মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, 2০২1
কি ঘটতে যাচ্ছে একরামুল ও কাদের মির্জার ভাগ্যে?
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Tuesday, 2 March, 2021 at 12:22 PM

কি ঘটতে যাচ্ছে নোয়াখালী ৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এবং বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও কোম্পানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের মির্জার ভাগ্যে। তারা দুই জনই কি স্থায়ী বহিষ্কার হচ্ছেন? কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড? তাদের বহিষ্কারে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রিণ সিগনাল আছে কি? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কি ভাবছেন নিজ জেলা নোয়াখালীর এই রাজনৈতিক নোংরামি নিয়ে।

নোয়াখালী আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার বিরক্তিকর নোংরামি ইতোমধ্যে নোয়াখালীর সীমানা প্রাচীর ভেদ করে সারাদেশেই দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পাশাপাশি সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও রীতিমতো বিব্রত। নোয়াখালীর এ দুই নেতার একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর আপন ছোট ভাই,  অন্যজন সরকার দলীয় সাংসদ। তিনিও আবার সাধারণ সম্পাদকের একান্ত ঘনিষ্ট জন হিসেবেই পরিচিত।  তাদের কারণে আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দল সারাদেশে বিতর্কিত হচ্ছে। এই অবস্থায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের দু'জনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। দ্রুততম সময়ে তা প্রকাশ করা হতে পারে। তাদের ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে দলটি সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সাধারণ কর্মী সমর্থকরা।

এই ব্যাপারে গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, যে যার মতো বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নোয়াখালীর স্থানীয় এই দুই নেতার একজন দলের সাধারণ সম্পাদকের আপন ছোট ভাই এবং অন্যজন ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়া সত্ত্বেও এবার ছাড় পাচ্ছেন না বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ তারা দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপে সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তারা ইতোমধ্যে সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে দলের বিষফোড়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সবাই তাদের দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে বিব্রত।

উল্লেখ্য যে, অনেক দিন থেকেই নোয়াখালী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এ দুই গ্রুপ বিভিন্ন সভা সমাবেশে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি   দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির। এ নিয়ে সারাদেশে সমালোচনা ও নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এসব ঘটনায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। দলের নেতা কর্মীরাও দ্বিধা বিভক্ত। সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দ্বন্দ্ব সমাধানের কোনো লক্ষ্মণ চোখে পড়েনি।

নোয়াখালীর স্থানীয় এই দুই নেতার প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের শুরু হয়েছিল গত ১৬ জানুয়ারি। নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন আবদুল কাদের মির্জা। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মির্জা কাদের তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপরাজনীতি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য ও লুটপাটের অভিযোগ এনে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের স্থান না হওয়া নিয়েও তিনি বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তিনি তার বড় ভাই ওবায়দুল কাদের, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপিদের নৈতিকতা নিয়েও বক্তব্য দেন।

তার এই বক্তব্যের পরপরই জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর কয়েকদিন পর নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সদস্য হিসাবে আখ্যায়িত করে কয়েকদিনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি দেওয়া না হলে তিনি এটা নিয়ে শুরু করবেন বলে জানান।
দুজনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। কাদের মির্জার বিচার ও মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার চেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ এমপি ও সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার বক্তব্যের মিথ্যাচারের অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন। সেখানে মির্জা কাদেরের সমর্থকদের সঙ্গে বাদলের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ৯ জন। শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মির্জা কাদের রবিবার কোম্পানীগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন। হরতাল শেষে তিনি বসুরহাট রূপালী চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মরার আগে মরবেন না তিনি, লড়াই করেই মরবেন।’ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি