মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
হাজারীর আত্মজীবনী (পর্ব-১২১)
Published : Monday, 22 May, 2017 at 4:47 PM

একটি বিজয় এবং একটি বহিস্কার
হাজারীর আত্মজীবনী (পর্ব-১২১)জয়নাল হাজারীর বহিস্কার সম্পর্কে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী শক্তহাতে কলম ধরেছিলেন। তিনি জয়নাল হাজারীর বহিস্কার তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন এ বহিস্কারাদেশ কার্যত একটা ষড়যন্ত্র। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ওই লেখাটি এখানে হুবহু তুলে দেয়া হলো-
গত সপ্তাহে মহিউদ্দিন চৌধুরীর চট্টগ্রাম বিজয়ের তাৎপর্য নিয়ে লিখেছি। এ সপ্তাহে তারই জের টেনে ফেনীর আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি জয়নাল হাজারীকে আকস্মিকভাবে দল থেকে বহিস্কার করা সম্পর্কে দুটি কথা লিখবো। আগেই বলেছি, আমার যেসব কলামিস্ট বন্ধু হাজারী আওয়মী লীগ থেকে বহিস্কৃত হওয়ায় কোরাসে উল্লাস প্রকাশ করেছেন তাদের মতামতের সঙ্গে একমত হতে, বিশেষ করে সেই বর্ণচোরা নিরপেক্ষ পত্রিকাটি, যার সম্পাদক শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে তার আক্রমণের আসল টার্গেট করে সামনে শিখন্ডি হিসেবে জয়নাল হাজারীকে খাড়া করে তার সন্ত্রাসের শিকাররূপে এক হাফ সাংবাদিকের প্রায় মার্টিয়ার হতে যাওয়া নির্যাতিত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে প্রচারের জোরে দেশ-বিদেশে শোরগোল তুলে ফেলেছিলেন এবং শুধু জয়নাল হাজারীকে নয়, শেখ হাসিনাকেও প্রায়  কনডেমড করতে চেয়েছিলেন, সেই পত্রিকার সাম্প্রতিক চাপা হাসির (সম্পাদকীয় মন্তব্য) সঙ্গেও হাসি মেলাতে পারিনি। অবশ্য পত্রিকাটিকে এক চাপা হাসির সুযোগ করে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা নিজেই।
খালেদা-নিজামী সরকার ক্ষমতায় বসার পর  যেভাবে একের পর এক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবি নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছে টিপু নির্যাতনের কাহিনী নস্যি। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশময় অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ নিয়ে পত্রিকাটিকে আর শোরগোল তুলতে দেখা যায়নি, আহত-নিহত সাংবাদিক পরিবারের জন্য ফান্ড রাইজ করতেও দেখা যায়নি। দেশবাসীও বুঝতে বাকি রয়নি,পত্রিকাটির আসল উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে তাড়ানো গেছে। সুতরাং আর তো টিপুর মতো আহত সাংবাদিক তাদের প্রয়োজন নেই।

 জোট সরকারের আমলে যে সব সাংবাদিক প্রকৃত নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, হাত-পা কাটা গেছে প্রয়োজন নেই তাদের জন্য ঘটা করে ফান্ড তোলার। এখন শেখ হাসিনা জয়নাল হাজারীকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করার পর সেই পত্রিকাটি আবার মুচকি হাসি হাসার সুযোগ পেয়েছে। এবারও তাদের আক্রমনের টার্গেট শেখ হাসিনাই। পত্রিকাটি এখন দেশবাসীর কাছে প্রমাণ করতে চাইছে, এতকাল তারা জয়নাল হাজারী সম্পর্কে যা বলেছেন, তা সত্য। এতদিনে শেখ হাসিনা তাকে বহিস্কার করায় তা প্রমাণিত হলো। সুতরাং এই সন্ত্রাসীকে আশ্রয়ে রাখার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ি। পত্রিকাটি ধোয়া তুলসীপাতা। এই আহত হাফ-সাংবাদিক কিছুকাল আগে লন্ডনে এসেছিলেন। তাকে পূর্ব লন্ডনের এক জনসমাবেশে হাজির করে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে তার মুখ দিয়ে বলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, জয়নাল হাজারীর নির্দেশে তার সন্ত্রাসীরাই এই সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙেছে। কিন্তু বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েও তিনি আক্রমণকারী জয়নাল হাজারীর নাম উচ্চারণ করেননি।

আমার এই পুরনো কথা তোলার অর্থ এই নয় যে, জয়নাল হাজারীকে সন্ত্রাসের অভিযোগ থেকে আমি দায়মুক্ত করতে চাই। তিনি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার হয়নি। করা হয়েছে এমন একটি অজুহাতে, যে অভিযোগটি পিছনে কোনো প্রমাণ নেই। এই অভিযোগের প্রমাণ দেয়ার জন্য হাজারীকে কোনো প্রকার শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনটি আওয়মী লীগের সভায় তাকে সাময়িক বহিস্কারের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কেবল দলে সাধারণ সম্পাদক এবং ৩০ এপ্রিলের ঐতিহাসিক ঘোষণাদাতা আব্দুল জলিল সাহেব একটি ঘোষণা দিয়েই হাজারীকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করে দিলেন। তিনি যেন ক্ষুদে আইয়ুব খাঁন। আইয়ুব ফরমানবলে দেশ চালাতেন। জলিল সাহেব ফরমানবলে দল চালাতে চান। আওয়মী লীগের মধ্যে অনেক নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আছে। জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধেও আছে। দলকে সন্ত্রাসী মুক্ত করতে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং সেই অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন।

তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের দল থেকে বহিস্কার করা আবশ্যক। কেবল তো জয়নাল হাজারী নয়, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে হাসনাত আবদুল্লা, শামীম ওসমান, হাজী সেলিম, ইকবাল এবং মায়া-পুত্রসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সুষ্ঠু তদন্তের পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু জয়নাল হাজারী নয়, এদের সবাইকে দল থেকে বহিস্কার করা উচিত। আওয়ামী লীগ তাহলেই দলের শুদ্ধিকরণের পথে সত্যিকারভাবে এগুতে পারে এবং দেশবাসীও দলটির এই আত্মশুদ্ধির অভিযানের আন্তরিকভাবে সম্পর্কে আশ্বস্থ হতে পারে। ব্রিটেনের লেবার দলের এককালের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী (উইলসনের পর যিনি লেবার পার্টির নেতা এবং লেবার গভর্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন বলে গুজব ছড়িয়েছিল) জন স্টোন হাউস ব্যাংকের প্রচুর অর্থ তসরূপ করে, মিয়ামি সাগর সৈকতে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন বলে একটি ধরণা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিয়ে, নতুন নাম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পর ধরা পড়েন। তখন তাকে সঙ্গে সঙ্গে পার্টিপ্রধানের একক সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ঘোষণাবলে তাকে লেবার পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়নি। আদালতে তিনি অভিযুক্ত হলে এবং দলের শো-কজের নোটিশের সন্তোষজনক জবাবদানে ব্যর্থতার পরই তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এটাই একটা গনতান্ত্রিক দলের আচরণও গণতান্ত্রিক পন্থা। হাজারীকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কারের ব্যাপারে এই পন্থাটি অনুসরণ করা হয়েছে কী?

জয়নাল হাজারীকে সন্ত্রাসের অভিযোগে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়নি। জলিল সাহেবের একক ঘোষণায় তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে এমন এক অভিযোগ যা শুধু হাস্যকর নয়, যার পিছনে কোনে প্রমাণও নেই। তাহলে হাজারী কি ব্যক্তির আক্রোশ অথবা গোষ্ঠী চক্রান্তের শিকার হয়েছেন? আমার ধারণা, তিনি ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠী আক্রোশ দুয়েরই শিকার হয়েছেন। আমার প্রশ্ন, যেখানে একজন খুনের আসামিকেও আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয় সেখানে তিনি সেই সুযোগ পেলেন না কেন? সে কি তার গায়ে (সন্ত্রাসী) ছাপ মারা রয়েছে বলে? এই ছাপটি তার গায়ে লেগে গেল? কারা লাগাল? এই প্রশ্নের জবাবও কি কেউ কখনো খুঁজেছেন?
ফেনীর কিছু সজ্জন ব্যক্তির মুখেই শুনেছি, জয়নাল হাজারী যতটা পাপ করেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি পাপের (সন্ত্রাসী) কালিমা তার গায়ে লাগানো হয়েছে। ফেনীতে বসবাস করেন না অথচ ফেনীর রাজনীতিতে তাদের সুবিধাবাদী প্রভাব বজায় রাখতে চান এমন কিছু প্রভাবশালী সাংবাদিকদের কাছে ফেনীতে হাজারীর রাজনৈতিক উত্থান সহ্যের অতীত মনে হয়েছে। তারাই হাজারীর সন্ত্রাসের তিলকে তাল করা শুরু করেন এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয় ঢাকার সাংবাদিক জগতের অনেকেই। এরশাদের আমলে জাফর ইমামের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হাজারীদের পাল্টা ব্যবস্থা ছাড়া ফেনীতে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করত কে? তারপর যেদিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে বিক্ষুব্ধ বাকশাল কর্মীদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার জীবন সংশয় দেখা দিয়েছিল, সেদিন কেন হাজারীকে লাঠি ধরে তাকে বাঁচাতে হয়েছিল? বিএনপির সন্ত্রাস, ভিপি জয়নালের দুর্বৃত্তপনা থেকে ফেনীতে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি রক্ষা করেছে কে?

হাজারী কি কেবল নিজের স্বার্থে সন্ত্রাস করেছিলেন? ‘না, দলের বৃহত্তর স্বার্থেও তাকে সন্ত্রাসের মোকাবেলায় সন্ত্রাসী সাজতে হয়েছিল। অবিভক্ত বাংলায় খিদিরপুর ডকে শ্রমিক আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী যখন মালিক পক্ষের ভয়াবহ গুণ্ডামির মুখে পড়েছিলেন তখন পেশোয়ারি ফল বিক্রেতা মিনা পেশোয়ারিকে সংগ্রহ করেছিলেন তার মাসলম্যান হিসেবে। পাকিস্তান হওয়ার পর শহীদ সোহরাওয়াদী ও আওয়ামী লীগ কি ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানে প্রথমদিকে একটি সভাও করতে সক্ষম হয়েছে? প্রতিবাদ নুরুল আমিন ও মুসলিম লীগ গুণ্ডারা এসে সভার প্যান্ডেল ভেঙে দিত। আওয়ামী লীগ কর্মীদের মারধর করত। তখন শেখ মুজিব পুরনো ঢাকা থেকে বাদশা মিয়ার কব্জির জোর বর্তমানেও দেশ কি গণতান্ত্রিক সরকার দ্বারাগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসিত হচ্ছে? আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব রক্ষা করেছিল।

বর্তমানেও দেশ কি গণতান্ত্রিক সরকার দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় সন্তাসের মুখে দাঁড়িয়ে নিরীহভাবে রামধূন গাইতে হবে? যে জামায়েত আজ ক্ষমতার পার্টনার, তাদের শক্তির উৎস হাতকাটা, রগকাটায় ট্রেনিংপ্রাপ্ত সন্তাসী ক্যাডার। বিএনপির পেছনে মূল শক্তি সামরিক ছাউনি এবং বাঘা বাঘা সন্ত্রাসী যাদের সন্ত্রাসের কাছে জয়নাল হাজারীর সন্ত্রাস নস্যি। এই জোট সরকারের আমলে সন্ত্রাসের হাতে লাশের পর লাশ পড়ছে। তার বিরুদ্ধে জোরালো কথা নেই এক শ্রেণীর নিরপেক্ষ নির্ভীক সাংবাদিকদের কলামে। বিএনপির বড় বড় সন্ত্রাসীদের নাম উচ্চারণ করে একবারও বলা হয় না বিএনপিকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হোক।
কিন্তু আওয়ামী লীগের কয়েকজন আঙুলে গোনা ব্যক্তিকে দেশের সব ধরনের সন্ত্রাসের জন্য সিম্বলাইজড করে আওয়ামী লীগকে বিএনপির চেয়েও বেশি সন্ত্রাস প্রভাবিত দল হিসেবে দেশবাসীর চোখে প্রতিভাত করানোর অনবরত চেষ্টা চলছে। নিজের অজান্তে সেই প্রচারণায় গা ভাসাচ্ছেন দেশের কিছু সৎ এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকরাও। তারা ভুলে যান, আমেরিকা পরমাণু আগ্রসন থেকে বিশ্ব শান্তি রক্ষার জন্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকেও পরমাণু শক্তির অধিকারী হতে হয়েছিল। বিএনপি-জামায়েতের হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতির মোকাবেলায় কেবল শান্তির রামধূন গেয়ে আওয়ামী লীগ বা দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবে না। ২০০১ সালের অক্টোবর নির্বাচনের পর কি এই সত্যটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেনি? দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সমন্বয়ে সন্ত্রাসের যে ভয়াবহ দানব দেশকে গ্রাস করে ফেলেছিল, তার মোকাবেলায় (ফেনীর ত্রাস) হাজারীকেও দেশ থেকে পালাতে হয়েছে। তিনি যদি প্রকৃত বিচার পাওয়ার আশায় দেশে থাকতেন তাহলে তাকে হাজার লাশের আরেকটি লাশ হতে হতো। এই দেশব্যাপি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে বর্ণচোরা একটি পত্রিকা খুবই মৃদুভাষী।
তবু প্রমাণিত সন্ত্রাসের অভিযোগে জয়নাল হাজারীকে যদি সাময়িক বহিস্কার করা হতো, আমি খুশি হতাম। কিন্তু তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে। যে ব্যক্তিকে দুবছর আগে ফেনী আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য ব্যক্তিকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেখানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে কিভাবে সাময়িক বহিস্কার করে শাস্তি দেওয়া যায়? জলিল সাহেবের কোনো সভায় যদি হাজারীর লোকরা গণ্ডগোল করে থাকে, তাহলে তখনই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে, তা প্রমাণিত হলে তাকে বহিস্কার করা হয়নি কেন? এখন বলা হচ্ছে ফেনীর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে হাজারী বিদেশে বসে সমর্থন জুগিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে জিতিয়ে দিয়েছেন। এটা কি হাস্যকর অভিযোগ নয়? এই অভিযোগের জবাবে হাজারী সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে দেশে আসতে পারে না, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যাকে দেশ ছাড়া করেছে, সেই ব্যক্তির ইচ্ছায় ফেনীর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে এ কথা কি সুস্থ মাথায় ভাবা যায়? যদি তাই হতো তাহলে গত সাধারণ নির্বাচনে আমি হেরে গেলাম কেন? এছাড়াও উল্লেখ করতে চাই, গত সাধারণ নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রেই আমি জিতেছিলাম, এবার সেসব কেন্দ্রেই মাত্র আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেশি ভোট পেয়েছে।
হাজারীর এসব কথার জবাব জলিল সাহেবের ভাণ্ডারে নেই। হাজারীর জায়গায় যাকে ফেনীতে বসানোর চেষ্টা হচ্ছে তিনি হলেন জলিল সাহেবের ব্যবসার পার্টনার। তিনি গত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে তার ভোট ভাগ করেছেন এবং বিএনপি প্রার্থীর জয়লাভে সাহায্য জুগিয়েছেন। জলিল সাহেব নাকি তাকেই হাজারীর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যোগ্য লোক বলে বিবেচনা করেন। ব্যবসায়ী স্বার্থ, ব্যক্তি আক্রোশ যদি এভাবে আওয়ামী লীগের বিবেচনা করেন ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে থাকে তাহলে এই দলের ভবিষ্যৎ কী? আমি জানি না।
আমি সবিনয়ে জলিল সাহেবকে একটা কথা জানাতে চাই, দলের সাধারণ সম্পাদক পদে বসে তিনি যেভাবে একক কর্তৃত্ব জাহির করে চলেছেন, তা গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তিনি দলের সভায় কোনো প্রকার আলোচনা ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই গত বছর ত্রিশে এপ্রিলের মধ্যে সরকার পতন ঘটানোর ঘোষণাটি কেন এবং কি উদ্দ্যেশ্যে দিয়েছিলেন, আজ পর্যন্ত তার কোনো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কে তাকে এই ঘোষণাটি দেওয়ার অথরিটি দিয়েছেন? এই ঘোষণা শুধু আওয়ামী লীগের ক্রেডিবিলিটি গুরুতরভাবে নষ্ট করেনি, সরকার বিরোধী আন্দোলনের শক্তি ও সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা ও কর্মীকে অপ্রস্তুত এবং অসংগঠিত অবস্থায় ক্রুদ্ধ হায়েনার মতো হিংস্র জোট সরকারের বর্বর নির্যাতনের সামনে ঠেলে দিয়েছে। দলের এতবড় সর্বনাশ যিনি করেছেন, জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে একক ঘোষণায় তাকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা তার সাজে কী?
সম্প্রতি এমন অভিযোগও উঠেছে, আইনজীবি বাচ্চু হত্যার পর বুধবারের হরতাল শেষে আবারও শনিবারে যে হরতাল ডাক হয়, সেদিন জলিল সাহেব হরতালের মধ্যে তার ব্যাংকের ডিরেক্টর্স বোর্ডের সভা করেছেন এবং নিজ বোর্ডের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেছেন। এই অভিযোগটি যদি সত্যি হয় এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাকে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়, তিনি জবাব দেবেন?
সবশেষে শেখ হাসিনাকে একটি অনুরোধ জানাই, নিজেকে আওয়ামী লীগের শুভাকাক্সক্ষী বলে দাবি করার জোরেই এই অনুরোধটি জানাতে সাহসী হচ্ছি। দলকে পূর্ণগঠন করুন। একজন যোগ্য ও নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে এই দল পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিন। একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালনার রেওয়াজটি পরিত্যাগ করুন। জোট সরকাররূপী দানবকে হটানোর জন্য যখন জোট গঠন করেছেন তখন জোটের অন্যান্য নেতার সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলনের কর্মসূচী ঠিক করুন। আমি হরতাল ডাকার বিরোধী নই। কিন্তু বাচ্চু হত্যার প্রতিবাদে কক্সবাজার বসে একক সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় দিনে (শনিবার) হরতাল ডাকা ঠিক হয়নি। কিছু সৎ ও শিক্ষিত উপদেষ্টা সঙ্গে রাখুন। প্রেসিডেন্ট কেনেডি বলেছিলেন, অর্ধশিক্ষিত চামচার থেকে শিক্ষিত শত্রুর দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকাও ভালো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : hazarikabd@gmail.com, Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি