শনিবার, ১৭ এপ্রিল, 2০২1
বরগুনার সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ মোশাররফ হোসেনের কিছু কথা।
Published : Friday, 26 February, 2021 at 5:22 PM, Update: 26.02.2021 5:28:20 PM

জসীম উদ্দিন ॥
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বাতাস বইতে শুরু করেছে। বরগুনার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে ১ম ধাপেই। বরগুনা সদর উপজেলার ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীগণও যার-যার অবস্থান থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। এই ৫নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের সন্তান ও এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী আবুল হাসেম বরগুনার প্রথম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা।রাজনীতিতে, জনসেবায় ও চিকিৎসার ইতিহাসে একজন প্রবাদ-পুরুষ।এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঃ রশিদ ওরফে মাজেদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন সূর্য-সন্তান এবং সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তিনি একজন শহীদ।

এই ইউনিয়নের সন্তানই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে "জাতির জনকের প্রতিকৃতি প্রদর্শন ও সংরক্ষণ রহিতকরন বিলের" প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে জাতীয় সংসদ কাপিঁয়ে দিয়েছিলেন, এবং জাতীয় রাজনীতিতে তিনি সাহসী খেতাব পেয়েছিলেন। তাই ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন একটি গর্বিত ইউনিয়ন,কারণ  এই ইউনিয়নে অসংখ্য মেধাবী সন্তানরা দেশ-বিদেশে উচ্চপর্যায়ে কর্মরত আছেন। এই আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নে এতোজন গুণী সন্তানের জন্ম। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হওয়ার মত এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার মত একের অধিক প্রার্থী আছেন।যার ভাগ্যে আছে তিনি মনোনয়ন পাবেন, যার ভাগ্যে আছে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

কিন্ত কিছু মিথ্যাচার এতো খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে যে কিছু কথা না বলে পারছিনা।জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে তাদের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাড়াতে হয়,জনগণের ভোট পেতে হলে তাদের আস্থা অর্জন করতে হয়।কারো বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে ভোট পাওয়া যায়না,এতে মানবতার অপমান হয়, গিবতকারীরা ও মিথ্যা অপবাদকারীদের প্রতি মহান আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়।আপনাদের মিথ্যাচারের জবাব যদিও জনগণের কাছে আছে কারণ তারা সত্যটা জানে।আপনারা মঞ্চে দাড়িয়ে জনতাকে সামনে রেখে এই ইউনিয়নের প্রবাদ-পুরুষ মৌলভী আবুল হাসেম হাসু ডাক্তারের দৌহিত্র, সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন তাতে কি ভেবেছেন এইগুলো ইউনিয়নের জনতার ভোট পাবেন? আপনারা বলছেন যে দেলোয়ার হোসেনের পরিবার কখনো আওয়ামী লীগ করেনি,এতবড় মিথ্যা বলেন কিভাবে? আপনাদের এই মিথ্যাচারের জবাব দিতাম না তবুও দিচ্ছি কারণ আমরাও মানুষ, আমাদের শরীরও রক্ত-মাংসের তৈরি তাই এতবড় মিথ্যা কথা আমাদের, এই ইউনিয়নের জনগণের হৃদয়কে রক্তাক্ত করে।আমাদের পরিবার কখনো আওয়ামী লীগ করেনি এই হাস্যকর কথার জবাব দিবোনা শুধু পিছনের একটা স্মৃতি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড’দের সঙ্গে শেয়ার করবো।

এই প্রজন্মের তরুণ ভোটারগণ তোমরা হয়তো ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীর খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচনের ইতিহাস জানোনা আজ সেইদিনের কিছু স্মৃতি তোমাদের বলবো।১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী একটি একতরফা, প্রহসনমূলক নির্বাচনের আয়োজন করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো সেই নির্বাচন বর্জন এবং তালবাহানার নির্বাচন ঠেকাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন,সারা বাংলাদেশের মত বরগুনায়ও ৯৬এর ১৫ই ফেব্রুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন ঠেকাতে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন, আমি তখন ছাত্রনেতা, আমি মোশাররফ হোসেন, তখন জেলা  ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ অলি ভাই,বর্তমান বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছগীর, ইব্রাহিম শরীফসহ আরো অনেককে দায়িত্ব দেয়া হয় ৩নম্বর,৪নম্বর,৫নম্বর ও ৬নম্বর ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় নির্বাচন প্রতিহত করার।

ভোটের আগেরদিন সন্ধ্যায় আমার বৃদ্ধ বাবা আমাকে নিষেধ করে  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে, কারণ আমি আমার পিতার মাতৃহারা কনিষ্ঠ ছেলে, স্বভাবতই বাবা হিসেবে তিনি আমার জীবন নিয়ে অনেক ভীত ছিলেন, তার আশঙ্কা ছিল নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে হয়তো মরেও যেতে পারি।যে বাবা আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমাদের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেননি,সেই মহান বাবার নিষেধ অমান্য করে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ১৫ ই ফেব্রুয়ারির  সকাল বেলা আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে, রাজনৈতিক বন্ধুদের নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করতে ৫নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া ভোটকেন্দ্রে যাই, সেখানে ব্যালটবাক্স ছিনিয়ে নেই,এবং ব্যালটের পেপার ছিনিয়ে এনে ছিড়ে ফেলে দেই।তখন আমাদের রুখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বৃষ্টির মত গুলি ছোড়ে,কপালে হায়াত ছিল বিধায় গুলি আমাদের শরীরে লাগেনি।এরপরে আমরা গুদিঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যাই, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি খুব বেশি ছিল, তার সত্বেও আমরা ভোট প্রতিহত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাই,ব্যালটপেপার ছিনিয়ে নেয়ায় ঐ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার আমাদের উপর গুলিবর্ষণের অনুরোধ করেন এবং পুলিশ বাহিনী আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে আমার কয়েকগজ দুরে দাড়ানো তৎকালীন ছাত্রনেতা, বর্তমান বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছগীরের শরীরে গুলি লাগে।আমাদের সহযোদ্ধার গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে তুমুল গোলাগুলির মাঝে আমরা পাশ্ববর্তী এক বাড়ির বাগানে লুকিয়ে পড়ি, সেখানেও পুলিশ চলে আসার আশঙ্কায় আমরা একটা নালায় আহত ছগীরকে নিয়ে লুকিয়ে থাকি,পরে একটা নৌকাযোগে ছগীরকে নিয়ে বরগুনা সদরে পৌছাই।

সেই ঘটনার জেরে পুলিশ আমাদের বহুদিন যাবত হয়রানি করে এবং সেই হয়রানি এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে ছিলাম বহুদিন।
আজ আমাকে শুনতে হয় আমাদের পরিবার নাকি কোনোদিন আওয়ামী লীগ করেনি। তাদের এইসব মিথ্যা কাহিনী যখন কানে আসে তখন মনে পড়ে আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে কতগুলো দিন জেলে কাটিয়েছি, কতগুলো দিন গ্রীষ্মের গরমে ঐ লোহার গরাদে তীব্র গরমে ছটফট করেছি,কতগুলো শীতের রাতে জেলখানার শীতল মেঝেতে শুয়ে প্রচন্ড ঠান্ডায় শরীরে জ্বর বাধিয়েছি। জেলের ভিতরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্যারোলে হাতে হাতকড়া পরে পুলিশের ভ্যানে চিকিৎসা নিতে বরিশালে গিয়েছি।বৃদ্ধ বাবার নিষেধ অমান্য করে ছুটে গিয়েছি পুলিশের বন্দুকের নলের সাম


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি