণ (০৭-জুন-২০১৭)
Published : Monday, 12 June, 2017 at 5:13 PM

ফেসবুক লাইভে হাজারীর ভাষণ (০৭-জুন-২০১৭)সালামু আলাইকুম। রমজানের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সবাইকে। আজ ঐতিহাসিক ৭ই জুন। ছয় দফা দিবস। এদিনে আমি ভাষণ দেয়াটাকে ৭ই জুন সিদ্ধান্ত করেছি এই জন্য যে একটা ঐতিহাসিক দিন। এই ঐতিহাসিক দিনে হালকা পাতলাভাবে টুকটাক ঐতিহাসিক বিষয়গুলো উল্লেখ করব। ৭ই জুন আমার মতে ওইটিই ছিল মুক্তির সনদ ওইটিই ছিল স্বাধীনতার সনদ,ওইটাই ছিল আমাদের স্বাধীকার আন্দোলনের সূত্রপাত। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ৭ই জুন হরতালের দিন ছিল এইদিন মনুমিঞাসহ কয়জন শ্রমিক নেতা নিহত হয়েছিল। ৭ই জুনের যেইসব দাবি ছিল সেই দাবিগুলোই পূর্ব পাকিস্তান-পশ্চিম পাকিস্তানকে আলাদা করার দাবি ছিল। সেই জন্যই ৭ই জুনকে আমি মনে করি আমাদের স্বাধীনতার সূত্রপাত। এটার অনেক ইতিহাস আছে বঙ্গবন্ধু এটাকে লাহরের গোলটেবিলের বৈঠকে উপস্থাপন করেছিলেন সেখানে আইয়ূব খান আবার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই ৬ দফার কথা যারা বলবে আমরা তাদের সাথে মুখে কথা বলব না। অস্ত্রের ভাষায় কথা হবে। বঙ্গবন্ধু সেই লাহরের গোলটেবিলে কথা টেকাতে পারেনি ফলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরে এসে প্রথমে চট্টগ্রামে এসে ৬ দফা জনগণের সামনে পেশ করেন। জনগণকে এই ৬ দফা বাস্তাবায়নের জন্য কাজ করার চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়েছেন। আমার ব্যক্তিগতভাবেও এই দিনটা একটি ঐতিহাসিক দিন এই জন্য সেদিন আমি দোস্তাস্টাইল মিলের সামনে গিয়ে  চেষ্টা করছিলাম মিলের সে দিন হরতালের আহ্বান করা হয়েছিল। মিলের শ্রমিকদের বের করে আনব।  সেখানে গিয়ে সবেমাত্র মাইকে আহ্বান করছিলাম কেবলমাত্র শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার জন্য ঠিক সে সময়ই পুলিশ এসে প্রথমে আমাকে গ্রেফতার করে পরে আমার এক বন্ধু লুতুকে গ্রেফতার করে। সে কোর্টে চাকরি করত তার বাড়ি বাঁলিগাও ইউনিয়নে। অবশ্য সে দিন রাত্রেই ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলাম। সেদিন আমাকে একটু পরে ছেড়ে ছিল। যাই হোক মোটকথা আমার দৃষ্টিতে এই ৬ দফা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিবস।

এবার কয়েকদিন আগে মাত্র ইন্তিকাল করেছে আমার দুইজন আন্তরিক লোককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। একজন হচ্ছে বদির চেয়ারম্যান। বদির চেয়ারম্যান কর্মঠ লোক ছিলেন। আমি বদির চেয়ারম্যানকে মনে রাখব এই জন্য সে আমাকে  লক্ষণপুরকে ছালমনগর করার ব্যাপারে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা  করেছিল। এটা করার ব্যাপারে বেশ কিছু জটিলতা আছে। সেগুলো পুরোপুরি সব কিছু আমি কিছু বুঝতামও না। এই বদির চেয়ারম্যান বিভিন্ন অভিযোগ ছিল সেটাকে বাস্তবায়ন করেছে। সেজন্য আমি তাকে কোন দিন ভুলব না। আরেকজন হচ্ছে ফয়জুর রহমান।  তিনি এক সময় আমাদের ফেনীর দাগনভূঞার টিএনও ছিলেন। পরবর্তীকালে আমি তাকে পেলাম তাকে কুমিল্লায় । আমাকে ২০০৯ সালে যখন গ্রেফতার করে ফেনী থেকে কুমিল্লায় পাঠায় আমার ওয়ার্ডে গিয়ে যখন পৌঁছলাম। ঠিক তার দুই মিনিটের মধ্যেই দেখি ফয়জুর রহমান বিশাল এক বাহিনী নিয়ে বাহিনী বলতে ডিআইজিরা যখন জেল খান পরিদর্শনে যায় তখন তাদের সাথে একটা বহর থাকে। এই ফয়জুর রহমান অনির্ধারিতভাবে জেলখানার ভেতরে ঢুকে আমার কাছে গেল। আমার কাছে গিয়েই পুরো বহর ও সকলের সামনে আমার পা ধরে ছালাম করলেন।  আমি নিজেও হতবাক অন্যরাও হতবাক। একজন আসামিকে পায়ে ধরে ছালাম করা সে এতই আন্তরিক ছিল যে ফেনী জেলখানায় ও আমার কদর বেড়ে গেল এরপর উনি র‌্যাবের চাকরি করে র‌্যাবের অফিসার ওনার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিল সেদিন বোধ হয় আমরা ফেনীর শুধু ২-৩ ছিলাম । আমার যেতে একটু দেড়ি হয়েছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি না পৌঁছলাম উনি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল পরবর্তীকালে আমি যখন পৌঁছলাম সবাইকে খাবারের অনুমতি দিল। এই রকম একজন আন্তরিক লোক আমাদের রামপুরের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় ওনার পরিবারের আরো ২-১ জনসহ মৃত্যুবরণ করেছে। আল্লাহ ওনাকে বেহেশত নসিব করুক। আমি ওকে সৎ পিতা হিসেবে দেখেছি ভাল পিতা হিসেবে দেখেছি।

এখন আমি গত মাসে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যেতে হল প্রায় সপ্তাহ খানেক পরে হাসপাতাল থেকে মুক্ত হয়েছি। এখন ও শারীরিকভাবে দুর্ভলতা রয়েই গেল। কারণ ওই দুর্ভলতার মধ্যেই আমি আবার একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম সেজন্য আমি আমার আব্বা-আম্মার কবর জিয়ারত করার সিদ্ধান্ত নিলাম। বেশি টেনশনের মধ্যে আব্বা-আম্মার কবর জিয়ারত করে ঢাকায় ফিরে এসে ছিলাম। সেজন্য আবার খানিকটা অসুস্থ হয়ে পড়লাম লম্বা জার্নি,শরীর দুর্বল। এজন্য আমি এখনও বুঝতে পারছিনা এটা কখন স্বাভাবিক হবে।  পত্রিকায় দেখেছি ১ মাস দেড় মাস পরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত মানুষ স্বাভাকিবক হয়। যাই হোক এই রোজা-রমজানের দিনে প্রতিমাসে একটা ভাষণ দিব একটা ঘোষণা ছিল। সেই ঘোষণার কারণে এই ভাষণ দিতে হচ্ছে। না হলে আমি রোজার মাসে যখন দেশে ছিলাম,ক্ষমতায় ছিলাম কোন দিন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতাম না।

এখন গত মাসের মাঝামাঝি সময় আমাদের সেন্ডিকেট নেতা এক কর্মী সভায় ঘোষণা করেছিল আপনাদের জন্য একটা সু খবর। সুখবরটা হচ্ছে ইকবাল সোবাহানের চাকরি বা উপদেষ্টা গিরি দু-এক দিনের মধ্যেই চলে যাবে। আরেকটা হচ্ছে হাজী রহীমকে আওয়ামীলীগ গ্রহণ করবে না। কিন্তু ইকবাল সোবাহানের চাকরী যাওয়ার কোন লক্ষণ তো নাই বরং যদি মন্ত্রীসভার রদবদল হয় আমি বরং শুনছিলাম তাকে তত্ত্বমন্ত্রী করা হবে। এটা হলে তো তার আরও প্রমশন হবে। অনাহত কর্মীদের চঙ্গা করার জন্য কিছু দিন চালানো যায় পরবর্তীকালে সেগুলো আর টিকবে না । সেজন্য আমি বলছি এটা তাদের বন্ধ করা উচিত। বার বার বলছে ওবায়দুল কাদের আসবে এটা হবে , সেটা হবে ,আসলে কিছুই হচ্ছে না। এখন এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেকোন এক লোক তার নামটা আমি নিতে চাই না। নিজামের বিরুদ্ধে নাকি মামলা করেছে। মামলাটি কোর্ট আমলে নেয়নি। তখন শুরু হলো প্রচার করা নিজামের মামলা খারিজ হয়েছে।  নিজামের মামলা খারিজ কি মামলা , কি ধরনের মামলা , কোন কিছু না , ফেসবুকেও খানিকটা লোকাল পত্র-পত্রিকায়ও নিজামের মামলা খারিজ । হয়তো খারিজ । কিন্তু সাংবাদিক বন্ধুদের প্রশ্ন করি আপনারা হয়তো কেউ কেউ লিখেছেন এই মামলাকারী হাজারিকা পত্রিকার সাংবাদিক । আমি এটার গুরুত্বর প্রতিবাদ করছি। আমি বলছি  সেই লোকের হাজারিকার সঙ্গে কোন ভাবেই সম্পর্ক নয়, কোন ভাবেই জড়িত নয়। হাজারিকা পত্রিকার সঙ্গে তার যদি কোন যোগাযোগ হয় তার জন্য হাজারিকা পত্রিকা কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা উচিত ছিল। আপনাদের জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল তিনি হাজারিকা পত্রিকার কি পদে আছেন, কি দায়িত্ব পালন করেন তা হলেই তো পরিষ্কার হয়ে যেত। আমার ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক বন্ধুরা জানে যে ব্যক্তি মামলা করেছে তার সঙ্গে হাজারিকার কোন ভাবেই সম্পৃক্ততা নাই। তাতে এত স্টাটাজ এত পত্রিকায়  মামাল খারিজ তারা মনে করেছে এ দেশের সাধারন মানুষ খারিজ বলতে বুঝবে সাখাওয়াতের মামলা । কিন্তু এই খারিজ সেই খারিজ নয়। সাখাওয়াতের মামলা খারিজতো হয়ই নায়। বরং ঈদের পরপরই সাখাওয়াতের মামলা আবার শুরু হবে এ রকম তথ্য আমার কাছে আছে। তখন যদি খারিজ হয় তখন যত ইচ্ছা যত গুরুত্ব দিয়ে লেখেন বলেন সমস্যা নাই। কিন্তু এক দিকে একটা মিথ্যা যে হাজারিকার কিছু না বলে দিয়েছে হাজারিকার সাংবাদিক। এগুলো নিন্দোনীয় এখন আমাদের দুঃসময় দেখে সব কিছু বিনা কারণে । আমি ২৬শে মার্চ যাব কোথাও বলি নাই। কিন্তু ২৬ শে মার্চের পরে সাংবাদিকরা বলে দিল ঘোষণা দিয়েও আসবার কথা বলে আসে নাই। এগুলো আমার মনে  হয় অকারণে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া আমার মনে হয় ভাল নয়। আমি ও যুগান্তরের সাংবাদিক যতনসহ আরও ৪ জনকে নিয়ে আব্দুল্লাহ একটি মামলা করেছে কয়েকদিন আগে। সেই মামলা খারিজ হয়ে গেছে কয়েক মাস আগে। আমি আমার কাগজেও এই খবরটি দেই নাই। কারণ ওইটা একটি মানহানির মামলা। সেই মানহানির মামলা সবচাইতে গুরুত্বহীন মামলা। সুতরাং অতি সাধারন একটি মামলা নিয়ে এতো হইচৈ করার মানে আছে বলে আমি মনে করি না।  আমি বলি যেই ব্যক্তি হাজারিকা কিছুই নয় তাকে নিয়ে খবর ছাপানো এটা অপরাধ। এটা থেকে বিরত থাকাই ভাল আমি মনে করি।
এদিকে যে দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে গিয়েছিল। সেদিন রাতের অংশে এসএ টিভি আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের কথা উল্লেখ করে সে দিন ফেনীর বিভিন্ন অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। এটার কারণে ুদ্ধ হয়ে সেন্ডিকেটরা ফেনীতে এসএটিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এখন এই সমস্যা জনগণকে দূর করতে হবে মনে হয়। হাজারিকায় সত্য কথা লেখা লেখি হত সাংবাদিকরা সাহস করতো না ফেনীতে আমার হাজারিকায় লিখতাম। সর্বশেষ তারা হাজারিকা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ফেনীতে। সেজন্য তারা এখন ফতুয়া দিয়ে কুমিল্লায় যায় আবার আসে। এসএ টিভি প্রতিবেদন দিয়েছে তাই এসএ টিভি  সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েকদিন আগে শুনলাম মদিনা ট্রান্সপোর্টকে তাদের ফেনী কুমিল্লায় চলাচল করত সেটা তারা বন্ধ করে দিয়েছে। পত্রিকা বন্ধ করে দিচ্ছে ,বাস বন্ধ করে দিচ্ছে , টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে দিচ্ছে অর্থাৎ তাদের মনে যা ইচ্ছে তাই করছে । এটা কত দিন চলতে পারে। এটার একটা শেষ হওয়া দরকার।  এটার জন্য জনগণকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতি নিয়ে এই অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করতেই হবে। এই অশুভ শক্তি এটা বার বার এটা করবে আমরা তো পাথর হয়ে গেছি কিছু সেজন্য আমরা কিছুই করতেও পারছি না। এখন সম্ভাবত এসএটিভি আবার চালু হয়েছে।  আমি আমার হাজারিকা পত্রিকার বিরুদ্ধে অনেকে লেখা-লেখি করে জিজ্ঞেস করেন ফোন করেন । আমি খুব একটা মাথা নত করতে চাই নাই। সেজন্য কারও কাছে গিয়ে ধরনাও ধরি নাই। তবে জানিয়েছি অনেককে কারণ এটা সত্য বিশ্বাস করেন সবাই আগামী নির্বাচনের আগেই এই অশুভ শক্তির পতন হবেই কিছু মাত্র সন্দেহ নাই।  সেজন্য আমি মনেকরি আরেকটু ধৈর্য ধরেন। এগুলোর অবসান হবে এবং এগুলোকে অবসান করার জন্য আমাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনায় যা হয়ে গেছে যা হচ্ছে এগুলো বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর ইতিহাসেও কম আছে এবং গতকাল পরশু ফেনীতে বৃষ্টি হয়েছে।   সেই বৃষ্টিতে সাড়া শহর হেলিকপ্টার দিয়ে যদি কেউ ফেনী উপর দিয়ে দেখত সাড়া শহরটাকে একটা নদীর মত দেখা যাচ্ছে। এরকম তো আগে ছিলা না। এখন ইতিমধ্যে ফেনীবাসী দেখেছে ফেনী শহরের যেই মূল জায়গাটা দিয়ে পানি নিস্কাসিত হত সেই দাউদপুরের কাছে একটি মার্কেট করে সেই পথটা ওরা আটকিয়ে দিয়েছে। মূলত সেই কারণেই যেই বৃষ্টি হয়েছে এতে এত জলবন্ধতা হওয়ার কারণ ছিল না। সুতরাং সময় বোধ হয় আসছে আসতেই হবে। ওই মার্কেট ভেঙে হলেও জনগণের স্বার্থে সেই আগের মত পথ খোলসা করতে হবে। আগের পথ দিয়ে চালাতে হবে।
সুতরাং  ড্রেন বা খালেরও উপর যারা মার্কেট তৈরি করেছে সেগুলো ভাংতেই হবে। ইধানিং হঠাৎ সেন্ডিকেট নেতা ঘোষণা দিয়েছে ৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগাবে।  কোথায় লাগাবে কিভাবে লাগাবে সেটা বাদ দিলাম। মূলত সিসি ক্যামেরা সমগ্র শহরের সব জায়গায় লাগানো সম্ভবও না। পৃথিবীর উন্নত-অউন্নত কোন দেশেও লাগানো সম্ভব হয় নি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে সিসি ক্যামেরার অনেক গুলো ক্যাটাকরি আছে। হার্ডডিস্কের কত ক্ষমতার কত দিন রেকর্ড করে রাখতে পারবে সেটাই হচ্ছে মূল প্রশ্ন। এক একটা মেশিনের ৫ টা করে ৩০-৩২ টা পর্যন্ত ক্যামেরা ফিট করা যায়। তার ভিতরে কিছু ডিজেলগ আছে কিছু অনালগ আছে । আর  ক্যামেরা ফিট করে যদি অপকর্ম বন্ধ করা যেত তাহলে সব জায়গাতেই পুলিশ ও প্রশাসনের দরকার হত না। ক্যামেরাটা ভিট করে তার ছবিট দেখালেই হত, এটা হয় না । তার চেয়েও এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে ৩০০ ক্যামেরা  কেউ তার ব্যক্তিগত পকেট থেকে টাকা দিয়ে লাগায় সেটাও একটা অন্যায়। আরেকটা হচ্ছে যে বলেছে লাগাবে তার নিজস্ব অর্থায়নে এখনতো দুনীর্তি দমন ওয়ালারা বা সরকার জিজ্ঞেস করা উচিত তার আয়ের উৎস কি, এতটাকা ব্যয় করেছে কিভাবে,সেতো সিসি ক্যামেরা লাগাবে । যেমন আমাদের তার  বাড়ি থেকে দক্ষিণে গাংয়ের পাড় পর্যন্ত জবরদস্তি করে কিছু টাকা দিয়ে কিছু টাকা না দিয়ে বাগান বাড়ি করবে তাই সব দখলে সমস্ত জায়গা সে কিনে নিয়েছে বা অনেকটা বেদখল করেছে।  এখন এই সমস্ত ঘটনার মধ্যে তাদের একটা অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখানোর দাপট আছে। ক্ষমতা দেখালে ক্ষমতা বেশি দিন থাকে না বা টিকে না। আমার মনে আছে একটু আমরা তখন সম্ভাবত আমি থার্ড ইয়ারে পড়ি ফেনী কলেজে দোস্তা বাবু নামে বাংলার একজন অধ্যাপক ছিলেন। স্বপন নামে ছেলে ছিল এক মেয়ে ছিল নামটা ভুলে গেলাম। ওই স্বপন বাবু আমি পেছনে আখতারুন নবি সবার পেছনে বসেছি ছোট্ট একটা রেডিও নিয়ে । ছোট্ট  রেডিওটাকে আরাল করে আমরা গান শুনছিলাম। গান টা আমি মনে করেছিলাম দোস্তা বাবুর কাছে আওয়াজ নিশ্চয়ই যাবে না। হঠাৎ এক পর্যায়ে তিনি লেকচার দেয়া বন্ধ করে দিলেন। কিভাবে তিনি চতুরদিকে তাকালেন কিছু বললেন না। আবার তিনি তার লেকচার দিচ্ছিলেন এমন সময় আবারও বোধ হয় তিনি ওই বোধ হয় রেডিওর গানগুলো শুনছিলেন। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিল বুঝতে পারছিনা। পরে তিনি বইটা কোজ করে টেবিলের উপর রাখলেন মঞ্চের সামনের দিকে এসে বললেন একটা কথা আমি তোমাদের সবাইকে অবগত করাতে চাই। তোমাদেরকে একটা কথা সাড়া জীবন মনে রাখতে বলি সেটা হচ্ছে, দেখ টাকা থাকা ভাল সেটা দেখানে ভাল নয়। এখন এখানে কে বা কারা সম্ভাবত রেডিও বাজাচ্ছে আমি মনে করি তারা আমার কাস থেকে বেরিয়ে বাইরে গিয়েও শুনতে পারত। আমার কাসের মধ্যে এই ধরনের বেদবি আমি সহ্য করব না। হয় আমি তাদেরকে আমি এই কলেজ থেকে বহিস্কার করব, নতুবা আমি চলে যাব। মূল কথাটা হচ্ছে উনি বলছিলেন ”টাকা থাকা ভাল তবে সেটা দেখানো ভাল নয়”।

সেজন্য আমি এটাকে অলটার করে বলতে চাই ক্ষমতা আছে ভাল কিন্তু ক্ষমতা দেখানে ভাল নয়। যত দিন যাচ্ছে  যত নির্বাচনের সময় আসছে ততই তারা এলোমেলো হয়ে যাবে। এখনই সাড়া দেশে কেমন যেন গোমট আবওহাওয়া। কখন কোথায় কি হয় তা কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়।  যাই হোক একটু আগে বোধ হয় বেরাউনের একটা ছবি দেখছিলাম কম্পিউটারে সেখানে বলছিল যে একে কবরের মাটি একে গ্রহণ করছে না এ অনন্তকাল এভাবেই থাকবে এভাবেই কষ্ট পাবে। সুতরাং পৃথিবীর ইতিহাস বলেন যেকোন অঞ্চল বা দেশের ইতিহাস বলেন যখনই যারা অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম করেছে তাদের পতন আল্লাহর তরফেই হয় । আল্লাহই তাদের পতন ঘটায়। যারা এই জালিম যারা  ফেনীতে জালিমের রাজত্ব কায়েম  করে এত দাপট দেখিয়ে এত সব অন্যায় করে যাচ্ছে তাদের ক্ষমতা থাকবে না।  আমি এই মামলা খারিজ হয়েছে  হচ্ছে হোক আসল মামলা তো আগাচ্ছে । মনে রাখবেন এক দিকে আসল মামলা এগোচ্ছে অন্যদিকে নমিনেশন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। যতই বলুক সেই শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে আধা ঘন্টা যাবত টেলিফোনে কথা হয়েছে আমাকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে এসব ফালতু কথা যতই বলুক তা বিশ্বাস করবেন না। মিথ্যা উপরেই এতদিন তারা এসেছে , মিথ্যার উপরেই তারা আছে। সুতরাং সত্যের জয় হবেই। মিথ্যা একদিন ভেসে যাবে সত্য উপরে উঠে আসবে ।
সুতরাং তারা যাই বলুক এখন আমাদের একরাম হত্যা মামলার পরিস্থিতি এই মূহুর্তে আমার কাছে পরিষ্কার নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট বোধ হয় ২বার নির্দেশনা দিয়েছে এটা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। সম্ভবত শেষের দিকে এসে দেখছিলাম এটা গতি পেয়েছে বোধ হয় এটার রায় বা সুরাহা হবে। কিন্তু কিছুই এখনো বুঝতে পারছিনা তবে পরিস্থিতি তাদের বিরুদ্ধে আমি লক্ষ্য করেছি কিছু দিন আগে পরশুরামের টিএনওকে মারধর করার মামলায় ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে এই মামলাটি তারিখ গতকাল বা গতপরশু এটার তারিখ ছিল। সেই তারিখে  সাংবাদিক বন্ধুরা ও অন্যান্যরা উচ্ছুক হয়ে কোর্টে গেলেন সেই রায় শুনতে গিয়ে রায় শুনলেন এটার এখনই রায় দেয়া যাচ্ছে না অতিদ্রুত এটার শুনানি হবে। শুনানি কবে হবে কোন দিন হবে তারিখটাও দেয় না মামলার অতিদ্রুত শুনানি হবে তারপরে আবার মামলার তারিখ দেয়া। এখন একজন ফাষ্টকাস সরকারি অফিসার একজন টিএনও তার মামলায় যদি রায়ের দিন নথিগত শুনানির জন্য থাকে এবং কোন দিন সেই শুনানি শুরু হবে সেটা না বলে তাহলে আমরা কোথায় যাব।
আমার এক খালাতে ভাই মিনু। সেই মিনু একেবারেই কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা খারাপ কাজে নাই সবাই তাকে ভালবাসে। সে ক্রীড়াবিধ খেলাধুলা নিয়ে থাকে। এবার একটা শালিস করেছে নাকি সে ৭-৮ জন শালিস দার ছিল সে প্রধান ছিল না অন্য একজন। সেই মামলা সেটার জন্য কোন এক মহিলা আত্মহত্যা করেছে । আত্মহত্যার ব্যাপারে কে বা কারা মামলা করেছে জানি না যেহেতু সে একজন শালিসধার তাকেও দায়ি করে মামলা করে এবং তাকে গ্রেফতার করেছে। কোথাও কেউ কোন একজন শালিস করার পরে কেউ যদি আত্মহত্যা করে সেটাকে শালিসের জন্য বা বিশেষ শালিশধারের জন্য আত্মহত্যা করেছে এটা প্রমাণ করা খুবই কঠিন। শালিস করলে এক পক্ষ খুশি হবে এক পক্ষ বেজার হবে এটা তো আছেই । যেহেতু মিনু আমার খালাতো ভাই সেই হিসেবে তাকে ধিক্কার করা হয় । অথচ সেই শালিসধারদের মধ্যে ছিল মোট ৯জন। মিনু তাদের একজন এখন মিনুসহ আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে যে প্রধান ছিল তাকেও গ্রেফতার করা না তার অন্যদেরকেও গ্রেফতার করা না। অথচ নির্বাচনের আগে বেশি বেশি যারা আমার প্রতি আন্তরিক হয়েছে তাদের সবাইকে কোন না কোনভাবে দমন করার জন্যই তাদের এই পরিকল্পনা । যাই হোক আমি আগেই বলেছিলাম আমি রমজান মাসে আমি কোন কর্মসূচী পালন করতাম না। এটা আমার সঙ্গে যারা ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিল তারা জানে। এই এক মাস কোন রকমের মিটিং মিছিল এটা ওটা অন্যকোন রাজনৈতিক কর্মসূচী করতাম না। শুধু মাত্র ভালভাবে চলার জন্য সুন্দরভাবে চলার জন্য সবাইকে আমি উপদেশ দিতাম। আজকেও আমি রোজার মধ্যে এই ভাষণটা দিব কি দেব না এটা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্ধে ছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ আমার শ্রতারা অভিমত দিয়েছিল যে না ধারাবাহিক কতা বজায় রাখেন দরকার হলে কম কথা বলেন। যাই হোক আমার কথায় কাউকে সেন্ডিকেট-অসেন্ডিকেট কেউ যেন অসন্তুষ্টি না হয় সেভাবেই কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম।  কিছু সত্য কথা এসে যাওয়াতে বলছি আমি শুধু শেষ করে যেতে চাই ।
আমি আশাকরি আগামী মাসের বক্তৃতাতেই অনেক বড় সুখবর দিতে পারব। এখন শুধু সেই একই কথা কবির ভাষায় বলি......

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান।

“জয় বাংলা”






সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি